Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

আমেরিকায় হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের আন্দোলন সরকার বিরোধী নয় : সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ায় ড. সিদ্দিকের পদদ্যাগ দাবি পূজা পুনর্মিলনী পরিষদের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 133 বার

প্রকাশিত: December 20, 2016 | 1:55 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, অত্যাচার, নির্যাতনের প্রতিবাদে আমেরিকাসহ বহির্বিশ্বে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের আন্দোলন কোনভাবেই সরকার বা রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলন নয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে এসব সমাবেশের প্রতিবাদ-বিবৃতির মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ায় আমরা ড. সিদ্দিকের পদদ্যাগ দাবি করছি। গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি পার্টি সেন্টারে প্রবাসী হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্পদ্রায় তথা পূজা পুনর্মিলনী পরিষদের ডাকে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ সব কথা বলেন। ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্তের সভাপতিত্বে এবং মানবাধিকার কর্মী শিতাংশু হুগর পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পূজা পুনর্মিলনী পরিষদর সভাপতি শ্যামল কর এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভজন সরকার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত বিশ্বাস, সুশীল সাহা, রবীন্দ্র সরকার, কুমার বাবুল সাহা, সুভাষ পাল, অভিনাষ আচার্য্য প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে শ্যামল কর বলেন, আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছি। ২০০১ সালেও আমরা এভাবে আন্দোলন করেছিলাম, তখন আওয়ামী লীগ আমাদের সাথে ছিলো। সেই আন্দোলনের সুফল তারাও ভোগ করেছিলো। তখন যদি সংখ্যালঘুদের আন্দোলন দেশবিরোধী না হয়ে থাকে তাহলে এখন দেশবিরোধী হবে কেন। তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং সরকারের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু সংখ্যক সাম্প্রদায়িক স্বার্থবাদী চক্র সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও সাঁওতালদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন-উচ্ছেদ-জবরদখল এমনকি দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবার ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। দেশে ও প্রবাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সভা- সমাবেশের মাধ্যমে তার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। তারই অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক প্রবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কয়েকটি প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

লিখিত বক্তব্যে শ্যামল কর বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে এসব সমাবেশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সংখ্যালঘুদের এ সমাবেশকে বাংলাদেশ বিরোধী কিছু সংখ্যক সংখ্যালঘুদের চক্রান্ত বলে অভিযোগ করেছেন। একই সাথে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সংখ্যালঘুদের আন্তরিকতা ও দেশাত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বশেষ আমরা লক্ষ্য করলাম, সিদ্দিকুর রহমান আওয়ামী লীগ এবং তার জনাকয়েক সহযোগী মিলে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। আমরা মনে করি সিদ্দিকুর রহমান এই বিবৃতির মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এর পরিণতি ভয়াবহ হওয়া নিতান্ত স্বাভাবিক। আমরা চাই না কোন অশান্তি কিংবা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হোক। কিন্তু যদি কিছু ঘটে বা সৃষ্টি হয় তার জন্য সিদ্দিকুর রহমান ও তার সহযোগীরাই দায়ী থাকবেন।

তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পর আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ থেকে অদ্যাবধি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি জানমাল ক্ষতির ভুক্তভোগী হয়েছে। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে। একইভাবে আওয়ামী লীগের ওপরও। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করে প্রাণ বাঁচাতে হয়েছে। তখন দেশে-বিদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আন্দোলনই জোট সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগও সে আন্দোলনের সুবিধা ভোগ করেছে। তখনকার সংখ্যালঘু আন্দোলন যদি দেশবিরোধী চক্রান্ত না হয়ে থাকে আজকের আন্দোলন সিদ্দিকুর রহমানের দৃষ্টিতে দেশবিরোধী হয় কিভাবে।

আগেই উল্লেখ করেছি মৌলবাদী গোষ্ঠী ও সরকারের মাঝে থেকে এক শ্রেণীর সাম্প্রদায়িক চক্র বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনে লিপ্ত রয়েছে। সরকারও মাঝে মধ্যে এসব চক্রের চক্রান্তের কথা বলে থাকেন। তাই সিদ্দিকুর রহমান কোন দৃষ্টিতে আমাদের এ সমাবেশ দেশবিরোধী আখ্যায়িত করেন। আমাদের আশঙ্কা তিনিও ঐ চক্রের হয়ে প্রতিবাদে অবতীর্ণ হয়েছেন কিনা? কারণ অতীতে দলের অভ্যন্তর থেকেও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে। এমনকি প্রখ্যাত লেখক সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে মৌলবাদী চক্রের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করলেও সিদ্দিকুর রহমান তখন তার একটি গ্রুপ নিয়ে মৌলবাদীদের পক্ষাবলম্বন করতে দেখা গেছে। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে অনেক লেখালেখিও হয়েছে। ’৯১/৯২ সালে খালেদা জিয়া নিউইয়র্ক এলে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি যখন প্রতিবাদ জানায় তখন তিনি খালেদা জিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আরও অভিযোগ শোনা যায়, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠে তার রেকর্ডটিও তিনি মিডিয়াকে সরবরাহ করেছিলেন। তৃতীয়ত ক্ষুদ্র একটি গ্রুপের চক্রান্ত বলে শিতাংশু গুহকে অভিযুক্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনকে বিভক্তির দোষারূপ দিয়ে এবং শিতাংশু গুহের সাথে ব্যক্তিগত কোন বিরোধ চরিতার্থ করতে তার এই অভিসন্ধি কি না তা নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে। কারণ সমাবেশ এককভাবে শিতাংশু গুহের নেতৃত্বে কিংবা উদ্যোগে ছিল না। প্রত্যেকটি সমাবেশ সম্মিলিত পূজা পুনর্মিলনী পরিষদের নেতৃত্বে সকল সংখ্যালঘু এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ধারাবাহিকভাবে দেশে আদিবাসী, সাঁওতাল এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, উচ্ছেদ, জবরদখল এমনকি দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার পাশপাশি মাঝে মধ্যে কিছু হৃদয় বিদারক ঘটনা সমগ্র জাতির বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অথচ এর প্রতিকার আমরা লক্ষ্য করি না। একের পর এক এসব ঘটনার কোন বিচার হয় না এবং হচ্ছে না। সর্বশেষ ব্রাহ্মবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর এবং গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর নৃশংস আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। নাসিরনগরের ঘটনা সরকার ও প্রশাসনের নজরে আসার পরও তিন তিনবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ঘটনার ৪ দিন পার হয়ে যাওয়ার পর সরকার ও সরকারী দলের প্রতিনিধি দেখতে গেছেন। চারদিন পর স্থানীয সাংসদ ও মৎসমন্ত্রী এলাকায় গেছেন। তার যাওয়াতে অত্যাচারিত সংখ্যালঘুরা আশ^স্ত হয়েছিল। কিন্তু না, ’মালাউনের’ বাচ্চারা বাড়াবাড়ি করছে বলে তিনি ঘটনাকে আরো উস্কে দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমগ্র দেশে সংখ্যালঘুরা শান্তিতেই আছেন। পুলিশ বলছে রসরাজ নির্দোষ অথচ আজও তাকে জেল খাটতে হচ্ছে। নি¤œস্তরের তিনজন দলীয় কর্মীদের ওপর দোষ চাপিয়ে মূল অপরাধীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোবিন্দগঞ্জেও অনুরূপ ঘটনা ঘটলো। কোন প্রকার আপস মিমাংশায় না গিয়ে নিরীহ সাঁওতালদের ওপর একাত্তরের কায়দায় আক্রমণ করা হলো। উপর্যপুরি গুলি চালানো হয় নিরীহ নিরস্ত্র সাঁওতালদের ওপর। চারজন নিহত হন। আহত হন অনেকে। সাঁওতালদের অভিযোগ তাদের অনেকে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। গুরুতর আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বেডের সাথে বেঁধে রেখে। সে অমানবিক বাঁধন মুক্ত করতে হয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে। গরিব সাঁওতালদের দুই শতেরও ওপর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। দুই হাজারের ওপর সাঁওতালদের উচ্ছেদ ও নিঃস্ব করে রাস্তায় বসিয়ে দেয়া হলো। ঘটনার সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পুলিশ জড়িতে বলে মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা কর্মী এবং টিভি ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। সাঁওতালরাও একই অভিযোগ তুলেছেন। সর্বশেষ একটি টিভি ফুটেজে পুলিশই ঘরে আগুন দিয়েছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনা কত অমানবিক ও নৃশংস হলে দেশের প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে রেজিস্টারের নেতৃত্বে তাদেরকে সাহায্য পাঠাতে হয়। এগুলো হলো সাম্প্রতিক ঘটনা।

অতীতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি কমিশন ঘটনার তদন্ত করে। তদন্তের পর ২০ হাজার ঘটনা উঠে আসে। তার মধ্য থেকে কমিশন ৫ হাজার ঘটনা জরুরী ভিত্তিতে বিচারের সুপারিশ করে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজের দাবি সত্বেও আজ পর্যন্ত একটি ঘটনার বিচার হয়নি। পিরোজপুর হাইস্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষিকা সন্ধ্যা রাণীকে স্থানীয় ওসি ও সাম্প্রদাযিক গোষ্ঠী মিলে তাকে চাকরি থেকে অপসারিত করে। এখানেই ঘটনার শেষ হয়নি। এই ঘটনার সূত্র ধরে স্থানীয় পনেরোটি সংখ্যালঘু পরিবারকে অত্যাচার নির্যাতন করে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এই নৃশংস ঘটনা বার বার তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে অবহিত করে এলাকা পরিদর্শনের দাবি জানালেও দেখতে যাননি। পাবনার সাথিয়ার বনগ্রামে বাবুল ভৌমিকের বাড়িসহ সমস্ত গ্রামে লুটপাট ও অত্যাচার করা হয়। কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস করে দেয়া হয়। স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এডভোকেট টুকু। আজও তার বিচার হয়নি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকালে রাজশাহীর অভয়নগর ঋষিদের সম্প্রদায়ের সমস্ত গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। আজও তার বিচার হয়নি। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে লাথি মেরে গর্ভবতী মহিলার পেটের বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়। অসময়ে গর্ভপাতের ফলে বাচ্চাটিও মারা যায়। সে ঘটনার কোন বিচার হয়নি। নবিগঞ্জে স্বামীকে বেধে মা মেয়েকে ধর্ষণ করার ঘটনারও বিচার হয়নি। নবীজী সম্পর্কে কটাক্ষ, ধর্ম ও কোরআনের অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে অসংখ্য সংখ্যালঘু শিক্ষকদের অত্যচার নির্যাতন ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাগেরহাটের চিতলমারী থানার হিজলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ মহলি ও গণিতের শিক্ষক কুমার ঘোষালের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতির অভিযোগ তুলে চাকরিচ্যুত ও নিগৃহীত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে প্রধান শিক্ষক শ্যামলবাবুকে স্থানীয় সাংসদ কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় দেশব্যাপী প্রতিবাদ উঠে। দুঃখের বিষয় আজও তার বিচার হয়নি। খুলনার একটি গ্রামের ৩০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে সমগ্র এলাকায় সাম্প্রদায়িক তুলকালাম কান্ড করা হয়। রামুর ঘটনা দেশবিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সপ্তাহ দুই আগে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের হরিজন সম্প্রদায়ের ৫০/৬০টি বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেয়া হয়েছে দখলের উদ্দেশ্যে। এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলেছে। কিন্তু কোন ঘটনারই বিচার হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি বিচারহীনতার পরিণতিই বার বার সংখ্যালঘুদের ওপর নেমে আসছে অত্যাচার নির্যাতন ও উচ্ছেদের ঘটনা। আমরা এবং দেশের সচেতন মানুষ বার বার বলে আসছেন একটি পৃথক সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও কমিশন গঠন করে বিচার নিশ্চিত করতে। অথচ তার কোন উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তারই সর্বশেষ ঘটনা ও পরিণতি নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জ। এ দু’জায়গায়ও আমরা লক্ষ্য করলাম বিচারের বাণী নিভৃতে আটকে যাচ্ছে। প্রতি ঘটনায় কিছু নিরীহ লোক ধরা পড়ে তবে ঢালাও ভাবে আসামী করে আতঙ্কের সৃষ্টির মাধ্যমে ঘটনা চাপা পড়ে যায়। তারই প্রেক্ষিতে আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশ। আমরা মনে করি আমাদের এ সমাবেশ কোন ভাবে দেশ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। কারণ আমরাও এদেশের নাগরিক। সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই আমাদের এ আন্দোলন সমাবেশ।

তিনি বলেন, পরিশেষে আমরা লক্ষ্য করছি ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে আমাদের সমাবেশে সাফাদি মেহেন্দি নামের জনৈক ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে আমাদের সমাবেশকে জড়িয়ে নানা কল্পকাহিনীর মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার সৃষ্টির অপচেষ্টা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই আমাদের সাথে ঐ নামীয় কোন ব্যক্তির সম্পর্ক নেই। আমাদের সমাবেশে তাকে আমন্ত্রন করা হয়নি। আমাদের আন্দোলনে তার কোন প্রয়োজনও নেই। আমাদের সমাবেশের শেষে এই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়। চলে যাবার সময় উপস্থিতদের কয়েকজনের সাথে সে ছবি উঠায়। সে ছবি পত্রপত্রিকায় দিয়ে আমাদেরকে অভিযুক্ত করার অপচেষ্টা হচ্ছে। আমাদের এ প্রতিবাদের পর আশা করবো সংশ্লিষ্টরা আমাদের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে মিথ্যা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকবেন।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV