Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

আপনি শুধু মেয়েদের ছবি আঁকেন কেন?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 191 বার

প্রকাশিত: June 25, 2020 | 4:58 PM

রানা সাদিক হোসেন পার্থ : এই ছবিটা আঁকার ইচ্ছে ছিল বহুদিনের। শেষমেশ শখ পূরণ করলাম।

(‘সিন্ধুপারে’ ‘On The Edge Of The Sea’. Inspired by the poem of Rabindranath Tagore. Acrylic on canvas. 2017)

ছবিটা আঁকার পিছনে প্রেরণা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা। তার আগে অন্য কথা-
আমাকে প্রায়ই শুনতে হয় একটি প্রশ্ন- আপনি শুধু মেয়েদের ছবি আঁকেন কেন? সাধারণত আমার উত্তরটা সরাসরি হয়ঃ- ‘কারণ ছেলেদের ছবি আঁকতে পছন্দ করিনা, তাই।’ কিন্তু গুঢ় কারণ অন্যখানে। আমি সৌন্দর্যর চর্চা করি, তাই মেয়েদের ছবি আঁকি। কিন্তু এই উত্তরেও আপনাদের ভুল বোঝার অবকাশ আছে। আমি যে সৌন্দর্যের কথা বলছি  সে সৌন্দর্য আপনাদের সমাজের সংজ্ঞায়িত সৌন্দর্য নয়। সে সৌন্দর্য শুধুমাত্র মানুষ নামক এই প্রাণীর মুখের সৌন্দর্য নয়। বাতাসের দোলায় যখন গাছের পাতা নড়ে তখন সে দোলায় আমি একটি মেয়ের মুখ দেখতে পাই, যখন রঙধনু দেখে ভাল লাগে, বিড়ালের লাফালাফি দেখে আনন্দ পাই, একটি বাচ্চা ছেলের হামাগুড়ি দেখে হাসি, অথবা স্বামী-স্ত্রী হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে -এই দৃশ্য দেখে প্রশান্তি লাভ করি তখন এসব কিছুর মাঝে আমি একটি মেয়ের মুখ দেখতে পাই। আর সেটাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আঁকি। মোৎসার্টের বাজনা শুনলে, ভাল এককাপ চায়ে চুমুক দিয়ে, একটা ভাল উপন্যাস পড়ে, জঙ্গলে পাহাড়ের রাস্তায় হেঁটে যে আনন্দ পাই, তাতে আমি একটি মেয়ের উপস্থিতি অনুভব করি। একদল ছেলে গাছের ডাল থেকে ঝুলতে ঝুলতে পুকুরে ঝাঁপ দিচ্ছে – এই দৃশ্যের পিছনে আমি একটি নারীর মুখ দেখতে পাই। ভোরে ঘুম ভেঙে উঠে যখন একটা নতুন দিন পাওয়ার আনন্দ জাগে মনে, সেই আনন্দে আমি একটি নারীর ভালবাসা দেখি। জীবন আমাকে টানে নারীর মত, মায়ের মত, প্রেমিকার মত, কন্যার মত, নারীবন্ধুর মত।

এটাই আমার কাছে সৌন্দর্য। আর সেটাই আমি আঁকি। 
এ হচ্ছে আনন্দের কথা। কারণ জীবনটা শুধুমাত্র ভালবাসার আর আনন্দের। আবার জীবনে যেখানে বেদনা, দুঃখ আসে, সেখানেও আমার ওই নারী, কারণ জীবনে যত বেদনা তা ওই নারীর বিরহের কারণে। সেটাও আঁকি।   
এবার এই ছবির প্রসঙ্গে।
রবীন্দ্রনাথ। এই ঋষি মানুষটির সামনে জীবন-রহস্যের সত্য উদ্ঘাটিত হয়েছিল বলে শুধু আমার না, অনেক রবীন্দ্র-গবেষকেরই দৃঢ় বিশ্বাস। তাঁর পরিণত বয়সের অনেক লেখায় এর প্রমাণ পাই আমরা। যে কবিতাটি আমাকে প্রেরণা দিয়েছে সেটির নাম ‘সিন্ধুপারে’। কবিতাটি তাঁর ‘চিত্রা’ বইতে আছে। আপনি রবীন্দ্রনাথকে কতটুকু গভীরভাবে চেনেন অথবা আদৌ চেনেন কিনা সেটাও বুঝতে পারবেন কবিতাটি পড়লে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর নানা কবিতায় ‘জীবন-দেবতা’-র উল্লেখ করেছেন বহুবার। এই ‘চিত্রা’ বইতেই তাঁর ‘জীবন-দেবতা’ নামেই একটা কবিতা আছে। কিন্তু সেটা কঠিন মনে হলে এই ‘সিন্ধুপারে’ কবিতাটা পড়ে দেখুন। যদি আগে না পড়ে থাকেন তাহলে এটুকু বলতে পারি যে পড়ে স্তম্ভিত হয়ে যাবেন। সত্যি রবীন্দ্রনাথ এটা লিখেছেন?-এমন মনে হবে।
কবিতায় বর্ণনা এমন- কবি এক গভীর রাত্রে হঠাৎ শুনলেন কেউ তাঁকে ডাকছে। তিনি দুরুদুরু বুকে বাইরে এসে দেখেন ‘কৃষ্ণ অশ্বে’ বসে আছে মুখঢাকা এক রমণী। আরেকটি ঘোড়াও দাঁড়িয়ে আছে যার- ‘পুচ্ছ ভূতল চুমে’ অর্থাৎ দীর্ঘ লেজবিশিষ্ট সে ঘোড়া। একটি অশত্থ গাছের ডালে কোন পাতা নেই, শুকনো ডালগুলো কাঁপছে।
সেই রহস্যজনক রমণীর আঙুলের ইশারায় তিনি উঠে বসলেন আরেকটি ঘোড়ায়। তারপর ‘বিদ্যুৎবেগে ছুটে যায় ঘোড়া’।
এরপর বহু পথ অতিক্রম করে তাঁরা পৌঁছলেন একটি প্রাসাদে। সেখানে কী ঘটল তা আপনারা পড়ে নেবেন। একেবারে থ্রিলার গল্পের মত কবিতা, বুঝতে কোনই অসুবিধা হবে না। আমার গুরু সৈয়দ মুজতবা আলী যেমন বলেছেন ঠিক তেমনই বলি- ‘সাস্‌পেনস্‌ নষ্ট হবে বলে আমি আর বাকিটা বললুম না’ 
এর কিছু বছর পর।
রবীন্দ্রনাথ মারা যাচ্ছেন। অস্ত্রোপচার সফল হল না। তিনি তাঁর জীবনের শেষ কবিতা লিখবেন। হাতে কলম ধরে লিখতে পারছেন না। তিনি মুখে বললেন, সেটা একজন লিখে নিল। লিখে তাঁকে শোনানো হল। শুনে বললেন, ‘ওটা আরেকবার দেখে ঠিক করতে হবে’। কিন্তু সে সুযোগ তিনি পাননি। এর কয়েক ঘন্টা পরই তিনি মারা যান। কী তাঁর জীবনের শেষ কবিতার প্রথম তিন লাইন?—
“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে
হে ছলনাময়ী…”
মানে কী? ছলনাময়ী???!!! ‘ছলনাময়’ নয়?

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV