Saturday, 25 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

করোনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং দুর্নীতিবাজ শক্তিশালী মহল

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 138 বার

প্রকাশিত: July 12, 2020 | 11:22 AM

রণেশ মৈত্র : চার মাস যাবত করোনা সংক্রমণ দেশের সকল স্তরের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এভাবে মৃত্যুর মিছিল, নিকট ও বিশিষ্টজনদের অনাকাংখিত বিদায়, ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতাল, বেড, বিশেষ ধরণের নিরাপত্তামূলক পোষাক, আই.সি.ইউ, অক্সিজেন, করোনা পরীক্ষার কিট ও ল্যাব প্রভৃতির নিদারুণ স্বল্পতা, পথে-ঘাটে বহু রোগীর মৃত্যু, ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, বিচারক, সাংবাদিক, শিল্পী, সাধারণ স্বল্পবিত্ত, নি¤œবিত্ত সহ সকল স্তরের নারী-পুরুষের হাজারে হাজারে সংক্রমণ, দেশব্যাপী ভাইরাসটির বিস্তৃতি, হাজার হাজার মৃত্যু-কোনদিন অতীতে দেখি নি।
রোগী আছে কিন্তু চিকিৎসা নেই, প্রতিষেধক নেই, প্রতিরোধক নেই, এমন রোগের কথাও কোনদিন শুনি নি।
কিন্তু এই ভয়াবহতা বাঙালি জাতির চোখ খুলে দিতে সহায়ক হলো আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বহুমুখী দুর্বলতা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্রমোন্নতি সাধনে আমাদের রাষ্ট্রীয় অবহেলা-এ সবই আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যেন। জানি না, মানুষ বাঁচানোর জন্য অপরিহার্য্য উন্নত, যুগোপযোগী, বিজ্ঞান সম্মতভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন বাস্তবে রাষ্ট্রের কাছে সর্বাধিক প্রাধান্য পাবে কিনা। অন্তত ২০২০-২১ এর সাম্প্রতিক অনুমোদিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য যে বরাদ্দ ধরা হয়েছে তাতেই বুঝা যায়-আমরা এখনও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে গতানুগতিক চিন্তার মধ্যেই আটকে রেখেছি।
সম্ভবত: আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতির মৌলিক বিষয়গুলিও ভুলে গিয়েছি। ঐ মৌলিক প্রতিশ্রুতিগুলি যথার্থভাবে বিধৃত হয়েছিল বাহাত্তরের সংবিধানে। সেখানে স্পষ্টাক্ষরে লেখা হয়েছিল-খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারভূক্ত। এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা যদি বিগত দিনগুলিতে আমরা মেনে চলতাম-তা হলে আজ আর করোনার চিকিৎসার ব্যাপারে আমাদেরকে এমন হিমসিম খেতে হতো না।
আমাদের জনসংখ্যা ১৭ কোটি বা তার কাছাকাছি। প্রতি ২০০ নাগরিকের জন্য একটি করে বেড কেন থাকবে না? বাস্তবে আছে কত? দু’হাজার নাগরিকের জন্যও একটি বেড নেই। রোগীরা ভর্তি হতে গেলেই জবাব আসে বেড খালি নেই। ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় বেড তো খালি নেই-ই, রোগীরা (নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে) অনেকেই মেঝেতে চাদর পেতে শুয়ে আছেন।
আবার, বেসরকারী হাসপাতালগুলিতে দৃশ্য সম্পূর্ণই ভিন্ন। অনেক বেশী ছিমছাম। সর্বত্র এসির নিয়ন্ত্রণ। নির্দিষ্ট সংখ্যক বেড অনুযায়ী ভর্তি। রোগীর স্বজনেরা যদি বিপুল ব্যয় বহন করতে পারেন সে ক্ষেত্রেই কেবল তাঁরা সুচিকিৎসা পেতে পারেন।
আর সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি হওয়াই দুরুহ। দিনের পর দিন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য ঘুরেও ব্যর্থ হওয়ার ফলে বাড়ীতেই মৃত্যু বরণ করতে বাধ্য হন এমন উদাহরণের অভাব নেই। আবার কায়ক্লেশে ভর্তি হতে পারলেও দেখা যায় ডাক্তার হয়তো ঠিকমত দেখতে আসেন না, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাক্ষাত পাওয়া যায় কেবলই অর্থের বিনিময়ে, ওষুধ কিনে দিতে হয় হাসপাতাল সংলগ্ন দোকানগুলি থেকে। অথচ ওষুধ বাবদ প্রতি বছর সরকারের ব্যয় হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। হাসপাতালে সরকারি টাকায় কেনা ওষুধই চলে যায় পাশর্^বর্তী দোকানগুলিতে এবং সেখান থেকে কিনে খেতে হয় রোগীকে বিনা পয়সায় তার প্রাপ্য ঐ ওষুধগুলি।
সংবিধানে লেখা থাকা মৌলিক অধিকারগুলির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দুটি হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। কিন্তু প্রতি বছর সরকার এই দুটি খাতে যে অর্থ বরাদ্দ করে থাকে তাতে সকল মানুষের ঐ দুটি মৌলিক অধিকার কার্য্যত: অস্বীকৃত হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশ^বিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের সংখ্যা অতীতের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে-বেড়েছে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যাও। কিন্তু শিক্ষার মান ক্রম:ক্ষীয়মান। এই দুষ্ট ক্ষতের হাত থেকে রেহাই কতদিনে এবং কিভাবে পাওয়া যাবে কেউই তা বলতে পারেন না কারণ মান উন্নয়নের বিষয়টি এজে-াতেই নেই। শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ হয় তা শিক্ষকের বেতন এবং দালান কোঠা নির্মানেই ব্যয় হয়। মান সংক্রান্ত বিষয়টি চরমভাবে উপেক্ষিত।
আবার বাংলায় শিক্ষা, ইংরেজীতে শিক্ষা, আরবীতে শিক্ষার নামে শিক্ষাক্ষেত্রে নেমে এসেছে মারাত্মক বৈষম্য। আরবী শিক্ষায় সরকারি ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতি বছর অথচ ঐ শিক্ষার সাথে বিজ্ঞান শিক্ষার সমন্বয় আজও ঘটানো হয় নি। ফলে ঐ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ে শুধুমাত্র ধর্মীয় আবেগে কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ থেকে যাচ্ছে অন্ধকারের কূপে নিক্ষিপ্ত। ধর্মীয় বৈষম্য সাম্প্রদায়িকতা প্রভৃতিও বেড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে এই তিন ধরণের শিক্ষা চালু করে সংবিধানের মৌলিক দিকগুলির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। জাতীয় অঙ্গীকার ছিল এক কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা। পৃথিবীর সকল উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার খবর নিলে আমাদের মত বহুকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সন্ধান কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল বিষয় হলো তার সর্বজনীনতা। কিন্তু স্বাস্থ্য শিক্ষার সুযোগ সারা দেশে আজও অত্যন্ত কম। যতটুকুও বা আছে তাতে আসন সংখ্যা মারাত্মকভাবে কম হওয়ায় আগ্রহী এবং যোগ্যতা সম্পন্ন ছেলেমেয়েদের একটি বড় অংশই মেডিক্যাল শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত হয়ে থাকে। মেডিক্যাল শিক্ষাসহ সকল শিক্ষা ক্ষেত্রেই গবেষণার বিষয়টি আমাদের দেশে আজও সর্বাধিক উপেক্ষিত। চলমান করোনা সংকটের মুহুর্তে বিষয়টি সকলেরই নজর কারছে। গবেষণা এবং নতুন নতুন আবিস্কারের জন্য আমাদের বিদেশমুখীনতা সর্বগ্রাসী। নিজস্ব উদ্যোগে কেউ সে কাজে এগিয়ে এলে সে ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার নিদারুণ অভাব। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আবিস্কৃত কিটস্ এর অনুমোদন নিয়ে সরকারি টালবাহানার অন্তরালে দুর্নীতিবাজ শক্তিশালী মহলের হাত সক্রিয় বলেই সকলের অনুমান।
চিকিৎসার আওতায় দেশের সকল নাগরিককে যদি আমরা আনতে চাই তা হলে আমরা এ ক্ষেত্রে কিউবা ও ভিয়েতনামকে মডেল হিসেবে ধরে নিতে পারি এবং ঐ দেশ দুটি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সমস্যাটির সমাধান করতে পারি।
লাতিন আমেরিকার দেশ কিউবা বিপ্লবের মাধ্যমে ফিদেল ক্যাষ্ট্রের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসীন হলে বিশ^ সা¤্রাজ্যবাদের মোড়ল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সমর্থিত এক একনায়ককে উৎখাত করে শাসন ক্ষমতা দখলের পর পরই। দেশটির উপর মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদ বিধি-নিষেধ আরোপ করে কিউবার বিপ্লবকে অংকুরেই বিনাশের চেষ্টায় মেতে ওঠে। এমন কি বিপ্লবী জননেতা ফিদেল ক্যাষ্ট্রোকে হত্যা বা তাঁর ক্ষমতাচুতির লক্ষ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ব্যর্থ হয়। অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা কিউবার বিরুদ্ধে আমেরিকা আজও জারী রেখেছে।
বিপ্লবের পর পরই ফিদেল ক্যাষ্ট্রোর নজরে পড়লো দেশটির সামগ্রিক দুরবস্থা বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। সহায়তা চাইলেন যুদ্ধ বিধস্ত লাতিন আমেরিকার ক্ষুদ্র এই দেশটির উন্নয়নের জন্য আমেরিকান সরকারের কাছে-হলেন প্রত্যাখ্যাত।
এ অবস্থায় কাষ্ট্রো সিদ্ধান্ত নিলেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নকে বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেশটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলবেন। সাধারণ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা গবেষণার উপরও গুরুত্ব প্রদান করলেন।
গড়ে উঠলো সাধারণ স্কুল-কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়, মেডিক্যাল স্কুল কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়, অসংখ্য আধুনিক হাসপাতাল প্রভৃতি। সুফলও পেলেন কিউবানরা। প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে সর্বোচ্চ পর্য্যায় পর্য্যন্ত শিক্ষা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সর্বাধুনিক চিকিৎসা বিনাম্যূল্যে।
এবার করোনা দুর্যোগের সময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইতালি (একটি উন্নত পুঁজিবাদী ইউরোপিয়ান রাষ্ট্র) করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হলো কমিউনিষ্ট রাষ্ট্র কিউবার । মানবিক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ কিউবা অনেকগুলি মেডিক্যাল টিম, ডাক্তা, নার্স, চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধপত্র নিয়ে ইতালিতে এবং আরও কতিপয় দেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করে। তারা প্রায় পাঁচ বছর ব্যাপী সশস্ত্র লড়াই এর মাধ্যমে স্বৈরাচারী, গণবিরোধী বাতিস্তা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের সকল সমাপ্তি সাধন করে ক্ষমতাসীন হন ফিদেল ক্যাষ্ট্রোর নেতৃত্বাধীন কমিউনিষ্ট পার্টি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ১২ বছর আগে। কিন্তু এর মধ্যেই কিউবার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। করোনা চিকিৎসায় সাফল্য ব্যাপকভাবে বিশে^র সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে এবং আরও বিস্ময়কর হলো অতি উন্নত বলে খ্যাত আমেরিকায় পৃথিবীর সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন-সেখানে তারই অদূরে ছোট্ট দেশ কিউবার প্রায় ১১ কোটি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় শূন্য। কোন যাদুবলে নয়, বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ ব্যবহারেই সমাজতান্ত্রিক কিউবা এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এবারে আসি এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে। এই দেশটি ২০ বছর ব্যাপি হো চি মিনের নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করে স্বধীনতা অর্জন করে ১৯৭৩ সালে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ভিয়াতনামকেও তখন থেকে আজ পর্য্যন্ত কমিউনিষ্ট পার্টি পরিচালনা করছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই দেশটিও ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করেছে। এশিয়ার একটি বসবৎমরহম বপড়হড়সু র এই দেশও নিজেকে প্রায় করোনামুক্ত রাখতে পেরেছে। দেশটির বিশাল সীমানা চীনের সাথে। সেই চীনেই সর্বাগ্রে করোনা সংক্রমণ ঘটে-ঘটে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুও। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ভিয়েতনামের কমিউনিষ্ট সরকার তৎক্ষণাৎ সীমানা বন্ধ, বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্রাইট সমূহ বন্ধ এবং কঠোরভাবে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যবিধি অত্যন্ত শৃংখলার সাথে আরোপ করার ফলে সেখানে ও অতি নগন্য সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হন এবং তার থেকেও অনেক কম সংখ্যক মানুষ মৃত্যু বরণ করেন।
কমিউনিষ্ট শাসিত নেপাল এবং ভারতের কেরালা রাজ্যও অনুরূপ সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে এবং করোনা সংক্রমণ রোধে তাদের সাফল্যও উচ্চ প্রশংসিত।
চীনও সাফল্যের সাথে করোনা সংকটটির মোকাবিলা করতে পেরেছে তাদের উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কঠোর শৃংখলাবোধের কারণে।
এই দেশগুলির সার্বিক অনুকরণ নয় তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অবশ্যই শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
পুঁজিবাদী দুটি দেশেরও সাফল্য আছে করোনা নিয়ন্ত্রণে এবং সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে। যেমন অষ্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু এই দুটি দেশই অত্যধিক উন্নত। তাই তাদের সাথে আমাদের কোন তুলনা হতে পারে না।
আমরা কেরালা, নেপাল, কিউবা ও ভিয়েতনামের মত ছোট দেশ ও রাজ্যগুলি থেকে শিক্ষা নিতে পারলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে-আমাদের ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সর্বজনীন রূপও পেতে পারে।
-রণেশ মৈত্র, লেখক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV