Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

‘আমি বাড়িতে বসে থাকাকে ঘৃণা করি’ – নিউ ইয়র্কে এক বাংলাদেশীর অসহনীয় যন্ত্রণা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 145 বার

প্রকাশিত: December 20, 2011 | 8:24 PM

 

 ডেস্ক: আবদুল্লাহ চৌধুরী (৪৩)-এর জন্ম বাংলাদেশে। উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমান বসবাস নিউ ইয়র্কে। ভাগ্য তার কাছে ধরা দেয়নি। উল্টো চরম আর্থিক সঙ্কটে কাটছে তার দিন। স্ত্রী মারজাহান (৩৫), দুই সন্তান : ফাতিহা (৩) ও জিকরা (৬ মাস)কে নিয়ে এক বেডরুমের একটি বাসায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। দেশে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করা আবদুল্লাহ ভেবেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভাল একটি চাকরি করে পরিবারে সচ্ছলতা আনবেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী ওই সার্টিফিকেটের কোন মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে নিম্নস্তরের অনেক চাকরি খুঁজেছেন তিনি। একপর্যায়ে দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছে। তাকে পার্টটাইম কাজ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার পরও তিনি হাল ছাড়তে নারাজ। নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন জীবনযুদ্ধে। তারই কাহিনী ১৯শে ডিসেম্বর অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়নি- তিনি বাংলাদেশের কোন জেলার অধিবাসী বা তার স্থায়ী ঠিকানা কি। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে জন্ম নেয়া আবদুল্লাহ দেশে কোন উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছাড়াই অবস্থান করতেন।  সেখানে তার সবই ছিল। কিন্তু উন্নত জীবনের সন্ধানে তিনি ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সঙ্গে নিয়ে যান অ্যাকাউন্টিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং চাকরি করার ৬ বছরের অভিজ্ঞতা। প্রথমে তিনি হায়াতভিলে বসবাস করতে শুরু করেন। সেখানে অবস্থান করে কাজ খুঁজতে থাকেন। তিনি বলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে তার শিক্ষা সনদের কোন মূল্যায়ন না থাকায় তাকে পড়তে হয় মহাবিপাকে। তিনি এখানে-ওখানে ঘুরে কোন কাজ না পেয়ে শেখ পর্যন্ত ফাস্ট-ফুডের দোকানে কাজ খুঁজতে থাকেন। তিনি জানেন, দেশে থাকলে এ কাজ হয়তো অনেকটা সহজেই পাওয়া যেত। কেএফসি’তে তাকে ক্যাশিয়ার বানানো হয়। ১০ মাস পরে তার সুপারভাইজার তাকে প্রমোশন দিয়ে একটি ইউনিটের সহকারী ম্যানেজার বানান। এ অবস্থায় তিনি অ্যাকাউন্টিংয়ের একটি চাকরি খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কোথাও পেলেন না। এমন এক সময়ে ১৯৯৯ সালে তার চোখে প্রদাহ শুরু হয়। তার দৃষ্টিশক্তি কমে আসতে থাকে। আবদুল্লাহ মনে করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার হতাশার যোগসূত্র আছে। বেশ কিছু চক্ষুবিশেষজ্ঞ দেখানোর পরে তারা তাকে বলছেন এটা এক রকম জেনেটিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এতে তার দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় তার মনোবল ভেঙে যায়। তার পরও তিনি কাজ করতে থাকেন। ২০০১ সালে তাকে জ্যামাইকায় কেএফসি’তে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তার দৃষ্টিশক্তির কারণে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনতে হয়। একপর্যায়ে তিনি কুকের চাকরি নেন। কিন্তু সেখানে স্টোভ থেকে নির্গত ধোঁয়া, গ্যাস ও পরিবেশগত কারণে তার চোখের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। একদিন তিনি ফ্রাইং করার জন্য ৩৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রার তেলে ডান হাত রাখেন। এতে মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় তার হাত। তাকে বলা হয়, অন্য একটি কাজ জুটিয়ে নিতে। এ অবস্থায় তার সামনে সুযোগ সীমিত হয়ে আসতে থাকে। বন্ধুদের পরামর্শে তিনি নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সাক্ষাৎকারের সময় তিনি যখন ফর্ম পূরণ করছিলেন তখন একটি অতশী কাচ ব্যবহার করেন। তা দেখে কর্তৃপক্ষ তাকে ব্ল্যাকলিস্টে ফেলে দেয়। চাকরি আর হয় না। তাকে বলা হয়, আমরা আপনাকে পরে ফোন দিয়ে ডাকব। কিন্তু আবদুল্লাহর ফোন আর বাজেনি। বেঁচে থাকার জন্য তিনি অন্ধত্ব লুকানোর চেষ্টা করতে থাকেন। ২০০৫ সালে পেয়ে যান নিরাপত্তা রক্ষার একটি কাজ। সেখানে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কাজ করেন তিনি। এর পর তাকেসহ ৮৭ জনকে বরখাস্ত করা হয়। তারপর থেকে এখনও তিনি একটি কাজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। এ অবস্থায় তার স্ত্রী মারজাহানের ইংরেজিতে বাংলাদেশী এমএ ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তিনিও কোন কাজ পাচ্ছেন না। তাদের এমন দুর্দিনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি। তারা তাদের অসমর্থ মানুষদের জন্য নির্ধারিত ১০৭০ ডলার সহায়তা দিচ্ছে। খাদ্য সহায়তা হিসেবে পাচ্ছেন মাসে ৪৬৫ ডলার। ওমেন, ইনফ্যান্টস অ্যান্ড চিলড্রেন প্রোগ্রাম থেকে প্রতি মাসে এনফামিল ফর্মুলার ৯টি ক্যান দেয়া হচ্ছে। তাকে নিউ ইয়র্ক টাইমস নিডিয়েস্ট কেসেস ফান্ড পরিচালিত ৭টি সংস্থার মধ্যে একটি ক্যাথলিক চ্যারিটি আর্চডিওসেস অব নিউ ইয়র্ক থেকে সন্তানদের কাপড়চোপড় কিনতে দেয়া হয়েছে ৩০০ ডলার। তবুও আবদুল্লাহ চৌধুরীর আর্তি, আর্থিকভাবে আমি ভীষণ বিপাকে। এটা আমার জন্য এক অসহনীয় যন্ত্রণা। আমার একটি পার্টটাইম কাজ দরকার। আমার মনে হয়, এখনও আমার কাজ করার মতো যথেষ্ট শক্তি আছে। আমি বাড়িতে বসে থাকাকে ঘৃণা করি।  মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV