ওয়াশিংটন পোস্টে নিবন্ধ : বিশ্ব কি আরেকটি খাদ্যমূল্য বৃদ্ধিজনিত সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে?
বিশ্ব কি আরেকটি খাদ্যমূল্য বৃদ্ধিজনিত সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাড প্লামার ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে। গত ৯ই আগস্ট তিনি লিখেছেন যে, বেশি দিন আগের কথা নয়, বিশ্ব একটি ভয়ানক খাদ্যদ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি দেখেছিল। ক্যামেরুন থেকে মিসর হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত দাঙ্গা ছাড়িয়ে পড়েছিল। হাইতিতে পাঁচ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছিল। এমনকি খাদ্যমূল্যের চাপ মোকাবেলা করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের গদি উল্টে গিয়েছিল। ওইসময়ে ফলের দাম ৫০ ভাগের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। নিবন্ধে বলা হয়, ‘আমরা কি চলতি বছরে তেমন আরেকটি ভয়ানক খাদ্য সংকট প্রত্যক্ষ করতে চলেছি? কারণ জাতিসংঘ খাদ্য সংস্থা ফাও-এর এক নতুন রিপোর্ট বলেছে, বর্তমান বিশ্ব বাজারের খাদ্যমূল্য এখন যে অবস্থায় আছে তা ২০০৮ সালের আগুন দামের ধারেকাছেও নয়। এমনকি খরার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গম দারুণভাবে মার খাওয়ার পরেও বিশ্ব বাজারে গমের দাম অস্থিতিশীল হয়নি। কিন্তু উদ্বেগের কারণ আছে। ২০১২ সালের জুলাই মাসে খাদ্যমূল্য হঠাৎ করেই একটা লাফ দিয়েছে। মার্কিন খরার কারণে শস্য-উদ্ভিদের দাম গত মাসেই ২৩ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার অপ্রত্যাশিত শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য গমের দাম ১৯ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সয়াবিনের দাম ইতিমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। তবে আপাতত চাল, গোশত ও দুগ্ধজাত পন্যের দাম সহনশীল থাকার কারণে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ২০০৮ সালের চেয়ে আরেকটি বড় ফারাক হলো, তখন জ্বালানি তেলের খুবই উচ্চ মূল্য ছিল। সেকারণে শিল্প সংক্রান্ত কৃষি যেমন সার থেকে খাদ্য পরিবহন পর্যন্ত সবকিছুতেই তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। চলতি বছরেও তেলের দাম পড়েনি, বেশ ভালোই চড়া আছে কিন্তু তবু তা ২০০৮ সালের পর্যায়ে নেই। বিশ্ব এই অবস্থাটা সমন্বয় করার জন্য সময় পাচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কতিপয় বিশেষজ্ঞ বর্তমান বিশ্ব খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অনুভব করছেন। পরিস্তিতিটা ২০১১ সালের মতো নয়। তখনও খাদ্য মূল্য বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে বিশ্ব খাদ্য মজুদের পরিমাণ কম। সেকারণেই ঝুঁকি আছে যে, খাদ্য উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের খাদ্য রপ্তানি হ্রাস করে দিয়ে বিশ্ব খাদ্য বাজারকে পাগলা করে তুলতে পারে। ২০০৮ সালে তারা কিন্তু এমন কাণ্ডই করেছিল। রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি খাদ্যশস্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও ইঙ্গিত দেন যে, তারা আরো শুল্ক ধার্য করতে পারেন। ফাও-এর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ আবদেলরেজা আবাসিয়ান সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা আশা করি যে, ২০০৭-২০০৮ সালের মতো আমরা খারাপ নীতি অনুসরণ করবো না। নানা ধরনের বাধানিষেধের বেড়াজাল দিয়ে বাজার আটকাবো না। এবং তা যদি না ঘটে তাহলে ২০০৮ সালের মতো খাদ্যের আগুন দাম আমরা প্রত্যক্ষ করব না। কিন্তু যদি তার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে কিন্তু সব কিছুই সম্ভব। এদিকে অনান্য গ্র“পগুলো বলতে শুরু করেছে যে, বিশ্ববাজারে খাদ্যমূল্যের যে অবস্থা এখন বিরাজ করছে তাতে বিশ্ব কৃষিপণ্যের উপর নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত হওয়া উচিত। সেটা করার জন্য ২০০৮ সালের মতো একটি সংকট হলো কি হলো না সেজন্য তাদের বসে থাকা উচিত নয়। অক্সফামের কলিন রোচ এক বিৃবতিতে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ-র উচিত হবে তাদের জীব জ্বালানি কর্মসূচি বাতিল করা, যা কিনা জ্বালানির বিনিময়ে খাদ্যের ধারা পাল্টে দিচ্ছে। তাদের উচিত হবে জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবেলায় আরো দৃঢ়তার সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ এই বৈশ্বিক সমস্যাটি ঘন ঘন খরা বৃদ্ধি করবে এবং তার ফলে সামনের বছরগুলোতে খাদ্য মূল্য বৃদ্ধির কারণ হবে। মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং