ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাসাল’র ১৮তম চ্যাপ্টার গঠন; দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটি উচ্ছ্বসিত
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগঠন অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার – অ্যাসাল’র ১৮তম চ্যাপ্টার গঠিত হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। গত ৮ আগস্ট সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে লস অ্যাঞ্জেলেস চ্যাপ্টারের যাত্রা শুরু হয়। লস এঞ্জেলেসের ইন্ডিয়াস ক্লে পিটের ব্যাঙ্কুয়েট হলে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের এক সভায় অ্যাসাল’র লস অ্যাঞ্জেলেস চ্যাপ্টার গঠন করা হয়। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের উপদেষ্টা ড. জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে ওই সভায় নিউইয়র্ক থেকে টেলিকনফারেন্সে অ্যাসাল’র প্রতিষ্ঠাতা এবং ন্যাশনাল কমিটির প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দীন প্রধান অতিথির এবং ন্যাশনাল কমিটির সেক্রেটারী মোঃ করিম চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
নব গঠিত লস অ্যাঞ্জেলেস চ্যাপ্টারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ড. জয়নাল আবেদীন এবং সেক্রেটারী হয়েছেন মজিব সিদ্দিকী, এমবিএ, এলএলবি।
৩৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন : এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মানিক, করেসপন্ডিং সেক্রেটারী সুমন বড়–য়া, ট্রেজারার এম ওয়াহিদ রহমান, পলিটিকেল ডাইরেক্টর মিকাইল খান, অর্গানাজিং ডাইরেক্টর মোঃ এ. মাহবুব, উইমেন্স কমিটি চেয়ার সালমা পারভীন, ইমিগ্রেশান ডাইরেক্টর ওবায়দুল হক পীরজাদা, এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মুশফিকুর চৌধুরী খসরু, ভাইস প্রেসিডেন্ট আল-মামুন লস্কর, মাহাদী হাসান, নাসিরুদ্দিন চপল, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আবদুল মোতালেব, মঞ্জুরুল আলম, মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ও আবদুর রব সোহান।
ট্রাস্টি মেম্বার : ইঞ্জি. মাহবুব আলী, আবুল বাসিত, বদরুল এ চৌধুরী, মোহাম্মদ ইফতেখার রহমান, কাঞ্চন চৌধুরী, মোহাম্মদ মেহেদী ও মাসুদ টিটো হোসেন।
উইমেন্স কমিটি মেম্বার : সাবিনা ইসলাম, লিজা আবেদীন, ইয়াসমিন আবেদিন, জাকিয়া আবেদিন, পারভীন বি জামান, সাথী বড়–য়া, উলফাত পারভিন, সালিমা ইয়াসমিন ও রোকসানা পারভিন।
ইউথ কমিটির চেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন ইমরান আবেদীন, সিপিএ, এমবিএ।
কমিটির কর্মকর্তাদের শপথ গ্রহণ করান অ্যাসাল’র প্রতিষ্ঠাতা এবং ন্যাশনাল কমিটির প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দীন।
তিনি এসময় অভিষিক্ত কর্মকর্তাদের সাফল্য কামনা করে অ্যাসলকে মূলধারায় আরও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করার তাদের মিশন সম্পর্কে অভিহিত করে তা অনুসরনের আহ্বান জানান।
মাফ মিসবাহ উদ্দিন তার মূল বক্তৃতায় বলেন, “অ্যাসাল পরিবারের পক্ষ থেকে আমি নয়টি রাজ্য জুড়ে ১৭ টি চ্যাপ্টারের শুভেচ্ছা নিয়ে এসেছি এবং যারা আজ আমাদের সদস্য হিসেবে, পরিবার হিসেবে এবং অতিথি হিসেবে আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই। ড. জয়নাল আবেদীন, মজিব সিদ্দিকী, এবং মুশফিকুর চৌধুরীকে তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ যা অ্যাসাল লস অ্যাঞ্জেলেস চ্যাপ্টারকে সম্ভব করেছে। আমরা জানি, আমরা আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার জন্য জন্মগ্রহণ করিনি বরং আমাদের চারপাশের সকলের কেন্দ্র হতে। আমাদের অবশ্যই কমিউনিটিকে কিছু দিতে হবে এবং দেওয়ার সময় এখনই। দেওয়ার জন্য আমাদের ক্ষমতার পদের প্রয়োজন এবং আমরা অ্যাসাল আন্দোলনের মাধ্যমে তা অর্জন করতে পারি।”
মাফ মিসবাহ উদ্দীন বলেন, “আমরা একা এটা করতে পারি না, আমাদের কমিউনিটি বাড়ছে, আমাদের অবশ্যই এক হয়ে আসতে হবে। অ্যাসাল লস এঞ্জেলেস চ্যাপ্টার শুরু, শিগগির পুরো ক্যালিফোর্নিয়ায় বিস্তার লাভ করবে। একদিন আপনাদের আর নির্বাচিত কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার দরকার হবে না তারাই আপনাদের কাছে আসবে। আপনাদের ঐক্যই আপনাদের সম্পদ, অ্যাসাল ব্যানারের মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তরিত হবেন তখন কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত হতে সাহায্য করি, একবার নির্বাচিত হলে তারা আপনাদের কাছে আসে, আপনাদেরকে চিনতে পারে, প্রশংসা করে এবং একসাথে আমরা আমাদের কমিউনিটির উন্নতি করতে পারি”।
অ্যাসাল ন্যাশনাল সেক্রেটারি মোঃ করিম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের কমিউনিটি ক্রমবর্ধমান হচ্ছে, আমরা প্রায় প্রতিটি পেশাগত ক্ষেত্রে সফল হচ্ছি। কিন্তু রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয়দের সংখ্যা খুব কম, অ্যাসাল এটি পরিবর্তন করতে চায়। টেবিলে যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। অ্যাসাল আমাদের কমিউনিটি এবং মূলধারার রাজনীতির মধ্যে সেতু। লস এঞ্জেলেস আসুন একসাথে সেই সেতুটি পার করি।” তিনি বলেন, “আমরা ভাগ্যবান, আমাদের আছেন দূরদর্শী মাফ মিসবাহ উদ্দিন, যিনি বিগত ২২ বছর ধরে নিউইয়র্ক সিটি ইউনিয়নের (লোকাল ১৪০৭) সভাপতি এবং গত ১৯ বছর ধরে ডিসি ৩৭-এর কোষাধ্যক্ষ। তিনিই এই মহান প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটি জন্য যাকে আমরা অ্যাসাল বলি। এটির মাধ্যমে আমরা আমাদের জন্য কাজ করার জন্য আমেরিকান রাজনীতি পরিবর্তন করতে পারি, আমরা রাজনীতিবিদদের একজন অংশীদার এবং বন্ধু হতে পারি এইভাবে আমাদের কমিউনিটির জন্য ফলাফল আনতে পারি।”
লস এঞ্জেলেস চ্যাপ্টারের সভাপতি ড. জয়নাল আবেদীন বলেন, “এটি একটি সুসংবাদ যে অ্যাসাল আজ লস এঞ্জেলেসে তার ১৮ তম চ্যাপ্টার চার্টার্ড করেছে। আমি আনন্দিত যে আমরা ৩৫ জন আমেরিকান পশ্চিমে অ্যাসালকে স্বাগত জানাতে এখানে জড়ো হয়েছি। এই প্রথম আমি এমন একটি সংস্থা দেখেছি যেটি আমাদের সকলকে রাজনৈতিকভাবে জড়িত করতে এবং আমেরিকান রাজনীতির অংশ হতে এত কঠোর পরিশ্রম করে।” তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “লস এঞ্জেলেসে এখন থেকে অ্যাসাল দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান কর্মীবাহিনী এবং কমিউনিটির সদস্যদের তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক-এবং ব্যবসায়িক আকাঙ্খার উন্নীত করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবে। আসুন আমরা সমস্ত দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানদের আমেরিকায় তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্যে নতুন উচ্চতা অর্জনের জন্য অ্যাসাল-এর প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করি,”।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, এটি একটি অন্যন্য সমাবেশ ছিল। আরো মানুষ অ্যাসাল আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত রচনায় এগিয়ে আসবে।
লস এঞ্জেলেস চ্যাপ্টারের নবনির্বাচিত সেক্রেটারি মজিব সিদ্দিকী তার বক্তৃতায় বলেন, “দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটি লস এঞ্জেলেসে, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অ্যাসাল প্ল্যাটফর্ম পেয়ে উচ্ছ্বসিত এবং সিটি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে এবং তাদের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারগুলো প্রকাশ করতে এবং দাবি করতে সক্ষম হবে।” তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিকে একত্রিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। আমাদের লস অ্যাঞ্জেলেসে এটির প্রয়োজন অনেক আগে থেকেই। নিশ্চিত যে আমরা আমাদের কমিউনিটিকে সংগঠিত করার মাধ্যমে ন্যায্য দাবিগুলো অর্জন করব এবং মূলধারার রাজনৈতিক নেতা এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সম্মানজনক উচ্চতায় পৌঁছব”।
অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সকলে প্রানভরে উপভোগ করেন। নৈশভোজের মাধমে সমাপ্তি ঘোষণা করেন চ্যাপ্টারের সভাপতি ড. জয়নাল আবেদীন।
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women