জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্নীতির কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপকূলীয় বনাঞ্চল সুন্দরবন ধ্বংসের মুখোমুখি
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্নীতির কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপকূলীয় বনাঞ্চল সুন্দরবন ধ্বংসের মুখোমুখি বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। আজ শনিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) থেকে সারা বিশ্বে একযোগে প্রকাশিত জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিশ্ব দুর্নীতি প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) আয়োজনে ‘গভর্নেন্স এন্ড করাপশন রিস্ক এন্ড অপশনস’ শীর্ষক এক সেমিনারে টিআইর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বৈশ্বিক দুর্নীতি প্রতিবেদনে পৃথিবীর ২০টি দেশের পঞ্চাশোর্ধ্ব শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সুন্দরবন থেকে বছরে ১৩৫ কোটি টাকার কাঠ পাচার করা হয়। কিছু ব্যবসায়ী, অসাধু বন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে সুন্দরবনে নির্দ্বিধায় বেআইনিভাবে গাছ কাটা হয়। অসাধু বন কর্মকর্তারা বাওয়ালিদের কাছ থেকে এভাবে সোয়া ছয় কোটি টাকার ঘুষ নিয়ে থাকে। জেলেদের কাছ থেকে তারা নেয় ২৩ কোটি টাকা।প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবন প্রকৃতির প্রাচীর হিসেবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের শক্তি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। অথচ সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা ৪৫ সেন্টিমিটার বাড়লে এর প্রায় ৭৫ ভাগ নিমজ্জিত হয়ে যাবে। এক মিটার বাড়লে পুরো সুন্দরবনই ডুবে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্নীতি থেকে সুন্দরবনকে রক্ষায় সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে বন থেকে রাজস্ব আহরণের চিন্তা বাদ দিয়ে বন সংরক্ষণের দিকে জোর দেওয়া দরকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।সেমিনারে টিআইবির চেয়ারম্যান হুগুইটে লেবেল্লা বলেন, দুর্নীতি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে। দুর্নীতির কারণে পৃথিবীতে বছরে ২৬০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়।বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি কৌশলপত্র তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কৌশলপত্র অনুযায়ী সরকার অর্থ খরচ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য সুশীল সমাজকে কাজ করতে হবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সুইচে টিপ দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যায় না। টিআইয়ের প্রতিবেদনটিতে দুর্নীতির আশঙ্কার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।’বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, যেখানে অর্থপ্রবাহ আছে সেখানে দুর্নীতির আশঙ্কা থেকে যায়। শুধু জলবায়ু তহবিল নয় সব ক্ষেত্রেই আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।সভাপতির বক্তব্যে টিআইবির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, ‘জনগণকে সব কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। জনসাধারণ যাতে জলবায়ুসহ সব তহবিলের সুবিধা পায় সে লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে।’সমকাল
সর্বশেষ সংবাদ
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes