Monday, 8 June 2026 |
শিরোনাম
বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
সব ক্যাটাগরি

অটিজমের জন্য বাবা-মা বা বংশগতিই দায়ী!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 92 বার

প্রকাশিত: April 25, 2012 | 11:15 AM

 মিন্টু হোসেন : বিশ্বে প্রতি ৮৮ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিস্টিক শিশু জন্ম নিচ্ছে। কিন্তু এর কারণ? গত শতাব্দীর গবেষণায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তত্ত্ব ও কারণ উঠে এলেও এই শতকে অটিজমের কারণ সম্পর্কে শতাব্দীপ্রাচীন একটি তত্ত্বের কথাই আবারও নতুন করে বলছেন গবেষকেরা।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অটিস্টিক শিশুর জন্য দায়ী বয়স্ক বাবা অর্থাত্ দেরিতে বিয়ে করা পুরুষ অটিস্টিক শিশুর জন্মের কারণ হতে পারেন। আরেকটি গবেষণায় অবশ্য অটিজমের কারণ হিসেবে মাকেও দায়ী করা হয়েছে। গবেষকেরা তাই এখন বলছেন, অটিজমের জন্য বাবা-মা বা বংশগতিই দায়ী।
১৯৩৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ড. হ্যান্স এসপারজার ও ১৯৪৩ সালে জন হপকিনস হাসপাতালের ড. লিও কানের অটিজম সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেন। পঞ্চাশের দশকের পুরোনো তত্ত্বটিই আবারও সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়টাতে গবেষকেরা নিশ্চিত ধরেই নিয়েছিলেন যে অটিজমের সঠিক কারণ সম্পর্কে তাঁরা জ্ঞাত। তাঁদের ধারণা ছিল, বংশগতির অস্বাভাবিকতা বা বাবা-মায়ের কাছ থেকেই অটিজমের উত্পত্তি। পঞ্চাশের দশকের সেই ‘রেফ্রিজারেটর মাদার’ তত্ত্বটি সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোড়ন তুলেছে। ২০০৩ সালে ‘রেফ্রিজারেটর মাদারস’ নামের একটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পঞ্চাশের দশকের যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত শিশু মনস্তত্ত্ববিদ ব্রুনো বেটেলহেইমের ‘রেফ্রিজারেটর মাদার’ ধারণাটিকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। রেফ্রিজারেটর মাদার তত্ত্ব অনুসারে, অটিস্টিক শিশুর জন্ম হয় ‘অনুভূতিশূন্য’ বা ‘শীতল’ মায়ের কাছ থেকে। সীমাবদ্ধ ও গণ্ডিবদ্ধ জীবনের এই বৈশিষ্ট্যই শিশুর ক্ষেত্রে অটিজমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অবশ্য ১৯৭০ সালের দিকে এই ধারণা থেকে বের হতে সক্ষম হয়েছিলেন মনস্তত্ত্ববিদরা। এ সময় গবেষকেরা নতুন তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, প্রকৃতিতে এমন কিছু খারাপ উপাদান রয়েছে, যার কারণে অটিজম সৃষ্টি হতে পারে। গবেষকেরা দায়ী করলেন ‘থায়োমারসাল’ নামের পারদভিত্তিক একটি উপাদানকে। এ ছাড়া সে সময় টিকা দেওয়ার কারণে এ রোগটি হতে পারে—এমন তত্ত্বও দাঁড় করিয়েছিলেন গবেষকেরা। তত্ত্ব উদ্ভাবনের সময় গবেষকেরা প্রকৃতিতে, খাবারে, ওষুধে বিভিন্ন রাসায়নিকের উপস্থিতি দেখে ধারণা করেছিলেন যে রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার কারণেও অটিজমের তৈরি হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে অটিস্টিক শিশুর জন্ম হচ্ছে—এমন ধারণাই পোষণ করছিলেন গবেষকেরা। এ নিয়ে আরও গবেষণা চালিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি এমনই একটি গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে নেচার সাময়িকীতে। নতুন এ গবেষণা অটিজমের কারণ হিসেবে সত্তর দশকের খাবারের বিষক্রিয়ার ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করেছে এবং ফিরে গেছে পঞ্চাশের দশকের সেই পুরোনো তত্ত্বে—যেখানে অটিজমের কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়েছে বাবা-মা বা বংশগতিকেই। নতুন এই গবেষণায় অবশ্য ‘রেফ্রিজারেটর মাদারস’ চলচ্চিত্রে দেখানো কোনো বিষয়ের সঙ্গে মিল নেই। গবেষকেরা এ জন্য মায়ের আচরণ, জিন বা স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে দায়ী করেননি। গবেষকেরা দায়ী করেছেন, পুরুষদের বেশি বয়সে বিয়ে করার বিষয়টিকে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পুরুষের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩৫ বছর। এর বেশি বয়সে বিয়ে করলে অটিস্টিক শিশুর জন্ম হতে পারে। কারণ বয়স্ক পুরুষের শুক্রাণু অটিজমের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষকেরা এ ক্ষেত্রে পুরুষের বয়সের চেয়ে শুক্রাণুর জেনেটিক বয়সের পক্ষেই তাঁদের যুক্তি দেখিয়েছিলেন।
এদিকে ‘পেডিয়াট্রিকস’ সাময়িকীতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে গবেষকেরা জানিয়েছেন, মায়ের স্বাস্থ্যও অটিজমের কারণ হতে পারে। অর্থাত্ গর্ভাবস্থায় বেশি স্থূলতা, ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপের কারণে অটিস্টিক শিশুর জন্ম হতে পারে।
তবে গবেষকদের দেওয়া এ ধরনের তথ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকেরা এ ধারণা করে আসছেন। বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, মানুষ যখন জিন নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করছে এবং সবকিছুর জন্য জিন দায়ী—এমন ধারণাকে বিশ্বাস করা শুরু করেছে, ঠিক এমন সময়েই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এই গবেষণার ফল অটিজম-স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস চিকিত্সায় নতুন কোনো পথ দেখাবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে খুব সচেতন ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে গবেষকেরা বলেছেন, চিকিত্সা ক্ষেত্রে ‘চমত্কারিত্ব’ কথা প্রায়ই শোনা গেলেও সেটা ঘটে কিন্তু কদাচিত্। জিনগত রোগের বিষয়ে জানতে, জিনের ত্রুটি দূর করে সুস্থ শিশুর জন্ম নিশ্চিত করতে নতুন গবেষণাকাজে লাগবে বলেই আশাবাদী গবেষকেরা।প্রথম আলো
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV