Sunday, 25 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

আমেরিকায় ওবামা বাংলাদেশে কে?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 75 বার

প্রকাশিত: November 8, 2012 | 5:20 PM

আব্দুল কাইয়ুম : ওবামার বিজয় নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু তাঁর বিজয়ের পর এখন মনে হয়, এটাই স্বাভাবিক। কারণ, প্রথমত, একজন প্রেসিডেন্ট যদি বড় ভুল না করেন, তা হলে আমেরিকার জনগণ তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে সাধারণত দুই মেয়াদে নির্বাচিত করেন। আর বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দল যদি নাটকীয় সাফল্য না দেখাতে পারে, তা হলে পর পর দুবার ক্ষমতায় যেতে পারে না। মানুষ তাদের ভোট দেয় না। প্রকৃতপক্ষে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পর পর দুই মেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখার ইতিহাস নেই। সুতরাং, আমেরিকা ও বাংলাদেশের মানুষের নির্বাচনী মনস্তত্ত্ব দুই বিপরীত মেরুতে রয়েছে। হল-মার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজারে ধস, অপহরণ ও গুমের ঘটনাগুলো ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের ভাবমূর্তি এমনভাবে কালিমালিপ্ত করেছে যে এর থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব মনে হয়। তাই বিরোধী দল বিএনপি যদি চালে ভুল না করে, তা হলে বাংলাদেশে সরকার বদলের প্রচলিত ধারার ব্যতিক্রম ঘটবে না, এটা অনায়াসে বলা চলে। কিন্তু এর প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো, নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ। কারণ, এখন বাংলাদেশ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচিত সরকার অপসারণ করে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। গেলেও টিকতে পারবে না। বিএনপি যদি কোনো কারণে, সেটা যত যৌক্তিকই হোক না কেন, নির্বাচনে না গিয়ে রাজপথে লড়াই করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে তারা বড় ভুল করবে। এই ভুল যেন তাদের পেয়ে না বসে, সে ব্যাপারে বিএনপিকে সতর্ক থাকতে হবে। আমেরিকায় ওবামার বিজয়ের অনেক কারণ ছিল। তবে অন্তত তিনটি কারণ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা চলে। প্রথমত, ওহাইওর মতো দোদুল্যমান ভোটের (সুয়িং ভোট) এলাকায় ওবামা বেশি ভোট পেয়েছেন মূলত বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময় মোটরশিল্প রক্ষায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভর্তুকি দেওয়ার কারণে। ওহাইওতে রয়েছে মোটর গাড়ির ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ নির্মাণের বিশাল শিল্প-কারখানা। ওবামার ভর্তুকি প্রদানের নীতির কারণে এখানকার শ্রমিকেরা দুঃসময়ে তাঁদের চাকরি বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার জন্য ওহাইওর ভোট যে নির্ধারকের ভূমিকা পালন করে, সে কথা আগে থেকেই সবাই জানেন। এখানে ওবামার নীতিগত অবস্থান তাঁকে জিতিয়ে এনেছে। রমনি এই নীতির বিরোধী। তিনি মনে করেন, অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। মানুষ এটা পছন্দ করেনি। যদিও আমেরিকা সব সময় ব্যক্তি খাতকে প্রাধান্য দেয়। কিন্তু বিপর্যয়ের সময় সীমিত মাত্রায় রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি জনগণ সমর্থন করেছে। দ্বিতীয়ত, টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর আমেরিকার প্রতিটি নাগরিক এক সাংঘাতিক মানসিক আঘাত পেয়েছিল। তারা চাইছিল এর প্রতিকার। আমেরিকার মতো বিশ্বের একক পরাশক্তিকে একটি বিচ্ছিন্ন, ক্ষুদ্র সন্ত্রাসবাদী চক্রের কাছে হার মানতে হবে, এটা তারা কল্পনাও করেনি। তাদের দর্প চূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তারা অন্তরে দগ্ধ হচ্ছিল। ওবামা তাদের সেই মনোবেদনা কিছুটা দূর করেছেন আল-কায়েদাকে শায়েস্তা করে, তাদের প্রধান নেতা ওসামা বিন লাদেনকে দীর্ঘদিনের গোপন অনুসন্ধানে চিহ্নিত ও তাঁর শক্তিকে মোটামুটি নিষ্ক্রিয় করে। বিন লাদেনকে এভাবে হত্যা করা ঠিক হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন নিশ্চয়ই আছে ও থাকবে। কিন্তু আমেরিকান ভোটারদের মন জয় করেছেন ওবামা, তাতে সন্দেহ নেই। ওবামার বিজয়ের শেষ শর্তটি সৃষ্টি করে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে হারিকেন স্যান্ডি। বছর খানেক আগে রমনিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দুর্যোগ মোকাবিলার দায়িত্ব কি কেন্দ্রীয় ফেডারেল সরকারের, না অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকা দরকার। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ফেডারেল সরকারের হাতে তো নয়ই, এমনকি সম্ভব হলে অঙ্গরাজ্যের হাতেও না দিয়ে ব্যক্তিগত খাতে ছেড়ে দেওয়া দরকার। কিন্তু ওবামা এ বিষয়ে সব সময়ই ফেডারেল সরকারের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলতেন। ভোটের দু-তিন দিন আগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় কলাম মন্তব্য করে, হারিকেন স্যান্ডি দেখিয়ে দিয়ে গেল যে ওবামাই ঠিক, রমনি ভুল। কারণ, এত বড় ও এত অঙ্গরাজ্যের উপকূলে যেভাবে হারিকেন স্যান্ডি আঘাত হেনেছে, রাজ্যগুলো বিচ্ছিন্নভাবে তা সামাল দিতে পারত না। কেন্দ্রীয় ফেডারেল সরকারের পক্ষে সহজেই সমন্বিত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং শেষ বিচারে এবং সব সময়ই যা হয়, আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট ওবামার জনকল্যাণকামী নীতিই তাঁকে বিজয়ী করেছে। এটা শুধু আমেরিকার জন্য নয়, সব দেশের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্যও সত্য। সত্যটা হলো, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি, যে-ই নির্বাচনে বিজয়ী হতে চায়, তাকে অবশ্যই জনকল্যাণকামী নীতি গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে বাংলাদেশে কোনো দলই নীতির ধার ধারে না। নির্বাচনী ইশতেহারে নীতির কথা লেখা থাকে, কিন্তু তারা কাজ করে ঠিক উল্টো। আওয়ামী লীগ বলে জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, খুন-খারাবি-ছিনতাই—সবকিছুর জন্য বিগত বিএনপির সরকারের দুঃশাসন দায়ী, বর্তমান সরকারের দায় নেই! কিন্তু আমেরিকায় ওবামা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করেননি। বরং ভোটাররাই বলেছেন, বিপর্যয়ের জন্য অনেকাংশে বিগত বুশ সরকারের ভুল নীতি দায়ী। বাংলাদেশে প্রধান  রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কথা জনগণের কথা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এখানে নীতির কোনো স্থান নেই। জনকল্যাণকামী নীতি বিসর্জন দিয়ে, মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানোর নীতি নিয়ে চললে এক মেয়াদের পর আরেক মেয়াদে জেতা প্রায় অসম্ভব।প্রথম আলো , আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক। [email protected]

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ