ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার ২৫% এর বেশী হওয়া উচিত নয়,গ্রামীণ নিচ্ছে ২০%: নিউইয়র্ক টাইমসে ড. ইউনূসের উপ-সম্পাদকীয়
এনা : ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকেই লাভজনক বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরই বিভিন্ন দেশে বহুল প্রশংসিত এ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে চালু ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রচন্ড হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। গরিবের চেয়েও গরিব মানুষদের কল্যাণের ব্রত নিয়ে পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণের জনক গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহম্মদ ইউনূস নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা এক উপ-সম্পাদকীয়তে এ অভিমত পোষণ করেছেন। সেক্রিফাইসিং মাইক্রো-ক্রেডিট ফর মেগাপ্রফিট’ শিরোনামে ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত এ উপসম্পাদকীয়তে ড. ইউনূস আরো উল্লেখ করেছেন, সুদের হার অবিশ্বাস্যরকমভাবে বাড়িয়ে দেয়ায় ভারতের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ঋণ নেয়ার পর অধিকাংশ মানুষই তা ফেরৎ দিতে পারছেন না। ভারতের এ পরিস্থিতিকে শক্তহাতে মোকাবেলা করার লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা সুনির্দিষ্ট একটি আইনের আওতায় নেয়া হলে নিশ্চয়ই গরিবের চেয়েও গরিব মানুষেরা এ ব্যবস্থা থেকে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে সক্ষম হবেন। ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাকে গরিবের রক্ত শোষণের মত একটি কর্মসূচি হিসেবে অভিহিত করে বিভিন্ন দেশে আন্দোলন শুরু এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে সংবাদ প্রকাশের পর উন্নতবিশ্বে নিজের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করার অভিপ্রায়ে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস এ উপসম্পাদকীয় লিখলেন বলে প্রবাসীরা মনে করছেন। তিনি লিখেছেন, ২০০৫ সাল থেকেই ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেকে মানব সেবার উদ্দেশে এ কর্মসূচিতে আত্মনিয়োগের পর বানিজ্যিক ফায়দা হাসিলে লিপ্ত হয়েছেন। অর্থাৎ ক্ষুদ্রঋণের মূল মন্ত্র জলাঞ্জলী দিয়ে একে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করেন। ল্যাটিন আমেরিকার প্রথম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী ব্যাংক ‘কমপারটামস’ (মেক্সিকান ব্যাংক) কে পাবলিক ব্যাংকে রূপান্তরিত করা হয়েছে ২০০৭ সালে। গত আগষ্টে ভারতীয় এসকেএস মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক ৩৫৮ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সহ পাবলিক ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। শেয়ার বিক্রির ফলে ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাকে লাভজনক কর্মসূচিতে নেয়ার অভিপ্রায়ে সুদের হার অনেক বেশী করা হয়েছে। এ অবস্থায় বছর শেষে ঋণের অর্থ প্রদানে অনেকে হিমসিম খান এবং এক পর্যায়ে ঋণ আদায়ে কঠোর পন্থা অবলম্বন করেন ঐ ব্যাংকের কর্মচারিরা। অথচ ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারীদের সাথে কখনোই রুঢ় আচরণ করার কথা নয়। সেবামূলক মনোভাব থেকেই এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে ৩০ বছর আগে। ভারতীয় ঋণ গ্রহিতাদের মনে হচ্ছে যে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ঋণের বিপরীতে অস্বাভাবিক সুদ নেয়া হচ্ছে : এ অবস্থায় তারা ঋণ ফেরত দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন। ড. ইউনূস লিখেছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ২৫০০ শাখা রয়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রতি মাসে গড়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার (৭০০ কোটি টাকা) ঋণ দেয়া হচ্ছে। ভিক্ষুকদেরকেও মাথাপিছু ১০ ডলার (৭০০ টাকা) করে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে অনেকে ব্যবসা করছেন, তারা পান ১০০০ ডলার (৭০ হাজার টাকা) পর্যন্ত। গ্রামীণ ব্যাংকে অনেক মানুষের একাউন্ট রয়েছে-যারা ঋণ নেননি। তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ব্যাংকগুলো। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহিতাদের সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে। প্রতি বছর গ্রামীণ ব্যাংকে যে আয় হয় তা বন্টন করা হয় তার ম্বেবার অর্থাৎ ঋণ গ্রহিতাদের মাঝে। উল্লেখ্য যে, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহিতার ৯৭% হলেন গরিবের চেয়েও গরিব মহিলা। ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী সকল প্রতিষ্ঠানকে এ ধারায় পরিচালিত হওয়া দরকার, তাহলেই ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির নীতি ও আদর্শ নিয়ে কারো মনে কোন প্রশ্নের উদ্রেক হবে না। লাভের জন্যে নয়, গরিব মানুষকে স্বাবলম্বী করতেই এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে-এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় কারোরই। ড. ইউনূস লিখেছেন, সরকার যদি আইন করে এবং তা যথাযথভাবে অনুসরণে বাধ্য করা হয়-তাহলে ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা প্রকৃত অর্থেই কল্যাণকর রয়ে যাবে। ড. ইউনূস লিখেছেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংক তার ক্ষুদ্রঋণ গহিতার কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুদ নিচ্ছে ২০%। এর মধ্যে থেকে যে লাভ হয় তার ভাগ পান ঐসব ঋণ গ্রহিতা সদস্য/সদস্যারা। অন্য দেশের সংস্থা অথবা ব্যাংক কোনভাবেই ২৫% এর বেশী নেয়া উচিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি রয়েছে এবং এ ধরনের অথরিটি প্রতিটি দেশেই চালু করা উচিত। সমাজের গরিব ও অসহায় মানুষদের পুঁজি করে অনেকে লাভবান হতে চান। গরিব মানুষদের ঋণ দেয়ার বিপরীতে ব্যক্তি ফায়দা হাসিলে লিপ্তরা কখনোই সে পরিকল্পনাকে ক্ষুদ্রঋণের আওতায় নিতে পারেন না। ক্ষুদ্রঋণের সংজ্ঞা হচ্ছে গরিব ও অসহায় মানুষদের বেঁচে থাকার অবলম্বন খুঁজে দেয়া।
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি