Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

ঈশ্বরের সেবক আর্চবিশপ থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী সি.এস.সি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 101 বার

প্রকাশিত: February 9, 2020 | 8:40 AM

ফ্রান্সিস মানিক ফলিয়া : ঈশ্বরের সেবক আর্চবিশপ থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দের ১৮ই ফেব্রুয়ারী ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছিল নিকোলাস কমল গাঙ্গুলী এবং মাতা রোমানা কমলা গাঙ্গুলী। বাবার নামের সাথে মিল রেখে ডাক নাম রাখা হয় অমল। তিন ভাইয়ের মধ্যে আর্চবিশপ ছিলেন মেঝ। তার বড় ভাই ডা. জেভিয়ার গাঙ্গুলী এবং ছোট ভাই এন্থনী বিমল গাঙ্গুলী।
জন্মের দিন থেকেই তার জীবন ছিল আর্শীবাদে পরিপূর্ণ। ১৮ই ফেব্রুয়ারী ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দ ছিল বুধবার এবং ঐদিন খ্রীষ্টমন্ডলীর ছিল ‘ভষ্ম বুধবার’। ভষ্ম মানে ছাই, মাটি, ধুলি। আমাদের বিশ্বাস মাটি থেকেই আমাদের উৎপত্তি এবং মৃত্যুর পর মাটিতেই গমন। সেই বিশ্বাসে ওইদিন কপালে মাটির চিহ্ন নিয়ে মৃত্যুকেই স্মরণ করা হয়।
১৯২০ খ্রীষ্টাব্দের ২৬ শে ফেব্রুয়ারী তাকে দীক্ষা¯œাত করা হয়। দীক্ষান্সানের সময় তার ধর্মীয় এবং আর্শীবাদের নাম রাখা হয় “থিওটোনিয়াস”। হাসনাবাদ ক্যাথলিক মিশনের পাশেই তাদের বাড়ী হওয়াতে খুব ছোট বেলা থেকেই তিনি ধর্মের প্রতি বেশ অনুরক্ত হয়ে পড়েন। প্রতিদিন তিনি তার মা, ঠাকুমার সাথে সকালের মিশায় অংশগ্রহণ করতেন। বাড়ীতে এসে মায়ের সাথে গৃহস্থলীর সব কাজে মাকে সাহায্য করতেন। তার মা রোমানা কমলা গাঙ্গুলী তৎকালীন সময়ে কোলকাতা থেকে গ্রাজুয়েট করা হওয়া সত্ত্বেও ধর্মের প্রতি ছিল তার নিবিড় বন্ধন। ছোট অমলকে নিয়ে প্রতি দিন সকাল সন্ধ্যায় প্রার্থনা করতেন।
হাসনাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। এরপর বান্দুরা হলিক্রস হাইস্কুল এবং ক্ষুদ্রপুষ্প সাধ্বী তেরেসা সেমিনারীতে পড়াশুনা করেন। তার মেধা ছিল এতই প্রখর যে প্রতি শ্রেণীতেই তিনি প্রথম হতেন। তখনকার সময়ে মাত্র একটি বোর্ডের মাধ্যমে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা হতো। ১৯৪০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি এস,এস,সি পরীক্ষায় ১০ম স্থান অধিকার করে বিরল মেধার স্বাক্ষর রাখেন। তৎকালীন সময়ে আমাদের দেশে কোন মেজর সেমিনারী ছিল না। তাই তিনি দর্শন শাস্ত্র এবং ঐশ তত্ব পড়াশুনার জন্য ভারতের রাঁচীতে অবস্থিত ‘সেন্ট আলবার্ট’ মেজর সেমিনারীতে গমন করেন। সেখানে দুই বছর পড়াশুনা শেষ করে ১৯৪৬ খ্রীষ্টাব্দের ৬ জুন বিশপ অস্কার কর্তৃক ‘যাজক’ (ক্যাথলিক ফাদার, প্রিষ্ট) পদে অভিষিক্ত হন।
ভারতের রাঁচী থেকে ফিরে আসার পর প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন সহকারী শিক্ষক হিসাবে ক্ষুদ্রপুষ্প স্বাধ্বী তেরেসা সেমিনারী বান্দুরাতে। বিষয় ছিল ধর্ম ও ল্যাটিন ভাষা। আবার তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন। সেখানে প্রথমে দর্শন শাস্ত্রে বি.এ এবং এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন এবং ডক্টরেট করেন ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দে। তার থিসিস এর বিষয় ছিল ‘পুরুষ ও প্রকৃতি পতঞ্জলী, সংখ্যা ও যোগ। তিনি দর্শনের সাথে জীবনের এক নিগৃঢ় সম্পর্ক দেখেছেন। তিনি দেখেন যে, ভারতীয় দর্শণ শুধু তত্বজ্ঞান নয় বরং সত্যের সন্ধ্যান এবং আত্বিক উপলদ্ধির একটি প্রয়োগিক দিক। তিনি মানব দেহের যে চমৎকারিত্ব, গুণ, মর্যাদা, মূল্য সেই বিষয়গুলিকে বিশ্লেষণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে আসার পর ড. টি.এ গাঙ্গুলী প্রথমে সেন্ট গ্রেগরীজ কলেজ লক্ষ্মীবাজার ঢাকা এবং পরে নটরডেম কলেজ মতিঝিলে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। যুক্তিবিদ্যার শিক্ষক এবং ডিরেক্টর অব ষ্ট্যাডীজ এর দায়িত্ব পালন করেন।
ড. ফাদার থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী ১৯৫৮ খ্রীষ্টাব্দে অস্থায়ী ভাইস প্রিন্সিপাল এবং ১৯৫৯ খ্রীষ্টাব্দে ভাইস প্রিন্সিপাল এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতপর ১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দের ৩০ শে আগষ্ট নটরডেম কলেজের প্রিন্সিপাল হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম বাঙ্গালী প্রিন্সিপাল।
পাশাপাশি ফাদার টি.এ. গাঙ্গুলী মাত্র ৪দিন পর ১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দের ৩রা সেপ্টেম্বর ‘বিশপ’ হিসাবে মনোনীত হন। এবং সর্বোপরি ১৯৬৭ খ্রীষ্টাব্দের ২৩ শে নভেম্বর আর্চবিশপ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ তথা বিশ্বব্যাপী বাঙ্গালীদের মধ্যে তিনিই প্রথমে দায়িত্বে ভূষিত হন। আর্চবিশপ বাংলাদেশ ক্যাথলিক মন্ডলীর সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদ, সামাজিক নেতা, ধর্মীয় গুরু।
আর্চবিশপ হিসাবে তিনি বাংলাদেশ খ্রীষ্ট মন্ডলীতে মাত্র ১০ বছর সেবা করার সুযোগ পান। ১৯৭৭ খ্রীষ্টাব্দের ২রা সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৭ বৎসর।
এমন একটা সময়ে তিনি বাংলাদেশ খ্রীষ্ট মন্ডলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন যখন চারিদিক সমস্যার জর্জরিত। যখন চারিদিক স্বাধীনতার আন্দোলনে উজ্জবিত। বাংলাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি হাজারো মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্নভাবে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেন। স্বাধীনতার পর বাংাদেশ পূর্ণগঠণে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে দেখা করে দুই লক্ষ টাকার চেক এবং নিজের গলার স্বর্ণের চেইন হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি মিশন ভিত্তিক দল গঠণ করে দেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। দেশকে সাহায্য করার জন্য তিনি Core প্রতিষ্ঠা করেন। যার বর্তমান নাম (Caritas) কারিতাস। যা অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গঠনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
ঈশ্বরের সেবক আর্চবিশপ টি.এ. গাঙ্গুলী বাংলা, ইংরেজী, ল্যাটিন, ফরাসী, জার্মানী, ইতালী, উর্দু, হিন্দি, সংস্কৃতসহ মোট নয়টি ভাষায় কথা বলা এবং লেখার পারদর্শী ছিলেন। তার পরেও বাংলা ভাষাতেই সব সময় কথা বলতেন। দেশীয় সবকিছুই তার কাছে প্রিয় ছিল। রবীন্দ্র সঙ্গীত অসম্ভব ভালবাসতেন। মাছ এবং ভাত ছিল তার প্রিয় খাবার। বিশেষ করে পছন্দ করতেন ছোট মাছ, পাট শাকের ঝোল চিংড়ি মাছ দিয়ে। খুবই সাধাসিধে জীবন যাপন করতেন তিনি।
জীবিত থাকাকালীন অবস্থাতেই তাকে আর্চবিশপ লরেন্স সি. গ্রেণার দিনের তারা নামে আখ্যা দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় তাকে বলা হতো ‘জীবন্ত সাধু’ এবং মন্ডলীর গৌরব বলে।
তার মৃত্যুর ২৯ বৎসর পর ২রা সেপ্টেম্বর ২০০৬ খ্রীষ্টাব্দে তাকে ‘ঈশ্বরের সেবক’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। সাধুু হবার প্রথম ধাপ (১) ঈশ্বরের সেবক (২) শ্রদ্ধেয় (৩) ধন্য (৪) সাধু। পৃথিবী ব্যাপী এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে Saint বা সাধু ঘোষনা করা হয়। বাংলাদেশ মন্ডলী তাকে পেয়েছিল প্রথম বাঙ্গালী অধ্যক্ষ নটরডেম কলেজ ঢাকা, প্রথম বাঙালী আর্চবিশপ বাংলাদেশ। আজ আমরা আশা করে আছি তার শততম জন্ম বার্ষিকীতে আমরা পাব প্রথম বাংলাদেশী বাঙালী Saint সাধু আর্চবিশপ থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী আমরা পালন করছি। তেমনি ভাবে সারা পৃথিবী ব্যাপী বাংলাদেশী খ্রীষ্ট্রভক্তগণ আমরা পালন করছি আর্চবিশপ টি.এ. গাঙ্গুলীর জন্মশত বার্ষিকী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে মাত্র ১ মাসের বড় ছিলেন তিনি। দুই জনেই ছিলেন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। জাতির জনক মারা যান ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ খ্রীষ্টাব্দ আর টি.এ. গাঙ্গুলী মারা যান ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ খ্রীষ্টাব্দে।
শততম জন্ম জয়ন্তীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলী। পৃথিবীব্যাপী বাঙালী খ্রীষ্টভক্তবৃন্দ আশায় আছি কবে পাব আমাদের প্রথম বাংলাদেশী বাঙালী Saint বা সাধুকে। শুভ জন্মদিন ঈশ্বরের সেবক আর্চবিশপ থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী।

-লেখক : ফ্রান্সিস মানিক ফলিয়া

নিউজার্সী, ইউএসএ। মোবাইল: ২০১-৯৯৩-০৮৩৮

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV