ওসামা বিন লাদেনের উত্থান-পতন
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: আমেরিকার বিশেষ বাহিনী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তরে আবোটাবাদে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। মার্কিন বাহিনীকে এ অভিযানে সহায়তা করেছে পাকিস্তান। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার থেকে বাড়িটিতে নামে। পরে তারা লাদেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ, কংগ্রেস সূত্র ও অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা সিএনএন এ কথা জানায়। এই সময় লাদেন তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিল। এই ঘটনায় একজন নারীসহ তিনজন নিহত হয় তবে এদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এই অভিযানটি চলে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে। অভিযানে মার্কিন পক্ষে কেউ হতাহত হয়নি। তবে অভিযানে যাওয়ার পথে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে হেলিকপ্টারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয় বলে জানায় মার্কিন প্রশাসন। ওসামা বিন লাদেন সৌদি আরবের রিয়াদে ১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ বিন লাদেন। তিনি একজন বড় আবাসন ব্যবসায়ী ছিলেন। মোহাম্মদ বিন লাদেন ৫টি বিয়ে করেন। তার মধ্যে লাদেনের মা সবচেয়ে কনিষ্টতম। লাদেনরা ৫০ ভাই-বোন। ৫০ জনের মধ্যে ২৯ জন ছেলে আর ২১ জন মেয়ে। লাদেন ভাইদের মধ্যে ২১ তম। তার উচ্চতা- ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি। ওসামা বিন লাদেন কিংস আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইকোনমিক্স ও ব্যবসায় প্রশাসনের উপর উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়া তিনি এখানে ইঞ্চিনিয়ারং এর উপর পড়াশুনা করেন। তিনি ইসলাম ধর্মের উপর প্রচুর গবেষণা ও লেখালিখি করেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি জ্ঞাতিবোন নাজুয়ারকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি আরও ৩টি বিয়ে করেন। তিনি ২৬ সন্তানের বাবা। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে সাধারণ অবস্থা থেকে কোটিপতি হয়ে ওঠেন। এসময় তিনি সৌদি আরবের রাজ পরিবারেরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এছাড়া তিনি সুদানে নির্মাণ এবং কৃষি প্রকল্পে দুইশত মিলিয়ন ডলার লগ্নি করেন। ১৯৮০ সালের দিকে ওসামা বিন লাদেন ছিলেন আমেরিকারই ঘনিষ্ঠ মিত্র। আফগানিস্থানে রুশ বাহিনীকে মোকাবিলার জন্য আমেরিকাই প্রশিক্ষণ দিয়ে, সমর্থন দিয়ে তৈরি করে তাকে। ওসামা আমেরিকার সহায়তায় গঠন করে আল-কায়েদা। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর মার্কিনীদের যাবতীয় হিসাব নিকাশের ছক যায় পাল্টে। মিত্র লাদেন পরিণত হন শক্রতে। লাদেন তার শক্র মোকাবিলায় বেছে নেন সন্ত্রাসের পথ। তিনি মনে ইসলাম ভিত্তিক দেশ সমস্ত মিডিল ইষ্ট আমেরিকার প্ররোচনায় আজ মুসলিম দেশ গুলোতে অন্যায়, নারীদের পর্দা , হোমো সেক্স, একে অপরের শত্রতে পরিনত হয়েছে। তিনি ইসলামের শত্রদের উপর যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ইসলামের শত্রদের জন্য তিনি আল-কায়দা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮২ সালে মোটামুটি পাকাপাকিভাবে আফগানিস্থানে চলে আসেন ওসামা। সঙ্গে আনেন পারিবারিক ব্যবসার বুলডোজার, পাহাড় খোদার যন্ত্রপাতি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা করতে, কুচকাওয়াজ এবং সেনা ছাউনির জন্যে জমি সমান করতে, পাহাড় কেটে সর্পিল গুহাশ্রয় তৈরি করতে এসব খুব কাজে লেগেছিল। ১৯৮৪ সালে ওসামা পেশওয়ারে একটা কেন্দ্র তৈরি করেন। আরব দেশগুলো থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকরা প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়ার আগে এখানে জায়গা পেত। ১৯৮৬ নাগাদ আফগানিস্থানের বিভিন্ন জায়গায় সেইসব শিবির তৈরি হল। ১৯৮৮ সালে একটা দফতর তৈরি করলেন ওসামা যে সব মুজাহিদীন নিহত হয়েছেন তাদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য। এই নথির নাম আল কায়দা। ১৯৮৯-তে পাকিস্থান গোয়েন্দা দফতর ওসামাকে সতর্ক করে দিল যে, সিআইএ তাকে এবং আব্দুল আজমকে হত্যা করতে চায়। এরপর তিনি ১৯৯০-এ সৌদি আরবে ফিরে গেলেন। এই বছরই তাকে গৃহবন্দি করা হল। এই সময় সরকার ইসলামের পথ থেকে সরে আসছে বলে ওসামার বিভিন্ন বক্তৃতা এবং চিঠি সৌদি রাজ পরিবারকে বেশ অস্বস্তিতে রাখছিল। যখন ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট সাদ্দাম সত্যিই কুয়েত আক্রমণ করলেন, ওসামা আবার মন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানালেন কুয়েত মুক্ত করার যুদ্ধের জন্য তিনি মুসলমান দুনিয়া থেকে এক লাখ মুজাহিদ এর বাহিনী তৈরি করতে পারেন, এদের মধ্যে অনেকেই আফগান যুদ্ধের পোড়খাওয়া সৈনিক। তা না করে সৌদি সরকার যখন দেশ রক্ষা এবং কুয়েত মুক্ত করার জন্য মার্কিন বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানালেন তখন ওসামা এক বিরাট ধাক্কা খেলেন। শেখ বিন উথায়াসিনের এক ফতোয়াকে হাতিয়ার করে মুজাহিদ সংগ্রহ করে আফগানিস্থান চলে যাওয়া স্থির করলেন ওসামা। কিন্তু পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত। রাজ পরিবারের সঙ্গে পুরনো যোগাযোগ ভাঙিয়ে কোনও রকমে পাকিস্থান যাওয়ার অনুমতি পেলেন ওসামা। মুসলমানরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে এই বিশ্বাস থেকে ১৯৯০ এর দশকে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলার করেন তিনি। এই অভিযোগে তার পিতা তাকে পরিবার থেকে ত্যাজ্য করে এবং সৌদি সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। এসময় তিনি আবার আফগানিস্তানে ফিরে আসেন। এখানে তালেবান শাসনের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন ক্যাম্পে সারা বিশ্ব থেকে আসা ইসলামী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যান তিনি। ১৯৯৮ সালে পূর্ব আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বোমা হামলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তাকে লক্ষ করে আফগানিস্তানের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় করেন। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপর ২০০১ সালে তোড়া বোড়া পর্বতে জঙ্গি অবস্থানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত বোমা হামলার সময় অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলার অনুমোদন দেন লাদেন। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়। লাদেন এই হামলাকে সমর্থন দেন। এরপর আমেরিকা তাকে তাদের হাতে তুলে দিবার জন্য আফগানস্থানের তালেবান সরকারকে চাপ দিতে থাকেন। আফগানস্থানের তালেবান সরকার তাকে ফেরত না দিলে আমেরিকা তালেবান সরকারকে হঠাতে যুদ্ধ শুরু করে। লাদেনকে ধরতে আমেরিকা আড়াই কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেন। আমেরিকার সাথে সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর ১১র ঘটনার পরে বিন লাদেন ও আল-কায়েদার দ্বিতীয় প্রধান আইমান আল-জাওয়াহিরির বক্তব্যসহ ৬০টির বেশি ভিডিও প্রকাশিত হয়।
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








