‘সম্পাদকরা প্রতিটি লেখা পাঠ করে তারপর ছাড়পত্র দিতেন ছাপার, প্রয়োজনমতো সংশোধন করতেন; অথবা বাতিল করে দিতেন’
রবিন আকরাম : আশির দশকে পত্রিকায় লেখা ছাপা হওয়া ছিল সত্যিকারের আনন্দ এবং গর্বের ব্যাপার। দুর্বল লেখা ছাপা হওয়ার সুযোগ ছিল না বললেই চলে। পত্রিকাও ছিল হাতে গোনা।
কবি আহসান হাবীব দেখতেন ’দৈনিক বাংলা’র সাহিত্য পাতা, আবুল হাসনাত দেখতেন ‘সংবাদ সাময়িকী’, আল মুজাহিদী ছিলেন ‘ইত্তেফাকে’। সাপ্তাহিক-এর মধ্যে ছিল শাহাদাৎ চৌধুরীর ‘বিচিত্রা’, সৈয়দ তোসারফ আলী এবং কবি রফিক আজাদের ‘রোববার’, বেলাল চৌধুরী এবং সুশান্ত মজুমদারের ‘সন্ধানী’। মুক্তধারা-র ‘সাহিত্যপত্র’-র গদ্য এবং পদ্য বিভাগ দেখতেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং হুমায়ুন আজাদ।
লিটল ম্যাগাজিনও ছিল কম। গোষ্ঠীগত হলেও সেগুলো ছিল খুবই সুসম্পাদিত।
সম্পাদকরা প্রতিটি লেখা পাঠ করে তারপর ছাড়পত্র দিতেন ছাপার। প্রয়োজনমতো সংশোধন করতেন। অথবা বাতিল করে দিতেন। ‘ইত্তেফাকে’ কিছু বড় আমলা-পুলিশ কর্মকর্তার তুলনামূলক দুর্বল লেখা ছাপা হতো। তবে সেগুলোকে ছাপার উপযোগী করে তুলবার জন্য বিভাগীয় সম্পাদকদের পরিশ্রম করতে হতো অনেক। ফলে সেই অফিসার-লেখকরাও নিজেদের লেখার সীমাবদ্ধতা ধরতে পারতেন। সচেষ্ট হতেন পরবর্তীতে আরো ভালো লেখার জন্য।
কঠোর সম্পাদনার ফলাফল ছিল এই যে প্রকাশিত গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলোকে খারাপ বলার কোনো উপায় ছিল না। সেই কারণেই কোনো লেখক বা কবির ৪/৫টি লেখা ছাপা হলেই তিনি সাহিত্যিকমহলে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে পারতেন। কারো ৫টি গল্প ছাপা হলে সারাদেশের সাহিত্য-সংশ্লিষ্ট সবাই সেই গল্পলেখকের নাম মনে রাখতেন।
নব্বই দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু হলো পত্রিকা-বিস্ফোরণ। তখন যেমন বাজে কথা, বাজে খবর, বাজে ভাষ্য, বাজে কলাম ছাপা হতে শুরু করল, সেই রকম শুরু হলো বাজে গল্প-কবিতা ছাপা। কিছুটা সচেষ্ট হলেও সাহিত্য সাময়িকীতে আশির দশকের মান অর্জন করতে পারেনি আজকের কাগজ-ভোরের কাগজ-প্রথম আলো পরম্পরাও। বরং কিছুটা ঝলক দেখিয়েছিলেন আবু হাসান শাহরিয়ার দৈনিক মুক্তকণ্ঠ পত্রিকার ‘খোলা জানালা’ পাতায়। তবে বেশিদিন টেকেনি কাগজ।
আর এখন তো লেখা না-ছাপা হওয়াই অসম্ভব। সম্পাদনার সুযোগ নেই, আছে পাতা ভরানোর ব্যগ্রতা এবং চাপ। সঠিক বাক্য গঠনই করতে পারে না, এমন মানুষেরও লেখা মুদ্রিত হয় ডজন ডজন। টিভিতে তার লেখা নাটক প্রচারিত হয় চাঁদে চাঁদে। সর্বোপরি ফেসবুক তো আছেই। ফলাফল– যোগ্য পাঠকের দ্বারা উপেক্ষিত হাজার হাজার স্বঘোষিত লেখক। অসংখ্য আগাছার ভিড়ে আড়ালে পড়ে যায় সত্যিকারের কবি-লেখক হতে আসা কিছু পরিশ্রমী নতুন মুখ।
পরীক্ষাতে বাংলায় ভালো নম্বর পেতাম। মনে প্রচ্ছন্ন গর্ব ছিল যে ব্যাকরণ ভালো জানি। কিন্তু লিখতে এসে ব্যাকরণ এত বেশি পড়তে হয়েছে এবং হচ্ছে যে পরীক্ষার ভালো নম্বর পাওয়ার কথা ভাবলে এখন হাসি পায়।
জয় হোক বিনাশ্রমে লেখক-কবি বনে যাওয়া নারী-পুরুষদের!
প্রকাশকরা সুখে থাকুক বছরে সাড়ে চার হাজার বই লেখকের খরচে বের করার লভ্যাংশের টাকায়!
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan