বাংলাদেশ মাতালেন মেসি
অনেকেই ঢুকেছেন স্পন্সর প্রতিষ্ঠান আর বাফুফের মুফতে পাওয়া টিকিটে। অভিযোগ আছে, নিরাপত্তা কর্মীরাও অনেককে ঢুকিয়েছেন আত্মীয় পরিচয়ে দর্শনীর বিনিময়ে। আপসোস একটিই- জাতীয় দলের হয়ে গোল অধরাই রয়ে গেল মেসির- যিনি গত মওসুমেও বার্সেলোনার পক্ষে গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন। মেসি গোল না পেলেও সতীর্থদের দিয়ে ঠিকই গোল আদায় করে নিয়েছেন তিনি। অধিনায়কের কাজ দলের জয় নিশ্চিত করা, নিজের রেকর্ড সমৃদ্ধ করা নয়। ফিফার দু’বারের বর্ষসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি তা বেশ ভালই জানেন। অধিনায়ক মেসির এটি দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে কলকাতায় আর্জেন্টিনা ভেনিজুয়েলাকে হারায় যে গোলে তারও উৎস ছিল সেই মেসির পা। নতুন কোচ আলেসান্দ্রো সাবেইয়ারও এটি দ্বিতীয় ম্যাচ। তিনিই মেসির হাতে বেঁধে দেন নেতৃত্বের ফিতা। গুরুর আস্থার প্রতিদানও তিনি দিলেন কড়ায় গণ্ডায়। গতকাল নাইজেরিয়ার কাছ যে রকম প্রতিরোধ আশা করা হয়েছিল সেরকমটি দেখা যায়নি। ভ্রমণক্লান্তিও এর একটি কারণ হয়ে থাকবে। ফলে বিরতির আগেই দু’ গোলে এগিয়ে যায় মেসির আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের প্রথম অর্ধ বল দেয়া-নেয়ার মধ্যেই সীমিত ছিল। একরকম পানসেই ঠেকছিল ম্যাচটি। কিন্তু ঢুঁশ খেয়ে হুঁশ ফেরার মতো হঠাৎ মেসি ঝলকের দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ে খেলায়। ২০ মিনিটের সময় নাইজেরিয়ার একজনের ধাক্কায় পড়ে যান মেসি। এ সময় তার ঠোঁট থেকে রক্তও ঝরে। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নেয়ার পর মাঠে নেমেই তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল আদায় করে দেন দলকে। ২৪ মিনিটের মাথায় ডি মারিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে মেসি ডানপ্রান্ত থেকে এগিয়ে তা বাড়িয়ে দেন সতীর্থ হিগুয়াইনের দিকে। আগুয়ান রিয়াল মাদ্রিদের এ তারকা ডি বক্সের একটু বাইরে থেকে তীব্র শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। এর দুই মিনিটের মাথায় মেসি দেখালেন জাদু। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে ঢুকে পড়েন নাইজেরিয়ার সীমানায়। তিন-চার জন খেলোয়াড় মিলেও বিশ্বসেরা এ তারকাকে আটকাতে পারেননি, বলও কেড়ে নিতে পারেননি। বক্সের ভেতর ঢুকে বল পোস্টের দিকে ঠেলে দেন মেসি। নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করলে তা চলে ফাঁকায় ঢুকে পড়া ডি মারিয়ার কাছে। তিনি বলটি জালের জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি। ৭ নম্বর জার্সিধারী এই ডি মারিয়াও খেলেন স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। স্প্যানিশ লীগে মেসির ক্লাব বার্সেলোনার সঙ্গে দা-কুমড়া সম্পর্ক রিয়াল মাদ্রিদের। দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর যেন খেলায় খানিকটা ঢিলে দেয় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নাইজেরিয়া দু’একজন খেলোয়াড় বদল করে নেমেই আর্জেন্টিনার ওপর চেপে বসে। প্রথম মিনিটেই আদায় করে নেয় গোল। অধিনায়কের পাস থেকে বল পেয়ে ওবাসি তা ঠেলে দেন পোস্টের দিকে। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরো তা ঠিকমতো থামাতে পারেননি। তার হাতে লেগেই বল আশ্রয় নেয় জালে। ব্যবধান কমিয়ে আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে নাইজেরিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের মিনিট ১৫ নাইজেরিয়ার আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থাকে সাবেইয়ার শিষ্যরা। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ৬৫ মিনিটের সময় ডি মারিয়া বল পেয়ে তা বাড়িয়ে দেন হিগুয়াইনের দিকে। তিনি এবারও বল জালে জড়াতে ভুল করেননি। হিগুয়াইনের গোল করার ক্ষমতা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল তার উত্তরসূরি বাতিস্তুতার কথা। তিনিও পরতেন ৯ নম্বর জার্সি। পরে অবশ্য কোচ তাকে উঠিয়ে অল্প সময়ের জন্য নামান মারাদোনার জামাতা, সমপ্রতি ম্যান সিটিতে যোগ দেয়া সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে। ৩-১ গোলে খেলার ভাগ্য যখন প্রায় নিশ্চিত তখন দু’দলই কয়েকটি আক্রমণ চালালেও বল তার সমাপ্তি ঘটে বারের অনেক ওপর দিয়ে। ফলে আর কোন গোল হয়নি খেলায়। গত বিশ্বকাপে একই গ্রুপে ছিল আর্জেন্টিনা আর নাইজেরিয়া। সেবার ১-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে যে গোলরক্ষক খেলেছিলেন নাইজেরিয়ার হয়ে কাল তাকে নামাননি কোচ সিয়া সিয়া। আজ সকালেই মেসিও তার সতীর্থরা ঢাকা ত্যাগ করবে। তবে গন্তব্য সবার এক নয় বলে জানা গেছে। কেউ যাবেন দেশে আবার অনেকেই যাবেন ইউরোপের নানা দেশের লীগে খেলার জন্য।
মেসিকে ঠেকাতেই হাফ ডজন ফাউল
শুধু নাইজেরিয়া বলে নয়। ফুটবল বিশ্বের শক্তিশালী সব দলেরই এখন মাথাব্যথার কারণ একজনই। তাকে আটকানোর পরিকল্পনা করতেই প্রতিপক্ষ কোচের বেশির ভাগ সময় কেটে যায়। ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনার পথে একটা নামই ঘুরেফিরে উঠে আসে বারবার। বর্ণনাতেই নামটি স্পষ্ট হওয়ার কথা। তবুও বলে দেয়াই ভাল। বলা হচ্ছে, দুইবারের ফিফা বর্ষসেরা আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির কথা। এ সময়ের মহাতারকা এই বার্সেলোনা প্লেমেকারই। গতকাল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মেসির আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছিল সুপার ঈগল নাইজেরিয়ার। এই ম্যাচে এক মেসিকে আটকাতেই ৬টি ফাউল করেছে নাইজেরিয়ার খেলোয়াড়রা। ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফাউলের বাধায় আটকা পড়েন মেসি। মিনিট গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন মেসিকে ফাউল করার পরিমাণও বাড়তে থাকে। ১৭ মিনিটে মেসিকে আটকাতে আবারও ফাউলের আশ্রয় নেয় নাইজেরিয়ার খেলোয়াড়রা। এরই মধ্যে মেসি ম্যাজিক চলতে থাকে। বারবার আছড়ে পড়তে থাকেন সুপার ঈগলদের রক্ষণভাগে। কিন্তু ২০ মিনিটের মাথায় মেসিকে মারাত্মক এক ফাউল করেন নাইজেরিয়ার ৩ নম্বর জার্সি পরিহিত খেলোয়াড়। বেশ ব্যথা পাওয়াতে ঠোঁটে ব্যান্ডেজও করাতে হয় তাকে। কিন্তু ব্যান্ডেজটা গোঁফসদৃশ দেখাচ্ছিল বলেই হয়তো ব্যথা উপেক্ষা করে মিনিটখানেক পরই সেটি খুলে ফেলেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। ৩০ মিনিটের মাথায় মেসিকে চতুর্থ ফাউল করেন নাইজেরিয়ার ১৮ নম্বর জার্সি পরিহিত খেলোয়াড়। ৭২ মিনিটে অ্যামব্রোস মেসিক ফাউল করেন। সর্বশেষ খেলার ৮৬ মিনিটে ষষ্ঠ ফাউলের শিকার হন ম্যাচের তিনটি গোলেই দারুণ ভূমিকা রাখা মেসি। মানব জমিন
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes