বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ উদীচী যুক্তরাষ্ট্র’র
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক. নিউইয়র্ক : বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে উদীচী যুক্তরাষ্ট্র। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর ভাবে লক্ষ্য করছি বেশ কিছুদিন যাবৎ স্বাধীনতীবিরোধী মৌলবাদী গোষ্ঠী স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে কটাক্ষ করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টি করে চলেছে। সম্প্রতি ভাস্কর্য অপসারনের হুংকার স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সংবিধানের বিরুদ্ধে পুনরায় উদ্ধত হয়ে উঠেছে ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে মিমাংসিত প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী পরাজিত পশ্চাৎপদ পাকিস্তানী নীতিকে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্রের জাল সুসংহত করছে। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি এই গোষ্ঠী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারনের দাবি জানিয়েছে- যা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রগতিশীল নীতি, স্বাধীনতা ও লক্ষপ্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্্যধ ঘোষণার সামিল।
আমরা বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদ উগ্রবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর এমন হুংকারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে এমন নগ্ন আস্ফালনের পরও সরকারের নিরবতায় আমরা লজ্জা অনুভব করছি। আমরা ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির কথিত চরমোনাই পীর মোহাম্মদ ফয়জুল করীম ও খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে উপড়ে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেবেন বলে হুংকার দিয়েছেন।
দেশ যখন স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে, দেশে যখন বঙ্গবন্ধুর শততম বার্ষিকী উদ্যাপিত হচ্ছে তখ নধর্মান্ধ শক্তির এমন হুংকার স্বাধীনতার মৌলচেতনায় বিশ^াসী মানুষকে তীব্র আঘাত করেছে। স্বাধীনতা, প্রগতিকামী, গণতান্ত্রিক ও উদার সংস্কৃতিবোধসম্পন্ন দেশপ্রেমিক জনতা আজ উদ্বেগ ও বিপনএবাধ করছে- এই কারণে যে, কোনো ধর্মীয় উগ্রবাদ, বর্বও মধ্যযুগীয় চিন্তার আগ্রাসন ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বাড়বাড়ন্ত দেখার জন্য মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লক্ষ প্রাণ উৎসারিত হয়নি। কিন্তু ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক কুটকৌশলের সুযোগ নিয়ে এমনকি ক্ষমতাসীনদের মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় আজ এ গোষ্ঠী বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। বলা চলে নিজ হাতের গড়া দৈত্যই আজ টুটি পেচে ধরছে ফ্রাংকেনস্টাইনের।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নীতি ভুলে ক্ষমতার সানবার্থে বর্বও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে বারবার রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে এযাবৎকালের সবগুলো সরকার ও শাসকগোষ্ঠী। ফলে বারবার ভুলুণ্ঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধেও আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ।
স্বৈরাচারী সামরিক শাসক জিয়া ও এরশাদের হাত ধরে মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানের সাম্প্রদায়িকীকরণ ঘটেছে। সেই ধারাকে বিনাপ্রশ্নে হুষ্টপুষ্ট করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অথচ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এ দলের কাছেই বাংলাদেশ, তার সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অগ্রসরতা নিরাপদ থাকবে বলে ভেবেছিল বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ঘটেনি। উপরন্তু তাদের হাতেই পৃষ্ঠপোষকাতা পেয়েছে বর্বও এ ধর্মান্ধ গোষ্ঠী।
এ গোষ্ঠী বরাবরই এদেশের গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মুক্তচিন্তা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সভাসমাবেশ করেছে। হত্যা করেছে বহু প্রগতিশীল লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের। তারা বর্বর বোমাহামলা করে ১৯৯৯ সালে যশোহরে উদীচীর সম্মেলনে হথ্যা করে দশজন সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষকে। হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে আস্ফালনকারী এ গোষ্ঠীই বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা করে হত্যা করেছে বহু মানুষকে। বাংলার বৈচিত্রপূর্ণ জাতি-ধর্ম-বর্ণ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সমন্বয়বাদী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে উগ্র বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে বারবার পার পেয়ে গেছে তারা। এবারই প্রথম নয়, ধর্মান্ধ উগ্র গোষ্ঠটি বারবার এদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জাগ্রত সাক্ষি ও নিদর্শন বিভিন্ন স্বারক ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়েছে।
এদেশের অসাম্প্রদায়িদক ও প্রগতিশীল ভাবদার্শনিক ফকির লালন সাঁইয়ের ভাস্কর্য ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল এ গোষ্ঠীটি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মরক ভাস্কর্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা, স্বোপার্জিত স্বাধীনতাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে থাকা ভাস্কর্য’বোদাআত’ আখ্যা দিয়ে এগুলো ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছে বহুবার। কিন্তু এতসব হুমকির পরও কোনো সরকারকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসআ নিতে দেখা যায়নি। ফলে দিনে দিনে তাদের আস্ফালন আরো বেড়েছে। এবার তারা আঘাত করতে চাইছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।
এনে রাখতে হবে ভাস্কর্য কেবনলই কোনো ইট-সিম্টে বা মাটির স্থাপনা নয়, প্রতিটি ভাস্কর্যই পরস্পরা ও স্মারক হিসেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ইতিহাস, ঐহিত্য, লড়াই-সংগ্রাম ও সংস্কৃতির বার্তা পৌঁে দেয়। এই দেশে বাঙালি ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর গৌরবপূর্ণ লড়াই রয়েছে। ভাস্কর্য ও শিল্পকলার মধ্য দিয়ে সৈইসব লড়াইকে আমরা প্রজন্মান্তরে রেখে যেতে চাই। শিল্পকলা দর্শন ও পাঠের মধ্য দিয়ে জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে জানার দরজা খুলে দিতে চাই। এটাই প্রগতির শর্ত।
অথচ ধর্মান্ধ গোষ্ঠী প্রগতির এ যাত্রাকে রুদ্ধ করতে বারবার উদ্ধত হয়েছে। এখনো তাদের আস্ফালন টিকে আছে কেবল ক্ষমতাবলয়ের আশ্রয়ে। অতীতের বেশ কিছু ঘটনাতে আমরা দেখেছি, দেশের কোথায় কোন প্রান্তে কে ফেসবুক বা সামাজিক গোগাযোগমাধ্যমে কী লিখেছে, তা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রশাসন খুব তৎপর। প্রায়ই ’বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তির অভিযোগে’ অনেকের চাকুরি পর্যন্ত চলে যাচ্ছে এভং আইনানুগ ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ঠেছ। কিন্তু প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন বক্তব্য দেবার পরও সরকার ও প্রশাসন যেনো চোখে ঠুলি পরে বসে আছে। এই ক্ষেত্রে কোনো আইনই আর নিজের পথে চলছে না। সরকার এবং আওয়াম লীগের এই নিস্পৃহতার কারণ কী? নাকে এ তাদের অক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ! গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমার সরকার যেভাবে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির তোষণ করে চলেছে।, বিরোধী মত দমনের নামে উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে ধর্মের স্টাম্প কার্ড ব্যবহারের অবাধ অনুমোদন দিয়ে চলেছে, তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আমাদের পাঠ্যপুস্তকে নির্লজ্জ সাম্পদায়িকীকরণ করেছে, গত শুক্রবার ইসলামী শাসনতন্ত্রের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য তারই চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০১৭ সালের ২৫ মে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণ করা ঞয় উগ্র মৌলবাদী সংগঠন হেফজতে ইসলামের দাবির মুখে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই ভাস্কর্য অপসারণের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। সেইসব আপোস আজ বুমেরায় হর্য়ে ফিরে এসেছে আওয়ামী লীগেরই ওপর।
পঁচাত্তর পরবর্তী ন্যিষ্ঠুর সময়েও সামরিক রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠী, আজও তার ব্যত্যয় হবে না। অবিলম্বে এইসব মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠকে আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছে উদীচী যুক্তরাষ্ট্র শিল্পীগোষ্ঠী। সেইসঙ্গে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার বিরুদ্ধে ধর্মান্ধগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes