দশই মহররম শাহাদাতে কারবালার দিবসই ইসলামী শহীদ দিবস -আহলে সুন্নাত ইউএসএ
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর উদ্যোগে নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পার্টি হলে গত ২১শে আগস্ট পবিত্র শাহাদাতে কারবালা দিবস উপলক্ষে “ইসলামী শহীদ শহীদ দিবস মাহফিল” অনুষ্ঠিত হয়। বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, সালাতুস সালাম এবং না’ত শরীফ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম মাহমুদ, প্রধান মেহমান ছিলেন মুফতি আল্লামা আনসারুল করিম আজহারী। আরো তকরীর করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর কার্যকরী সভাপতি সৈয়দ হেলাল মাহমুদ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ওয়াসিম সিদ্দিকী, সংগঠনের সহসভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল হক কাদেরী ও মুহাম্মদ নাদের, মাওলানা নুরুন্নবী ফারুকী, মুহাম্মদ ওমর ফারুক প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবদুর রহীম, মীর মশিউর রহমান, মুহাম্মদ আলী বাবু, সিদ্দিকুর রহমান, গিয়াস আহমেদ, এডভোকেট জুবায়ের আহমেদ, মনিরুজ্জামান, তারেক খান, জাবেদ উদ্দিন, সোহেল রেজা, দরদ আহমেদ, আমজাদ হোসেন, শফি গরিবী, মির্জা আজম, জিল্লুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ইসলামের স্বাধীনতা ও পরাধীনতার মোড় ৬১ হিজরীর ১০ই মহররম শাহাদাতে কারবালা দিবসই হলো পবিত্র কলেমার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকাশ। শাহাদাতে কারবালা দিবসই ইসলামের শহীদ দিবস, বিশ্ব মানবতার শহীদ দিবস, ঈমান কুফর পৃথককারী শহীদ দিবস, ইসলামের খেলাফত উৎখাতকারী কাফের এজিদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ইসলামী মুক্তি সংগ্রামের শহীদ দিবস ও খেলাফত পূণরুদ্ধারে ঈমানী প্রেরণার শহীদ দিবস।
বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের সকল সার্থকতা; ঈমান, দ্বীন ও খেলাফত; পবিত্র শাহাদাতে কারবালা পালনের মধ্যে নিহিত।
বক্তারা দুনিয়ার সকল নবীপ্রেমী ঈদে মিলাদুন্নবী পালনকারীদের শাহদাতে কারবালা দিবস পালনের আহবান জানান। উল্লেখ্য, দয়াময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আহলে বায়াত, খোলাফয়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইসলামী খেলাফত ৪১ হিজরী পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ছিল। এরপর ২০ বছর সমঝোতার মাধ্যমে শর্তস্বাপেক্ষে “আমিরী শাসন” কায়েম ছিল যা ইসলামী খেলাফত নহে। তৎপরবর্তী সন্ধির শর্ত উপেক্ষা করে মুয়াবিয়া রাঃ কর্তৃক স্বীয় পুত্র নরাধম এজিদকে শাসন ক্ষমতায় বসানোর পর সকল শর্ত ও সমঝোতা ভেঙে পড়ে। প্রথম চার খলিফার সকল আওলাদ বিশেষতঃ আহলে বায়াত ও বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরাম পাপিষ্ট এজিদের বিরোধিতা করেন। সেই সূত্র ধরে নরাধম এজিদ পবিত্র আহলে বায়াতের সদস্যবৃন্দ ও খোলাফায়ে রাশেদীনের আওলাদদেরকে হত্যার সংকল্প করে। ইমামে আকবর ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বপরিবারে ইরাকের কুফা শহরে দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে পবিত্র কারবালার ময়দানে চাপিয়ে দেয়া ঈমান কুফরের চূড়ান্ত প্রত্যক্ষ যুদ্ধে কাফের এজিদের নির্দেশে ইবনে জিয়াদের বাহিনী আহলে বায়াতের পবিত্র সদস্যসহ ৭২ জন উচ্চপর্যায়ের সাহাবায়ে কেরামকে শহীদ করে। এরপর কাফের এজিদের বাহিনী মক্কার কাবা শরীফে অগ্নিসংযোগ, মদিনার মসজিদে নববীতে পশুচারণ, নামাজ বন্ধকরণ ও মদিনার সাহাবী নারীদেরকে হত্যা ও ধর্ষণের নির্দেশ দেয়। বক্তাগণ বলেন যে, ১০ই মহররম শাহাদাতে কারবালা দিবসে ইসলামের প্রকৃতরূপ আহলে বায়াত খোলাফায়ে রাশেদীন খেলাফতের তথা দ্বীন ইসলাম সমাজ রাষ্ট্র থেকে উৎখাত হয়, যা হাদীস শরীফে পূর্বেই উল্লেখিত রয়েছে। ৬১ হিজরীর ১০ই মহররম শাহাদাতে কারবালার পর ইসলাম দু’ভাগে বিভক্ত: হুসাইনী ইসলাম ও এজিদী ইসলাম। এজিদী ইসলাম হলো সকল বাতেল ফেরকা সম্বন্বয় বিষেশত: খারেজী ও রাফেজীদের সম্মিলিতরূপ যা ঐক্যবদ্ধ বা বিচ্ছিন্নভাবে কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। বক্তাগণ বলেন যে, খেলাফত অস্বীকারকারী রাফেজী ও আহলে বায়াতের প্রত্যক্ষ শত্রু খারেজী; দুটি বাতেল মতবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের খেলাফত ইমামতের আনুগত্যে সবাইকে আহলে সুন্নাতের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। মাহফিলে সদ্য ইন্তেকালপ্রাপ্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর অন্যতম উদ্যোক্তা আল্লামা নুরী শাহ ও সংগঠনের শুভাকাঙ্খী মীরান দেওয়ানের ভাগ্নে শেখ আবিদের জন্য ফাতিহা পাঠ করা হয়। শাহাদাতে কারবালা দিবস ইসলামে শহীদ দিবস মাহফিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাতু সালাম, পবিত্র শোহাদায়ে কারবালার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও সালাম পাঠ ও বিশ্ব মানবতার দুজাহানের প্রকৃত মুক্তি কামনা করা হয়। শেষে তবারক বিতরণ করা হয়।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি