বাংলাদেশে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিফলন ঘটেছে ড. ইউনূসকে অপসারণের ঘটনায়:ওয়াল স্ট্রীট জার্নালে শমসের মোবিন চৌধুরী
এনা : বিশ্ববিখ্যাত ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের মতামত কলামে বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মোবিন চৌধুরী ৩ এপ্রিল লিখেছেন যে. ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তক ড. মুহম্মদ ইউনূসকে হয়রানি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান মারাত্মক সমস্যা প্রতিফলিত হয়েছে। যে সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস বহির্বিশ্বে তাদের সহায়তা হ্রাসের কথা ভাবছে এবং তাদের অঙ্গিকারকে ঢেলে সাজাতে চাচ্ছে, সে সময়ে বাংলাদেশকে সজাগ থাকা উচিত। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনার এবং বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের উন্নয়ন সহায়তা পাচ্ছে। কিন্তু গত মাসে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসকে অপসারণের কারণে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ড. ইউনূস ২০০৬ সালের নোবেল পুরষ্কার জয়ের পাশাপাশি আমেরিকান প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে এবং বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যাংকের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ঋণ নিতে সম্পদ বন্দক দেয়ার কোনই যোগ্যতা নেই এমন কোটি কোটি গরিব মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অপরিসীম ভূমিকা রেখে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (বিএনপি-জামাত জোট আমলে) হিসেবে দায়িত্বপালনকারী শমসের মোবিন চৌধুরী লিখেছেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারিতার সামিল। আর এটি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখে ‘ক্ষুদ্রঋণের নামে গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া হচ্ছে’ মন্তব্য করার পরই। শেখ হাসিনার সরকার দাবি করেছে যে, গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডে দায়িত্ব পালনের আইনগত বয়স সীমা ড. ইউনূস আগেই অতিক্রম করেছেন। কিন্তু তিনি এ বয়স সীমা অতিক্রম করেছেন অন্তত: এক দশক আগে। শমসের মোবিন লিখেছেন, ড. ইউনূস যখন ৬০ বছরে পৌঁছেছেন সে সময় ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে ঐ বয়সসীমা তার জন্যে প্রযোজ্য নয়। এটা ছিল ১৯৯৯ সালের ঘটনা। চলতি বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবারো নিশ্চিত করে বলেন যে, ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ (যেখানে ৩ জন রয়েছেন সরকারের মনোনীত) অনেক আগেই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অবসরের বয়সসীমা মওকুফ করে দিয়েছেন। এমনি অবস্থায় হঠাৎ করে ড. ইউনূসকে অপসারণের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমে অনাকাঙ্খিত প্রভাব খাটিয়ে সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিরোধিতার পথ সুগম করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ২০০৭ সালে নিজস্ব একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার ঘোষণার পর থেকেই ড. ইউনূস বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছেন। ড. ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়াটি খুবই স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও শেখ হাসিনা তা ভুলতে পারেননি। তার পর থেকেই ড. ইউনূস এবং তার জনপ্রিয়তাকে শেখ হাসিনা নিজের রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে মনে করছেন। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বাইরেও শেখ হাসিনার এহেন মনোভাবে জবাবদিহিতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বচ্ছ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অধিকার ক্ষুন্ন করার বিষয় প্রতিফলিত হয়। বিএনপি নেতা শমসের মোবিন চৌধুরী তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্ল্যাকসহ স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, সমঝোতায় ব্যর্থ হলে তা দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু তাই নয়, ২৬ জন কংগ্রেসম্যান শেখ হাসিনার কাছে প্রদত্ত এক পত্রে ব্যাংকের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানাতে আহবান জানিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্কের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন ডলার (৭১০০ কোটি টাকা) করে বাংলাদেশকে দিচ্ছে ইউএসএইড। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে তিক্ত করতে পারে এবং ইউএস এইড হ্রাস পেতে পারে। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মোবিন চৌধুরী লিখেছেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জটিলতা এবং সর্বগ্রাসী দুর্নীতিরও প্রতিফলন ঘটেছে উপরোক্ত ঘটনায় এবং তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ, স্বাধীনতাকে বিপন্ন ও দেশকে অস্থির করে তোলার মত পরিস্থিতি তৈরী করেছে। এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ব্যাপারে এবং সরকারী হেফাজতে নির্যাতন নিয়ে। তার লেখায় বলা হয়েছে, বিচার বিভাগকে সরকার তার অপকর্মের সমালোচনাকারীদের দমনে ব্যবহার করছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত জুন মাসে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী মতপোষণকারী পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেফতার এবং সে পত্রিকা অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনায়। ঐ সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকার ঐ পত্রিকার সমালোচনাকে বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারেননি। বিশেষ করে একটি বিদেশী কোম্পানীকে টেন্ডার প্রদানের ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে ঐ পত্রিকার সংবাদকে অসহ্য মনে করেছে সরকারের লোকজন। মি. চৌধুরী তার লেখায় বলেছেন, বিগত সময়ে সরকারের রোষানলে পড়ার অনেক ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম না হলেও ড. ইউনূসের ঘটনা এহেন পরিস্থিতিকে কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে তা জনসমক্ষে আনতে সক্ষম হলো। গ্রামীণ ব্যাংকের অস্তিত্বের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহলের জোরদার হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাই ব্যক্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নিয়ম-নীতি অক্ষুন্ন থাকবে এমন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় সংস্কার সাধনের স্পষ্ট দিক-নির্দেশনামূলক একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে এবং তার উপরই নির্ভর করবে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক-এ অভিমতও পোষণ করা হয়েছে ঐ লেখায়। কঠোর পরিশ্রম এবং বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশীরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে-যেখানে সিভিল রাইটসকে সম্মান দেয়া হবে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে। সে ধরনের অগ্রগতি এখন প্রচন্ড ঝুঁকিতে এবং এহেন পরিস্থিতি উত্তরণে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন শমসের মোবিন চৌধুরী। রাষ্ট্রদূত তার লেখায় আরো উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ সরকার এবং ড. ইউনূসের মধ্যেকার এই ঘটনাটি এখন আর ব্যক্তি বা ইন্সটিটিউটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যদি কারো আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং সুনাম অন্যায়ভাবে ভূলন্ঠিত করতে চায় সে দেশের সরকার , তাহলে বুঝতে হবে যে ঐ দেশের কোন নাগরিকই নিরাপদ নয় এবং সে দেশের সমাজ ব্যবস্থাও স্বাধীন নয়। বিশ্বে সর্বাধিক প্রচারিত এবং মর্যাদাসম্পন্ন দৈনিক ওয়াল স্ট্রীট জার্ণালে বাংলাদেশের উপর এ মতামত-প্রতিবেদনকে সময়ের সাহসী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন এবং যুবদল কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম এ বাতিন। তারা বার্তা সংস্থা এনার মাধ্যমে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মোবিন চৌধুরী বীর বিক্রমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে উপস্থাপনের এ ঘটনা জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes