আমার এক ধমকে দশ হাজার টাকা শেষ – হুমায়ূন আহমেদ
গাজী কাশেম, নিউ ইয়র্ক : ২৭ অক্টোবর ২০১১। গাছে গাছে সোনালি পাতা টুপটাপ করে ঝরছে। ঝরা পাতাগুলো দামাল ছেলের মতো ফুটপাতে আর রাস্তায় নেচে বেড়াচ্ছে। দৃশ্যটি বড়ই অপরূপ। এসবই শীতের দোয়া। শীতের সানাই চারদিকে বাজছে। দিনের সাথে রাত টেক্কা দিয়ে কূল পাচ্ছে না। সূর্য ফুটুস-ফাটুস করে অন্ধকারে চলে যাচ্ছে।
সন্ধ্যা ৯টা। সঙ্গে আমার স্ত্রী নাসরিন পারভিন কাশেম। বাসায় পৌঁছার পূর্বে শাওনকে ফোন করলাম, কিছু লাগবে কিনা। সে খানিকটা চিন্তা করে বলল, না, আজ আর কিছু দরকার হবে না, আপনি চলে আসুন। ছুটে গেলাম সেই পরিচিত বাড়িতে।
গৃহে প্রবেশ।
: স্যার কেমন আছেন?
: এখনো আল্লাহর ইচ্ছায় বেঁচে আছি। তোমরা বসো।
জাপানের (রিক্কিও) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নাসের জাপান থেকে দু-সপ্তাহের ছুটি নিয়ে হুমায়ূন আহমেদকে সঙ্গ দিতে এসেছেন। সেই দিনগুলোতে তিনি হরেক রকম জাপানি খাবার রান্না করতেন।
যা-ই হোক, আমি আর আমার স্ত্রী হুমায়ূন আহমেদের পাশে বসলাম। মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ আর তাঁর স্ত্রী রুমা সাহাও এসে উপস্থিত। বিশ্বজিৎ বেশ কিছু বই আর রান্না করা কয়েক পদের খাবার এনেছেন। স্যারকে তখন খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। বিশ্বজিৎ আর রুমা সাহাও বসলেন। এমপি তহুরা আলী নিষাদকে খাওয়াতে নিয়ে রিতিমতো যুদ্ধ করছেন। প্রফেসর নাসের রান্না শেষ করে আমাদের সথে যোগ দিলেন।
গল্প শুরু হল। হুমায়ূন আহমেদ বেশ উৎফুল্ল চিত্তে বলতে শুরু করলেন, শোনো। এক মজার কাহিনী। তখন আমার ‘চন্দ্রকথা’ ছবির শুটিং চলছে। শিক্ষামূলক সফরে প্রফেসর নাসেরের নেতৃত্বে ৮ জন জাপানি ছাত্রী তখন বাংলাদেশে। নাসের নুহাশ পল্লীতে তার ছাত্রীদের নিয়ে বেড়াতে এলো। নাসেরকে বললাম, নাসের, আমার নুহাশ পল্লীর পুকুর ঘাটটি ‘চন্দ্রকথা’ ছবিতে শত বছরের পুরনো দেখাতে হবে। ইট দিয়ে ঘষে ঘাটটি পুরনো করা দরকার। নাসের বলল, ঠিক আছে, আমি তা দেখছি। মুহূর্তেই জাপানি ছাত্রীরা ইট ও বালতি হাতে নেমে পড়ল। চমৎকার তাদের কাজ। কোনো অলসতা নেই। বিশ্রাম নেই। ইট দিয়ে ঘষে ঘাটটিকে পুরনো বানিয়ে ফেলল। মজার ব্যাপার হলো, আমার এক গৃহপরিচারিকা হুমড়ি খেয়ে এসে আমাকে জানালো, ‘স্যার ঘটনা বড়ই ডেঞ্জারাল এবং প্যাতিটিক।’ আমি বললাম, কী হলো? পরিচারিকা বলল, সুজন ভাই (আসল নামটি প্রকাশ করা হল না) একটা জাপানি চেমরিকে রোজ কিচ (কিস) করতে দেখেছি। আমি কথাটা আমলে নিলাম না। তাকে বললাম, তুমি এখন যাও।
সুজন মেধাবী এবং হ্যান্ডসাম। আমার কাজ করত, সেবা-যতœ করত, ঘর সাজাতো, অতি সুন্দর করে খাবারগুলো টেবিলে সাজাতো, আমি তাকে খুবই পছন্দ করতাম।
যা-ই হোক, সেই দল তাদের শিক্ষা সফর শেষ করে জাপানে চলে গেল।
এর কিছুদিন পর আমার কাছে একটা চিঠি এলো। সেই চিঠিতে জাপানি তরুণী লিখেছে, সুজনের সাথে তার প্রেম হয়েছে, সে সুজনকে বিয়ে করে জাপানে নিয়ে যেতে চায়। আমার মাথায় হাত, এ কী!
আমি সুজনকে ডাকলাম এবং জোরে একটা ধমক দিলাম।
তার শরীর ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল, দাঁত-মুখ খিচে সে মাটিতে পড়ে গেল। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। ইসিজি থেকে শুরু করে অনেকগুলো মেডিকেল টেস্ট করানো হল। দশ হাজার টাকা বিল এলো। আমি দশ হাজার টাকার বিল দিয়ে দিলাম। আমার এক ধমকে দশ হাজার টাকা শেষ।
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং