চলে গেলেন মঞ্চ-টিভি ও চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি

স্টাফ রিপোর্টার: মঞ্চ-টিভি ও চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি আর নেই। গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর ধানমন্ডির নতুন ৯/এ’র ৭২ নং বাসায় মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তার পারিবারিক একটি সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন ফরীদি সমপ্রতি অসুস্থ হয়ে রাজধানীর মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রোববার রাতে হাসপাতাল থেকে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই গতকাল সকালে বাথরুমে পড়ে মারা যান তিনি। গতকাল সাড়ে ১২টায় হুমায়ুন ফরীদির ধানমন্ডির বাসভবনের কাছে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর বেলা দুইটায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে ও বাদ আসর এফডিসিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় শিল্পকলা একাডেমীতে। জানাজা শেষে তার মৃতদেহ বারডেম হিমাগারে রাখা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে। এক দীর্ঘ কর্মময় বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবন ছিল হুমায়ুন ফরীদির। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চে সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে দেশ-বিদেশের লাখো কোটি ভক্তের মনে আসন করে নিয়েছেন এ অভিনেতা। ১৯৫২ সালের ২৯শে মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। শিক্ষা জীবনের এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নাট্য উৎসব আয়োজনেরও প্রধান সংগঠক ছিলেন ফরীদি। এ উৎসবের মাধ্যমেই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তার ব্যাপক পরিচিতি গড়ে ওঠে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা থিয়েটারের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশে একজন মেধাবী ও শক্তিমান নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে চিনিয়ে ছিলেন তিনি। অভিনয়ের অসাধারণত্বে যে আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন ফরীদি, তার সেই উচ্চতায় এ দেশের খুব কম মানুষই পৌঁছাতে পেরেছেন। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সদস্য হিসেবে তিনি গ্রাম থিয়েটারের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। ঢাকা থিয়েটারের সদস্য হিসেবে শুধু ঢাকাতেই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন মঞ্চে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়কে গৌরবান্বিত করার ক্ষেত্রেও অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। হুমায়ুন ফরীদি মঞ্চ নাটক, টিভি ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নির্মাণে সক্ষম হন। ফরীদি তার কয়েক দশকের কর্মময় জীবনে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘শ্যামল ছায়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘আহা!’, ‘হুলিয়া’, ‘একাত্তরের যিশু’, ‘দহন’, ‘সন্ত্রাস’ ও ‘ব্যাচেলর’। উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীল নকশার সন্ধানে’ (১৯৮২), ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’ (১৯৮২), ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’ (১৯৮৩), ‘ভবের হাট’ (২০০৭), ‘শৃঙ্খল’ (২০১০)। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সমপ্রচারিত ধারাবাহিক ‘সংশপ্তক’ নাটকে ফরীদির অনবদ্য অভিনয়ের কল্যাণে ‘কান কাটা রমজান’ চরিত্রটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। অভিনয়ের অসাধারণত্ব আর স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গুণগত পরিবর্তন অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ বছর পূর্তি উৎসবে সম্মাননা দেয়া হয়। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুতে শোক: দেশের খ্যাতিমান অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিরোধী দলসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন। গতকাল এক লিখিত বিবৃতিতে স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ, তথ্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রবসহ অ্যাডভাটাইজিং ক্লাব, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন প্রমুখ এ শোক প্রকাশ করেন। তারা বলেন, হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিনেতাকে হারালো। দেশের জনগণ তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দক্ষ এই অভিনয় শিল্পীর মৃত্যুতে দেশে অভিনয় জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয়। তারা সবাই মরহুম হুমায়ুন ফরীদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্য, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, নিকটজন, ভক্ত, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ড. ইউনূসের শোক: অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বহুমুখী অভিনয়ে দক্ষ অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুতে আমি গভীর শোকাহত। তার এ মৃত্যুতে বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ফরীদির সুনিপুণ অভিনয় দক্ষতা দিয়ে ছুঁয়ে যাওয়া দেশ-বিদেশের লাখ লাখ বাংলাদেশী তার পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীরা তার শূন্যতা গভীর ভাবে উপলব্ধি করবেন। আমি তার বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করছি। সৃষ্টিকর্তা যেন তার পরিবারের সবাইকে তাকে হারানোর বেদনা বহন করার শক্তি দেন।মানবজমিন
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency