Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন বিরোধী আইনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 181 বার

প্রকাশিত: November 4, 2018 | 8:44 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক ষ্টেট-এর অফিস ফর নিউ আমেরিকান্স আয়োজিত টাউন হল মিটিং-এ বক্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন বিরোধী আইনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সম্মিলিত উদ্যোগে ট্রাম্পকে মোকাবেলা করতে হবে। আর এজন্য নিজেদেরকে আইন-কানুন জানার পাশাপাশি তার সঠিক প্রয়োগের বিষয়ও জানতে হবে। বক্তারা ইমিগ্রেশন বিষয়ক যে কোন সমস্যার ব্যাপারে করনীয় ও পরামর্শ বিষয়ে প্রয়োজনে গভর্নর এন্ড্রু কুমোর অফিসের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা এবং গভর্ণরের হাতকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। খবর ইউএনএ’র।

সিটির জ্যাকসন হাইটসের বেলোজিনো পার্টি হলে গত ২৯ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় এই টাউন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশী ছাড়াও অন্যান্য কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক নিউইয়র্কবাসী অংশ নেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্তাবধান ও পরিচালনায় ছিলেন গভর্ণর কুমো’র প্রতিনিধি জেনিফার রাজকুমার এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উই আর দ্য পিপল-এর প্রেসিডেন্ট জ্যাকব মিল্টন। অনুষ্ঠানে জননিরাপত্তা, আইস কর্তৃক গ্রেফতার পরবর্তী করণীয়, নাগরিক অধিকার প্রভৃতি বিষয়ে প্যানেলগণ বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন বিরোধী নীতিমালায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে নিউইয়র্কের গভর্নর এন্ডু কুমো প্রতিষ্ঠিত ‘অফিস ফর নিউ আমেরিকান’ এবং মানবাধিকার সংস্থা ‘উই আর দি পিপল’ এই জনসচেতনার লক্ষ্যে টাউন হল মিটিংয়ের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন উই আর দি পিপল-এর মহাসচিব নীরু এস  নীরা। তিনি তার বক্তব্যে টাউন হল মিটিং-এর বিষয় ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জ্যাকব মিল্টন। এরপর টাউন হল মিটিং-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং করনীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে জেনিফার রাজকুমার। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক সিটির সাবেক কাউন্সিলম্যান হাইরাম মানসেরাত, নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীর সাবেক পদপ্রার্থী তালেয়া এ উফকা, নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর নিউ আমেরিকানস-এর কাইল এথেয়িডে, উই আর দি পিপল-এর চীফ কাউন্সিল ডেভিড কর্নগোল্ড উই সহ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত এটর্নী ও জনপ্রিতিধিগণ বক্তব্য রাখেন এবং বক্তব্য পর্ব শেষে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য অন্যানদের মধ্যে নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান মাইকেল ব্লেইক, এলিজাবেথ ক্রাউলি, এটর্নী জন ডেমাইও, এলিওনা ঘেরাসিমোভ এবং এডওয়ার্ড কুঁচিয়া  সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সংশ্লিদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে বলা হয় টাউন হল মিটিং-এ নীরু এস নীরা বাংলাদেশী তথা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, ক্যারাবিয়ান এবং সাউথ আমেরিকা থেকে আগতদের অধিকার আদায়ে সকলকে এক যোগে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, আমেরিকার পাবলিক অফিসিয়ালদেরকে কমিউনিটিতে এনে মোটা অংকের ডলার তুলে দিয়ে একটি ফটো তুলে ওই ছবি সামাজিক মিডিয়া বা পত্রিকায় ছাপানোই যদি সমাজ সেবা হয় তবে আমরা কখনোই আমেরিকান সমাজের  উপরে উঠবো না। এটা নিতান্ত লজ্জার কথা যে, বাংলাদেশী কমিউনিটির কতিপয় ব্যক্তি নিজেদেরকে নেতা বানানোর লক্ষ্যে চাঁদা তুলে এমন সব লোকজনদেরকে সমর্থন করছে যারা কোনোদিনই বাংলাদেশী কমিউনিটির তথা বাংলাদেশের কোনো কাজেই আসেনি। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশীকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের কোনো সংগঠনই তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। প্রচারবিমুখ ‘উই  আর দি পিপল’-এর প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব মিল্টন নীরবে ডিটেনশন সেন্টারে আটকে পড়া অনেককেই সাহায্য করছেন এবং পাশাপাশি স্টেট অফিসের সাথে সমন্বয় করে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।

নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীর সাবেক পদপ্রার্থী তালেয়া এ উফকা তার বক্তব্যে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর নিউ আমেরিকান, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এর বিশেষ কাউন্সিল জেনিফার রাজকুমার, উই আর দি পিপল তথা জেকব মিল্টনকে যথাপযোগী সময়ে এধরণের একটি ইভেন্ট আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তালেয়া উফকা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন এবং সকল ইমিগ্রান্টদেরকে একত্রে কাজ করার আহবান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

তালেয়া উফকার বক্তব্যের পর বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক ডিস্টিক্ট লীডার এবং ডিপার্টমেন্ট অব ষ্টেট-এর বিশেষ কাউন্সিল জেনিফার রাজকুমার। তিনি বলেন, আমি এক সময় কুইন্স কাউন্টিতেই বাংলাদেশী মানুষদের কাছাকাছি লেখা পড়া করে বড় হয়েছি। বাংলাদেশী মানুষদেরকে খুবই মিস করি।

জেনিফার রাজকুমার বলেন, গভর্নর কুমো ইমিগ্র্যান্টদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়াতেই অফিস ফর  নিউ আমেরিকানস গঠন করেছেন। আমি খুবই গর্বিত যে একজন ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে অন্য আরো একজন ইমিগ্র্যান্টকে সাহায্য করার সুযোগ পাচ্ছি।

জেনিফার রাজকুমারের বক্তব্যের পর নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর নিউ আমেরিকানস-এর কাইল এথেয়িডে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈরী ইমিগ্রেশন নীতিমালার সমালোচনা করেন এবং গভর্নর কুমো কিভাবে ইমিগ্রান্টদেরকে সহায়তা দেবেন তা তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যের মাঝে বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের নাম উল্লেখ করে তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।

উই আর দি পিপল-এর চীফ কাউন্সিল ডেভিড কর্নগোল্ড উই তার বক্তব্যে জেকব মিল্টনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রচারবিমুখ জেকব মিল্টন কারো রিকোগনিশনের জন্য কাজ করেন না। তিনি কমিউনিটির কল্যানেই কাজ করে যাচ্ছেন। কর্নগোল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রান্ট বিরোধী আইনকে আন-আমেরিকান এবং আমেরিকান  নীতি বিরোধী হিসেবে বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ বক্তা সাবেক সিটি কাউন্সিম্যান হায়রাম মনসেরাত অনুষ্ঠানের আয়োজক উই  আর দি পিপল, অফিস ফর নিউ আমেরিকানস এবং জেনিফার রাজকুমারের ভূয়শী  প্রশংসা করেন। গভর্নর কুমোর প্রশংসা  করতে গিয়ে তিনি বলেন, নিউইয়র্ক ষ্টেট অফিস ফর নিউ আমেরিকানস প্রতিষ্ঠা করে গভর্নর কুমো প্রমাণ করেছেন যে তিনি ইমিগ্রান্টদের বন্ধু। ইমিগ্রান্টদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ