আর্সেনিকের শিকার অর্ধেক বাংলাদেশ!

তবে বাংলাদেশের বিশেজ্ঞরা বলছেন, এ মুহূর্তে দেশে আর্সেনিক নিয়ে দুর্যোগের কোন ভয় নেই। যদিও তারা বলছেন, দেশের আর্সেনিকের সন্ধান পাওয়ার দীর্ঘ ১৫ পরও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেকে জানে না- আর্সেনিক কি? তার মানে হলো, যা মাতামাতি হয়েছে তা যথেষ্ঠ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, এ মুহূর্তে সরকার আর্সেনিক বিষয়ে একটু নীরবই রয়েছে। তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দরকার ফুরিয়ে যায়নি। দেশের প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় সচেতনতার অভাব থাকলেও এ বিষয়ে বেশ সাফল্যও এসেছে। খুব কম মানুষই এখন দূষিত পানি খাচ্ছে। তিনি বলেন, আর্সেনিক নিয়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা দেশের বাইরেও অনেক কাজ করেছেন। আমারও কয়েকটি গবেষণা আছে। সরকার চাইলে আমাদের অভিজ্ঞতা ও এগুলোকে কাজে লাগাতে পারে।
বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক সংক্রমণের বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে ১৯৯৬ সালে। এর কয়েক বছর পর স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়-এলজিইডির তত্ত্বাবধানে টিউবওয়েলে আর্সেনিকের শুরু হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আর্সেনিক মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায় এখনও কিছু কিছু জায়গায় মাঝে মধ্যে জরিপ চালানো হয়। তবে দেশের হাওর অঞ্চলের সাধারণ লোকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকের পরীক্ষা হচ্ছে না। সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কালাগুজা গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক স্বপন জানান, ৭-৮ বছর থেকে তাদের এলাকার টিউবওয়েলে আর্সেনিক পরীক্ষা হচ্ছে না। নতুন টিউবওয়েলে বসানো হলেও সেগুলোর পরীক্ষা হয় না। কিছুদিন আগে একই জেলার তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়ী গ্রামে একটি টিবওলের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বেসরকারি সংস্থা ডাসকোর বসানো টিউবওয়েলে ৫০০ পাস্ট পার বিলিয়ন-পিপিবি মাত্রার আর্সেনিক ধরা পড়ে। অথচ পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ৫০ পিপিবি। সে সময় এনজিওকর্মী লিপিকা তালুকদার ও অনিতা সরকার গোলাবাড়ী গ্রামে আর্সেনিকে আক্রান্ত ৩৭ জনের রোগীর সন্ধান পাওয়ার কথাও জানান। সামপ্রতিক সময়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ১১টি ইউনিয়নে ১৫,০০০ টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করে ৬,৫০০ টিউবওয়েলে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় অর্ধশতাধিক আর্সেনিক রোগী ধরা পড়ে। ২০১১ সালে খুলনায় আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী ছিল ৫৫৪। ২০১২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩২ জনে। সেখানকার ৫৯,৮২১টি টিউবওয়েলের মধ্যে ২৫,৬৯৩টিতে আর্সেনিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাতেও আর্সেনিকের প্রকোপ ব্যাপক। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন সীমান্ত এলাকার জেলাগুলোতে টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা পেয়েছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হওয়ার মতোই। সেখানে কোন উদ্যোগ নেই আর্সেনিক প্রতিরোধে। বর্তমানে ঢাকায় আর্সেনিকের প্রকোপ আশঙ্কাজনক।
কারণ, রাজধানীর আশাপাশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই টিউবওয়েলের পানির উপর নির্ভরশীল। আর এ নির্ভরশীলতা দিনদিন বড়ছে।
দেশের বেশির ভাগ এলাকার লোকজন আর্সেনিক পরীক্ষা হয়নি এমন টিউবওয়েলের পানি পান করছেন। দুর্গম এলাকায় এর হার বেশি। সেখানে আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের সংখ্যা অনেক। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে এক সময় অতিমাত্রায় আর্সেনিক দূষণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে নলকূপ বা টিউবওয়েলগুলোর গায়ে রং লাগানোর কর্মসূচি শুরু হয়। আর্সেনিকযুক্ত ও আর্সেনিক মুক্ত বুঝাতে লাল ও সবুজ রঙের ব্যবহার করা হয়। লাল রঙের নলকূপ আর্সেনিক আক্রান্ত এবং সবুজটি ভাল। কিন্তু কিছুদিন এ কর্মসূচি চলার পর তাতে ভাটা পড়ে। বর্তমানে এ উদ্যোগের কোন তৎপরতা নেই। নতুন করে টিউবওয়েল বসলেও আর্সেনিকমুক্ত হচ্ছে কি না তা খুব একটা যাচাই হয় না। সরকারি টিউবওয়েলের বেলায় থাকে দায়সার ভাব। নিয়ম অনুযায়ী এলজিইডি আর্সেনিক আক্রান্ত নলকূপ চিহ্নিত করে তা নষ্ট করার কথা। এটি হচ্ছে না।
এদিকে মানুষের শরীরের পাশাপাশি খাদ্যশস্যেও আর্সেনিক মিলছে। ২০০৮ সালের মাঝামাঝিতে দেশে উৎপাদিত খাদ্যশস্যেও আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ ৪৩টি জেলার মানুষ বোরো ধানের চালের ভাত খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। সে অঞ্চলে বোরো চাষে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেশি। তাই ওই অঞ্চলের ফসলের মাধ্যমে আর্সেনিকের বিষক্রিয় স্বাভাবিকভাবে মানুষের দেহে ঢুকছে। অবশ্য এখনও তা সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ৫০ পিপিবির নিচে। বিশেষজ্ঞরা খাদ্যশস্যের আর্সেনিকের পরিমাণ ক্ষতিকর মাত্রায় পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন। যদিও ফসলচাষে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার অব্যাহত বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে শস্যে আর্সেনিকের মাত্রা বাড়তে পারে; এমন আশঙ্কার কথাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্সেনিক হওয়ার মানেই মৃত্যু নয়। তবে এটি স্বাস্থ্যের জন্য আশঙ্কার বিষয়। এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় প্রতিরোধ। বিশুদ্ধ পানি পান করলে রক্ষা পাওয়া যায়। আর আক্রান্ত রোগীরা সেবা নিলে অবশ্যই সুস্থ থাকবেন। বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও চর্মরোগ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ডা. এ এস এম জাকারিয়া বলেন, আক্রান্তদের মাঝে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন তৈরি হয়। যাদের হয়ে গেছে তাদের অবশ্যই কিছু নিয়ম মানতে হবে। ভাল থাকার জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে। শাক-সবজি এবং খাবারগুলো ভিটামিন জাতীয় কি না সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, দেশে আর্সেনিকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সরকার বেশ ভালভাবেই করছে Iমানবজমিন
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








