ইসলাম ও বর্ণ বৈষম্য আন্দোলন
ইমাম কাজী কায়্যূম : করোনা মহামারির বিপর্যয়ে আমরা নিউইয়র্কবাসীরা আমাদের বন্দী দশা ও ধর্মদশার শ্বাস রুদ্ধকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে না পেতেই “আমি প্রশ্বাস নিতে পারছিনা! আমি প্রশ্বাস নিতে পারছ্নিা” বলে মিনেসোটা অংগরাজ্যের এক কৃষ্ণ জর্জ ফ্লয়েডের আওয়াজ ও অত:পর তার একজন শ্বেতাংগ পুলিশ অফিসারের প্রবল হাটু চাপে মাত্র ২০ ডলারের কোন একটি ব্যাপার নিয়ে তার মৃত্যু নিউইয়র্ক সহ সারা আমেরিকায় যে সুনামীর তুফান বইয়ে দিল, তা করোনা-কভিডের মহামারীর চেয়ে শতগুণ বেশি ভয়াবহতার রূপ ধারণ করে আমাদের জনজীবন আজ আরোও ব্যাহত ও আমরা সবাই দারুণ মর্মাহত। এ যেনো মসীবতের উপর মসীবত! কেউ জানেনা, এসবের ইতি কোথায় ও কি দিয়ে। এসব কি উদ্দেশ্য প্রণোদিত নাকি নিছক ঘটমান অনাকাঙখিত কোন এক ঘটনা। তা না হলে, দাবী আদায়ের অধিকার আদায় ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আড়ালে কেন হবে এতসব লুটপাট, ভাংচুর ও আইনের অমান্যতা। বর্ণবাদী বৈষম্য মিটাতে ও একে নিরুৎসাহিত করতে মানবতার মহাগ্রন্থ আল-কোরানের সুদীর্ঘ ২৩ বছরের ঐশ্যিক অভিজ্ঞতার আলোকে ৬৩২ সনের বিদায় হজ্জের ভাষণের মাধ্যমে শান্তির ধর্ম ইসলামের যে রূপরেখা প্রণয়ন করে ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক একমাত্র পরিপূর্ণ একটি জীবন বিধান হিসেবে যে ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করে গেছেন নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা) সে ঘোষণায়ই তিনি বলেছিলেন: All mankind is descended from Adam & Eve. An Arab has no superiority over a Non-Arab, A Non-Arab has no superiority over an Arab. A white person has no superiority over a black person, nor a black person has superiority over a white person, except by piety & good action…সকল মানব জাতির আগমন তাদের আদি পিতা-মাতা আদম-হাওয়া থেকেই। একজন আরবের অনারবের উপর, একজন অনারবের আরবের উপর, একজন শ্বেতাংগের কৃষ্ণাংগের উপর অথবা একটি কৃষ্ণাংগের কোন শ্বেতাংগের উপর কোনই আধিপত্য নেই। যার যার আধিপত্য তার তার সততা, নিষ্ঠা ও ভালো কাজের প্রেক্ষিতেই বিবেচিত হবে। নবী মোহাম্মদের (সা) ঘোষিত সেই শান্তিময় ও বৈষম্য বিহীন ইসলামের সাঁড়া আমেরিকার সংবিধান রচনায় শ্বেতাংগ প্রেসিডেন্ট জেফারসনকে যেভাবে উদ্ভূদ্ধ করেছিল, যে কারনে তিনি ইংল্যান্ডের রাজকীয় লাইব্রেরী থেকে কোরানের একটি কাপি সংগ্রহ করে এনে বোর্ড বসিয়ে গবেষণা করেছিলেন যে, আমেরিকার কোনই আইন যেন কোরান বিরোধী না হয়। ঠিক তেমনি ভাবে আমেরিকার সুপ্রীম কোর্ট তাদের দেয়ালে নবী মোহাম্মদের (সা) একটি কাল্পনিক স্মারক অংকন করে নবী মোহাম্মদকে (সা) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতাদের মধ্যে একজনের সম্মানে ভূষিত করে। যে দু’জন মহান কৃষ্ণাংগকে নবী মোহাম্মদের (সা) ইসলাম দারুণ ভাবে উৎসাহিত করেছিল, তাদের একজন ড. মার্টিন লুথার কিং। নবী মোহাম্মদের (সা) ‘সাদার উপর কালোর কিংবা কালোর উপর সাদার যে কোনই ভেদাভেদ বা বৈষম্য নেই, তিনি নবীজীর বিদায় হজ্জের শ্বাশত ভাষণ ও মানবতার ধর্ম ইসলামের পরিপূর্ণতার ঘোষণা থেকেই গ্রহণ করেন এবং সে লক্ষ্যেই আমেরিকায় তিনি তাঁর সিভিল রাইট আন্দোলন শুরু করে এমন এক ইতিহাস রচনা করেন, যার নিরব প্রতিফলন আজ আমরা জর্জ ফ্লয়েডের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু পরবর্তী আন্দোলনের মাঝে দেখতে পাচ্ছি। শুধু তাই নয়, আমেরিকায় আজ মার্টিন লুথার কিং এর নামে ফেডারেল হলিডে পর্যন্ত পালিত হচ্ছে। ১৯৮৩ সনের ২রা নভেম্বর যে ছুটির বাস্তবায়ন করেন আমেরিকার শ্বেতাংগ প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। ১৯৬৮ সনের এপ্রিলে এক আততায়ীর গুলির কিং নিহত হোন। আরেকজন হলেন আমেরিকার কিংবদন্তী তিন বারের হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন বিবিসি কর্তৃক শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড ব্যক্তিত্বের খেতাব প্রাপ্ত মুষ্ঠিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। ক্যাসিয়াস ক্লে প্রাক্তন নামধারী মোহাম্মদ আলী মুষ্ঠিযুদ্ধে তিন তিনবার বিশ্ব হ্যভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের খেতাব লাভ করার পর যখন দেখলেন, তাকে পরাস্ত করার মত বিশ্বে আর কোন মা এমন কোন সন্তান জন্ম দেয়নি যে তার মোকাবেলায় আসে। সে সময় তিনি তার ধর্ম পরিবর্তনের কথা চিন্তা করলেন। বিশ্বের সকল ধর্ম যাঁচাই বাছাই করে পরিশেষে নবী মোহাম্মদের (সা) বিদায় হজ্জের ভাষণের অবৈষম্য নীতি “কালোর উপর সাদা আর সাদার উপর কালোর কোন আধিপত্য বা ভেদাভেদ নেই” এই বাণীটি তার হৃদয়ে দারুণ দাগ কেটেছিল। সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলেন তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন। তবে কোন ইসলাম? তিনি গবেষণা ও জরীপ করে দেখলেন ইসলামের বাজার ভুয়ায় ভরা। এ ক্ষেত্রে নবী মোহাম্মদও (সা) সেই বিশ্বস্ত হাদীসটি জেনে তিনি আরোও উৎসাহিত হলেন: নবীজী বলেছেন, আমার উম্মতেরা, যারা নিজেকে মুশলমান দাবী করবে, মসজিদ বানাবে, মাদরাসা বানাবে, ওয়াজ নসীহত, তাফসীর মাহফিল, দরসে হাদীস, দাওয়াতী তৎপরতা, ইসলামী আন্দোলন সবই করবে , কিন্তু এরা ৭৩টি দল-উপদলে ভাগ হয়ে নিজেও বিভ্রান্ত হবে এবং মুসলমানদেরকেও তাদের মিষ্টিবডির প্রলেপিত ইসলাম দিয়ে বিভ্রান্ত করবে। এই ৭৩ দলের মধ্যে একটি মাত্র দল সত্যের মাপকাঠিতে থাকবে আর বাকী ৭২ টা হবে পথভ্রষ্ট জাহান্নামী। নবীজী সত্য ও সঠিক পথে থাকা উম্মাতদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এইভাবে, যারা আমি ও আমার সাহাবাদের অনুস্মরণ করবে, তারাই সঠিক পথে থাকবে। মোহাম্মদ আলী এবার ঐ সত্য দলটির সন্ধানে সুদীর্ঘ দুটি বৎসর ব্যয় করে সিদ্ধান্ত নিলেন, তরীকত ও সুফী ভিত্তিক ইসলামী দলটিই তার গবেষণায় একমাত্র ইসলামী দল যারা সত্যের পথে অবিচল। ১৯৭০ সনে তিনি তরীকতের রাজা ধিরাজ সুফী সম্রাট সুলতানুল আউলিয়া শাইখ নাজীম হাক্কানীর নিকট ইসলাম ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী মোহাম্মদের (সা) নামেই তার প্রথম নাম ‘মোহাম্মদ’ এবং ইসলামের বিজয়ী বীর ইসলামী জংগীবাদ এ সন্ত্রাসীদের আতঙ্খ ও চোখের বালি হজরত আলীর (রা) নামে তিনি তার নামের শেষাংশ তার নিজের পছন্দেই রাখেন ‘আলী’। যে দুই নামে তিনি ছিলেন ধন্য। আমেরিকায় তরীকতের এই উজ্জল নক্ষত্রকে হাজারো সালাম! এই ৪ঠা জুন ছিল তার চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী। বিভ্রান্ত জামায়াতে ইসলামীর আমেরিকান অনুসারী মোর্ছারা বড় বড় মানুষের কাছে ভিড়ে তাদেরকে ভাব দেখিয়ে কাবু করার তাদের চিরাচরিত চর্চা দিয়ে আলীকে বহুবার চেষ্টা করেও কাবু করতে পারেনি। তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ওয়াহাবী মতবাদের পরোক্ষ সমর্থন পুষ্ট আমেরিকান সংগঠন ইকনা, মুনা, ইসনা, কেয়ার ও ডা. জাকির নায়েকের ইসলাম থেকে সব সময়ই নিজেকে দূরে রেখেছেন এবং আমেরিকান মুসলমানদেরকেও এদের মিষ্টি বড়ির প্রলেপিত ইসলাম থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। পৃথিবী ব্যাপী নতুন মুসলমানগন ও আমেরিকান মুসলমানদের সঠিক ইসলাম পালনে তাঁকেই অনুস্মরণ করতে হবে, কেননা, বস্তু যতই মূল্যেবান, তার নকল তত বেশী। মহান ধর্ম ইসলাম আজ হাইজ্যাক হয়ে তা নানান রূপে ও নানান মতে হামাগুডি খাবার এমন এক সময়ে এই ব্যক্তিটির সঠিক ধারার ইসলামটি গ্রহণ করে একথা প্রমাণই শুধু করেননি যে, কোন ইসলামটি সঠিক, বরং গোটা বিশ্বকে এই বার্তা পৌঁছে দিলেন যে, নবী মোহাম্মদের (সা) শান্তিপূর্ণ ইসলাম যদি পেতে চাও, তাহলে তরীকতের সুফি সমৃদ্ধ ইসলামের পথে এসো। নবীর হুঁশিয়ারী মত ৭২ টি বাকী নামধারী ইসলামের ভিড়ে এই সূফীবাদী ইসলামেই রয়েছে একমাত্র শান্তি যার অন্বেষায় সারা বিশ্ব আজ মাতোয়ারা। এই ইসলামই জংগী, ভেজাল ও ষড়যন্ত্র মুক্ত ইসলাম! আমেরিকায় ঈদে মীলাদুন্নবীতে ফেডারেল ছুটির পক্ষে তিনি অনেক কাজ করে গেছেন। ১৯৯৩ সনে ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত মুসলিম ডে প্যরেডের এক বিশেষ মূহুর্তে কেউ এ ব্যাপারে তার মতামত নিতে চাইলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, আমিরিকায় এই ছুটি কার্যকর হলে শুধু মুসলমানই নয়, সবাই তাতে লাভবান হবেন।কিন্তু মওদুদীর অনুসারী মোর্ছা যারা ঈদে মীলাদুন্নবীর (সা) বিরোধিতা সব সময়ই করে আসছে, তারা সবকিছু করলেও আমেরিকান মুসলমানদের এ ব্যাপারে এগুতে দেয়নি। নিউইয়র্কের মুসলিম ডে প্যরেডটি সর্বস্থরের মুসলিমদের দ্বারা শুরু হলেও পরিবর্তীতে নিউইয়র্কের মওদুদী মোর্ছা কর্তৃক তা হাইজ্যাক হয়ে যায়। অবসান হোক মওদুদী, ওয়াহাবী, জামায়াতী, জাকির নায়িকী ও বাংলাদেশে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের লেজুড়বাহীদের ইসলাম। আবাদ হোক বিশ্বব্যাপী তরীকতের সূফীবাদী ইসলাম, যে ইসলামের কথা সূরা ফাতিহায় আমরা প্রতিদিনের নামাজে আল্লাহর নিকট দোয়া করে পড়ি: ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম’ চালাও সে পথে, যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি…! বলা বাহুল্য যে, ইসলামে প্রিয়জনের পথ হলো ঐ পথ, যে পথে আছে নবী, আহলেবাইত, সাহাবী, ইমাম ও ওলী আউলিয়াদের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখানোর পথ। আর এর উল্টো পথ হলো, ‘গাইরিল মাগদূবী আলাইহিম’ যে পথে তোমার চির অভিশাপ যে পথে ভ্রান্তি চির পরিতাপ। হে মহা চালক মোদেরে কখনোও করোনা সে পথগামী। আমীন!
-ইমাম কাজী কায়্যূম, মোহাম্মদী সেন্টার, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক।
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes