অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের গ্রীনকার্ড প্রদানে প্রেসিডেন্ট ওবামার ৬ দফা প্রস্তাব
এনা : বৈধতা পেতে আগ্রহীদের ব্যাক গ্রাউন্ড চেক, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে হুমকি কিংবা গুরুতর কোন অপরাধে লিপ্ত থাকলে বৈধতার আবেদনের অযোগ্য, আবেদনের সময় নির্দিষ্ট ফি ও জরিমানা, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ব্যবস্থা এবং ইংরেজীতে কথা বলার যোগ্যতা, প্রয়োজনে বকেয়া কর প্রদান করতে হবে। এ ধরনের শর্ত পূরণকারীরা ৮ বছরের মধ্যে গ্রীনকার্ড পাবেন এবং পরবর্তীতে তারা নাগরিকত্ব গ্রহণ করবেন। পারিবারিক কোটায় ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের সিরিয়ালের সাথে মিল রেখে অবৈধভাবে বসবাসরতদের আবেদন প্রসেস করা হবে বলেও প্রেসিডেন্ট ওবামা তার প্রস্তাবে উল্লেখ করেছেন।

১০ মে টেক্সাসের সীমান্ত সিটি এল পাসোতে এক সমাবেশে তিনি আরো বলেছেন, ইমিগ্র্যান্টদের দেশ হিসেবে পরিচিত এই আমেরিকায় ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে আগত সকলকে সে সুযোগ দিতে হবে এবং এজন্যে দলমতের উর্দ্ধে উঠে আমেরিকার চেতনা ও মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। একুশ শতকের উপযোগী অর্থনীতি ও নিরাপত্তা বলয়গড়ে তুলতে ইমিগ্রেশনের ভঙ্গুর অবস্থাকে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামা। ইমিগ্রেশন ইস্যুতে রিপাবলিকান এবং ডেমক্র্যাটদের ব্যবধান ঘুচাতে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ইউনিয়ন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ধর্মীয় নেতা এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ১১ মে টেলি কনফারেন্সে মিলিত হচ্ছেন। ১২ মে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দ নেব্রাস্কার ওমাহায় চীফ টেকনোলজি অফিসার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে কম্যুনিটির সাথে বৈঠক করবেন। একইদিন সিলিকন ভ্যালীতে আরেকটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ শ্রমিক ফেডারেশন এএফএল-সিআইওর প্রতিষ্ঠাতা এবং তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব স্টিভ কেইস। ১৯ মে এশিয়ান-আমেরিকান এন্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স-এর নেতৃবৃন্দ শ্রম মন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন সার্বিক বিষয়ে। ৩১ মে নিউমেক্মিকোতে বৃহৎ আকারে একটি সমাবেশ হবে শ্রমমন্ত্রী হিল্ডা সলিসকে নিয়ে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রদত্ত নির্বাচনী অঙ্গিকারের অন্যতম ছিল ইমিগ্রেশন ইস্যু। ওবামা জয়ী হয়েছেন। একইসাথে কংগ্রেসের উভয়কক্ষে ডেমক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। কিন্তু ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাশ করতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ওবামা। গত নভেম্বরে মধ্যবর্তি নির্বাচনে কংগ্রেসের একটি কক্ষ তথা হাউজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুইয়েছে ডেমক্র্যাটরা। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হলেও আসন হারিয়েছে কয়েকটি। এর ফলে বর্তমান কংগ্রেসে ইমিগ্রেশনের বিল পাশ করতে হলে রিপাবলিকানদের সমর্থনের বিকল্প নেই। সে আহবানই উচারিত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ওবামার কন্ঠে। তিনি অবৈধভাবে বসবাসরত এক কোটি ১০ লক্ষাধিক ইমিগ্র্যান্টের অবদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করার সময় বলেছেন, আমি সীমান্তের একেবারেই কাছে এসেছি। আমি সকলকে অবহিত করতে চাই যে, ইমিগ্র্যান্টদের দেশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিক হাতে হাত রেখে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জাতীয় স্বার্থে কাজ করে যাবো। এটিই আমাদের ঐতিহ্য। আমরা এই মৌলিক ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করি। নিজেরা ক্ষমতার দাপট দেখানোর লক্ষ্যে মানদণ্ড নির্ণয় করি সীমান্ত অতিক্রমের যোগ্যতা কে পাবে আর না পাবে। এর ফলে মন্দাক্রান্ত পরিবেশে জীবিকার তাগিদে যারা আমেরিকায় আসতে চান তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠেন। এ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। সে বিতর্ক কখনো আবেগে পরিপূর্ণ হয়, আবার কখনো রূঢ় বাস্তবতায় আমেরিকান মূল্যবোধের পরিপন্থি হয়। ওবামা বলেন, এমনি কারণে আমরা আমাদের ভঙ্গুর ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে পারছি না। আবার কেউ কেউ স্পর্শকাতর এ ইস্যুটিকে ২০১২ সালের পরে নিয়ে যেতে চান রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অভিপ্রায়ে এবং ইতিপূর্বে বহুবার এমন সময়ক্ষেপণের ঘটনা আমরা অবলোকন করেছি। ওবামা বলেন, অবৈধভাবে বসবাসরত ইমিগ্র্যান্টদের মধ্যে অনেকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, আবার অনেকে ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া সত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। যে যেভাবেই আসুক না কেন, প্রত্যেকের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থ উপার্জন করা এবং পরিবারের স্বাচ্ছন্দ আনা। ওবামা বলেন, এ কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, বিরাটসংখ্যক অবৈধ ইমিগ্র্যান্টের কারণে যারা ন্যায়সঙ্গতভাবে ইমিগ্র্যান্ট হতে চাচ্ছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ওবামা উল্লেখ করেন, অবৈধভাবে বসবাসরতরা কঠোর শ্রম দিচ্ছেন কিন্তু ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। পারিশ্রমিক নিয়ে দেন-দরবার করতে পারেন না বলে অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক তাদের ঠকাচ্ছেন এবং একইসাথে তারা কর প্রদানেও কারচুপি করছেন। ওবামা বলেন, ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাশ করা সম্ভব হলে অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের এ যুগে যুক্তরাষ্ট্রই লাভবান হবে। সারাবিশ্বের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা আমেরিকার সেরা ইউনিভার্সিটিগুলোতে ভর্তি হচ্ছে স্টুডেন্ট ভিসার বদৌলতে। তারা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্প্যুটার সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছেন। এরপর তারা ফিরে যাচ্ছেন নিজ দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যদি ঐসব ডিগ্রিধারী মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেলে আমরাই লাভবান হতাম। তা না হওয়ায় আমাদের দেশে উচ্চতর ডিগ্রিধারীরা আমাদেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতে পরিণত হচ্ছেন। আমি মনে করছি, এসব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাকে আমেরিকার স্বার্থে ব্যবহারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ওবামা বলেন, ইন্টেল, গুগল, ইবে এবং ইয়াহুর দিকে তাকালে আমরা দেখতো পাবো যে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমেরিকায় লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং হচ্ছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা-মালিকরা হচ্ছেন ইমিগ্র্যান্ট। ওবামা বলেন, তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে চীন অথবা ইন্ডিয়ায় ইন্টেল অথবা গুগলের মত বিশাল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক এটা নিশ্চয়ই আমরা কেউ চাই না। আমরা চাই, কর্মসংস্থানে সহায়ক ঐ ধরনের প্রতিষ্ঠানের শেকড় থাকুক যুক্তরাষ্ট্রে-এটা নিশ্চিত করতে চাই আমরা। বিল গেটস এটি করেছেন। এ ধরনের বহুবিধ কারণে আমেরিকার সকল প্রান্ত থেকে দাবি উঠেছে ইমিগ্রেশনের সমস্যা সমাধানের জন্য। এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা ফ্লোরিডায় মায়ামী-ডেইড কম্যুনিটি কলেজের গ্র্যাজুয়েশন পার্টিতেও একই বক্তব্য রেখেছেন। এদিকে নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টের ৩৮ সদস্য সম্মিলিতভাবে গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো সমীপে ৯ মে এক পত্র দিয়েছেন। সেখানে তারা আহবান জানিয়েছেন অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ধরপাকড় থেকে বিরত থাকার জন্যে। এর দুইমাস আগে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ১৯ মেম্বারসহ কয়েক ডজন স্টেট সিনেটর ও স্টেট এ্যাসেম্বলীমেন আরেকটি চিঠি দিয়েছেন একই দাবিতে। গত সপ্তাহে ইলিনয় স্টেট গভর্নর প্যাট কুইন এক নির্দেশে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ধর-পাকড় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








