কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের গ্রন্থস্বত্ব কার?

ভালবেসে যদি সুখ নাহি তবে কেন, তবে কেন মিছে ভালবাসা, গুলতেকিনকে। গুলতেকিন ছাড়া আর কাকে? কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ তার ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ বইয়ের উৎসর্গপত্রে লিখেছিলেন এসব কথা। বাদল দিনের সে কদম ফুল এক সময় বাসি হয়ে যায়। সময়ের স্রোতে ভালবাসার মানুষ গুলতেকিনকে ছেড়ে হুমায়ূন ঘর বাঁধেন শাওনের সঙ্গে। পৃথিবীর মায়া ছেড়ে হুমায়ূন আহমেদ এখন অনেক দূরে। তবে তার অসংখ্য সৃষ্টি আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। ৬৪ বছরের জীবনে হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ৩৬২টি গ্রন্থ, নয়টি চলচ্চিত্র, অসংখ্য নাটক, গান ও চিত্রকর্ম। তার মৃত্যুর পর এসব সৃষ্টির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তার বইয়ের গ্রন্থস্বত্ব কার- এ প্রশ্ন সবচেয়ে জোরদার হচ্ছে। ১৯৭৬ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিত সকল গ্রন্থের স্বত্ব গুলতেকিন আহমেদের। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬, ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের স্বত্ব হুমায়ূন আহমেদের নিজের। অন্যদিকে, ২০০৫ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের স্বত্ব মেহের আফরোজ শাওনের। তার বইয়ের গ্রন্থস্বত্ব নিয়ে বাংলাবাজারে হুমায়ূনের বইয়ের প্রকাশকরা নানা অভিমত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও সময় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ বলেন, হুমায়ূন আহমেদের অকাল প্রয়াণে তার পরিবার এখনও শোকাতুর। এ নিয়ে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হলে লেখকের পরিবার বিষয়টি ফয়সালা করবে। এতদিন তিনি লেখককে রয়্যালটি দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হলে উত্তরাধিকাররা রয়্যালটি পাবেন বলে তিনি জানান। গ্রন্থস্বত্ব নিয়ে কথা হলে লেখকের বইয়ের দ্বিতীয় প্রকাশক নওরোজ সাহিত্য সম্ভারের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার রসুল জর্জ বলেন, এ বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করতে হবে। লেখকের ছোট ভাই ড. জাফর ইকবাল এ বিষয়ে অভিভাবকের ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্য প্রকাশের ইনচার্জ সাহিদ জানান, বৈধ উত্তরাধিকারকে তারা বইয়ের রয়্যালটি দেবেন। হুমায়ূন আহমেদের গ্রন্থের স্বত্ব নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপনের সঙ্গে। তিনি আইন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে মেধা স্বত্ব পড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, কপিরাইটের বিষয়টি নির্ধারণ করা আছে আন্তর্জাতিক আইন ১৮৮৬ সালের বার্ন কনভেনশনে। সে অনুযায়ী কপিরাইটের আর্থিক অধিকার স্রষ্টার জীবনকাল ও মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারের জন্য ৫০ বছর। তবে কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ সময়সীমা ১০ বছর বাড়িয়ে ৬০ করেছে। লেখক গুলতেকিনকে যেসব বইয়ের কপিরাইট দিয়েছেন সেসব বইয়ের রয়্যালটি পাবেন গুলতেকিন এবং সেসব বইয়ের বৈধ উত্তরাধিকারও তিনি। একই ভাবে শাওনকে যেসব বইয়ের কপিরাইট দিয়েছেন সেসব বইয়ের কপিরাইট থাকবে শাওনের। যেসব বইয়ের স্বত্ব লেখকের নিজের সেসব বইয়ের রয়্যালটি পাবেন তার বৈধ উত্তরাধিকারীরা। উত্তরাধিকারের মধ্যে লেখকের মা, দুই পরিবারের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে এবং স্ত্রী শাওন আইন অনুযায়ী ভাগ পাবেন। তবে স্টুডেন্ট ওয়েজের প্রকাশক বরকতউল্লাহ লেখকের সম্ভাব্য গ্রন্থস্বত্ব বিতর্কের বিষয়ে বলেন, হুমায়ূন আহমেদের অনেক বই প্রকাশকরা মৌখিক চুক্তিতে প্রকাশ করেছেন। আগামী দিনে সেগুলোর স্বত্ব নিয়ে বিতর্কের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests