আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার জীবনে মায়ের শিক্ষা

ইমাম হোসেন সাঈদ: যে নারীর স্বপ্ন আছে তাকে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আবার যে নারী নিজের বিশ্বাসের জন্য স্বপ্ন লালন করেন পারিপার্শ্বিক অবস্থা তার ভেতরে নানা জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। কোনো নারী উচ্চাভিলাষী হলে তিনি নিজের জন্যও সমস্যা তৈরি করতে পারেন। কিন্তু বাধা জেনেও যে নারী স্বপ্ন দেখার সাহস রাখেন এবং তা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে তিনি সাধারণ হলেও অন্যের চেয়ে আলাদা। এরকমই একজন নারী অ্যান সোয়েটোরো। তার জীবন দর্শন, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও বিশ্বাসের কারণে তাকে অন্য দশজন নারীর থেকে সহজেই আলাদা করা সম্ভব। তার চিন্তা-চেতনা তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন সন্তানের মাঝেও।অ্যান সোয়েটোরো তার সন্তানকে এমনভাবে বড় করেছেন, যে সন্তান পৃথিবীর বুকে যা চায় তাই করতে পারে। এমনকি চাইলে সে আমেরিকার প্রেসিডেন্টও হতে পারে। অ্যান সোয়েটোরোর সন্তান ওবামা শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছেন। প্রথম কোনো মানুষ হিসেবে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
আমেরিকার নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত আইনগুলো তখনো প্রণীত হয়নি। নারী আন্দোলনও সেভাবে বিকশিত হয়নি। ১৯৬০ সালে মাত্র ১৭ বছরের কিশোরী অ্যান একজন কালো মানুষের সন্তান গর্ভে ধারণ করার সাহস দেখিয়েছিলেন। যখন সাদাদের হাতে কালোরা প্রায়শই নিগৃহীত হচ্ছে। শেতাঙ্গ অ্যান ভিনদেশে জন্মগ্রহণকারী কালো মানুষকে বিয়ে করছেন সেই সামাজিক বৈষম্যের যুগে। তার এই সিদ্ধান্ত ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর। আমেরিকায় সে সময়কার সামাজিক বাস্তবতায় এই ঘটনাকে শুধু সাহসী বললেও কম বলা হবে। কিন্তু তিনি অবিবেচক বা হুজুগের বশবর্তী হয়ে মোটেও এই সিদ্ধান্ত নেননি। কিছুদিন পর তিনি যখন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন সেটাও মোহভঙ্গের কারণে নেননি। নিজের জীবন দর্শনও ভাবনার নিরিখেই তিনি নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি কখনোই ভাবেননি তার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
অ্যান তার সন্তান ওবামাকে বলেছিলেন তিনি তাকে একটি আনন্দদায়ক জীবন দেবেন। প্রথাগত চিন্তার বাইরের একজন মা ওবামাকে তৈরি করেছেন তার নিজের মতো করে। একজন কালো মানুষ কিভাবে আমেরিকান হতে পারে এই শিক্ষা ওবামাকে তার মা দিয়েছেন। ওবামার বয়স যখন ৬ তখন তার মা আবারো বিয়ে করেন। কিন্তু এই বিয়েও খুব বেশিদিন টিকেনি। এরপর থেকে তিনি ‘সিঙ্গুলার উইমেন’ বা একাকী একজন নারী। একই সঙ্গে একজন একাকী মা। যার সঙ্গে আছে ভিন্ন দু’জন স্বামীর ঘরে জন্ম নেয়া দুটি সন্তান। ছেলে ওবামা ও মেয়ে মায়া। জীবনের এই কঠিন সময়ে তিনি যেসব সিন্ধান্ত নিয়েছেন তা আরো চমকপ্রদ। নিজের উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে তিনি তখন খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। দুই সন্তানকে একসঙ্গে নিজের কাছে রাখার চেয়ে তিনি মনোযোগী ছিলেন পরিবারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যাতে নষ্ট না হয়। তিনি এমন একজন নারী যিনি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বাইরে কখনো কিছু করেননি।
ছোটবেলায় ওবামার হোমওয়ার্ক সমাধান করতেন তার মা। তার পড়াশোনার ভারও তিনি নিজ হাতে তুলে নিয়েছিলেন। যখন ওবামার বন্ধুরা তাদের প্রায় শূন্য ফ্রিজ ও আবাসন সজ্জা নিয়ে মন্তব্য করতো তখন তার মা তাকে বুঝাতেন তিনি একাকী একজন মা।
আচার-ব্যবহারে ওবামার যে বিনয় তার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকেই। একজন মানুষ হিসাবে পৃথিবীর প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ, কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা, মুক্তমনা মানুষ হিসাবে বিকশিত হওয়া, অজ্ঞতা ও আক্রমণাত্মক মনোভাব গড়ে না উঠা- ওবামার এসব শিক্ষার মূলে আছে তার মায়ের ব্যক্তিগত জীবন দর্শন। ওবামার নিজের ভাষায় আইনস্টাইন, গান্ধী ও হ্যারি-বেলাফোন্ট-এর চিন্তা ও ভাবধারায় সমন্বয় ছিল তার মায়ের জীবনে। ওবামার জীবনে তার বাবার অনুপস্থিতি কোনো প্রভাব ফেলেনি তার মায়ের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জীবনের কারণে। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাঝেও তিনি অটল ছিলেন তার বিশ্বাসের প্রতি, নীতির প্রতি। যার প্রতিফলন শুধু তার নিজের জীবনেই দেখা যায় না। প্রেসিডেন্ট ওবামাও সেই আদর্শের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030