Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
সব ক্যাটাগরি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই জাপানে সবচয়ে বড় আঘাত:নিহতের সংখ্যা দশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 54 বার

প্রকাশিত: March 14, 2011 | 11:48 PM

ইউএসএনিউজ  ডেস্ক:  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই জাপানে সবচয়ে বড় আঘাত।ভূমিকম্প, সুনামি, তেজস্ক্রিয়তা- তিন বিপদে জাপান। সেখানে মিনামি সানরিকু নামক স্থানে নিখোঁজ রয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। শুক্রবারের  ভূমিকম্পের ধ্বংসাবশেষ এবং কাদামাটির নিচে এসব মানুষ আটকে পড়েছেন, না হয় তাদেরকে সর্বগ্রাসী সুনামি গ্রাস করেছে। এ অবস্থা শুধু একটি এলাকার। অন্য স্থানে কি পরিমাণ মানুষ নিহত হয়েছেন তার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় নি। প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই জাপানে সবচয়ে বড় আঘাত। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তিনি ১ লাখ সেনা নামানোর কথা বলেছেন। ওদিকে ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আরও একটি চুল্লি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানো শুরু হয়েছে। তবে আগেভাগেই খবর ছড়িয়ে পড়েছে দ্বিতীয় চুল্লিটিতেও বিস্ফোরণ হয়েছে। এ তথ্য বিশ্বাসযোগ্য কোন মাধ্যম থেকে অবশ্য নিশ্চিত করা যায় নি। তৃতীয় আরেকটি চুল্লির অবস্থা শোচনীয়। যে কোন সময় তা বিস্ফোরিত হতে পারে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই চুল্লিটি যে ভবনের ভিতর তা চাপ সহ্য করতে সক্ষম। কিন্তু এ অবস্থায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত হয়ে জাপানে অবস্থানরত বিদেশীরা নারিতা বিমানবন্দরে গিয়ে ভিড় করছেন। কিন্তু দুর্গত এলাকায় এখন যারা বেঁচে আছেন তাদের অবস্থা শোচনীয়। তাদের ঘরে খাবার নেই। পানি নেই। বিদ্যুত নেই। যা দু’একটি বাড়ি সুনামির আঘাত সয়ে কোনমতে দাঁড়িয়ে আছে তার ভিতর অবস্থান করছেন বেশকিছু মানুষ। তারা আকাশে হেলিকপ্টার দেখেই হাত নাড়িয়ে সাড়া দিচ্ছেন উদ্ধারের আশায়। গতকালও হেলিকপ্টার দিয়ে লোকজনকে উদ্ধার করতে দেখা গেছে। শুক্রবার ৮ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের পরে সেখানে ফের ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। এতে তেজস্ক্রিয়তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আটকে পড়া লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে যেসব গাড়ি, বাড়ি, অবকাঠামো ভেসে গেছে তা চারদিকে সৃষ্টি করেছে একরকম প্রতিবন্ধকতা। তার সঙ্গে রয়েছে ৩০ ফুট উঁচু হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়া জলোচ্ছ্বাসে সৃষ্ট বন্যা। ভূমিকম্পের আঘাতে জাপান ৮ ফুট পূর্ব দিকে সরে গেছে। জাপান সরকারের শীর্ষ এক মুখপাত্র ইউকিও ইদানো গতকাল বলেছেন, ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দু’টি চুল্লিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আভাস দেন, নতুন করে একটি চুল্লিতে উচ্চ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরেকটি থেকে এরই মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। দু’দিন আগেও মিনামি সানরিকু ছিল পর্যটকদের বড় আকর্ষণ। তারা মুক্ত বাতাসে দম টানতে যেতেন সেখানে। এ শহরকে বলা হয় মাছের শহর। অসংখ্য জেলে সাগরে মাছ শিকার করে। কিন্তু ভূমিকম্পের ফলে সেখানকার চিত্র পাল্টে গেছে। শনিবার রাতে সরকার থেকে বলা হয়, ভূমিকম্প ও সুনামিতে নিহতের সংখ্যা ১৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। তবে আসলে কি পরিমাণ প্রাণহানি হয়েছে, কত মানুষের মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে তা আন্দাজ করা দুরূহ। ওই সব ধ্বংসস্তূপের নিচে কারও জীবিত থাকার আশা নেই। যেখানে গত শুক্রবার সকালেও জেলেদের মাছধরা বোটগুলো নোঙর করা ছিল এখন সেই স্থানটি কোথায় আর সমুদ্র কোথায় তা বোঝার উপায় নেই। বার্তা সংস্থা কিয়োদো গতকাল জানিয়েছে, টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো)-র পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে চুল্লিতে বিস্ফোরণের ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এজন্য তারা সরকারকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে, এখনই স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক হুমকি দেখা দেবে। তবে এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে  নেয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর চুল্লিটি থেকে কিছু বাষ্প সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে এর ভিতরকার চাপ প্রশমিত হবে। সমুদ্র থেকে অগ্নিনির্বাপক দিয়ে পানি ছোড়া হচ্ছে সেখানে। ব্যবহার করা হচ্ছে বোরিক এসিড। এসবই ওইসব চুল্লিকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য। টেপকো বলেছে, চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটলেও তা মূল কন্টেইনারের কেন্দ্রীয় অংশকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তবে জাপানের পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার পর ফুকুশিমা দাইচি প্ল্যান্টের আশপাশে ১৬০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন তাদেরকে মোটা প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরা ব্যক্তিরা স্ক্যানিং করে নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান নিরাপত্তার পরিধি বাড়িয়ে ২০ কিলোমিটারে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পারমাণবিক বিকিরণ থেকে একজন মানুষও যাতে ক্ষতির শিকার না হয় সে লক্ষ্যে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাপানের জনগণও প্রধানমন্ত্রীর এ আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে চাইছেন। কিন্তু ফুকুশিমার পরমাণু চুল্লির ১৩৫ কিলোমিটার দূরে দুই সন্তান এবং স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থানকারী উয়োশি ওয়াতানাবে বলেছেন, সরকার কেন এসব করছে আমরা বুঝতে পারছি না। তাদের উচিত নিরাপত্তা পরিধি আরও বিস্তৃত করা। কিন্তু সরকার সেটা করতে পারছে না। কেননা, যে বিপুল জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হবে সেটা সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়। শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর সপরিবারে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন সুকাসে ইয়োশিয়দা। তিনি পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সেখানকার আরেক বাসিন্দা শুন মোয়ে (২২) বলেছেন, আমরা টেলিভিশনে পারমাণবিক বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ার খবর জেনেছি। তিনি বলেন, এবারের ভূমিকম্প বেশ ভয়াবহ হলেও এখন পরমাণু চুল্লির বিস্ফোরণ নিয়েই আমরা বেশি ভয় পাচ্ছি। খুব একটা তথ্যও আমরা জানতে পারছি না। আমরা কি আসলেই নিরাপদ থাকতে পারবো। তিনি বলেছেন, বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার সময় না পেলে আমি ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকবো। আশ্রয়কেন্দ্রে সবাই শঙ্কার মধ্যে সময় কাটালেও পরমাণু চুল্লি বিস্ফোরণে খুব একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে খবরে জানা গেছে। এছাড়া তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণের মাত্রাও কমে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের আশাবাদী খবরে আবার উদীপ্ত হয়ে উঠেছেন ৭৯ বছরের ফুকায়া। কম্বল জড়ানো ফুকায়া ক্ষীণ কণ্ঠে বলছেন, আঁধারের পর আলো আসবে। এতো হতাশার কিছু নেই। এ বিপদ এক সময় অবশ্যই কেটে যাবে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV