Monday, 8 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

আলসেমি কাটিয়ে ওঠার উপায়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 91 বার

প্রকাশিত: May 18, 2012 | 4:19 PM

Details

রিয়াদ খন্দকার:আজ করব, কাল করব, সকালে করব, বিকালে করব—এই করি করি করে আর করা হয় না। আর করা হলেও হয় শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে। ধীরেসুস্থে ভালোভাবে করার জন্যে কাজটি রেখে দিলেও শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে করতে গিয়ে দেখা যায় যে, দায়সারাভাবে কাজটি শেষ করা হয়েছে। তারুণ্যের মাঝে এই প্রবণতাটি বর্তমানে প্রখর। অথচ একটু সচেষ্ট হলেই এই অলসতা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি। জীবনকে করে তুলতে পারি আরও সফল আরও আনন্দময়। আমাদের এই আলসেমি ও তা কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু

অলস কথাটা নিজের বেলায় শুনতে মোটেও ভালো লাগে না। যদি কেউ আপনাকে অলস বলে ফেলে তখন কিন্তু আপনার যথেষ্ট খারাপ লাগারই কথা। কিন্তু অলস হয়ে বসে থাকার সময় আমাদের মাথায় এসব চিন্তা আসে না। কেউ অলস বলার আগেই অর্থাত্ নিজের দোষটা অন্য কেউ ধরিয়ে দেওয়ার আগে নিজেই তা সারিয়ে ফেললেই তো ঝামেলা চুকে যায়। আলসেমি থেকে বেরিয়ে আসাটা কিন্তু কোনো কঠিন কাজ নয়। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, তা তো সবারই জানা।

আলসেমির উত্স

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আলসেমি একটি বংশগত রোগ। পরিবারের লোকজনের মধ্যে আলসেমির লক্ষণ থাকলে আপনার মধ্যেও তা আসতে পারে। আবার অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতার কারণেও আলসেমি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে যারা একটু তুলনামূলক ফ্যাট তারাও আলসেমিতে ভুগে থাকেন। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, আলসেমি ব্যাপারটা মূলত একটা বিদঘুটে মনের ভাব। অলস হওয়ার প্রশ্রয় একবার পেয়ে বসলে আলসেমি জিনিসটা স্বভাবে দাঁড়িয়ে যায়। তাই এটা কাটিয়ে উঠতে প্রথমেই যেটা দরকার তা হলো মনের জোর এবং নিজের কর্মক্ষমতার ওপর বিশ্বাস। ‘আমার কিচ্ছু করতে ইচ্ছা করছে না। এখন না, থাকুক। ওটা পরে করব। এখন একটু ঘুমিয়ে নিই।’ এ ধরনের মনোভাবকে ইচ্ছা করলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া যায়। পুরো ব্যাপারটা আসলে নির্ভর করছে আপনার ওপর। অনেকের মতে অলসতার মূল কারণ হচ্ছে এক অজানা আশঙ্কা। এই আশঙ্কা বা ভয় হতে পারে পরিবর্তনের ভয়, নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়, অশান্তির ভয় বা অন্য কোন ভয়, যার অস্তিত্ব রয়েছে আপনার মনের গহীনে। আর অলস মানুষ সবসময় পেছনে পড়ে থাকে। অন্যরা যখন সাফল্যের সোপানে ধাপে ধাপে এগিয়ে যায়, সে তখন পেছন থেকে দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।

অলসতার প্রধান কারণগুলো

স্বপ্নচারী :স্বপ্নচারী মানুষেরা সবসময় চায় জীবন সহজ হোক কষ্ট মুক্ত হোক। এরা বাস্তব জীবন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে। নিজেকে আকাশ-কুসুম কল্পনার মাঝে ডুবিয়ে দেয়। আকাশ-কুসুম কল্পনার মাঝে ডুবে থাকতেই ভালোবাসে। কারণ সেখানে কিছুই তাদের জন্য হুমকি নয়। তারা মনে করে তারা বিশেষ প্রজাতির মানুষ। তাদের নিয়ম অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। এই ধরনের স্বপ্নাচারী দৃষ্টিভঙ্গি তাদের পেশাগত, পারিবারিক, পারিপার্শ্বিক সমস্যা সৃষ্টি করে। যা পরিণামে তার মধ্যে এক পলায়নী মনোবৃত্তি জন্ম দেয়।

দুশ্চিন্তাকারী :দুশ্চিন্তাকারীরা সবসময় নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আর এজন্যে তাকে মূল্যও দিতে হয় অনেক। তার নিরাপদ আরামদায়ক এলাকার সীমানা খুবই ছোট। কোনো ঝুঁকি বা পরিবর্তনের মুখোমুখি হলেই দুশ্চিন্তায় তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। ঝরনাধারার মতো অবিরাম গতিতে দুশ্চিন্তার প্রবাহ চলতে থাকে তার মনের ভেতরে। ‘যদি এই এই হয়… তাহলে কী অবস্থা দাঁড়াবে’ এই নেতিবাচক আশঙ্কায় সে একেবারে সংকুচিত হয়ে যায়। যদি এই বিরক্তিকর চাকরিটা ছেড়ে দিই তবে যদি আর কোনো চাকরি খুঁজে না পাই? এই আশঙ্কায় সে চাকরি ছাড়তে পারে না। অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করার চেয়ে সে একঘেয়ে নিরাপদ জীবনকেই বেছে নেয়।

অমান্যকারী :কর্তৃত্ব বা ক্ষমতার বিরুদ্ধে এদের ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু এরা এই ক্ষোভ প্রকাশ করে খুবই সংগোপনে। এই ধরনের দীর্ঘসূত্রিতাকারী কাউকে যদি বলেন ‘এ কাজটা করে দাও’ সে সাথে সাথে বলবে ‘ঠিক আছে করে দেব।’ কিন্তু তারপর সে তার প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে যাবে অথবা আধাআধি করে কাজটি করবে বা অনেক দেরিতে কাজটি করবে। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এরা অন্যের প্রয়োজন পূরণের বেলায় এই কৌশল অবলম্বন করে। এ ধরনের আচরণ তাকে ক্ষমতার অনুভূতি প্রদান করে। কিন্তু এর ফলে তার সহকর্মী বা সঙ্গীরা নিজেদেরকে অবহেলিত ও ব্যবহূত ভাবে। পরিণামে অমান্যকারী নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সে নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দেয় যে, এই জটিল বিশ্বে একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ বলেই সে নিজে শাস্তি পাচ্ছে। সে অসুখী হলেও এ নিয়ে গর্বিত।

সংকট সৃষ্টিকারী :আমরা অধিকাংশ মানুষই কোনো না কোনোভাবে শেষ মুহূর্তে কাজ ভালো করতে পারি। হাতে আর সময় নেই, এখন না করলেই নয়, তখন আমাদের মস্তিষ্ক পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করে। এরপর আমরা কাজ শেষ করতে পারি। একজন সংকট সৃষ্টিকারী সবসময় নাটক করতে চায়। এক ধরনের আচরণ থেকে অন্য ধরনের আচরণে চলে যায়। প্রথমত সে পরিস্থিতিকে আমল দেয় না। চাপ অনুভব করলে সে শুরুই ‘না’ করতে পারে না। পরে অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠে। সব বাদ দিয়ে সময়মতো কাজ শেষ করার জন্য লেগে যায়।

নিখুঁত কর্ম সম্পাদনকারী :এরা প্রতিটি কাজই নিখুঁতভাবে করতে চায়। যেকোনো কাজ করতে গেলেই সে তার আত্মমর্যাদাকে এর সাথে জড়িয়ে ফেলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা আদর্শবাদী এবং সময় ও শক্তি ব্যয়ের ব্যাপারে অবাস্তববাদী। ওদের কাউকে পেন্সিল চোখা করে দিতে বলুন। দেখবেন সে হয়তো খুব বিব্রতভাবে পেন্সিলের দিকে তাকাবে এবং সারা দিনই হয়তো এর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাববে কীভাবে সুন্দর করে পেন্সিলটি চোখা করা যায়। অথবা সে তখনই পেন্সিল চোখা করতে লেগে যাবে এবং দিনের শেষে হয়তো ঠিকই পেন্সিলটি সুন্দর চোখা করে নিয়ে আসবে কিন্তু কাটতে কাটতে এতই ছোট করে নিয়ে এসেছে যে, তা দিয়ে আপনি লিখতেই পারবেন না। এরা প্রতিটি জিনিসকেই হয় একেবারে নিখুঁত, নয় একেবারে কিছুই না এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। নিখুঁত কর্ম সম্পাদনকারীরা মনের গভীরে সবসময় মনে করে পুরোপুরি না পারলেই শেষ হয়ে গেলাম।

সব কাজের কাজী :সব কাজের কাজীকে কখনো অলস মনে হয় না। কারণ সে সবসময় ব্যস্ত। সবসময় কাজ করতে চায়। সে সবাইকে খুশি করতে চায়। সবার কাজ করে দিতে চায়, কাউকেই না বলতে পারে না। সব কাজের কাজীকে আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হয়, সেই সফল হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। আত্মনির্ভরশীল হওয়া ও সব কাজ করার সংগ্রামে সে তার কাজ ও সময়ের মাঝে সমন্বয় করতে ব্যর্থ হয়। যাদের সে খুশি করতে চেয়েছিল, তাদেরকেও সে খুশি করতে পারে না। কারণ সে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত কাজ হাতে নিয়েছিল।

যেভাবে প্রতিকার

সমস্যাগুলো থেকে প্রতিকার পেতে শুধুমাত্র আপনার ইচ্ছে শক্তিই যথেষ্ট। কেননা নিজের ইচ্ছেশক্তি যতদিন না পর্যন্ত সচল করতে পারছেন, ততদিন পযর্ন্ত অলস জীবনযাপনে আপনি আরো বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়বেন।ইত্তেফাক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV