অনেক ক্ষেত্রেই ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ : নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনকে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবীদ অমর্ত্য সেন বলেছেন বাংলাদেশ নিজেদের চেষ্টা ও যোগ্যতায় অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বৃহৎ প্রতিবেশিটিকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিলো ভারতীয়দের চেয়ে কম। এখন তা ৫ বছর বেশি। বাংলাদেশের নারী শিক্ষাহার ভারতের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতের হিন্দু কট্টরশীলরা যতটা সংকীর্নমনা, বাংলাদেশের কট্টর মুসলিমরা ততটা সংকীর্ণ নন। মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য নিউ ইয়র্কারকে দেয়া স্বাক্ষাৎকারে এসব বলেন এই বর্ষিয়ান শিক্ষক অমর্ত্য সেন। দ্য নিউইর্কার
বিভিন্ন নৃতাত্বিক বৈশিস্ট্যের প্রতি বাংলাদেশ যে শ্রদ্ধা দেখায়, তা দেশটির বড় ধরণের উপকার করেছে বলে মনে করেন অমর্ত্য। ভারতও একসময় তা সম্মান জানাতো। কিন্তু এখন অবহেলা করতে শুরু করেছে। এর আগেও এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন এই ভারতরত্ন। তিনি বলেন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিলো আরএসএস এর এক সদস্য। এই আরএসএস থেকেই জন্ম নিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এই নির্বাচনেও তারা বড় জয় পেয়েছে। এতেই প্রতিয়মান হয়, ভারতীয়রা এখন অন্তরে এই নোংরা রাজনীতি ধারণ করে। অমর্ত্য বলেছেন, বাংলাদেশে কখনই এমনটা দেখা যায়না।
অমর্ত্যরে মতো ভারতে বুঝতে পারার মতো গভীরতাই নেই মোদীর। তিনি বলেন, ‘জন স্টুয়ার্ট মিলের কাছ থেকে বড় যে বিষয়টি আমরা জেনেছি তা হলো, গণতন্ত্র মানে আলোচনার ভিত্তিতে চলা সরকার। ভোট যে ভাবেই গনো, আলোচনাকে ভয়ের বস্তু করে তুললে তুমি গণতন্ত্র পাবে না। ভারতে এখন কট্টর হিন্দুত্বের দাপট। বহু ধর্ম ও বহু জাতির দেশ ভারতকে বোঝার মতো মনের গভীরতাই নেই মোদীর।’ অমর্তের মতে, গোধরা মামলা থেকে নিজেকে মুক্ত করা মোদীর সবচেয়ে বড় সাফল্য। এর ফলে ২০০২-এর যে-ঘটনায় হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়েছিলেন, তার পিছনে মোদীর একটা ভূমিকা ছিলো, ভারতে অনেকে তা বিশ্বাসই করেন না।
দুঃসময়ের প্রসঙ্গে ছোটবেলার অনেক স্মৃতি তুলে ধরেন অমর্ত্য। তিনি বলেন, ‘ছেলেবেলাতেও খুব খারাপ সময় দেখেছি। দেখেছি, কাকাদের সকলকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। নয়বছর বয়সে দেখেছি মন্বন্তর। তিন লক্ষ মানুষ যাতে মারা যান। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা দেখেছি। মুসলিম মজুরকে কুপিয়ে খুন করেছে আমারই পাড়ার কিছু হিন্দু। আমি তখন দশ কি এগারো। বাগানে খেলছিলাম। দেখি, রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটে আসছেন এক জন। চিৎকার করে বাবাকে ডাকলাম। পানি খেতে দিলাম। এত রক্ত কখনও দেখিনি। আমার কোলে মাথা, স্পষ্ট বলেছিলেন, বিবি বলেছিল, হিন্দু এলাকায় কাজ কোরো না। কিন্তু বাচ্চারা না-খেয়ে আছে। কিছু তো রোজগার করতেই হবে…।’
অমর্ত্য জানান, দেশভাগের আগে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে চাকরি করতেন তার বাবা। দেশ ভাগের ঠিক আগেই কলকাতা চলে যান। অমর্ত্য জানান, ঢাকার চমৎকার স্মৃতি তাকে কুড়ে কুড়ে খায়। আজও ভুলতে পারেন না ঢাকার কথা।
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity