বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এক ধরনের ক্যাসিনো(জুয়া খেলার আসর)-ড. রেহমান সোবহান
অর্থনৈতিক রিপোর্টার: অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান বলেছেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বাস্তবসম্মত বাজার নয়, এটি এক ধরনের ক্যাসিনো (এক প্রকার জুয়া খেলার আসর)। এখানে লোকজন যে ধরনের অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে চায় তা বাস্তবসম্মত নয়। এখানকার অবস্থা সবসময় তেজিভাব থাকে। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রানীতি : ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে এ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদ, ড. রেজাউনুল ইসলাম, ড. আহসান হাবিব মনসুর প্রমুখ। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। গভর্নর বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কোন অবস্থাতেই আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে দেয়া হবে না। যে কোন মূল্যেই আর্থিক খাতের এ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে কৌশলগত পরিকল্পনা করেই উন্নয়ন সহায়ক, সরকারের প্রবৃদ্ধি নীতি সহায়ক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এ মুদ্রানীতির অন্যতম লক্ষ্য। তার চাইতে বড় লক্ষ্য আর্থিক খাতের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা। তিনি বলেন, বিশ্বমন্দার কারণে বিদেশে আমাদের পণ্য চাহিদা কমে গেলেও রেমিটেন্সের প্রবাহ বেড়েছিল। তারল্যের (নগদ টাকা) পরিমাণও সে সময় বেড়ে গিয়েছিল। এর প্রভাব হয়তো কোন কোন ক্ষেত্রে পড়েছিল। বিশেষ করে তা পুঁজিবাজারে ও আবাসন শিল্পের ওপর বেশি পড়েছিল। এ দু’টো বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সমন্বয়ের চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, এ সঙ্কটের মূলে যেতে হবে। শুধু মুখের কথায় কাজ হবে না। ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নিজের মূলধনের ওপর বেশি নজর দিতে হবে। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। এছাড়া পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর সরকার বিশেষ নজর দেবে বলেও আশা করেন তিনি। তিনি বলেন, রপ্তানি খাত যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির নীতির কারণে অর্থনীতিতে কর্মকাণ্ড যেভাবে বেড়ে যাচ্ছে তাতে আমরা আশাবাদী বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার তুলনায় বেশি অর্জন করা সম্ভব হবে। এতে প্রকৃত অর্থনীতি আরও বেশি ভাল করবে। সে কারণে উৎপাদনমুখী খাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এখাতে ঋণের প্রবাহ বাড়িয়েছি। এ খাতগুলোকে মুদ্রানীতির মাধ্যমে আরও বেশি সমর্থন দিতে চাই। গভর্নর বলেন, খেয়াল রাখতে হবে আজকের মূল্যস্ফীতির উৎস শুধুই বাংলাদেশই নয়, আঞ্চলিক ও সারা বিশ্বে এর প্রভাব রয়েছে। প্রতিবেশীদেশগুলোতেও এর প্রভাব রয়েছে। একটি অপরটির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, বন্ড মার্কেটের প্রতি নজর দিতে হবে। এ মার্কেটকে সামনের দিকে আরও কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ মার্কেটকে এগিয়ে নিতে পারলে অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সরকারকে সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে কথা বলেছি। ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নগদ জমা সংরক্ষণ হার (সিআরআর) বাড়ানোর সময়টি সঠিক ছিল না। ডিসেম্বর মাসে না বাড়িয়ে তারা বছরের অন্য যে কোন সময় বাড়াতে পারতো। এছাড়া তিনি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-এর নীতিমালা সংশোধনের পরামর্শ দেন। আজিজুল ইমলাম বলেন, মূল্যস্ফীতি যে হারে বাড়ছে তাতে ৭ শতাংশ ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে খাত ভিত্তিক সুদের হার ভিন্ন ভিন্ন করার পরামর্শ দেন। আবু আহমেদ বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতি আইএমএফ’র পরামর্শে করা হয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারারে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘুম একটু দেরিতেই ভেঙেছে।মানবজমিন।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030