করোনায় আক্রান্ত হলেও সুস্থ জীবনে ফিরে আসা সহজ হয়, যদি..
আইরিন রহমান : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অংকের মতো বাঁধাধরা নিয়মে চলে না করোনাভাইরাস। বরং নতুন অদৃশ্য এই শত্রু বেশ রহস্যময়। তার চালচলনে ধাঁধা গোলকধাঁধা অনেক বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংযোগে বা কাছাকাছি এলে করোনাভাইরাস অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কোভিড–১৯ কীভাবে সংক্রমিত হয়, সেই বিষয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অন্যান্য শ্বাসনালি সংক্রমণের ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার মতো এই ভাইরাস হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সেই সূত্রে ভাইরাসের গতিবিধি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলছে না বলে জানাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা। তাদের মতে, কারও রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কতটা, কত মাত্রায় দেহে ভাইরাস ঢুকেছে—এসব বিশ্লেষণ করা জরুরি। এপিডেমোলজিস্ট পূরণ শর্মা বলেন, ‘নির্দেশিকা মেনে আক্রান্তের থেকে দূরত্ব বজায় রাখলে, মাস্ক পরলে, বার বার হাত ধুলে ভাইরাসের কোপে পড়ার আশঙ্কা কম। স্বজনেরা কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেছেন তাও দেখতে হবে।
এতদিন ধরে নিউইয়র্কসহ গোটা বিশ্বেই সতর্কতা অবলম্বনের ভিতটা নড়বড়ে ছিল। করোনায় আক্রান্ত এক নারীর প্রসঙ্গে টেনে কুইন্সের এক চিকিৎসক বলেন, ওই নারী দেশ থেকে ফেরার পরে ভাইয়ের বাসায় ছিলেন। গত ২০ মার্চ তাঁর শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়। এখনো পর্যন্ত ভাইয়ের মধ্যে কোনো করোনা-লক্ষণ নেই। লং আইল্যান্ড থেকে একজন জানিয়েছেন, এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজেও তা বুঝতে পারেননি। হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাঁর বন্ধু তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চালক ও করোনায় আক্রান্ত ব্যাক্তি একই গাড়িতে ছিলেন। চালকের রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও ১৫ দিনের মাথায় তার এক সহকর্মীর কোভিড–১৯ ধরা পড়ে এবং তিনি মারা যান। ওদিকে করোনার কবলে পড়া ব্যাক্তিটি শুধু মনের জোর আর সঠিক ডায়েট মেনে চেলে সুস্থ্য হয়ে ঘরে ফেরেন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার কতটা শক্ত, তার ওপরই নির্ভর করছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠাটা। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন, মনোবল অটুট রাখুন। পুস্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন। বাড়িতে হালকা ব্যায়াম, যোগাসন, ইয়োগা করতে পারেন। সুস্থ থাকার জন্য মেডিটেশন করাটা খুব জরুরি। এটি যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে সহায়ক হবে। বাড়িতে গড়ে তুলুন ভিন্ন পরিবেশ, যা আপনার একঘেয়েমি দূর করতে সাহায্য করবে। বিভিন্ন রকমের গেম যেমন মনোপলি, লুডু, কেরাম, দাবা, ডোমিনো, চোর–ডাকাত–পুলিশ, নাম দেশ ফুল ফল ইত্যাদি খেলার আয়োজন করুন, অবশ্যই তা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে। দেখবেন বাচ্চাদের সঙ্গে সঙ্গে আপনি নিজেও ফিরে গেছেন হারানো শৈশবে। যতদূর সম্ভব উদ্বিগ্ন হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
দরকার হলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চোখ সরিয়ে লেখালিখি করুন। গৃহস্থলির কাজ যা এতোদিন সময়ের অভাবে করা হয়নি সেগুলোর দিকে দৃস্টি দিন। ভালো বাছাই করা বই পড়ুন। ছবি আঁকা বা শৈল্পিক যে কোন কমকান্ডে নিজের ব্যস্ত রাখুন। ইউটিউব দেখে বানাতে পারেন বিভিন্ন রকম অলংকারসহ বেকিং কুকিং সহ শখের অনেক কিছুই। পাশাপাশি ফোন করে খোঁজখবর নিন প্রিয়জনদের। সাহায্যের হাত বাড়াতে চাইলে ঘরে বসেই বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য দিয়ে বাঁচাতে পারেন কারও জীবন। মিতব্যয়ী হতে শিখুন, তাতে এই দুঃসময়ে বিপদে পড়বেন না। বাজার করতে যেতে না পারলে সরকার থেকে তিন বেলার খাদ্য দেওয়া হচ্ছে, তা সংগ্রহ করতে পারেন নির্দিধায়। বেশীক্ষণ কারও সঙ্গে ফোনে আলাপ করে সময় অপচয় না করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করার চেষ্টা করুন।
এবার আসি খাদ্যতালিকার প্রসঙ্গে। আসুন বিশেষজ্ঞদের কথা মতো খাদ্য আভ্যাস গড়ে তুলি, যাতে করোনায় আক্রান্ত হলেও সুস্থ জীবনে ফিরে আসা সহজ হয়। লিন প্রোটিন, বেশি প্রোটিন কম চর্বিযুক্ত খাবার লিম্ফোসাইটসহ অন্যান্য ডব্লিউবিসি বাড়ায়। যেমন—
ক. মুরগী, মাছ, ডিমের সাদা অংশ, শিমের বিচি, ডাল ইত্যাদি।
খ. ব্যাড ফ্যাট (স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট) পরিহার করুন। স্যাচুরেটেড ফ্যাট যেমন–গরুর মাংস, খাসির মাংস, চামড়াসহ পোল্ট্রি মাংস, মাখন ইত্যাদি
ট্রান্স ফ্যাট যেমন ফাস্ট ফুড, পিৎজা, কফি ক্রিমার, কুকিজ, কেক ইত্যাদি।
এগুলো এখন না খাওয়াই উত্তম। করোনা বিদায় নিলে তারপর মাঝেমধ্যে মন চাইলে খেয়ে নেবেন।
পরিবর্তে গুড ফ্যাট যেমন—ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খান যা লিম্ফোসাইট বাড়ায়। যেমন—আখরোট, তিসির তেল, পাতাকপি, শিমের বিচি, পালং শাক, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি।
৩. বিটা কারোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। বিটা কারোটিন শরীরের এন কে সেল, লিম্ফোসাইট বাড়ায় যেমন—মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, গাজর, ডালিম, বেদানা ইত্যাদি।
৪. ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, জিংক, সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান। এই উপাদানগুলো ডব্লিউবিসি, ন্যাচারাল কিলার সেল ও লিম্ফোসাইট তৈরীর প্রধান নিয়ামক। বাদাম, কাঠবাদাম, আম, লেবু, কমলা, কুমড়ো, মরিচ, রসুন, গ্রিন টি ইত্যাদি। এই উপাদানগুলোর দৈনিক শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী যদি আপনি খেতে না পারেন।
যদি ঘাটতি রয়ে যায়, তাহলে ভাবুন অনুরূপ অবস্থায় আপনার শরীর করোনা দিয়ে আক্রান্ত হলে কি অসহায় আত্মসমর্পণই না করতে হবে শরীরকে তার সামনে। পাশাপাশি ওভার দ্যা কাউন্টার ভিটামিন ডি, বি, কে, জিংকসমৃদ্ধ ভিটামিন সি ট্যাবলেট খান রোজ নিয়ম করে। লেবু চায়ে মধু দিয়ে খান দিনে অন্তত দু থেকে তিনবার।
এ ছাড়া আদা, লং, দারুচিনি দিয়ে গ্রিনটি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কালোজিরা, বেশি করে রসুন, দারুচিনি, শুকনা মরিচ, ধনেপাতা, সরিষার তেল দিয়ে চট করে বানিয়ে নিতে পারেন ভর্তা যা কিনা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন, তাতে করে শরীর থাকবে সতেজ।
রাতে দুটি পাত্র নিয়ে একটিতে কালোজিরা গুঁড়া দুই টেবিল চামচ দিয়ে বোতলের মুখ বন্ধ করে রাখুন, অন্যটিতে আট/দশটি কাঁচা রসুন দিয়ে পানি ভর্তি করে রেখে দিন সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন এই পানি। দেখবেন, শরীর মন সবই ভাল থাকবে। ঘরে হিউম্যানডিফ্যায়ার চালু রাখতে পারেন। সবশেষে যা না বললেই নয়, তাহলো পরিস্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। আর একেবারেই জরুরি দরকার ছাড়া বাইরে যাবেন না। বিপদে একে অন্যর পাশে দূর থেকে হলেও দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। -আইরিন রহমান, নিউইয়র্ক।
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং