Saturday, 7 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ও সিনিয়র সিটিজেন ফোরাম অব বাংলাদেশী কমিউনিটি’র ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
সব ক্যাটাগরি

উইকিলিকস: মার্কিন নথিতে বাংলাদেশের এক-এগারো—১ : মাইনাস টু-র কথা শুনে কৌতুক করলেন হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 42 বার

প্রকাশিত: January 10, 2013 | 4:44 PM

প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও  আনোয়ার চৌধুরী, সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার

প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও  আনোয়ার চৌধুরী, সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার |||||

 

মশিউল আলম : মার্কিন গোপনীয় তারবার্তা | আজ থেকে ছয় বছর আগে বাংলাদেশের দেড় দশকের সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে সব রাজনৈতিক কার্যকলাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। স্থগিত করা হয় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক নাগরিক অধিকারগুলো। ৩০ জানুয়ারির মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ১৫ হাজার ব্যক্তিকে। শুরু হয় দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বৃহৎ দুই দলের প্রধান দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত করার প্রয়াস। পরবর্তী দুটি বছর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্বাধিক আলোচিত পর্ব: লোকমুখে সংক্ষেপে এক-এগারো। এক-এগারো সম্পর্কে নানা ধারণা রয়েছে। কিছু ধারণা হয়তো বাস্তবতার কাছাকাছি; আর কিছু ধারণা তৈরি হয়েছে পর্যাপ্ত সঠিক তথ্যের অভাব ও জল্পনাকল্পনার প্রাচুর্য থেকে। গোপনীয়তা-বিরোধী ওয়েবসাইট উইকিলিকস যে আড়াই লক্ষাধিক গোপনীয় মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা প্রকাশ করেছে, সেই বিশাল ভান্ডারে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসেরও হাজার দুয়েক তারবার্তা আছে। ১৯৮৭ থেকে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে সেগুলো পাঠানো হয় ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র বিভাগের সদর দপ্তরে। সেসবের মধ্যে ২০০৭ ও ২০০৮ সাল, অর্থাৎ সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের জরুরি অবস্থাকালেরও প্রচুর তারবার্তা আমরা পেয়েছি। কী আছে সেসব তারবার্তায়? এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আমরা সেটাই দেখার চেষ্টা করব।
পটভূমি ২০০৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ। বিএনপির রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরও প্রধান উপদেষ্টা। ২০০৬ সালের অক্টোবরের শেষে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের প্রবল বিরোধিতা ও রাজপথে ব্যাপক সহিংসতার মুখে বিচারপতি এম এ হাসান প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করলে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেকেই ওই পদে নিয়োগ দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ‘বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতাদানের উদ্দেশ্যে’ তাঁর একক সিদ্ধান্তে ৯ ডিসেম্বর রাত থেকে দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে মতভেদের কারণে চারজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন ডিসেম্বরেই। আওয়ামী লীগের প্রবল বিরোধিতার মুখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবশেষে তিন মাসের ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহফুজুর রহমানকেও মানতে দলটি রাজি নয়। এর মধ্যে ২২ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে; আওয়ামী লীগ তা শুধু বর্জনই করেনি, প্রতিহত করারও ঘোষণা দিয়েছে। দেশব্যাপী তাদের অবরোধ কর্মসূচিতে ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে ডিসেম্বর থেকেই বিদেশি কূটনীতিকেরা দুই প্রধান দলের মধ্যে সংলাপ ও আপস-সমঝোতা ঘটানোর চেষ্টা করে চলেছেন, কিন্তু তার কোনো সুফল ফলেনি।
হাসিনা, বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী ঢাকায় তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিসের লেখা একটি গোপনীয় তারবার্তায় দেখা যাচ্ছে, তিনি ও তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী ২০০৭ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা হাসিনাকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রথম সারির কয়েকজন নেতা তাঁদের কাছে এসেছিলেন। তাঁরা চান, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানো হোক, প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপও হতে পারে। আওয়ামী লীগের ওই নেতাদের প্রতি বিএনপির একটা অংশের নেতাদেরও সমর্থন আছে। শেখ হাসিনা এসব কথা উড়িয়ে দেন। বিউটেনিসের তারবার্তার ভাষায়, ‘এমনকি তিনি এই বলে কৌতুকও করেন যে, তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে পাঠানো হলে সেখানে নাতনির সঙ্গে তাঁর দেখা হবে।’ বিউটেনিসের ভাষ্য, শেখ হাসিনা নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন ছিলেন না। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে, অথবা জরুরি অবস্থার অধীনে সামরিক বাহিনী যদি হস্তক্ষেপ করে, তবে তা নিয়ে শেখ হাসিনা কোনো সমস্যা বোধ করেন না। শেখ হাসিনা দুই কূটনীতিককে বলেন, ‘সামরিক বাহিনী যদি হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং “সবকিছু ঠিকঠাক করে দিতে পারে”, তবে ভালোই হবে।’ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসা করেন, যে রাজনীতিকেরা সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছেন, সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর আবার তাঁদের হাতেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাইবেন কেন? তখন হাসিনা বলেন, তিনি সামরিক আইনের সম্ভাবনা দেখছেন না। তাঁর মতে, সামরিক বাহিনীতে এমন কোনো কর্মকর্তা নেই, যিনি একটি সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যথেষ্ট দৃঢ়চেতা। উপরন্তু, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের চেয়ে বেশি সময় জনগণ সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক বাহিনী যদি চলে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ‘সহিংসতা ও রক্তপাত হবে, দেশ অচল হয়ে যাবে।’ একপর্যায়ে বিউটেনিস ও আনোয়ার চৌধুরী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চান, একটা সমাধান খুঁজে পেতে খালেদা জিয়া যদি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে তিনি কী করবেন? হাসিনা বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন। দুই দূত বিএনপির মধ্যকার কিছু নেতার প্রস্তাবিত এমন একটি সম্ভাব্য চিত্র বর্ণনা করেন, যেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এই বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যে পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে আবার নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হাসিনা প্রস্তাবটি তৎক্ষণাৎ খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, বিএনপি আবার ক্ষমতায় যাবে—এ রকম একটা সমাধানের চেয়ে বরং সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতায় যেকোনো সমাধানের প্রতিই তিনি সমর্থন জানাবেন। শেখ হাসিনা দুই কূটনীতিককে বলেন, তাঁর কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন, কারণ ইয়াজউদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার পদে নিজেকেই নিয়োগ দিয়েছেন—সামরিক বাহিনী এটা মেনে নিয়েছে, এ জন্য তাঁর নেতা-কর্মীরা ইতিমধ্যেই তাঁকে দোষারোপ করছেন। অনেকে এই যুক্তি দিচ্ছেন যে, রাষ্ট্রপতিকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন সাজানোর সুযোগ দেওয়ার চেয়ে রাজপথে সহিংসতা চালিয়ে যাওয়াই ভালো। তাঁদের যুক্তি, রাজপথে সহিংসতার ফলেই বিচারপতি এম এ হাসান প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন। সুতরাং এটাই দাবি আদায়ের সঠিক পন্থা। বিউটেনিস লিখেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনের ব্যাপারে শেখ হাসিনা জোরের সঙ্গে দাবি করেন, ইয়াজউদ্দিনকে অবশ্যই প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজ ও নির্বাচন কমিশনার জাকারিয়া ছুটিতে গেছেন, এটাই যথেষ্ট নয়, তাঁদের দুজনকেই পদত্যাগ করতে হবে, তারপর নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস শেখ হাসিনাকে স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি আগের মাসে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ যেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করে। তারপর বিউটেনিস জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনার কথা উত্থাপন করলে শেখ হাসিনা ‘কিছুটা আগ্রহ প্রকাশ করেন, কিন্তু এটা পরিষ্কার যে তিনি দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটকে বিভক্তকারী রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানে জাতিসংঘের মধ্যস্থতা নয়, বরং জাতিসংঘের দ্বারা কার্যকরভাবে পরিচালিত নির্বাচন চান।’ ২০০৭ সালের ৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত ঢাকা, সময় ১০টা ৫২ মিনিটে পাঠানো রাষ্ট্রদূত বিউটেনিসের লেখা ওই গোপনীয় তারবার্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী শেখ হাসিনাকে সেদিন বলেছেন, তাঁরা সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ বা দুই নেত্রীর নির্বাসনের প্রস্তাবকে সমর্থন বা উৎসাহিত করেন না। তাঁরা আরও বলেছেন, তাঁরা সামরিক বাহিনীর যেকোনো ধরনের সংবিধান-বহির্ভূত ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছেন অটলভাবে, তবে তাঁদের মনে হয়েছে যে এই বিষয়গুলোর প্রতি হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা তাঁদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারবার্তাটির শেষ প্যারায় রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস ওয়াশিংটনকে জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে একটি সম্ভাব্য সামরিক সমাধান নিয়ে কয়েক মাস ধরে বেশ জল্পনাকল্পনা চলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি সামরিক বাহিনীর সাধারণ সহযোগিতা, অথবা সাংবিধানিকভাবে জারি করা জরুরি অবস্থার অধীনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা সক্রিয় হতে পারে। অথবা সামরিক বাহিনীর সমর্থিত একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করা হতে পারে, যা হবে সংবিধান-বহির্ভূত। অথবা সরাসরি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে যেতে পারে। এসব ‘জল্পনাকল্পনা’র বিপরীতে বিউটেনিস তাঁর সদর দপ্তরকে লিখেছেন, ‘ঢাকার মার্কিন দূতাবাস প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনড়ভাবে এই অবস্থান ব্যক্ত করে এসেছে যে, আমরা সামরিক বাহিনীর যেকোনো ধরনের অসাংবিধানিক পদক্ষেপের বিরোধী, এমনকি সম্ভব হলে জরুরি অবস্থা জারি থেকেও বিরত থাকতে হবে। সামরিক বাহিনীর ভেতরে দূতাবাসের সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলে চলেছে যে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নেই এবং সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপ সংবিধানের আওতার ভেতরেই থাকবে।’প্রথম আলো
আগামীকাল পড়ুন: রাষ্ট্রদূতের কথায় রেগে গেলেন খালেদা
[‘প্রথমা’ থেকে প্রকাশিতব্য বই উইকিলিকসে বাংলাদেশ অবলম্বনে।] মশিউল আলম: সাংবাদিক [email protected]

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV