Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ইকোনোমিস্টের আশঙ্কা:বাংলাদেশ সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে,পরবর্তী টার্গেট ব্র্যাক

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 82 বার

প্রকাশিত: January 8, 2011 | 1:12 AM

 গ্রামীণ ব্যাংককে বাংলাদেশ সরকার তার নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। অনলাইন দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ এই আশঙ্কা তুলে ধরেছেন নিকোলাস ডি. ক্রিস্টোফ।
ওদিকে দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, সরকার যদি গ্রামীণ ব্যাংক তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সফল হয় তাহলে তাদের পরবর্তী টার্গেট হবে আরেকটি এনজিও-ব্র্যাক। ৫ই জানুয়ারি প্রকাশিত ‘ইজ বাংলাদেশ ট্রাইং টু টেকওভার গ্রামীণ ব্যাংক?’ শীর্ষক এক লেখায় নিকোলাস ডি. ক্রিস্টফ বলেন, ২০০৭ সালে ওই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনীতিবিদরা অর্থের জন্য রাজনীতি করেন বলে মন্তব্য করেছিলেন। এজন্য মানহানির এক মামলায় তাকে আগামী ১৮ই জানুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওইদিন তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে নিক্ষেপ করা হতে পারে। এভাবে যদি তাকে ব্যাংকের বাইরে রাখা যায় তাহলে সরকার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারবে সহজেই। এটা ঘটতে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন লাগবে। তার অনুমোদন ছাড়া এ ঘটনা ঘটবে না। এখন শেখ হাসিনা তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হয়। তিনি আগে ছিলেন ক্ষুদ্র ঋণের সমর্থক। কিন্তু এখন তিনি ক্ষুদ্র ঋণকে গরিবের নামে রক্ত শোষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওই লেখায় আরও বলা হয়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অনেক অত্যাশ্চর্য ঘটনা ঘটছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়া সরব হয়ে উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের একটি সংবাদ সংস্থা একজন অর্থনীতিবিদকে উদ্ধৃত করেছে। ওই অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস সম্পর্কে বলেছেন, তার সম্পর্কে যত কথাই বলা হয়েছে তা হলো কল্পকাহিনী। তিনি নিঃস্বার্থভাবে কোন কাজ করেন না। নরওয়ের একটি টেলিভিশনে তাকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করার পর এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও নরওয়ে সরকার তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ নেই বলে দাবি করেছে। নিকোলাস ডি. ক্রিস্টফ আরও লিখেছেন- তাকে নিয়ে আরও রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ড. ইউনূস পদত্যাগ করবেন। পরামর্শ দেয়া হয়েছে বয়সের কারণে তার এখন অবসরে যাওয়াই উচিত। এতে মনে হচ্ছে শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে চায়, যাতে ব্যাংকের শতকরা ৬০ ভাগ মালিকানা সরকার পায় (এ পরিস্থিতি ছিল ১৯৮০-র দশকে, কিন্তু তা পরে সংশোধিত হয়েছে। এর অধীনে এখন ওই ব্যাংক চলছে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের শতকরা ৭৫ ভাগের মালিক এর ঋণ গ্রহীতারা। বাকি শতকরা ২৫ ভাগের মালিক সরকার)। নিকোলাস ডি. ক্রিস্টফ আরও লিখেছেন- প্রফেসর ইউনূস অন্যদের মতো আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি এবং তার গ্রামীণ ব্যাংক যেন অভিন্ন। ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে এখন যে প্রচারণা চলছে তাকে আমার বা আমার মতো যারা বিষয়টির দিকে নজর রাখছি তাদের কাছে সত্য বলে মনে হয় না (আমি এ নিয়ে তিনটি মহাদেশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু এ নিয়ে মুখ খুলতে তারা ভয় পান)। আমি বুঝতে পারছি না, আসলে কি ঘটতে যাচ্ছে। এটা এমন হতে পারে- ইউনূস রাজনীতিতে ঢুকবেন বা রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা করছেন, তা নিয়ে হয়তো সরকার উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের প্রতি তিন জনের একজন এই গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। সরকার হয়তো তাই এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে উদগ্রীব। আমার কলামে মাঝেমধ্যেই, আবার শেরিল উদুন ও আমার লেখা বই ‘হাফ দ্য স্কাই’-এ আমরা বলেছি, সুশীল সমাজের শক্তিতে বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংক ও প্রায় একই মাপের সংস্থা ব্র্যাককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। খোলামেলাভাবে বলা যায়, সরকারের সুশাসন হতাশ হওয়ার মতো। কিন্তু সুশীল সমাজ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। এখন সরকার যদি দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সেক্টরকে ভেঙে দিতে চায়, তাহলে সৃষ্টিকর্তাই তাকে সাহায্য করবেন। যদি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সাজানো অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে বাংলাদেশ তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করে ফেলবে। ক্ষুদ্রঋণ বর্তমান সময়ে সঙ্কট মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে। সেখানে ক্ষুদ্রঋণ কখনও সফলতা আনছে আবার কখনও ব্যর্থ হচ্ছে। এতে সন্দেহ নেই যে, এই সেক্টরের সফলতায় আকৃষ্ট হয়েছে দুষ্টজনেরাও। কিন্তু এটা পরিষ্কার যে, বাংলাদেশ ও বিশ্বে গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতিবাচক ব্যাপক প্রভাব ফেলেছেন। তিনি নোবেল পুরস্কারের যোগ্য ব্যক্তিত্ব। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে নিশ্চিত করতে হবে যে, বাংলাদেশে শখের ব্যবসা কোন বড় ধরনের উন্নয়ন দেবে না। এজন্য শেখ হাসিনার বলা উচিত, তার সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের শতকরা ২৫ ভাগের বেশি শেয়ার নেবে না এবং এর চেয়ে বেশি চাইবেও না। আমাদের আশা করা উচিত, এসবই চায়ের কাপে ঝড়। যদি তা না হয়, গ্রামীণ ব্যাংক যদি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে পরিণত হয় তা হবে একটি বিপর্যয়। যদি একজন নোবেল প্রাইজ বিজয়ীকে পাশ কাটিয়ে রাখা হয় তাহলে পুরো সুশীল সমাজ বিপদগ্রস্ত হবে।মানবজমিন
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV