ইআরডি প্রতিবেদনের তথ্য : বিশ্বব্যাংকে ড. ইউনূসের নামে নালিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী

ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের কাছে এমন অভিযোগ করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম ভালোভাবে চলছে। এক্ষেত্রে বিরাজমান একটি সমস্যা প্রফেসর ড. ইউনূস। তিনি গ্রামীণ ব্যাংক ছেড়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম অর্থমন্ত্রীকে এ তথ্য জানান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে কোন এনজিও এসব কাজ করছে, তা বলেননি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রতিশ্রুত সহায়তা দেয়নি বিশ্বব্যাংক। অন্যান্য দাতা সংস্থাও এ প্রকল্প থেকে সহায়তা প্রত্যাহার করেছে। বিশ্বব্যাংকের তদন্তে বেরিয়ে আসছে এসএনসি-লাভালিন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সেতুর পরামর্শক নিয়োগ দিতে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা কত শতাংশ ঘুষ চেয়েছিলেন। এ অবস্থায় দুর্নীতির বিষয়টি চাপা দিতে ড. ইউনূস ও এনজিও প্রসঙ্গের অবতারণা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এনজিওগুলোর ভুল তথ্য এবং ড. ইউনূস অবকাঠামো খাতে দেশের সর্ববৃহত্ প্রকল্প পদ্মা সেতুকে অনেকখানি ডুবিয়েছে বলেও মনে করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ঋণদাতা সংস্থাটিকে অর্থায়নে রাজি করানোর ক্ষেত্রে সেসব এনজিওর শক্তিশালী লবিংয়ে টিকতে পারেনি সরকারি লবিং। ইআরডি’র এ প্রতিবেদনটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিতে কোনো সমস্যা নেই। এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে তিনি অবগত। বাংলাদেশের এনজিও নেতারা তাকে নিয়মিত অবহিত রাখছেন। তিনি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সঙ্কটের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম ভালোভাবে চলছে। তিনি এক্ষেত্রে বিরাজমান একটি সমস্যা হিসেবে প্রফেসর ড. ইউনূসকে চিহ্নিত করেন এবং গ্রামীণ ব্যাংক ছেড়ে যেতে তার অনীহাকে তিনি এজন্য দায়ী করেন। এ সময় বাংলাদেশে দুর্নীতি কমিয়ে আনার পরামর্ম দেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুর্নীতিকে না বলার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যানদের কাছে ড. ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি দেশটিতে ভীষণভাবে সমাদৃত। ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল ও কনগ্রেশনাল সম্মাননার দুটি মেডেলই অর্জন করেছেন এবং একই সঙ্গে নোবেল পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপকালে জিম ইয়ং কিমকে সহযোগিতা দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইন্দ্রবতী মুলায়িনি এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস ঝুট উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। তিনি এদেশের উন্নয়ন কৌশল, বিশেষ করে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, রফতানি, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবহার নিয়ে ধারণা দেন। অর্থমন্ত্রী দেশের অবকাঠামো, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সঙ্কট এবং বেকারত্ব সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন।আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests