নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এর প্রেস ব্রিফিং : ক্লাইমেট ইস্যুতে বাংলাদেশ লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ভিডিও সহ)
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আলোকে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিং করেন। জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা কী বার্তা দেবেন তা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেন, কভিড১৯ সদস্য, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সমস্যা-তা কোনো একক দেশ সমাধানে সক্ষম নয়। সেজন্যে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করা উচিত। এমনকি বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যে স্যাঙ্কশন দেয়া হয়, সেগুলোও সবাইকে নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করলে সাধারণ নাগরিকরা অসুবিধায় কম পড়বে। এটা হবে জাতিসংঘে চলতি অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধান বার্তা।
এর পাশাপাশি আমরা ক্লাইমেট ইস্যু উপস্থাপন করবো। কারণ আমরা হলাম ক্লাইমেট ইস্যুতে লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড। আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুটি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবো।
ম্যানহাটানে ‘লটে প্যালেস’ হোটেলে স্থাপিত বাংলাদেশ মিশনের কন্ট্রোল রুমে প্রেস ব্রিফিংকালে ড. মোমেন আরও উল্লেখ করেন, গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের যে অভাবনীয় সাফল্য-সে সম্পর্কে সকল ফোরামে আমাদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো। এটা সকলেরই জানা যে, বাংলাদেশ হচ্ছে গোটাবিশ্বে নারী ক্ষমতায়নে লিডার। সে কথাও তুলে ধরবো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আরো একটি বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরবো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষণা দিয়েছেন যে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। যাদের জমি নেই, গৃহ নেই-প্রত্যেককে জমিসহ গৃহ দেয়া হবে। ইতিমধ্যেই সেই কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখের বেশী মানুষকে জমির মালিকানা দলিলসহ গৃহ তৈরী করে দেয়া হয়েছে। একজন মানুষ যখন জমিসহ গৃহ পায় তখন তার মনে যে শান্তি তা অকল্পনীয়। এই কর্মসূচির কথা ব্যক্তকালে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাবো যেন কোন দেশেই মানুষ গৃহহীন না থাকেন। এসবই হবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার গুড মেসেজ। এবং আমি মনে করছি আপনারা সকলে তার প্রশংসা করবেন। দিস ইজ এ নিউ মডেল, শেখ হাসিনা প্রমোটিং থ্রো-আউট দ্য ওয়ার্ল্ড’-যোগ করেন ড. মোমেন।
এ সময় তার পাশে ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মোহিত, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাখাওয়াত মুন, বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা।
এর আগে দিনব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি আলোকে লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার ছিল প্রথম দিন। সারাদিন প্রধানমন্ত্রী কর্মব্যস্ত একটি দিন কাটিয়েছেন। সকাল হতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বিভিন্ন সভা ও অধিবেশনের সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগদান করেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় বাংলাদেশে কক্সবাজার ও ভাষানচরে আশ্রিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় UNHCR এর বর্তমান কার্যক্রমসমূহনিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বাস্তুুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ও এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাসমূহের আরও জোরদার ভূমিকা পালনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে, তিনি মিয়ানমারে UNHCR এর কার্যক্রম বৃদ্ধির উপর জোর দেন। এর প্রত্যুত্তরে হাইকমিশনার বলেন যে, তিনি শিগগিরই মিয়ানমার সফর করবেন।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করা সম্ভব বলে প্রধানমন্ত্রী তার মতামত পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
পরবর্তীতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর করিম খান প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান সকল প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরকে আশ্বস্ত করেছেন। আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান আগামী বছরের শুরুতে পুনরায় বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনের সভাপতি সাবা করোসির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের নারী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও, তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে নারীর সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নারী নেতৃত্ব গঠন ও প্রসার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন। এছাড়া, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী নারী নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন বলে তিনি বিশেষভাবে উলেখ করেন। সভাটি পরিচালনা করেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপতি, আইসল্যান্ড, সামোয়া, উগান্ডা, আরুবা, সেন্ট মার্টেন এর প্রধানমন্ত্রীগণ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গত ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি, ইউএন উইমেন এর নির্বাহী পরিচালক, প্রমুখ।
অপরাহ্নে, ইউএন হ্যাবিট্যাট এর নির্বাহী পরিচালক মায়মুনা মোহাম্মদ শরিফ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সাক্ষাতে, টেকসই নগরায়নের গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাফল্য বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সহনশীল নগরকাঠামো নির্মাণে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতি ইউএন-হ্যাবিট্যাট তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে প্রধানমন্ত্রী ইউএন হ্যাবিট্যাট এর নির্বাহী পরিচালকের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women