উইকিলিকসে তথ্য: শেখ হাসিনার ‘বোস্টন মাফিয়া’ তৌফিক, মশিউর, সামাদ

ডেস্ক: তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, মশিউর রহমান ও ড. এস এ সামাদ। এই তিনজন বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন করিডরে ‘বোস্টন মাফিয়া’ নামে পরিচিত। এর মধ্যে তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি উপদেষ্টা। মশিউর রহমান অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা। ড. এসএ সামাদ বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল মেয়াদে শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন সামাদ ছিলেন তার মুখ্য সচিব। তিনি একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদও। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং সরকারের আমলাদের বিষয়ে ভাল জানেন। ওই তিন ব্যক্তি একসঙ্গে বোস্টনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন বলে তাদেরকে সরকারি মহল ‘বোস্টন মাফিয়া’ নামে চেনে। সামাদ, চৌধুরী ও রহমান তিনজনই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা। সামাদ বলেছেন, তাদের ভাগ্য ভাল এজন্য যে, তারা সংরক্ষণবাদী শিবিরে পড়েননি। ২০০৯ সালের ২৫শে নভেম্বর ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন তারবার্তায় (ঢাকা ০০১০৭২) এসব কথা লিখেছিলেন তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ. মরিয়ার্টি। ওই তারবার্তার প্রথম অংশ প্রযুক্তিগত কোন কারণে মূল ফাইল থেকে মুছে গেছে। আর বাকি অংশে বলা হয়, এসএ সামাদ বলেছেন- বাংলাদেশকে বিনিয়োগ পরিবেশ ফেরাতে এখনও অনেক বাধা পেরুতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষিত এই অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ সরকার ও সমাজের ভিতরকার সংরক্ষণবাদী মহলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক খাতগুলোতে ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি সরকারি সুনির্দিষ্ট কিছু খাত নিয়ে আশাবাদী। শিল্পমন্ত্রীকে নিয়ে তিনি ও বাংলাদেশ সরকারের অন্যরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তা নিয়ে সামাদ হতাশা প্রকাশ করেন। শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিরও প্রধান। এসএ সামাদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের উদ্যোগে বাধা দিচ্ছেন শিল্পমন্ত্রী। সরকারের ওই কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে চান। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সামাদ একমত হন যে, অব্যাহতভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া দেয়ার প্রবণতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাংলাদেশে বিনিয়োগ ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। সামাদ বলেন, আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। ব্যবসা করার জন্য খরচ কমিয়ে আনা দরকার।
এখনও বিনিয়োগ তুলনামূলক কম
ওই তারবার্তায় আরও বলা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে সামাদ বলেছেন- বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করাসহ বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তুলতে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তিনি বলেন, ইউএনসিটিএডি (আঙ্কটাড)-এর ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৬০ কোটি থেকে ৮০ কোটি ডলারের মধ্যে। ২০০৮ সালে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে বাড়তি অর্থ এসেছে একটি মোবাইল কোম্পানির কাছে ৩০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি থেকে। এই অর্থ বিনিয়োগ বোঝায় না। আঙ্কটাডের মতে, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের চেয়ে গত তিন বছরে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ কম এসেছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার তুলনায় তা সামান্য বেশি। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার নিবন্ধিত করেছে।
মরিয়ার্টি তার মন্তব্যে লিখেছেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সামাদ। ঢাকা মিশন তার ও বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই)-কে ব্যবসার, বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সমর্থন দিয়ে যাবে। ডিসেম্বরে বিনিয়োগ বিষয়ক রোডশো থেকে ভাল ফল নিশ্চিত করতে আমরা বিওআই ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমন্বয় করবো।মানবজমিন
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030