হোয়াইট হাউস সংলগ্ন এলাকায় প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার লেখক সাংবাদিকদের সমাবেশ: বিশ্বের সব মানুষের অধিকার এক ও অভিন্ন
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে সারা বিশ্বের মানুষ এক। ধর্ম বর্ণ, জাতিগত বিভেদের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার শেষ পরিণাম কখনো ভালো হয়নি। কখনো যুদ্ধের নামে, কখনো নানা নিপীড়নের মধ্য দিয়ে মানুষের অধিকারকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে ক্রমাগত। আমেরিকা থেকে আফগানিস্তান, বালি থেকে বার্মা সর্বত্র মানুষের অধিকারের আওয়াজ এক, মুক্তির লড়াই অভিন্ন।

৫ জুন শনিবার ওয়াশিংটনস্থ হোয়াইট হাউইসের উত্তর সড়ক সংলগ্ন নাগরিক আন্দোলনের প্রবাদ প্রতিম সংগঠক ফিলিপস মেলাকু ব্যালো’কে নিয়ে এক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার একদল লেখক সাংবাদিক গত সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ডিসি সফর করেন। মার্কিন রাজনীতি এবং ঘটনাপ্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ন স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন তাঁরা। লাইব্রেরী অফ কংগ্রেস থেকে শুরু করে ক্যাপিটল হিল, সুপ্রিম কোর্ট, ট্রেজারি ভবন ঘুরে ওয়াশিংটন মনুম্যান্টের সামনে দাঁড়িয়ে লেখক সাংবাদিকরা নাগরিক আন্দোলনের মহান নেতা মার্টিন লুথার কিং -এর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
হোয়াইট হাউসের উত্তরের সড়কপাশের ফিলিপস মেলাকু ব্যালো’র তাঁবুর সামনে সমবেত প্রতিবাদি মানুষদের এক সমাবেশে যোগদেন তাঁরা। সারা বিশ্বের নানা সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন সরগরম থাকে এলাকাটি।

গত ৬ জানুয়ারি ক্যপিটল হিলে হামলা ঘটনার পর কড়া নিরাপত্তা ব্যস্টনির মধ্যেই প্রতিবাদি জনতার এমন সমাবেশ চলমান। ফিলস্তিন -ইসরাইল সমস্যা , মায়ানমার সমস্যা , কতৃত্ববাদী সরকারগুলোর কতৃক দেশে দেশে মানুষের অধিকার লঙ্ঘন, কণ্ঠরোধ করার প্রতিবাদ নিয়ে শান্তিকামী প্রতিবাদে যোগদিতে পৃথিবীর নান প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসেন এ এলাকায়। ওয়াশিংটন ডিসিতে পর্যটকদের অবধারিত গন্তব্য, হোয়াইট হাউসের উত্তরের এ সড়ক পাশটি।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, তাঁর গত তিন দশকের বন্ধু ফিলিপস মেলাকু ব্যালোকে সবার সাথে পরিচিত করে দেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন অহিংস আন্দোলনের দাবী চালিয়ে হতাশ না হওয়ার জন্য সারা বিশ্বের মুক্তিকামী লড়াকু মানুষের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ফিলিপস।
রহমান মাহবুব তাঁর বক্তৃতায় বলেন, মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে সারা বিশ্বের মানুষের পরিচয় এক। তাদের অধিকারও অভিন্ন বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেলী জামান খান বলেন,বিদ্বেষ ও ঘৃণা উস্কে দিয়ে যারা অধিকার হরণ করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত আওয়াজ চালিয়ে যেতে হবে।
রওশন হক বলেন, ফিলিস্তিনে মানুষের রক্ত ঝরছে, মিয়ানমারের লোকজনকে দেশ ছাড়া করা হচ্ছে। বিশ্বময় অশান্তি সৃষ্টির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার ভূমিকাকে জোরালো করতে হবে। রোকেয়া দীপা তাঁর বক্তৃতায় বলেন , শান্তিকামী মানুষের কাছে হিংসা, বিভেদ আর বিদ্বেষ কখনো প্রশ্রয় পেতে পারে না। ভায়লা সালিনা বলেন,সহনশীলতা ,সাম্য প্রতিষ্টা আর সৌহার্দের মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তি প্রতিষ্টিত হতে পারে। তোফাজ্জল লিটন বলেন , বিশ্বের সর্বত্র অস্ত্রের ঝনঝনানিতে আর কতৃত্ব প্রতিষ্টার প্রতিযোগিতা মানুষ চায় না । মানুষ শান্তির সাথে সমাজ সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে চায়। সৈয়দা শাহানা ইয়াসমিন সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় বলেন বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্টার জন্য হুমকী নয়, ভালোবাসা দিয়ে শান্তি প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে।
বিশ্বের নাগরিক আন্দোলনের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে ফিলিপস মেলাকু ব্যালো গত চল্লিশ বছর থেকে অহিংস আন্দোলনের শপথ নিয়ে হোয়াইট হাউসের উত্তর এলাকায় অবস্থান করছেন তাঁবু খাটিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করে বিশ্বে মানবাধিকার লংঘন থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে আসার দাবী জানানোর ইচ্ছা তাঁর। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান থেকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পর্যন্ত কেউ তাঁর সাথে দেখা করে বিশ্বে মুক্তিকামী মানুষের দাবী গ্রহনে উচ্ছুক হননি। ফিলিপস আশা ছাড়েননি। চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর অহিংস অবস্থান।
বিশ্বের নাগরিক আন্দোলনের যেকোন আলোচনায় ফিলিপস মেলাকু ব্যালোকে নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। ফিলিপস মেলাকু এবং তাঁর সাথে অবস্থানরত মানিবাধিকার কর্মিরা ব্যাপকভাবে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার লেখক সাংবাদিকদের স্বাগত জানান। তাঁরা সবাই আমেরিকার যুদ্ধনীতির সমালোচনা করেন। প্রত্যেকে নিজস্ব অবস্থান থেকে শান্তি প্রতিষ্টার জন্য ক্রমাগত দাবি চালিয়ে জন্য এসব মানিবাধিকার সংগঠকরা আহ্বান জানান। ছবিঃ অনির্বাণ খন্দকার।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি