Sunday, 6 September 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল New York Attorney General James Sues Amazon for Fraudulently Overcharging Advertisers More Than $20 Billion Irene Khan Takes Office as Bangladesh’s Permanent Representative to the United Nations
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশে গণহত্যা-১৯৭১ এর স্বীকৃতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে উত্থাপিত সর্বদলীয় রেজলুশন-১৪৩০’র প্রতি ঐক্য পরিষদের সমর্থন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 185 বার

প্রকাশিত: November 12, 2022 | 11:02 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : নিউইয়র্কের উডসাইডে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এক সভায় বাংলাদেশে সংঘটিত ১৯৭১ এর গণহত্যাকে স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে গত ১৪ই অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্টীভ শ্যাবো এবং ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্না উত্থাপিত সর্বদলীয় রেজল্যুশন House Res. 1430 –Recognizing the Bangladesh Genocide of 1971 এর ওপর দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে এই রেজল্যুশনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানানো হয় এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ায় দুই জনপ্রতিনিধির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। 

বৈঠকে এই রেজল্যুশনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানানো হয় এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ায় দুই জনপ্রতিনিধির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। 

বাংলাদেশে জেনোসাইড রেজল্যুশনকে যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের সমর্থন। ১১ই নভেম্বর, ২০২২।

সংগঠনের অন্যতম সভাপতি রণবীর বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডক্টর দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য ও যুগ্ন সম্পাদক বিষ্ণু গোপের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় ঐক্য পরিষদ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। ‘ইন-পার্সন’ এবং জুম সমন্বিত এই সভায় অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে যোগ দেন। সভায় বাংলাদেশ জেনোসাইড বিলের ওপর আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ গ্রহন করেন মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য, ডক্টর জিতেন রায়, শিতাংশু গুহ, ডক্টর সব্যসাচী ঘোষ-দস্তিদার, প্রদীপ মালাকার, ভজন সরকার, ডক্টর নিরঞ্জন রায়, অনুকূল অধিকারী, সুশীল সাহা, অজিত চন্দ, শুভ রায়, দিলীপ নাথ, পার্থ তালুকদার, সুশীল সিনহা, বিষ্ণু গোপ, বামেশ রায়, চঞ্চল চক্রবর্তী, নারায়ণ বর্মণ, পারিজাত দাস, রণবীর বড়ুয়া, হরিগোপাল বর্মণ, ডক্টর দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য প্রমুখ। 

সভায় যে সকল তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে উক্ত বিলটি প্রণিত হয়েছে সেগুলো অনুপুঙ্খ পাঠের পর বিলের টেক্সটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। তাতে দেখা যায় যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেনেটার এডওয়ার্ড কেনেডি, ঢাকাস্থ ইউ. এস. এ্যাম্বেসেডর আর্চার ব্লাডের মত স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ, জেনোসাইড ওয়াচ, সেক্রেটারিয়েট অফ দ্যা ইন্টারন্যাশন্যাল কমিশন অফ জুরিস্টস এর মত প্রতিষ্ঠানসমূহ, এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর তৎকালীন পাকিস্তান প্রতিনিধি সিডনি শনবার্গ সহ বেশ কয়েকজন বিখ্যাত সাংবাদিকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে, সত্যনিষ্ঠভাবে রেজল্যুশনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। 

বক্তারা উক্ত রেজল্যুশনের প্রস্তাবনা-বক্তব্যসমূহকে সমর্থন করে বলেন যে, বস্তুত পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসর বাংলাদেশী ইসলামী মৌলবাদী-উগ্রপন্থী মিলিশিয়া আল বদর, আল শামস ও রাজাকার বাহিনী সামগ্রিকভাবে বাঙালি  জাতিকে এবং বিশেষভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়, আওয়ামী লীগ সমর্থক, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য, বুদ্ধিজীবী, পেশাদার ও ছাত্র-ছাত্রীদের টার্গেট করে গণহত্যা ও ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছিল। একের পর এক বক্তা তাঁদের প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিরা যেমন ইহুদীদের চিহ্নিত করে রাখত ঠিক তেমনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীও হিন্দুদের বাড়িঘরে হলুদ এইচ চিহ্ন এঁকে রাখত, যাতে ইচ্ছে মাফিক তাদের অত্যাচার কিংবা হত্যা করা যায়। 

সভায় যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির তরফ থেকে কংগ্রেসম্যান স্টীভ শ্যাবো এবং ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্নার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ধন্যবাদ জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহন করা হয়। তৎসঙ্গে এই বিলটি উত্থাপনে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ (এইচ.আর.সি.বি.এম.)-কে সভার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।  

রেজল্যুশনের ওপর আলোচনা পর্বে শিতাংশু গুহ উল্লেখ করেন যে বিলটি তথ্যগতভাবে যদিও নির্ভুল, তবে ভাষাগত যে-সামান্য ত্রুটি রয়েছে তা সংশোধন করা দরকার। ত্রুটিটি হচ্ছে, রেজল্যুশনের চতুর্থ পৃষ্ঠায় আমেরিকান এম্বাসেডর আর্চার ব্লাডের উক্তি “… murdering Bengalis and Hindus,”-কে উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করলেও, দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় এটিকে ‘কোটেশন’ চিহ্ণ ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে অপারেশন সার্চ লাইটে “ফাইনাল সল্যুশনের” জন্য কাদের টার্গেট করা হয়েছিল সেটা সুস্পষ্ট হয়নি। এ বিষয়ে পরিপূরক বক্তব্যে ডক্টর দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য বলেন যে কথাটা এভাবে না লিখে, “..the Pakistani military junta conducted a genocide against the Bengalis, particularly targeting the religious minority Hindus, leaders and supporters of Awami League, military and police personnel, intellectuals, and students for slaughtering, and their girls and women for mass rape.” লিখলে সঙ্গত হবে। একইভাবে, তিনি দ্বিতীয় পৃষ্ঠার শেষ অনুচ্ছেদে “..genocide against ethnic Bengalis and Hindus..” এর পরিবর্তে “..genocide against the Bengalis in general, and the minority religious Hindus in particular” লেখার পরামর্শ দেন। এই প্রসঙ্গে দিলীপ নাথ বলেন যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশে যে-হত্যাযজ্ঞ করেছিল সেটা যে সন্দেহাতীতভাবে একটি সুপরিকল্পিত জেনোসাইড তা’ প্রমান করার জন্য রেজল্যুশনে এই সত্য অবশ্যই স্পষ্ট করে ব্যক্ত হওয়া চাই যে বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করা এবং একটি বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ণ করা অপারেশন সার্চ লাইটের লক্ষ্য ছিল।

অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ভজন সরকার, অজিত চন্দ, শুভ রায় ও সুশীল সিনহা বলেন যে কংগ্রেসম্যান স্টীভ শ্যাবো এবং ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্না আনিত রেজল্যুশনটি ইউ. এস. কংগ্রেস ও সেনেটে পাশ হলে সেটা একদিকে যেমন ১৯৭১-এর গণহত্যার ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ তথা গোটা বাঙালি জাতির গভীর ক্ষতকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে, অন্য দিকে সভ্য দুনিয়া অবগত হবে যে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি মানব জাতির কলঙ্ক যা কিনা সিন্ধি ও বালুচদের ওপর অব্যাহত পাকিস্তানী বর্বরতা অনেকাংশে  স্তিমিত করে দিতে পারে।  

ঐক্য পরিষদের ডিরেক্টার প্রদীপ মালাকার ও রিণা সাহা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল বাঙালির উদ্দেশে এই অনুরোধ জানান যে তাঁদের প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ কংগ্রেসম্যানকে এই রেজল্যুশনটি সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করেন এবং সেনেটেও অনুরূপ একটি বিল উত্থাপন করিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে পাশ করানোর উদ্যোগ গ্রহন করেন। ঐক্য পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারি বিষ্ণু গোপ সভায় উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ ইতোমধ্যেই হাউস ও সিনেট সদস্যদের কাছে বাংলাদেশে জেনোসাইড রেজল্যুশনটিকে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখার কাজ শুরু করেছে।   

সমাপনী বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি রণবীর বড়ুয়া বলেন যে কংগ্রেসে ২১৮ ভোটে রেজল্যুশনটি বিল হিসেবে পাশ হলে এটাকে সেনেটেও পাশ করাতে হবে; তার পর নিতে হবে। প্রেসিডেন্সিয়াল স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগএটা দীর্ঘ পথ-পরিক্রমা, তাতে বাংলাদেশে সরকারের পূর্ণ সম্পৃক্ততা কাম্য।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ