Wednesday, 21 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

প্রথম লেখার গল্প-মাহবুবা চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 34 বার

প্রকাশিত: February 19, 2011 | 11:46 AM

আমার প্রথম লেখা ছাপা হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। আমি তখন খুবই ছোট, এক্কেবারে শিশু। সে সময় পাকিস্তানি খবর নামে একটা ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো- তাতে ছোটদের জন্য একটা বিভাগ ছিল। সেখানেই ছাপা হয়েছিল আমার প্রথম লেখা। একটা ছড়া লিখেছিলাম নাম ‘সিংহ মামার বিয়ে’। ছোটদের পাতার দায়িত্বে ছিলেন কবি তালিম হোসেন। ওই বয়সে এত কিছু জানার কথা নয়। আমার চাচা ছিলেন কবি তালিম হোসেনের বন্ধু। আমি ছড়াটা লিখে চাচার হাতে দেই। ছড়া পড়ে আমার চাচা তো রীতিমতো স্তম্ভিত। এত ছোট বাচ্চা এত সুন্দর ছড়া লিখলো কি করে? ছড়াটা দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ছাপা হয়ে গিয়েছিল। চাচার মুখে শুনেছি কবি তালিম হোসেন নাকি আমার ছড়ার প্রশংসা করে বলেছিলেন, এইটুকু মেয়ে এত সুন্দর ছড়া লিখেছে। মেয়েটি বড় হয়ে একদিন নামী লেখক হবে। পত্রিকায় নিজের নাম দেখে আমি তো খুশিতে আত্মহারা। প্রতিদিন পত্রিকাটি বের করে কতবার যে ছড়াটা পড়েছি তার হিসাব নেই। এক্ষেত্রে আমার বাবা-মা’র অবদান অনেক বেশি। লেখালেখির ব্যাপারে তাদের উৎসাহ  ছিল সব সময়। আমরা থাকতাম পুরনো ঢাকার আরমানিটোলায়। আব্বার পাবলিকেশন ব্যবসা ছিল। আমাদের বাড়িতে দু’টি পত্রিকা রাখা হতো- একটি দৈনিক আজাদ, আরেকটি মর্নিং নিউজ। আব্বার কড়া নির্দেশ ছিল প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়তে হবে। আমরা ছিলাম দশ ভাইবোন। ভোরবেলায় পত্রিকা এলেই ভাইবোনেরা কাড়াকাড়ি করে পত্রিকা পড়তাম। তখন দৈনিক আজাদে সপ্তাহে একদিন ‘মুকুলের মহফিল’ নামে ছোটদের পাতা বের হতো। ওই পাতাটি খুব উৎসাহ নিয়ে দেখতাম। প্রতিটি লেখা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তাম। বিশেষ করে ছড়াগুলো আমাকে বেশি আকর্ষণ করতো। সেখান থেকেই সম্ভবত ছড়া লেখায় উৎসাহী হয়েছিলাম। পত্রিকায় ছড়া প্রকাশ হওয়ার পর বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই বারবার শুনতে চাইতো ছড়াটা। আমি দ্বিগুণ উৎসাহে ছড়া পড়ে শোনাতাম। এ ব্যাপারটিও পরবর্তীতে লেখার ক্ষেত্রে উৎসাহ জুগিয়েছে। মা’র মুখে শুনেছি আমি খুব ছোটবেলা থেকেই ছন্দ মিলিয়ে কথা বলতে পারতাম। সে কারণে মুরব্বিরা আমাকে স্বভাব কবি বলে ডাকতেন।
প্রথম লেখা প্রকাশ হওয়ার দিন পনেরো পরে হঠাৎ একদিন ডাকপিয়ন এসে আমার খোঁজ করলো। আমি তো অবাক। আমার কাছে তো কোনদিন কেউ চিঠিই লেখে না, আমাকে কেন ডাকপিয়ন খোঁজ করছে। ডাকপিয়ন বললো তোমার নামে রেজিস্ট্রি চিঠি আছে, এইখানে সই কর। যথাস্থানে সই করে চিঠিটা আব্বার হাতে দিলাম। চিঠিটা খুলে আব্বা তো অবাক। বললেন, তোমার লেখার জন্য ওরা টাকা পাঠিয়েছে। দশ টাকার একটি চেক। লিখলে টাকা পাওয়া যায় ওই বয়সে কল্পনারও বাইরে ছিল। খেলার সাথীরা বললো টাকা পেয়েছিস খাওয়াবি না? না, সেদিন খেলার সাথীদের খাওয়াইনি। প্রথম রোজগারের দশ টাকা তুলে দিয়েছিলাম আব্বার হাতে। সেদিন আব্বার চোখে দেখেছিলাম আনন্দের অশ্রু।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ