নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় : শ্রমজীবীরা কেন এখনও ট্রাম্পের দলকে ভোট দেয়
মুজতাহিদ ফারুকী: গত দু’মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে একটি বাজেট এবং দুটি স্বাস্থ্যপ্রযতœ বিষয়ক পরিকল্পনার প্রস্তাব করা হয়েছে যা একান্তভাবেই রিপাবলিকানদের দখলে থাকা নির্বাচনী এলাকার জনগণের বিশেষ করে শ্রমজীবী শ্রেণীর ভোটারদের সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করে নেবে। তারপরও এই সময়ের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকা-ের প্রতি জনসমর্থন ৪০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। আর এই সময়ের মধ্যে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি আসনের নির্বাচনে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
আসলে ঘটনাটা কী? শ্রমজীবী শ্রেণীর রক্ষণশীলরা কী কারণে তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে যাচ্ছেন?
আমার ধারণা, এর জবাব লুকিয়ে আছে ১৮শ ও উনবিংশ শতাব্দীর ঘটনাবলীর গভীরে। ট্রাম্পের অনেক সমর্থক এমন সব জায়গায় বসবাস করেন যে জায়গাগুলি একসময় ছিলো আমেরিকার সভ্য এলাকার প্রান্তে অবস্থিত। সেখানে জীবনযাত্রা ছিলো ভঙ্গুর, বিপজ্জনক, নিঃসঙ্গ এবং নির্মম। সেখানে একবার পা পিছলে পড়লে বিপর্যয় নেমে আসতে পারতো। সুতরাং সেখানে শৃক্সক্ষলা ও আত্মনির্ভরশীলতা ছিলো জরুরী। সেকারণে তারা আত্মসংযম, সংযত মেজাজ, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং বিবেকের দৃঢ়তার তত্ত্ববিবর্জিত জীবনধারা অনুসরণ করতে শুরু করে।
সভ্যতার প্রান্তবর্তী এসব এলাকার ধর্মীয় অনুশাসনে মদ্যপান, তাস খেলা ও নৃত্য নিষিদ্ধ থাকলেও সেখানে সবসময়ই চরম বিশৃক্সক্ষলা, মাতলামি, সহিংসতা এবং প্রতারণার মতো ঘটনা ঘটতো।
বর্তমানে এগুলো আর প্রান্তবর্তী এলাকা না হলেও অনেকেই ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রাপ্রণালী এবং চরম শৈথিল্যের মাঝামাঝি একই ছুরির তলায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন।
উদাহরণ হিসাবে বলা যায় আমার এক বন্ধুর কথা। তিনি ট্রাম্পের একজন বড় ভক্ত। মদের দোকানে পরিবেশক হিসাবে, কখনও বাড়ির ঠিকাদার হিসাবে এবং এধরণের বিভিন্ন বিসদৃশ খ-কালীন কাজ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। এর ফলে তার আয় কোনও রাষ্ট্রীয় হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। এসব করে তিনি কোনওরকম দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ছাড়াই বেশ ভালো অর্থ জমাতে সক্ষম হন। তার চারপাশে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোর ওপর তার কোনও আস্থা নেই। তিনি অনেক সময় সরকারি নির্মাণ প্রকল্পেও কাজ করেছেন, কিন্তু তিনি নিজেকে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেই মনে করেন।
তার মতো অনেকেরই জীবন এমনইÑ তাদেরকে সম্পদের জন্য কঠোর সংগ্রাম করতে হয়, তারা এমন এক বিশ্বের বাসিন্দা যেখানে বাস্তবতার ভেতরেই দ্বন্দ্বের জন্ম হয়। এর ফলে সেখানে আগের মতো এখনও দৃঢ়চিত্ততা, আত্ম-নির্ভরশীলতা, প্রাণপ্রাচুর্য, অভিযাত্রীর মনোভাব, স্বাধীনচিত্ততা, বন্ধুদের প্রতি আনুগত্য এবং শত্রুর প্রতি প্রচ-তাকে সবচেয়ে পছন্দের গুণ বলে মনে করা হয়। এখানকার মানুষের জন্য কোনও সামাজিক অপব্যবস্থা নয় বরং ব্যক্তিগত বদভ্যাসই সবচেয়ে বড় বিপদ হিসাবে দেখা দিতে পারে। সেগুলো হলো আলস্য, সংযমহীনতা, মদ্যপান, যৌনতা ইত্যাদি।
এই এলাকাগুলোর ভোটাররা দেশের অনেক ভোটারের মতোই দেশকে যা মহান করতে পারে সে সম্পর্কিত ধারণার ভিত্তিতে ভোট দিয়ে থাকে। তারা মনে করে জনগণের মূল্যবোধই হলো জাতির স্বাস্থ্য।
একজন সমাজতাত্ত্বিক হচচাইল্ড তার বইতে উল্লেখ করেন যে, এসব ভোটার তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন, তবে তারা তাদের আবেগজনিত স্বার্থের পক্ষেই ভোট দেন। যেসব প্রার্থী ওইসব ভোটারদের সমস্যা ও সামষ্টিক আবেগের সঙ্গে শরিক হতে পারেন তাদেরকেই তারা ভোট দেয়। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
- সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিউইয়র্কে ২ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প
- দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত
- বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান