Wednesday, 22 July 2026 |
শিরোনাম
ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation নিউইয়র্কে ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের বৈঠক: এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান
সব ক্যাটাগরি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭ তম অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক আসছেন ২০ সেপ্টেম্বর

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 74 বার

প্রকাশিত: September 15, 2022 | 11:46 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশন ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। এ অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক পর্ব শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে এসে পৌঁছাবেন ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার।  পররাষ্ট্র মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।


নিউইয়র্ক পৌছার আগে প্রধানমন্ত্রী ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য সফর করছেন। নিউইয়র্কের সফর শেষে তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করবেন। জাতিসংঘে অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাওয়া তথ্যে এসব জানা গেছে।
এ বছর জাতিসঘের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য Watershed moment: Transformative Solutions to interlocking challenges.
করোনা মহামারি ও বিশ্বে চলমান বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। জালানির মুল্য বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন দেশে ব্যাপক মূল্যস্ফৃতি হয়েছে। নতুন এ সংকটের ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রতিকুলতার মুখোমুখি হতে হবে।  এসকল কারণে, জাতিসংঘের এই সাধারণ অধিবেশনে করোনা মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এর পাশাপাশি খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিকতাবাদ, টেকসই আবাসন, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও অন্তর্ভূক্তিমূলক ডিজিটাল অবকাঠামো গঠনের বিষয়সমূহ আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল গুরুত্বপূর্ণ এসব ইস্যুতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কিত অগ্রাধিকার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
প্রতি বছরের মতো এবছরও সাধারণ বিতর্কপর্ব চলাকালীন বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উচ্চ পর্যায়ের সভাসমূহ হলো:
১)  ‘Transforming Education Summit (TES)’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভা। এই উচ্চপর্যায়ের সভাটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনে ব্রিটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্তোষ্টিক্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন বিধায় তিনি এ সভায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। শিক্ষামন্ত্রী ওই সামিটে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করবেন।
২)   Meeting of the Champions of the Global Crisis Response Group (GCRG)’ বিষয়্ক উচ্চ পর্যায়ের সভাটি ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। উচ্চ পর্যায়ের এ গ্রুপে ছয় জন চ্যাম্পিয়নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যতম।
৩)   ২২ সেপ্টেম্বর “Antimicrobial Resistance (AMR)” বিষয়্ক একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কো-চেয়ার হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
৪) ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য রাখবেন। প্রতিবারের মত এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিখাত বিকাশে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
৫)  এবারের অধিবেশনে The Future of Digital Cooperation: Building resilience through safe, trusted and inclusive digital public infrastructure এবং High-level Roundtable on “Multilateralism and Food Security” বিষয়্ক আরো দুটি পৃথক উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে।
কোভিড-১৯ জনিত কারণে, এবার কোনো সাইড ইভেন্ট জাতিসংঘ সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হবে না। তবে রোহিঙ্গা সমস্যা এবং টেকসই আবাসন বিষয়ে পৃথক দুটি সাইড ইভেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্ট ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন।
টেকসই আবাসন বিষয়ক সাইড ইভেন্টটি ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ আবাসন সংস্থা যৌথভাবে সাইড ইভেন্টটি আয়োজন করছে। প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসন বিষয়ক সাইড ইভেন্টটিতে অংশগ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত আশ্রয়ন প্রকল্পের সফলতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন্ ।
সাইড ইভেন্ট দুটি আয়োজনের পাশাপাশি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভেতরে পদ্মা বহুমুখী সেতু বিষয়ক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিকল্পে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু বিশ্ব  সভায় একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও এর বিরূপ প্রভাব বিষয়ে বেশ কয়েকটি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবারের মতো বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।  কসভোর প্রেসিডেন্ট, ইকুয়েডরে প্রেসিডেন্ট, স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট, ক্যাম্বডিয়ার প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালকের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আয়োজনে একটি গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীগণ বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধার বিষয়সমূহ উপস্থাপনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীগণ তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের নিকট তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে দুদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি হবে। এছাড়া প্রতি বছরের মতো এবারো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি রিসেপশন আয়োজন করবেন। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানকালে তিনি একাধিক বৈঠকে অংশ নিতে পারেন।
এবারের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কয়েকটি ইভেন্টে যোগ দিবেন। এর মধ্যে ইউএস সেক্রেটারি অব স্টেট কর্তৃক আয়োজিত COVID-19 Global Action Plan (GAP) সভা যেটিতে বাংলাদেশ co-host, Sustainable Mountain Development বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভা, OIC Contact Group on Rohingya এবং Annual Coordination Meeting, গ্রপ-৭৭ এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, Ministerial meeting of the Group of Friends of Mediation উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নিরস্ত্রিকরণ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতি ২৬ সেপ্টেম্বর পারমাণবিক নিরস্ত্রিকরণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ ও এই বিষয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য International Day for the Total Elimination of Nuclear Weapons শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভা আয়োজন করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সভায় অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কসভোর উপ প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউএস এসিসস্টেন্ট সেক্রেটারি, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস কমিটির প্রেসিডেন্টের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এবারের জাতিসংঘের অগ্রাধিকার ইস্যুগুলো প্রত্যকটি বাংলাদেশের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ইস্যুগুলোর ওপর যেসব ইভেন্ট আছে বাংলাদেশ তার সব ক’টিতেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে মনে করে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে বাংলাদেশের নিবিড় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে অক্ষুন্ন থাকবে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV