Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ’র সৃষ্টি অনন্তকাল আলো দিয়ে যাবে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 136 বার

প্রকাশিত: July 18, 2017 | 5:00 PM

মোশাররফ রুমী : শুধু সাহিত্যই নয়, দেশের নাটক, চলচ্চিত্র এবং সংগীতাঙ্গনও যার অসাধারণ সৃষ্টির আলোতে দারুণভাবে আলোকিত তিনি হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি সর্বাধিক জনপ্রিয় ও পঠিত, নন্দিত লেখক এবং সংগীতস্রষ্টা, নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের আজকের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। এই কীর্তিমানের শূন্যতায় বেদনাসিক্ত দেশের সাহিত্য, চলচ্চিত্র, নাটক আর সংগীতাঙ্গন। গত পাঁচটি বছর ধরেই এ শূন্যতা কুরে কুরে খাচ্ছে নিরন্তর। হুমায়ূন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই লেখালেখি শুরু করে সাহিত্য সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। ‘নন্দিত নরকে’ তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এরপর ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘রজনী’, ‘এপিটাফ’, ‘পাখি আমার একলা পাখি’, ‘ফেরা’, ‘নিষাদ’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘নির্বাসন’, ‘অমানুষ’, ‘রূপালী দ্বীপ’, ‘শুভ্র’, ‘দূরে কোথাও’, ‘সংসপ্তক’, ‘বাদশাহ নামদার’, ‘সাজঘর’, ‘বাসর’, ‘নৃপতি’র মতো পাঠক হৃদয় জয় করা উপন্যাস আসে তার লেখনীতে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প’, ‘১৯৭১’, ‘সূর্যের দিন’-এর মতো উপন্যাস। হুমায়ূন সৃষ্ট ‘মিসির আলী’ ও ‘হিমু’ হয়ে উঠে পাঠকদের প্রিয় চরিত্র। ‘অনন্ত নক্ষত্র বীথি’, ‘ইরিনা’র মতো কয়েকটি কল্পবিজ্ঞান কাহিনীও লিখেছেন তিনি। উপন্যাসের পর নাটক লেখায় হাত দেন হুমায়ূন আহমেদ। এ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠায় অধ্যাপনা ছেড়ে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের এই শিক্ষক। আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘এইসব দিনরাত্রি’ ধারাবাহিক নাটক দিয়ে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান তিনি। এরপর ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নক্ষত্রের রাত’-এর মতো জনপ্রিয় নাটকও আসে তার হাত দিয়ে। নাটক লেখার একপর্যায়ে নির্দেশনায়ও নামেন হুমায়ূন আহমেদ। নাটক নির্দেশনায় হাত পাকিয়ে নাম লেখান চলচ্চিত্র পরিচালনায়। ‘আগুনের পরশমনি’ দিয়ে শুরু করে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’ ও সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ কয়েকটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ তৈরি করেছিলেন শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময় এক আবেদন। তার লেখা বই মানেই সর্বাধিক পাঠকগ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্তি। তেমনই তার নাটক মানেই ছিল ছেলে বুড়ো সব শ্রেণির দর্শকের টিভি  সেটের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়া। চলচ্চিত্র নির্মাণেও হুমায়ূন আহমেদ দর্শক সন্তুষ্টিতে জাদুকরি ছোঁয়া দিয়ে গেছেন সব সময়। ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুরে জন্ম হয়েছিল এ কীর্তিমানের। তার ডাকনাম কাজল। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। মা আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূন আহমেদ প্রথম বিয়ে করেন ১৯৭৩ সালে গুলতেকিনকে। তাদের চার সন্তান নুহাশ, নোভা, শীলা ও বিপাশা। ২০০৫ সালে গুলতেকিনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বিয়ে করেন শাওনকে। এই দম্পতির দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিত। সাহিত্যে নিজের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ অর্জন করেছেন একুশে পদক (১৯৯৪), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), মাইকেল মধুসূধন দত্ত পুরস্কার (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। হুমায়ূন আহমেদ আজ নেই। কিন্তু রয়ে গেছে তার দুর্দান্ত সব সৃষ্টি। সেগুলো অনন্তকাল আলো দিয়ে যাবে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে। হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে আজ নুহাশ পল্লীতে কোরআনখানি এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের সঙ্গে এখানে থাকছে গাজীপুর এলাকার কয়েকটি এতিমখানার শিশুরা। হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন জানিয়েছেন, আজ বাদ জোহর দোয়া মাহফিলের পর হুমায়ূনকে স্মরণ করা হবে। এবং সব শিশুকে নিয়ে হুমায়ূনের প্রিয় খাবার খাওয়ানো হবে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ