Saturday, 25 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

উচ্চশিক্ষাই যথেষ্ট নয়, চাই আত্মবিশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 63 বার

প্রকাশিত: February 8, 2012 | 8:12 AM

উপমা মাহবুব : চারপাশে তাকিয়ে আজকাল একটি কথা খুব মনে হয়। নারীদের অনুন্নতির অন্যতম একটি কারণ আত্মবিশ্বাসের অভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পড়ালেখার অংশ হিসেবে একটি গবেষণায় অংশ নিয়েছিলাম, যার প্রতিপাদ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা নিজেদের জীবনযাপন-বিষয়ক সিদ্ধান্ত নিজেরা কতটুকু নিতে পারেন তা খতিয়ে দেখা। দেখা গেল, মেয়েরা অধিকাংশই নিজেদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বন্ধুবান্ধব এসব বিষয়ে খুবই স্বাধীন। সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বন্ধুর বাসায় যাওয়া, উচ্চশিক্ষার বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন—এসব বিষয়েও স্বাধীনতা ভোগকারী মেয়ের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশ মেয়েই (প্রেম আছে এবং প্রেম নেই দুই ধরনেরই) মা-বাবার পছন্দে বিয়ে করবেন বলে মত দিলেন। যে নারীর কোনো প্রেমিক নেই তিনি তাঁর পরিবারের ওপর পাত্র নির্বাচনে নির্ভরশীল হতে পারেন হয়তো বা, কিন্তু কাউকে ভালোবাসব অথচ তাঁকে শুধু তখনই বিয়ে করব, যদি পরিবার রাজি হয়—এ ধারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অর্থাৎ আমরা উচ্চশিক্ষিত নারীরা ছোটখাটো অনেক বিষয়েই আত্মসচেতন ও আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু বিয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমাদের অধিকাংশেরই আত্মবিশ্বাস কোথায় যেন হারিয়ে যায়।
আমার মতে এর পেছনে মূল কারণ হলো, নিজেই অনেক কিছু করতে পারি—এই বিশ্বাসের অভাব। একজন উচ্চশিক্ষিত নারী কেন বিশ্বাস করেন না যে পড়ালেখা করে এমনভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব যে পরিবারে স্বামীর পাশাপাশি আমারও অনেক বড় অবদান থাকবে। কেন আমার পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের অর্থবিত্ত ও তাঁর চাকরি বড় বিবেচ্য হবে? একজন উচ্চশিক্ষিত নারী যে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, তাতে দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব সুন্দরভাবেই একটি পরিবার চলতে পারে।
আমার যদি নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসই না থাকে, তাহলে এত পড়ালেখা করে কী লাভ! আমি কখনোই এককভাবে শুধু স্বামী বা তাঁর পরিবারের দোষ দিই না। একজন উচ্চশিক্ষিত নারী, যিনি রাস্তায় বেরোতে ভয় পান, ইলেকট্রিক বিল দিতে কিংবা বাসে করে একা ঢাকা-চট্টগ্রাম যেতে না পারেন না, তাঁকে তো সারা জীবন তাঁর স্বামী আর ছেলের ওপর নির্ভর করে থাকতেই হবে। তাই শুধু সমাজব্যবস্থাকে দোষ দিলেই হবে না, নিজেরও চেষ্টা থাকতে হবে, সাহস সঞ্চয় করতে হবে। আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। একজন নারী আত্মবিশ্বাসী এবং যোগ্য হলে তিনি কর্মক্ষেত্র কিংবা পরিবার—সবখানেই সমাদৃত হন, সম্মান লাভ করেন। অধিকার অর্জন করে নিতে হয়। আমার কোনো চেষ্টা নেই, সাহস নেই, আমি পরিবারের কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারি না, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি লাগে, রিকশায় কোথাও যেতে হলে বাবা বা ভাইকে সঙ্গে যেতে হয়—এ রকম উচ্চশিক্ষিত কিন্তু নির্ভরশীল নারীর সংখ্যা মোটেও কম নয়। একজন নারী কেন নিজের অর্থে ফ্ল্যাট-জমি কেনার, নতুন মডেলের গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখেন না? কেন সব সময় স্বামীকেই গাড়ি-বাড়ি নামক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হয়? আমাদের স্বপ্নের পরিধি খুব ছোট বলেই আমরা সামান্য চাকরি করে অথবা কোনো চাকরি না করেই সন্তুষ্ট থাকি। অথচ আমাদের চারপাশেই অনেক নারী তাঁদের যোগ্যতা দিয়ে পুরুষ সহকর্মীদের ডিঙিয়ে পদোন্নতি পাচ্ছেন। সবার সঙ্গে সমান পাল্লা দিয়ে বহুবিধ পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। তাঁদের সংখ্যা এখনো খুব কম, অথচ উচ্চশিক্ষা লাভ করছেন বা করেছেন, এমন নারীর সংখ্যা কিন্তু অনেক।
আমাদের চারপাশ মোটেই নারীবান্ধব নয়, এটি সত্যি। কিন্তু আমরা উচ্চশিক্ষিত নারীরাও যদি ঘরের মধ্যে বসে থেকে শুধু সমান অধিকারের জন্য হাহাকার করি, তাতে কোনো লাভই হবে না। অধিকার পেতে হলে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। বেগম রোকেয়া বহু বছর আগেই বলে গেছেন যে একটা গাড়ির সামনের চাকা (পুরুষ) আর পেছনের চাকা (নারী) উভয়ই সমান না হলে গাড়িটা চলবে না। আমরা এত পড়ালেখা করেও যদি পেছনের ছোট চাকাই রয়ে যাই, তাহলে সমৃদ্ধি নামের গাড়িটা সব সময় থেমেই থাকবে, চলার গতি পাবে না।প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV