Monday, 8 June 2026 |
শিরোনাম
বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
সব ক্যাটাগরি

আ’লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সহযোগী!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 93 বার

প্রকাশিত: April 5, 2012 | 8:46 PM

এনা, নিউইয়র্ক :- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিকে সন্ত্রাসীদের সহায়ক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। এর ফলে এসব দলের সমর্থক হিসেবে গত ৬/৭ বছরে যাদের রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর হয়েছে তারা এখনও গ্রীনকার্ড পাননি। বলা হচ্ছে যে, নিরাপত্তার প্রশ্নে আবেদন পেন্ডিং রাখা হয়েছে। শতশত বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের ৫ সহ¯্রাধিক ইমিগ্র্যান্ট এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ২০০১ সালের ১১ মার্চে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রণীত ‘প্যাট্রিয়ট এ্যাক্ট’র মধ্যেই এ ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। সে আইনের পথ ধরে ২০০৫ সালে ‘রিয়েল আইডি এ্যাক্ট’ নামক আরেকটি আইন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাবিশ্বে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে ৩ স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তালিকায়। আর এ তালিকা তৈরী করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। প্রথম স্তর এবং দ্বিতীয় স্তরের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো দেখা যায় স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে। সমস্যা হয়েছে তৃতীয় স্তরের তালিকা নিয়ে। এগুলো সর্বসাধারণ দেখতে পান না। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কর্মরত ফেডারেল কর্মকর্তারা বিষয়টি জানেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট, ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গবেষণারত সুশীল সমাজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে তৃতীয় স্তরের তালিকা নিয়ে সর্বশেষ আলোচনা হয়েছে গত ২০ মার্চ। সেখানেও বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠনকে কেন ঐ তালিকা থেকে অপসারণ করা হবে না তা নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে। ঐ বৈঠকে অংশ নেয়া হিব্র“ ইমিগ্র্যান্ট এইড সোসাইটির সিনিয়র ডাইরেক্টর (ইউএস প্রোগ্রামস এন্ড এডভোকেসী) মিস মেলানি এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের সিনিয়র কাউন্সেল (রিফিউজি প্রটেকশন প্রোগ্রাম) এনওয়েন হাজেজ ই-মেইল যোগাযোগে কয়েকজন ভিকটমকে জানিয়েছেন, ইউএসএ প্যাট্রিয়ট এ্যাক্ট ২০০১ এবং রিয়েল আইডি এ্যাক্ট-২০০৫ সম্পর্কে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুন। সেখানে মুজাহিদীন, ন্যাশনাল ইসলামিক ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান, জমিয়তে ইসলামী, হরকাত-ই ইসলামী, কুর্দিশ ডেমক্র্যাটিক পার্টি, অ্যল বার্মা স্টুডেন্ট ডেমক্র্যাটিক ফ্রন্ট, গডস আর্মি, সুদান পিপল্্স লিবারেশন আর্মি, ন্যাশনাল ডেমক্র্যাটিক এলায়েন্স, ইরিত্রিয়ান পিপ্লস লিবারেশন ফ্রন্ট, কোয়ালিশন ফর ইউনিটি এন্ড ডেমক্র্যাসী, এলায়েন্স ফর ফ্রিডম এন্ড ডেমক্র্যাসী, ভারতের আকালী দল এবং বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ, বিএনপি প্রভৃতি সংগঠনের নাম আর কতদিন তৃতীয় স্তরের তালিকায় থাকবে সে ব্যাপারে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-নেত্রীদের যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোন বাধা না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে এ দুটি দলের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে আপত্তি দেখানো হচ্ছে নিরাপত্তার অজুহাতে। ২০০৭ সালে এসাইলাম মঞ্জুর হয়েছে এমন কয়েক বাংলাদেশী বার্তা সংস্থা এনাকে জানান, তারা গ্রীণকার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু বারবার জানানো হচ্ছে যে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স আসেনি। এভাবে প্রতি বছরই ফি দিয়ে তাদেরকে ওয়ার্ক অথরাইজেশনের কার্ড রিনিউ করতে হচ্ছে। তারা স্ত্রী-সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারছেন না। নিজেরাও দেশে যেতে পারছেন না। এক অসহনীয় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। এ ব্যাপারে ইমিগ্রেশন এটর্নীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের অজুহাত দেখিয়ে নির্দিষ্ট একটি সময়ের বেশী কোন আবেদন ঝুলিয়ে রাখা যায় না। আইন অনুযায়ী আপিল করা যায়। কিন্তু আপিল করতে গিয়ে আগের অনুমতিও যদি বাতিল হয়ে যায়-এ আশংকায় কেউই আপিলের পথে যাচ্ছেন না।

জানা গেছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনালিটি ল’র সেকশন ২১২ (এ) (৩) অনুযায়ী দীর্ঘ একটি তালিকা রয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্টে। এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি অথবা সংগঠনের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার নেই। কোনভাবে কেউ প্রবেশ করলেও তাদেরকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়া হয় না। এমনকি তাদেরকে স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্টের সুযোগও দেয়া হয় না। গত ৬ বছরে এ আইনে অনেক পরিবর্তন-পরিবর্দ্ধন এবং সংশোধন এসেছে। কেউ যদি সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত কোন সংগঠনকে অর্থ সহায়তা কিংবা এক কাপ চা পান করিয়ে থাকে তাহলে তাকেও নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই নিষিদ্ধ ব্যক্তির সন্তান-সন্ততিকেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি না দেয়ার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যরা বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপের প্রকাশ্য প্রশংসা করে আসছেন। কংগ্রেসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান পিটার কিং-এর সাথে গত সপ্তাহে সাক্ষাৎ করেছেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের। সে সময়ও সরকারের সন্ত্রাস নির্মূল সম্পর্কিত কর্মকান্ডের প্রশংসা করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঢাকায় গেলে বেগম জিয়ার সাথেও সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এতদসত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে সন্ত্রাসীদের সহযোগী সংগঠনের তালিকায় কেন রাখা হয়েছে সে প্রশ্ন প্রবাসীদের। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, স্পেশাল রেজিস্ট্রেশন কর্মসূচির আওতায় নেয়া হয়েছিল বাংলাদেশকে। তার বিরুদ্ধে অনেক দেন দরবার হয়। অবশেষে সে কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের নাম প্রথমে প্রত্যাহার এবং পরবর্তীতে সে কর্মসূচি পরিত্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখন ভিন্ন পথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথে বাধা দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলীও ইমিগ্রেশন বিভাগে জানতে চেয়েছিলেন। উত্তরে তারা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের অজুহাত দেখিয়েছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র কেটিকিচেচেক ক্যাপলিন এনাকে বলেছেন যে, তালিকাটি স্টেট ডিপার্টমেন্টের। তারাই ভাল বলতে পারবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বক্তব্য জানার জন্যে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয় কিন্তু কেউ মুখ খুলেননি। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। বুধবার ৪ এপ্রিল বাজারে আসা সাপ্তাহিক ঠিকানায় ‘শতশত বাংলাদেশী গ্রীণকার্ড পাচ্ছেন না’ শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উপরোক্ত পরিস্থিতির আলোকপাত হয়েছে। এর ফলে কম্যুনিটিতেও প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে যে, আওয়ামী লীগের নাম কীভাবে সন্ত্রাসীদের সহযোগী সংগঠনের তালিকায় নেয়া হয়েছে? 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV