Tuesday, 10 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

আমেরিকায় নির্বাচন : সর্বশেষ জনমত জরিপে ওবামা ও রমনি সমান সমান

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 184 বার

প্রকাশিত: October 25, 2012 | 11:28 PM

রমনি ও ওবামা

হাসান ফেরদৌস : মাত্র ১১ দিন বাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের। সর্বশেষ জনমত জরিপে ওবামা ও রমনি সমান সমান—৪৭: ৪৭। এই মুহূর্তে তাঁদের দুজনেরই লড়াই এখনো যাঁরা মনস্থির করে ওঠেননি সেই ৬ শতাংশ মানুষ নিয়ে। নির্বাচনে কে জিতবে, এ প্রশ্ন যদি এক মাস আগেও করা হতো, তাহলে চোখ-কান বুজে বলা যেত ওবামা। সবদিক বেশ ভালো গুছিয়ে এনেছিলেন তিনি। প্রার্থী হিসেবে নানা সন্দেহ থাকলেও তাঁকে দ্বিতীয় দফা হোয়াইট হাউসের চাবির গোছা তুলে দিতে অধিকাংশ মানুষের সম্মতি ছিল। এর কারণ প্রার্থী হিসেবে তিনি খুব শক্তিশালী তা নয়, বরং তাঁর প্রতিপক্ষ অত্যন্ত দুর্বল। ওবামা ও তাঁর সমর্থকেরা রমনিকে সফলভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন এমন একজন কোটিপতি হিসেবে, যিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়ে মাথা ঘামান না। ফলে রমনি মধ্যবিত্তের সমর্থন হারিয়েছিলেন। নিজ দলের সমর্থকদের ভেতরেও রমনিকে নিয়ে বিস্তর সন্দেহ ছিল। তাঁর উদারনৈতিক ‘রক্ষণশীলতা’ নিয়ে রিপাবলিকানরা আগাগোড়া সন্দিহান। প্রাক-নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের ‘ভিত’ সদস্যদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় রমনি তাঁর পুরোনো খোলস বদলে পাঁড় দক্ষিণপন্থী হওয়ার যে চেষ্টা করেন, তাতে নিজ দলের অনুগত সমর্থকদের মন ভজাতে সক্ষম হন বটে, কিন্তু নির্বাচকদের এক অংশকে খুইয়ে বসেন। যেমন, সব রকম গর্ভপাতের বিরোধিতা করে মেয়েদের ভোট হারিয়েছেন। অভিবাসন প্রশ্নে অতি কড়াকড়ি প্রস্তাব করে হিস্পানিক ভোটারদের খেপিয়ে তুলেছেন। সমকামী বিবাহের বিরোধিতা করে সমকাম অধিকার আন্দোলনের সমর্থকদের অন্য ক্যাম্পে ঠেলে দিয়েছেন। ফলে, সোজা অঙ্কের হিসাবে, রমনির জেতার কথা নয়। কিন্তু গত এক-দেড় মাসে খেলা প্রায় উল্টে গেছে। যদি রমনি শেষ পর্যন্ত জিতেই যান, তাহলে সবাই বলবে, প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে তাঁর অস্বাভাবিক বিজয়ের ফলেই এ অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিতর্কে ওবামা জিতেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তার পরও ওই প্রথম বিতর্কে ওবামা যে রকম মিইয়ে ছিলেন, তাতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁকে নিয়ে সন্দেহ জন্মেছে। কিন্তু সেটাই একমাত্র কারণ নয়। প্রার্থী হিসেবে রমনিকে যে ‘কার্টুন’ চরিত্র হিসেবে দেখাতে চেয়েছে ওবামা ও তাঁর দল, প্রথম বিতর্কের পর লোকজন নতুনভাবে তাঁকে দেখা শুরু করেছে। সন্দেহ নেই আগের কঠোর, দক্ষিণপন্থী অবস্থান থেকে রমনি সরে এসেছেন। বিভিন্ন সামাজিক প্রশ্নে তাঁর অবস্থান আগের চেয়ে অনেক নমনীয়। বৈদেশিক নীতি প্রশ্নে, তৃতীয় বিতর্কের পর বোধ হয়েছে তাঁর ও ওবামার মধ্যে বস্তুত কোনো ব্যবধানই নেই। কিন্তু যে প্রশ্নে তিনি ওবামাকে টেক্কা দেওয়া শুরু করেছেন তা হলো অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় তাঁর যোগ্যতা নিয়ে ক্রমবর্ধিত আস্থা। রমনি যুক্তি দেখিয়েছেন, ওবামার হাতে গত চার বছরে অবস্থার উন্নতি হয়নি, কারণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার তিনি কিছুই বোঝেন না। কিন্তু তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী, এই দুর্দিনে দেশ চালানোর ভার দিলে তিনি ওবামার চেয়ে ভালো ফল দেখাতে পারবেন। রমনির এই যুক্তি নিয়ে লোকজন নতুন করে ভাবা শুরু করেছে। ফলে, কাগজ-কলম নিয়ে বসলে, রমনির বিজয় একদম অবাস্তব নয় বলেই মনে হয়। কিন্তু কাগজে-কলমের বাইরেও কিছু হিসাব থাকে, প্রার্থিতার বাইরে কিছু কিছু শর্ত থাকে। নির্বাচনী প্রচারণায় দুজন সমানে সমান। দুজনেরই খরচ করার মতো দেদার অর্থ রয়েছে। নির্বাচনী কমিটির বাইরে উভয়েরই রয়েছে ‘সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’। ২০০৮-এর নির্বাচনে ওবামা মাঠপর্যায়ে চমৎকার গুছিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর মতো ব্যাপক স্বেচ্ছাসেবী জোগানো আমেরিকার ইতিহাসে আগে ঘটেনি। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রমনি গোড়া থেকেই মাঠপর্যায়ে নিজেকে সংগঠিত করেছিলেন। দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট ভিক্ষার ব্যাপারে ওবামার চেয়ে তিনি পিছিয়ে নেই। তা ছাড়া উভয়েরই রয়েছে শক্ত ‘বেস’ বা ভিত। রিপাবলিকানদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যাঁরা রমনির ব্যাপারে সন্দিহান, কিন্তু ওবামাকে তাঁরা এতটাই অপছন্দ করেন যে নাকে রুমাল গুঁজে হলেও রমনির বাক্সে ভোট দিয়ে যাবেন। একই কথা উদারনৈতিক ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপারে। বামপন্থী বলে পরিচিত সাপ্তাহিক নেশন পত্রিকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে একটা বিজ্ঞাপন ছাপা হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছে ‘নাকে রুমাল গুজুন ও ওবামাকে ভোট দিন?’ অন্য কথায়, সব ব্যাপারেই এই দুজন সমানে সমান। তাহলে অদৃশ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কোথায়? সর্বাগ্রে রয়েছে জনসংখ্যাগত সুবিধা। ২০০৮ থেকে ২০১২—চার বছরে আমেরিকার জনসংখ্যার গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তন ওবামাকে সাহায্য করবে বলে ভাবা হচ্ছে। সংখ্যালঘু, বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক ও অন্যান্য অভিবাসী ভোটারের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। গত নির্বাচনে এই গ্রুপের ৮০ শতাংশের ভোট ওবামা পেয়েছিলেন। এবার এই গ্রুপের ভোটারদের পরিমাণ ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, শ্বেতাঙ্গ কর্মজীবী ভোটার, যাঁরা ওবামার তুলনায় তাঁর প্রতিপক্ষ ম্যাককেইনকে ১৮ শতাংশ বেশি ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের সংখ্যা ১৭-১৮ শতাংশ কমে এসেছে। অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক অদ্ভুত ব্যাপার হলো শুধু মোট ভোটের হিসাবে এগিয়ে থাকলেই জেতা যায় না, ইলেকটোরাল ভোট কম করে হলেও ২৭০টি পেতে হবে। মার্কিন কংগ্রেসে ৫০টি অঙ্গরাজ্য (ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া) থেকে মোট ৫৩৮ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন (৪৩৮ প্রতিনিধি পরিষদে ও ১০০ সিনেটে)। উভয় কক্ষের মোট সদস্যের সমানসংখ্যক অর্থাৎ ৫৩৮ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় ইলেকটোরাল কলেজ। কংগ্রেসে অর্থাৎ সিনেটে ও প্রতিনিধি পরিষদে কোনো অঙ্গরাজ্যের যত আসন, তার তত ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকেই দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে থাকেন, কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদে সদস্যসংখ্যা নির্ধারিত হয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে। যেমন ২০০৮ সালে নিউইয়র্কের ইলেকটোরাল ভোট ছিল ৩১ (২ সিনেটর+২৯ কংগ্রেসম্যান)। কিন্তু ২০১২-এর আদমশুমারিতে নিউইয়র্কের মোট জনসংখ্যা ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে এসেছে। ফলে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি পরিষদে তার আসনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭। অতএব, এ বছরের নির্বাচনে নিউইয়র্কের রয়েছে মোট ২৯ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। অধিকাংশ রাজ্যেই যে প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, পূর্বনির্ধারিত ইলেকটোরাল ভোটের প্রতিটি তিনি পাবেন। ধরা যাক, নিউইয়র্কে মোট ভোটের হিসাবে ওবামা জয়ী হলেন, সে জন্য তিনি ২৯টি ইলেকটোরাল ভোট পাবেন। এই নিয়মের একমাত্র ব্যতিক্রম মেইন ও নেব্রাস্কা, যেখানে তাঁদের মোট ইলেকটোরাল ভোট দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন মেইনের মোট ইলেকটোরাল ভোট হলো চারটি (দুটি প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও দুটি সিনেটর, এই হিসাবে)। তার মধ্যে দুটি ইলেকটোরাল ভোট নির্ধারিত হয় প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী এলাকা অনুসারে, বাকি দুটি মোট ভোটের হিসাবে। যদি কংগ্রেসে একজন রিপাবলিকান, একজন ডেমোক্র্যাট জয়ী হন, তাহলে ইলেকটোরাল ভোট এই দুই দলের মধ্যে ভাগ হবে। বাকি যে দুটি ভোট থাকল, যে দলের প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, উভয় ইলেকটোরাল কলেজ ভোটই তাঁর জন্য জমা থাকবে। ইলেকটোরাল পদ্ধতি আপাতভাবে অগণতান্ত্রিক মনে হতে পারে। মোট ভোটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যার বাক্সে জুটবে, তাঁরই তো জয়ী হওয়ার কথা। কিন্তু আমেরিকার মানচিত্রের সঙ্গে যাঁরা পরিচিত তাঁরা জানেন, এখানে গুটি কয় বড় অঙ্গরাজ্যে অধিকাংশ মানুষের বাস। দেশের অধিকাংশ রাজ্যই জনসংখ্যার হিসাবে ক্ষুদ্র। মোট ভোটেই যদি ফলাফল নির্ধারিত হয়, তাহলে শুধু বড় রাজ্যের ভোট দিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া কঠিন নয়। সে ক্ষেত্রে ছোট ছোট রাজ্যের স্বার্থরক্ষা করার কেউ থাকবে না। ছোট ছোট রাজ্য যাতে নির্বাচনী লড়াইয়ে একদম অপ্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত না হয়, সে জন্য এই অভিনব ইলেকটোরাল পদ্ধতি। কিন্তু সমস্যা হলো, এই ইলেকটোরাল ব্যবস্থার কারণে দু-চারটে ছোট ও মাঝারি আকারের অঙ্গরাজ্যের হাতে আমেরিকার নির্বাচনী ফলাফল জিম্মি। এসব রাজ্যে রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট কোনো দলেরই নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তা নেই। ফলে তাদের হাতে রাখার জন্য উভয় দলের তাবৎ মনোযোগ। এবারের নির্বাচনে এ রকম ‘সুইং স্টেট’ হলো আটটি: ওহাইও, আইওয়া, ফ্লোরিডা, কলোরাডো, নেভাদা, ভার্জিনিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও উইসকনসিন। এদের মধ্যে নেভাদা, কলোরাডো, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও উইসকনসিনে বড় ধরনের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এসেছে। হয় হিস্পানিক নয়াতো কৃষ্ণাঙ্গদের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। এই দুই গ্রুপই ঐতিহ্যিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে থাকে। অন্যদিকে, কলেজ-শিক্ষিত নয় এমন শ্বেতকায় ভোটার, যাঁরা চিরকাল রিপাবলিকানদের সমর্থন করে এসেছেন, উইসকনসিনে তাঁদের মোট সংখ্যা কমেছে ৭ শতাংশ। ফলে, জনসংখ্যাগত এই পরিবর্তন ওবামাকে সাহায্য করবে বলে ভাবা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, উইসকনসিন, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ওহাইওতে ওবামা এগিয়ে। এই তিন রাজ্যে যদি ওবামার বিজয় নিশ্চিত হয়, তাহলে মোট ভোটের হিসাবে পিছিয়ে থেকে তাঁর পক্ষে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও কলোরাডো, এই তিন রাজ্যেই যদি ওবামা হেরে যান, তবু তাঁর ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, রমনি ওহাইওতে না জিতলে এবং সে রাজ্যের ১৮টি ইলেকটোরাল ভোট না পেলে তাঁর পক্ষে অঙ্কের হিসাবে জেতা অসম্ভব। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নাগরিক সমর্থনের তীব্রতা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নাগরিক সমর্থনের তীব্রতা ছিল ওবামার পক্ষে। এবার সেরকম নয়। দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি, সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। কী করে চাকরি সৃষ্টি হয়, ওবামা তা জানেন না—রমনির এই দাবি ক্রমেই লোকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। অন্যদিকে এই কালো লোকটির প্রতি সাদা মানুষদের ক্রোধ কমেনি, বরং বেড়েছে। ২০১০ সালে যে টি-পার্টি আন্দোলনের ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে চলে যায়, তার বড় কারণই ছিল টি-পার্টি সমর্থকদের বর্ণবাদী ক্রোধ। সে ক্রোধ কমেনি, যদিও আন্দোলন হিসেবে টি-পার্টি এখন কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। অতি সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে ওবামার সমর্থন ৪১ শতাংশ থেকে কমে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে রমনির সমর্থন ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে, ওবামাকে যদি জিততে হয়, তাকে সংখ্যালঘুদের অভাবনীয় অনুপাতে ভোট আদায় করে নিতে হবে। কালো, হিস্পানিক ও অন্য সংখ্যালঘুদের মধ্য ওবামার সমর্থন হয়তো ৮০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি, কিন্তু এদের সবাই কি ভোট দিতে যাবে? ওবামার জন্য অন্য ভয়—ভোট চুরির নানা ফন্দি-ফিকির। কয়েক বছর ধরেই অভিযোগ উঠেছে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে নানা ছল-ছুতোয় ভোট ছিনিয়ে নিতে চায়। এবারের নির্বাচনে তাদের সবচেয়ে বড় চেষ্টা ছিল নতুন ভোটার পরিচয়পত্র আইন। ভোট দিতে এত বছর কাউকে পরিচয়পত্র দেখাতে হয়নি, ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই হতো। এ বছর রিপাবলিকানরা উঠেপড়ে চেষ্টা চালায় নতুন ‘ভোটার আইডি’ আইন চালুর। বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপে সে চেষ্টা আপাতত ঠেকানো গেছে। কিন্তু ভোটে কারচুপির চেষ্টা থামেনি। ফ্লোরিডা, উইসকনসিন ও ইন্ডিয়ানা থেকে প্রমাণ মিলেছে রিপাবলিকানরা সমানে টেলিফোন প্রচার চালাচ্ছে, ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে ভোট দেওয়া যাবে। কথাটা ডাহা মিথ্যা। ওহাইও ও উইসকনসিনে বিশাল বিশাল বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে ভোটে কারচুপি করলে জেলে ঢোকানো হবে। সংখ্যালঘু ও অভিবাসীরা, যারা সারাক্ষণ আইনের রক্তচক্ষুর নিচে বাস করে, তারা এমন বিলবোর্ড দেখলে ভাববে, কাজ নেই বাবা ভোট দিয়ে। তার চেয়ে ঘরে বসে থাকি। রিপাবলিকানদের পক্ষে বলা হয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে হাজার স্বেচ্ছাসেবী পাঠাবে, যাদের কাজ হবে সন্দেহ হলেই কোনো ভোটারের পরিচয়ের সত্যতা চ্যালেঞ্জ করা। এদের উৎপাতের ভয়েও অনেকে ভোট দেওয়া এড়িয়ে চলবে। কোনো কোনো রিপাবলিকান সমর্থক ব্যবসায়ী নিজের কর্মচারীদের লিখিতভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁরা যেন মিট রমনিকে ভোট দেন। অন্য কথায়, সোজা পথে হোক কি বাঁকা, ওবামাকে হারানোর ব্যাপারে রিপাবলিকানরা বদ্ধপরিকর। তাদের সুপরিকল্পিত চেষ্টাকে প্রতিহত করার জন্য যে খেলোয়াড়ি মনোভাব চাই, ডেমোক্র্যাটদের ভেতর তা আছে কি না, এমন একটি সন্দেহ জাগছে। নিউইয়র্ক, হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

ট্যাগ:
Situs Streaming JAV