মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এর শততম জন্মদিনে শুভেচ্ছা : গণমানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বঙ্গবীর ওসমানীর চেতনা
ম. আমিনুল হক চুন্নু : সে রাত ছিল অন্ধকার। তবে রাত ছিল পবিত্র। ১৯৭১ সালে ২৫ শে মার্চের দিনের শেষে যে রাত নামে- সে রাতেই পাকিস্তানী হায়েনারা গণহত্যা শুরু করে। হত্যা করে কয়েক লাখ বাঙালী। সে রাতেই হত্যা করে লে. কর্নেল মুজিবুর রহমান চৌধুরীকে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর জগন্নাথ হলে নির্মমভাবে হত্যা করে বিশ্ববরণ্য দার্শনিক অধ্যাপক ড. জি.সি.দেবকে। তাছাড়া শিক্ষক বুদ্ধিজীবি, মুসলমান হিন্দু, নারী-পুরুষ, মসজিদের ইমাম ও বাংলার কৃষক শ্রমিক রেহাই নেই কারুরই। সে অর্থেই রাতটি ছিল সাহসিকতার, দেশ প্রেমের এবং বাঙালীর শৌর্য-বীর্যের ও প্রতীক। জাতিকে মহিমান্বিত করেছে ঐ ২৫ মার্চের রাত। ঐ রাতেই শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন এবং শেখ মুজিব গ্রেফতারের পূর্বে স্বাধীনতার পূর্বে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে রুখতে বাংলার দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। ৯ মাসের মরণ পণ যুদ্ধে জাল্লাদ পাকিস্তানী সামরিক জান্তাকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করে। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। আমরা মুক্ত। আমরা স্বাধীন। ৩০ লক্ষ শহীদ আর ৩ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত আব্রুর বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এ স্বাধীনতা। এ যুদ্ধে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের জনগণের ও নেতৃবৃন্দের ছিল গৌবর উজ্জ্বল ভূমিকা। আমি এই নিবন্ধে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল এম.এ.জি ওসমানীর শততম জন্ম বার্ষিকীতে তাঁর জীবন ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করব।
বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি আলোকিত নাম। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক ও সর্বাধিনায়ক। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে তার নাম জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে তিনি এক প্রবাদ-প্রতিম পুরুষ। তাঁর সমর দক্ষতা, নিয়ম-শৃংখলার প্রতি শর্ত হীন আনুগত্য আর মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাফল্যের জন্য সর্বসাধারণ সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই বীরযোদ্ধাকে জাতি সব সময় শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে।
মুহাম্মদ আতাউল গনির জন্ম ১৯১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার (অধুনা ওসমানী নগর থানা) দয়ামীরে। তাঁর পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান, মাতা জোবেদা খাতুন। খান বি.এম রহমানের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট্ট ছেলে ওসমানী। সে সময় তাঁর পিতা মফিজুর রহমান তৎকালীন আসামের সুনামগঞ্জ সদর মহকুমায় সাব-ডিভিশনাল অফিসার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এখানেই জন্ম হয় ওসমানীর।
পিতার চাকুরীর সূত্রে তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। তাই কিছু দিন পর বদলির আদেশ নিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে চলে যেতে হয়-গোহাটিতে। আর সেখানেই ওসমানীর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। ১৯২৩ সালে “কটনস্ স্কুল অফ আসাম”-এ ভর্তি হন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং স্কুলের প্রত্যেক পরীক্ষায় প্রথম হতেন। ১৯৩২ সালে ওসমানী সিলেট গভর্ণমেন্ট পাইলট হাই স্কুলে ভর্তি হন। তৎকালীন সময়ে সিলেটের এই স্কুলটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ছিল। ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে। সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন। এই কৃতিত্বের জন্য ব্রিটিশ সরকার এম.এ.জি.ওসমানীকে প্রাইওটোরিয়া পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করে এবং ঐ বৎসরই আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৩৬ সালে আই এ এবং ১৯৩৮ বিএ ডিগ্রী নিয়ে এম.এ ক্লাসে ভর্তি হন।
১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের দেরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারী একাডেমীতে জেল্টম্যান ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর ট্রেনিং শেষে কমিশন লাভ করেন এবং একজন লেফটেন্টে হিসেবে দিল্লীতে কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর অসাধারণ কর্ম দক্ষতা ও নৈপূন্যের জন্য তাঁকে মাত্র ২৩ বছর বয়সে মেজর পদে ১৯৪২ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারী পদোন্নতি দেয়া হয়। তিনিই রাজকীয় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি বার্মায় যুদ্ধে অংশ নেন। ঐ সময়ে তিনি একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করেন। অত্যন্ত আকর্ষণীয় চাকুরীর প্রস্তাব প্রত্যাখান করে সেনাবাহিনীতে থেকে যান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি একটি যান্ত্রিক পরিবহন ব্যাটালিয়ন এ পরিচালনায় কৃতিত্ব প্রদর্শন করে অর্জন করেছিলেন এক দূর্লভ সম্মান। সেই সময়কালে তাঁর বড় আরো একটি অর্জন ছিল অবিভক্ত ভারতের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট নামে স্বতন্ত্র একটি রেজিমেন্ট সৃষ্টি করতে পারা। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পরে সদ্য জন্ম নেয়া পাকিস্তানে তিনি যখন ঐ বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্ব লাভ করেন, তখন ঐ রেজিমেন্টের নামকরণ করা হয় ইষ্ট পাকিস্তান রেজিমেন্ট বা ইপিআর। তিনি দায়িত্ব পেয়েই ইপিআরে অবাঙালী সৈন্য নিয়োগ পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং সেই সাথে ঐ ইপিআর উপজাতীয়দের যোগদানের বিষয়টা নিশ্চিত করেন। ঐ সময় জেনারেল ওসমানীর বড় আরেকটা কৃতিত্ব ছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর লেখা বিখ্যাত কবিতা- “চল চল চল/ উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল”। গানটাকে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মার্চ সঙ্গীত হিসাবে সরকারী অনুমোদন আদায় করে নেয়া। তাছাড়াও তিনি বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাঁকুরের লেখা প্রসিদ্ধ একটি গান “ গ্রামছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ”- এবং দিজেন্দ্র লাল রায়ের লেখা “ধন ধান্যে পুস্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা” এই দুটো গানকে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ব্যান্ড সঙ্গীত হিসেবে প্রচলনের ও কৃতিত্ব অর্জন করেছিরেন বঙ্গবীর ওসমানী। তিনি ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধের সময় ডেপুটি ডাইরেক্টর অফ মিলিটারী অপারেশনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই কৃতি মানুষ ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী কর্ণেল হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছিলেন। অত:পর শেখ মুজিবুর রহমান এর আমন্ত্রণে ১৯৭০ সালে জুলাই মাসে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ,গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ নিয়ে গঠিত এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের ২১ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানী হানাদাররা তাঁর বাসায় হানা দেয়। কিন্তু যোদ্ধা ওসমানীকে ওরা পায় কোথায়। গোপনে এক সময়ে তিনি কুমিল্লা সীমান্তে এসে যোগ দেন বিদ্রোহী ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনাদের সাথে। ৪ঠা এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানে বাঙালী সেনা অফিসারা মিলিত হন। ওসমানী সহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন কর্ণেল এম এ রব, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর সফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর মমিন চৌধুরী প্রমুখ। তাৎক্ষনিকভাবে তারা সম্মিলিত মুক্তিবাহিনী গঠন করেন এবং কর্ণেল ওসমানীকে তা পরিচালার দায়িত্ব সর্বসম্মতিতে প্রদান করেন।
তাছাড়া ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল যখন প্রবাসী সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল যখন সরকার শপথ গ্রহন করে। তখন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু বাস্তবতা ছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২৬ মার্চ পাকিস্তানীদের হাতে গ্রেফতার হয়ে ছিলেন, অতত্রব তিনি অনুপস্থিত। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হন এবং দায়িত্ব গ্রহন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ক্ষুদ্র মন্ত্রী সভায় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। অন্য তিনজন মন্ত্রী ছিলেন কামরুজ্জামান, মনসুর আলী এবং খোন্দকার মোশতাক আহমদ এবং নবগঠিত মন্ত্রী সভা সেই সময় অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল এম.এ.জি. ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মনোনীত করেন। তিনি দায়িত্ব পেয়ে গড়ে তুললেন মুক্তিবাহিনী প্লাস গেরিলা সমন্বয়ে এক বিশাল বাহিনী। তিনি স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। নিজেকে তিনি স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।
১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় আত্মসমর্পণ করে। সেই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কর্ণেল ওসমানী উপস্থিত ছিলেন না। কেন ছিলেন না তার উত্তর আজো জানা নেই। তার সঠিক উত্তর ওসমানী নিজেও দেননি। অন্যরা মুখ খুলেননি। আর দু’একজন যেমন এম আর আখতার মুকুল তাঁর “ আমি বিজয় দেখেছি”-বইতে এ বিষয়ে কল্প কাহিনী জুড়ে দিয়েছেন। হয়তো একদিন সত্য কথাটি সবারই সামনে ভেসে উঠবে।
১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর তাঁকে জেনারেল পদে উন্নীত করা হয় এবং স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ এর ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে তিনি অবসর গ্রহন করেন। ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য পদ লাভ করলে বঙ্গবন্ধু সরকার তাঁকে জাহাজ নৌ ও বিমানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত করেছিলেন এবং তাঁর আমলেই সিলেট বিমান বন্দরটি সম্প্রসারনের উদ্যোগ গৃহিত হয়ে ছিল প্রথমবারের মতো।
গনতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী জেনারেল ওসমানী ১৯৭৪ সালে বাকশাল গঠিত হলে এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগেই তিনি মন্ত্রী সভা থেকে পদ ত্যাগ করেছিলেন।
অত:পর তিনি জনতার কাতারে এসে সামিল হলেন এবং ১৯৭৬ সালে “জাতীয় একতা পার্টি”- গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ ও ১৯৮১ সালে তিনি বিরোধী দল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেলেও তিনি পরিচ্ছন্ন মূল্যবোধ নিয়ে গণতন্ত্রের উত্তরণে সহায়তা করেছেন জীবনভর। তবে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী প্রচারনায় গিয়েছিলেন। সাথে সব সময় দেখেছি জাতীয় জনতা পার্টির নেতা সিরাজুল ইসলাম (রুশন)। তিনি ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশে বঙ্গবীর ওসমানী নির্বাচনী প্রচার ছাড়াও সর্বদা সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। বঙ্গবীর ওসমানী সিরাজুল ইসলামকে আপন ভাইয়ের মতন দেখতেন।
তাছাড়া বঙ্গবীর ওসমানী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রৌয়াইল উচ্চ বিদ্যালয় এর দিঘী যেখানে শীত মৌসুমে বিদেশী পাখি আসে এবং মধ্যভাগে একটি ছোট্ট দ্বীপও রয়েছে। এই দিঘীতে ( প্রায় ১০ একর ভূমি নিয়ে) জেনারেল ওসমানী বর্শী দিয়ে মাছ শিকার করেছেন। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭৪ সালে স্কুল ও দিঘী পরিদর্শন করে গ্রামবাসীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাছাড়া রৌয়াইল সমিতি, ইংল্যান্ড এর এক সভায় মো: আজিজুর রহমান (ময়না), নূরুল হক, লুৎফুর রহমান (ইলিয়াস), আমিরুল হক (নানু) ও জামাল মিয়া ওসমানী শততম জন্ম দিবসে শুভেচ্ছা ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। অন্যদিকে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম ও শুভেচ্ছা জানান। উক্ত সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবীর ওসমানী ছিলেন নির্লোভ, নির্ভীক ও নির্মল চরিত্রের অধিকারী এবং নিয়মাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাস করতেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেক দেশাত্মবোধক জনপ্রিয় গান, রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের এবং সমগ্র দেশের মানুষকে উদ্বেলিত করত: তাদের মনোবলকে সবর্দাই উজ্জীবিত রাখত। এরকম একটি গানের প্রথম লাইনটি হলো “ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি”- গানটির রচিয়তা ছিলেন গৌবিন্দ হালদার এবং মুক্তিযুদ্ধকালে প্রথম গানটি গেয়েছিলেন ওই আমলের প্রখ্যাত তরুণ সঙ্গীত শিল্পী আপেল মাহমুদ। ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল একটি ফুলকে বাচাঁনোর জন্য। আজ বঙ্গবীর এম.এ.জি.ওসমানীর শততম জন্মদিবসে, আমরা মনে করি নতুন ফুলকে বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করতে হবে। নতুন ফুল কি? নতুন ফুল গণমানুষের সার্বিক অধিকার, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা, নতুন ফুল গণতন্ত্র এবং নতুন ফুল মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানীর আদি ও অকৃএিম চেতনা।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহুদেশের মতো উত্তর আমেরিকায় জনাব আজিজুর রহমান বুরহান, বেলাল উদ্দীন, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, এডভোকেট শেখ আখতার উল ইসলাম, কামাল আহমদ, বশির উদ্দীন ও শাহাব উদ্দীন এর নেতৃত্বে দল-মত, ব্যক্তি গোষ্ঠী, আঞ্চলিকতার উর্ধেব উঠে সব প্রবাসীকে নিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য চার বরোতে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট এম.এ.জি ওসমানীর শততম সার্বজনীন জন্মজয়ন্তী উদযাপন কমিটি গঠণ করা হয়। আজ প্রবাসে বঙ্গবীর ওসমানীর শততম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে কিন্তু আমরা এত অকৃজ্ঞ জাতি জেনারেল ওসমানীর নামটি জাতীয় কোন মর্যাদাপূর্ণ দিনেও একটি বারের জন্যও উচ্চারণ করি না। তবে দেশ ও প্রবাসে সচেতন জনগণ ওসমানীর শততম জন্মদিবসে একটি মাত্র দাবী সরকার যেন আগামীতে ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যু দিবস সরকারী ভাবে পালন করে।
এই মহান বীর মুক্তিযুদ্ধের গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী স্বদেশ ও স্বজাতীয় উন্নয়নে আমৃত্যু সংগ্রামী এই মহা মানব ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী ইংল্যান্ড এর সেন্টপল হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। পরবতর্েিত তাঁকে হয়রত শাহজালাল (রহ:) দরগাহের পাশেই দাফন করা হয়।

-ম. আমিনুল হক চুন্নু, সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। সাহিত্য ও সমাজ গবেষণামূলক বিষয়ক লেখক।
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan