অ্যামনেস্টির রিপোর্ট: প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ হয়নি
ডেস্ক: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এ হত্যাকাণ্ড অব্যাহত আছে। ধারণা করা হয়, ২০১১ সালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ৫৪টিরও বেশি বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এ বিষয়ে নিরপেক্ষ কোন তদন্ত হয়নি। অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করাও হয়নি। মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ওপর তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে। ওই প্রতিবেদনটি ২০১১ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সহিংসতার শিকার নারীদের সমর্থন দেয়ার যে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। বাংলাদেশে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত চলছে যে আইন দিয়ে তা সংশোধন করা হয়েছে। এতে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের দায়ে যারা অভিযুক্ত তাদের পক্ষপাতমূলক বিচারের আশঙ্কা কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সে আশঙ্কা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। ২০১১ সালে কমপক্ষে ৪৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে কমপক্ষে ৫ জনের। বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১২তে অ্যামনেস্টি আরও বলেছে, ২০১১ সালের জুনে সংবিধানে ১৫তম সংশোধন করে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এর মধ্য দিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের বিধান বাতিল হয়ে যায়। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলকে নিষিদ্ধ করা হয়। ওই মাসেই বিশ্বব্যাংক ঘোষণা দেয়, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের মাত্রা কমেছে। বেড়েছে জীবনমানের ধরন। তারপরও গ্রামে বসবাসকারীদের মধ্যে শতকরা ৩৫ ভাগেরও বেশি এবং শহরে বসবাস করা শতকরা ২১ ভাগ মানুষ রয়েছে দারিদ্র্যসীমার নিচে। নভেম্বরে জাতীয় সংসদে পাস হয় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ। দশকের পর দশক ধরে পুরনো যে অর্পিত সম্পত্তি অধ্যাদেশের বলে যেসব সম্পত্তি নিয়ে নেয়া হয়েছিল তাতে হিন্দুদের সামাজিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার অধিকার দেয়া হয়।
ওই রিপোর্টে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অভিযোগ আছে- ২০১১ সালে র্যাব কমপক্ষে ৫৪ জনকে হত্যা করেছে। ২০০৪ সালে র্যাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এ নিয়ে নিহতের মোট সংখ্যা ৭০০-এর বেশি দাঁড়ালো। র্যাবের বিরুদ্ধে অনেক নির্যাতন ও আহত করার অভিযোগ আছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, র্যাব আটক করার পর তাদের স্বজনরা মারা গেছেন। র্যাব দাবি করে, তারা নিহত হয়েছেন এনকাউন্টারে। কিন্তু ওইসব সদস্য এ দাবি মানেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ওই রিপোর্টে ঝালকাঠির লিমন হোসেনের কথা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, তার বয়স ১৬ বছর। তাকে গত বছর ২৩শে মার্চ ঝালকাঠিতে র্যাব কর্মকর্তারা পায়ে গুলি করেছে। র্যাব কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সে একটি অপরাধী চক্রের সদস্য। যখন ওই গ্রুপ র্যাবের দিকে গুলি করে তার জবাবে র্যাবও গুলি ছোড়ে। এ সময় লিমন আহত হয়। কিন্তু লিমন হোসেন বলেছে, র্যাব কর্মকর্তারা যখন তাকে আটক করে গুলি করে তখন সে ছিল একা। সে গরু আনতে গিয়েছিল। এ নিয়ে সরকারের একটি আলাদা তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। বলা হয়, ওই তদন্তে লিমনের দাবি সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে র্যাবের কর্মকর্তাদের হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ লিমন হোসেনকে অভিযুক্ত করে। অ্যামনেস্টির ওই রিপোর্টে নারীর ওপর সহিংসতার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, গত বছর মার্চে একটি নতুন জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রকাশ করা হয়। এতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তাতে বলা হয়, নারী ও শিশুদের চিকিৎসা সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং তাদের পরামর্শ দিয়ে সহিংসতা ও নিষ্পেষণ নির্মূল করা হবে। মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলো বলছে, ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে অনেক নারী ও শিশু যৌন হয়রানিসহ অন্যান্য অনেক সহিংসতার শিকার হয়েছে। তারা রাষ্ট্রের কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোন সমর্থন পাননি। মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা শম্পা গোস্বামীকে সাতক্ষীরায় গত অক্টোবরে একদল দুর্বৃত্ত বেশ কয়েক ঘণ্টা অপহরণ করে আটকে রাখে। তার অপরাধ, তিনি গণধর্ষিত এক নারীকে পুলিশে রিপোর্ট করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি যদি ওই ধর্ষিতার প্রতি সমর্থন দেয়া বন্ধ না করেন তাহলে তার ক্ষতি করার হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে নভেম্বরে শম্পা গোস্বামী বলেছেন, তিনি প্রথম দিকে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তার আবেদন আমলে নেয়নি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে সোচ্চার হয়ে উঠলে কর্তৃপক্ষ তাকে নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ওই রিপোর্টে বাংলাদেশে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্পর্কে বলা হয়, ২০১০ সালে বাংলাদেশে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এর উদ্দেশ্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেসব ব্যক্তি ব্যাপকহারে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল তাদের বিচার করা। গত বছর মে মাসে ওই বিচার কার্যক্রমের সম্ভাব্য ভুলত্রুটি ঠিকঠাক করিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়। ওইসব ভুলত্রুটি থাকলে বিচার সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে আশঙ্কা থাকতো। সংশোধিত রুলস অব প্রসিডিউরে জামিন দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়, যতক্ষণ কেউ দোষী প্রমাণিত না হবেন ততক্ষণ তাকে নিরপরাধ হিসেবে দেখতে বলা হয়, সাক্ষী ও নির্যাতিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। কিন্তু এ আদালতের বিচারকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। যুদ্ধ অপরাধের দায়ে অভিযুক্তরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ, মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আবদুল আলিম। এর মধ্যে আবদুল আলিম জামিনে মুক্ত রয়েছেন। বাকিরা বন্দি। এর মধ্যে কোন অভিযোগ ছাড়াই ১৮ মাসের বেশি সময় কারাগারে রয়েছেন ৫ জন। পাকিস্তানি সেনাদের নিরস্ত্র সাধারণ মানুষেকে গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, স্থানীয় হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া ও জোর করে হিন্দুদের মুসলমান বানাতে সহায়তা করেছিলেন বলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গত অক্টোবরে অভিযুক্ত করা হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই তাৎক্ষণিকভাবে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়নি। ওই রিপোর্টে আদিবাসী প্রসঙ্গে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের জমি বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের দখল থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এ নিয়ে দু’সমপ্রদায়ের মধ্যে সহিংস সংঘাত হচ্ছে। তাতে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বাঙালি বসতি স্থাপনকারীরা সাধারণত আদিবাসীদের জমিতে ঢুকে তা কৃষিজমি হিসেবে ব্যবহার করে। আদিবাসীরা অ্যামনেস্টিকে গত বছর মার্চে বলেছেন, বাঙালি বসতি স্থাপনকারীরা ঘন ঘন তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা এ কাজ করে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সামনে। কিন্তু নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা তাদের থামায় না। ওই বছর মার্চে রাঙামাটির লংগদু এলাকার আদিবাসীরা অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের স্থানীয় লোকজন বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের থামাতে পারেনি, যখন তারা রঙ্গিপাড়া গ্রামে হামলা চালায়। তারা বলেছেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারি যখন বাঙালি বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় তখন সেখানে নিয়োজিত নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা দাঁড়িয়েছিলেন। ওই রিপোর্টে পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় নির্যাতনে মারা যাওয়ার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতনে কমপক্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। সরকার ঘোষণা দিয়েছে, কোন পুলিশের বিরুদ্ধে এসব হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে অপরাধবিষয়ক চার্জ গঠন করা হবে। কিন্তু বছর শেষে এমন কাউকে অভিযুক্ত করাও হয়নি। বিচারের মুখোমুখিও করা হয়নি। সরকার পুলিশ, র্যাব বা অন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের কাউকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। এদের বিরুদ্ধে বছরজুড়ে হাজার হাজার মানুষকে নির্যাতনের অভিযোগ আছে। ওই বছর মার্চে মুক্তি পাওয়ার পর দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, ক্যান্টনমেন্ট থানায় এক রাতে তার পশ্চাৎদেশে বেদম প্রহার করা হয়। সরকারের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের জন্য তাকে ২০১০ সালের মাঝামাঝি আটক করা হয়। তিনি বলেছেন, তাকে যে প্রহার করা হয়েছে তাতে তিনি কয়েক ঘণ্টা অচেতন ছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, এ নিয়ে অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ নেই জেনে তিনি কোন অভিযোগ দেননি।মানবজমিন
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং