আমাদের সেই হাসিখুশি দিদিকে ফিরে পেতে চাই…
মাকসুদা আহমেদ : সুস্মিতা সেন রয়। যাকে আমরা সবাই পরম আদরে দিদি বলে ডাকি। দিদিও যে আমাদেরকে কতটা আপন করে নিয়েছে তা এক কথায় বলে বা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। দিদি আমাদের আত্মীয়-স্বজন না, দিদি আমাদের রক্তের কোন সম্পর্কের কেউ না, তবুও দিদি আমাদের অনেক আপনের চেয়েও আপন। দিদি আমাদের সমবয়সী না এমনকি বাংলাদেশীও না তবে দিদি বাঙ্গালী, দিদি কলকাতার মেয়ে,দিদির বাড়ি কোলকাতা। শুনেছি দিদির বাপ-দাদার বাড়ি নাকি বাংলাদেশ, বিক্রমপুরে ছিলো। দিদির বয়স ৬২বছর। দিদি বিয়ে করেননি, তাই তার ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন। (দিদি চিরকুমারী)
এখন বলি দিদির সাথে আমাদের সম্পর্কটা কিভাবে হলো। দীর্ঘ চার বছর যাবত দিদি তানিয়া বিউটি সেলুনের একজন খুব ভালো কাস্টমার। দিদি খুবই মিশুক প্রকৃতির একজন মানুষ। দিদি এখন তানিয়ার শুধু কাস্টমার না। দিদি তানিয়া ও লিংকন ভাইয়ের খুবই ভালো বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী ও বটে। আর তানিয়ার সঙ্গে আমাদের যেহেতু খুবই ভালো বন্ধুত্ব সেই সূত্র ধরে দিদির সঙ্গে আমাদেরও খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে।
দিদি খেতে খুবই পছন্দ করেন এবং খাওয়াতেও পছন্দ করেন। তাঁর সাথে কাটানো সময় গুলো আমরা ভীষণ ইনজয় করি এবং তিনিও ইনজয় করে আমাদের সান্নিধ্য। তাই আমরা দিদির সাথে মুভিতে গিয়েছি, অনেকবার খেতে গিয়েছি, বেড়াতে গিয়েছি, বাংলা গানের অনুষ্ঠানে গিয়েছি। দিদি বাঙালী যেকোনো অনুষ্ঠানে যেতে পছন্দ করতেন যেমন মেলা, পিকনিক, পিঠা উৎসব এমনকি আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানেও আসতেন। দিদি নিজ হাতে আমাদের রান্না করেও খাইয়েছে। তিনি এতটাই আন্তরিক ছিলেন যে গত বছর কলকাতা গিয়েছিলেন বেড়াতে সেখান থেকে আমাদের সবার জন্য ব্যাগ ভর্তি করে গিফ্ট নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের “হৃদয়ে বাংলাদেশ” সংগঠনের সকল সদস্যের সঙ্গে দিদির খুব ভালো সম্পর্ক আছে।

ডিসেম্বরে দিদির জন্মদিন ছিল, তিনি তখন নিউইয়র্কে নয় কলকাতায় ছিলেন। তাই আমরা তার জন্মদিন পালন করতে পারিনি। দিদি যখন কলকাতা থেকে ফিরে আসলো তখন দিদিকে নিয়ে হৃদয়ে বাংলাদেশর সবাই একসাথে হবো, খাওয়া-দাওয়া করবো, আড্ডা দিবো করতে করতেই “কভিট ১৯ করোনা” চলে আসলো। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দিদিকে নিয়ে আর কোনো আয়োজন করতে পারিনি ।
গত সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর আমরা বেড়াতে গিয়েছিলাম ফেরার পথে দিদিকে নিয়ে কথা হচ্ছিলো যে ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আমরা দিদিকে নিয়ে খেতে যাবো সিটি আইল্যান্ড, তখন থেকেই তানিয়া দিদিকে ফোন করতে শুরু করলো,একবার সেলফোনে তো আরেক বার বাসার ফোনে। এভাবে বারবার কল করতে লাগলো কিন্তু দিদি কোন ফোন পিকআপ করছিল না। মঙ্গলবার থেকে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা আমরা দিদিকে কল করতে থাকি সবাই। কখনও বাসার ফোনে, সেলফোনে, ইনবক্সে, কখনও আবার মেসেঞ্জারে। কিন্তু দিদি আমাদের কারো ফোন ধরছিলোনা। তখন আমাদের চিন্তা শুরু হলো। দিদি তাহলে কোথায় গেল? কি হলো ? কিন্তু আমরা মাঝে মাঝে দিদিকে অনলাইন দেখতে পাচ্ছিলাম তাই ভাবলাম না দিদি হয়তো ভালোই আছে কোথাও। বুধবার আবার সেই একই অবস্থা সারাদিন আমরা কল করতে থাকি। কলের পর কল করতে থাকি কিন্তু দিদির কোন খবর পাচ্ছিলামনা। বুঝতে পারছিলাম না কিছুই, কি করবো, কি করা উচিত।
এদিকে লিংকন ভাই দিদির ফেসবুক আইডিতে ঢুকে তার আত্মীয়-স্বজন কে বের করলেন এবং তাদেরকে মেসেজ দিতে শুরু করলেন। দিদির একজন ভাতিজা, ভাতিজা বউ তারা লিংকন ভাইকে রেসপন্স করলো তখন আমরা জানতে পারলাম তাদের সাথে লাস্ট কথা হয়েছিল ৭ সেপ্টম্বর, সোমবার দুপুরে। দিদির ভাতিজা নিউইয়র্কের বাসিন্দা নয় তিনি থাকেন মিশিগানে।
দিদি আমাদের এতোটা আপন হওয়া সত্ত্বেও দিদির ফ্ল্যাটে আমাদের কখনও যাওয়া হয়নি । আমরা শুধু বিল্ডিংটা চিনতাম।
তাই ঐদিন কাজ থেকে ফেরার পথে আমি সোজা চলে যাই দিদির বিল্ডিংয়ে। ঐদিন দুপুরেই দিদির ফ্লাট খুঁজে বের করি। ফ্ল্যাট খুজে বের করতে একটু কষ্ট হয়েছে কারন দিদির নামের সাথে ফ্ল্যাটের নামের মিল ছিলোনা। তাই সব ফ্ল্যাটে গিয়ে নক করেছি। অবশেষে দিদির ফ্ল্যাট খুজে পেলাম,অনেক বার বেল দিলাম, ফোন করেছি বারবার তারপরও আমি কোনো সাড়া পাইনি ভিতর থেকে।
পুলিশ কল করার আগে আমরা আরেকটি কাজ করেছি সেটা হল লিংকন ভাই ৩১১ কল করে জানতে চেয়ে ছিলেন কয়েকদিনের মধ্যে ওই বিল্ডিংয়ে কোনো এম্বুলেন্স এসেছিল কিনা। তারা বলেছেন না আসেনি এ ছাড়া তার ভাতিজা বউ এবং ভাতিজা বলেছে তার কোথাও যাওয়ার কোন প্ল্যান ছিল না।
শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেদেরকে আর সামাল দিতে পারছিলাম না। বিবেক আমাদেরকে তারা দিচ্ছিলো তাই তানিয়া দিদির ভাতিজার কাছ থেকে পারমিশন নিলো পুলিশ কল করার জন্য। তারা আমাদেরকে পারমিশন দিয়ে দিলো, আমরা ৯ সেপ্টম্বর বুধবার রাত ১০টার দিকে পুলিশ কল করলাম, সবাই মিলে দিদির বাসার সামনে গেলাম। অনেক সময় অতিবাহিত হলো, অনেক ফর্মালিটিস পালন করলো পুলিশ অফিসারা। দুই ঘন্টা পর দরজা ভাঙ্গা হলো। উপর থেকে সিকিউরিটি বললো ভিতরে একজন মহিলা আছে এবং সে জীবিত। আমাদের কলিজার মধ্যে পানি চলে আসলো,আমরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। চিন্তা করতে পারেনি একবারের জন্যও, দিদি ভিতরেই আছে এবং দিদিকে আমরা জীবিত অবস্থায় দেখতে পাবো। কিযে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের সাথে ঐ রাতে অনেকেই ছিলেন। লিংকন ভাই, তানিয়া, পল্লব, বান্টি, কামরান ভাই, রাসেদ, মির্জা মামুন, আমি সহ আরও অনেকেই।
শেষ পর্যন্ত আমরা জানতে পারি দিদির ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিলো। সোমবার বিকেল থেকে বুধবার রাত ১১ টা উদ্ধার করা পর্যন্ত দিদি ঘরেই বিছানায় পড়ে ছিলেন। তার একসাইড প্যারালাইজড হয়ে যায়। তাই সে নড়েচড়ে উঠতে পারেনি, কারো ফোন পিক আপ করতে পারেনি। দিদি কথাও বলতে পারছিলোনা। ব্রেন স্ট্রোক করে দিদি ঘরেই পড়েছিলেন তিন দিন। ঘটনাটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। দিদি এখন হসপিটালে আছেন। সবাই দিদির জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে সেই আগের মতো আবার ফিরে আসতে পারে। আমরা আমাদের সেই হাসিখুশি দিদিকে ফিরে পেতে চাই।
আমরা সকলেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এই কাজটি করেছি। মানুষ তো মানুষের জন্যই তাইনা? মানবতার জয় হোক।

-মাকসুদা আহমেদ
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes