করোনা ভাইরাসের লকডাউন – চুল কাটা অতঃপর মাঙ্কী ক্যাপের প্রাসঙ্গিকতা
রাশিদুল ইসলাম রুবেল : করোনা ভাইরাস একটা আতঙ্ক এবং বিভীষিকা – যা মানব জাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। করোনা ভাইরেসের কারনে আমাদের স্বাভাবিক জীবন লন্ডভন্ড হয়েছে, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স, লকডাউন, নিউ নরমাল -এই শব্দ গুলি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে উরে এসে জুড়ে বসেছে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে যে সব বিষয় গুলি অন্যের সাহায্য নিয়ে সমাধান করে ফেলতাম, সেই বিষয় গুলোকে নতুন আঙ্গিকে সমাধান করতে হচ্ছে। তার মধ্য চুল কাটার বিষয়টা অন্যতম। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতির কারনে আমার মাথার চুল অস্বাভাবিক আকারে বড় হয়েছিল। ভাবলাম পনিটেইল করব। চেষ্টা করলাম। পনিটেইল হেয়ার স্টাইলে নিজেকে যাত্রা গানের একজন মৃত সৈনিকের মতন মনে হল। একবার ভাবলাম স্কিনহেড হব। তবে আমার শারীরিক আকার এবং আকৃতির কারনে এই সমাধানে আতংকিত হলাম। অবশেষে পরীক্ষা মূলক ভাবে চুল কাটা নিয়ে ভাবতে লাগলাম। পরীক্ষা মূলক ভাবে চুল কাটা নিয়ে ভাবার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমার প্রারম্ভিক দিন গুলোর কথা মনে পড়ে গেল।
সে বেশ কয়েক দশক আগের ঘটনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবে মাত্র ছাত্র হয়ে এসেছি। কয়েক মাসের মাথায় চুল কাটার ব্যাপারটা অত্যবশ্যক হয়ে দাড়াল। বাসার কাছে কোন হেয়ার সেলুন ছিল না। বেশখা নিকটা দূরে একটা হেয়ার সেলুন ছিল, যার খরচটা সহনীয় পর্যায়ে ছিল না।আমার ভারতীয় রুমমেট জানাল আমাদের বাড়ীর কাছেই একটা হেয়ার ড্রেসিং স্কুল আছে, যার ছাত্র/ছাত্রীরা পাঠ্যক্রমের অংশ হিসাবে খুব কম খরচে সবার চুল কেটে দেয়। তবে সমস্যা একটাই, অনেক সময় চুল কাটার গুণগত মান কোনভাবেই কাংখিত পর্যায়ে পড়ে না। মনে হল চূল কাটা আর কতই বা খারাপ হবে। তাই একদিন ঘটা করেই হেয়ার ড্রেসিং স্কুলে গিয়ে হাজির হলাম। ন্যান্সি নামে একজন মধ্য বয়সী শ্বেতাঙ্গ মহিলা আমার চুল কাটতে এগিয়ে আসল। ন্যান্সি জানাল সে সবে মাত্র হেয়ার ড্রেসার পেশায় যুক্ত হয়েছে, এবং আমার মস্তিষ্কের চুল কাটা দিয়ে তার হাতে খড়ি হবে। আমি ন্যান্সির নূতন পেশায় শুরুতেই যুক্ত হতে পেড়ে খুব পুলকিত বোধ করছিলাম, একইসাথে ভয় লাগছিল কে জানে ন্যান্সি কিভাবে আমার চুল কেটে দেয়, শেষমেষ, নাজানি, ন্যাড়া মাথা নিয়ে বাচান্দিছিলা মাথা নিয়ে বাসায় যেতে না হয়। আমি ন্যান্সিকে জানালাম চুল কাটার ব্যাপারে আমি মোটেই সংবেদন শীল নই, এবং চুল কাটা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত ও সহজ চুল কাটার পদ্ধতি “বাটি ছাট” এর কথা উঠলো। ন্যান্সি প্রথম থেকেই আমার চুল কাটা নিয়ে একটু বিচলিত ছিল, “বাটি ছাট” বা “Bowl Cutting” হেয়ার স্টাইল বুঝতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। “বাটি ছাটের” সম্পুর্ণ ব্যাপারটা নিছক, কনসেপচুয়াল যার সাথে বাস্তব প্রয়োগিক অবস্থার কোন মিল নেই- এই বিষটা ন্যান্সিকে বুঝাতে আমি হিমশিম খাচ্ছিলাম। সে কোন ভাবেই রান্না ঘরের Bowl-এর সাথে চুল কাটার কোন সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছিল না। আর চেস্টা না করেই, খুব ধীর ভংগীতে বললাম, “নেভার মাইন্ড, ফরগেট ইট” ন্যান্সি তার মত করে আমার চুল কাটা শুরু করল, এই ফাকে, ক্লান্তির কারনে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। অতঃপর, ঘুম থেকে উঠে আমার নিজের চুল নিজে দেখেই আমি বাকরুদ্ধ, আমার চোখ কপালে উঠল। আমার সামনের দিগের চুল এবরা থ্যাবড়া দেখাচ্ছিল, মনে হল, ন্যান্সি “বটি ছাট” দিয়েছে। বটি এবং বাটির শব্দ দুটির উচ্চারন খুব কাছাকাছি, যদিও শব্দ দুটির শব্দার্থ, সম্পুর্ণ ভিন্ন। অনেকটা নাগরা এবং ঘাগরার মত। মনে হলো ভুল বশতঃ বাটি শব্দটার যায়গায়বটি দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করতে যেয়ে অথবা কোন অজানা কারনে, ন্যান্সি হাতের কেঁচিটা হারিয়ে ফেলছিল, তাই কেঁচির বদলে বটি দিয়ে আমার আমার সামনের দিগের চুলটা “এবরা থ্যাবড়া” করে কেটেছে। আমার মাথার পিছেনের দিকের চুল খাবলা ভাবে খালি দেখাচ্ছিল। মনে হলো, আকাশে বিচরনরত চিলের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন হয়েছে, ইদানিং চিল মানুষের মাথার চুল খাওয়া শুরু করেছে। সেই কারনেই, আমি যখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, তখন চিল জানলা দিয়ে এসে আমার মাথার পিছেনের দিকের চুল খাবলা ভাবে খেয়ে গিয়েছে। সে যাই হোক, আমার চুলের করুণ অবস্থা দেখে ন্যান্সি বেশ বিব্রত বোধ করছিল, সে তার পারিশ্রমিক নিতে চাচ্ছিল না। অনেকটা জোর করেই, ন্যান্সিকে পারিশ্রমিক দিলাম। অবশ্য ন্যান্সি আমাকে ফ্রী চুল কাটার একটা কম্প্লেমেন্টারি কুপন দিয়েছিল,আমি হেয়ার ড্রেসিং পেশায় তার সাফল্য কামনা করে হেয়ার ড্রেসিং স্কুল খেকে বিদায় নিলাম। বাসায় ফিরে এসে, একটা বেস্বল ক্যাপ দিয়ে আমার চুলের বেহাল দশাকে ঢাকার চেষ্টা করলাম। কাজ হলো না। তাই বাধ্য হয়েই, একটা মাঙ্কী ক্যাপ দিয়েই আমার চুলের করুন অবস্থাটা ঢাকলাম। পরের দিন, ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস করার সময় আমার সব ক্লাসম্যাটরা জানতে চাচ্ছিল আমি কেন গরমের মধ্য মাঙ্কী ক্যাপ পরে আছি। আমি মাঙ্কী ক্যাপ পরার লং স্টোরিকে শর্ট ফর্মে বললাম। যেহুতু প্রশ্নকারীর সংখ্যা অনেক, তাই ঠিক করলাম একটা হার্ড বোর্ডে সম্ভাব্য প্রশ্ন এবং উত্তর লিখে আনব। কেউ প্রশ্ন করলে, হার্ড বোর্ডটা দেখিয়ে দিব।
আমার এক বন্ধু জানতে চাইল, ন্যান্সি আমাকে পে করেছে নাকি আমি ন্যান্সি পে করেছি, মোদ্দা কথা, কে এখানে প্যায়ী, আমি বললাম, আমরা দু’জনই। আমার সেই বন্ধু অনেক চিন্তা ভাবনা করে মার্কিন পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় এই হিসাবটা কিছুতেই মিলাতে পারছিল না। করোনা ভাইরাসের লকডাউনে আমার চুল কাটার প্রস্তুতি্ পর্বে আমার পারিবারিক টীমের একমাত্র সদস্য এবং সদস্যাকে মার্কিন মুল্লুকে আমার প্রথম চুল কাটার অভিজ্ঞতা ও মাঙ্কী ক্যাপ পড়ার প্রাসঙ্গিকতা ভাগাভাগি করলাম। আমার পারিবারিক টীম সনান্দে আমার চুল কাটতে রাজী হলো, তবে বারং বার অনুরোধ করলাম যাতে কোন অবস্তাতেই আমাকে যেন মাঙ্কী ক্যাপ আবার পড়তে না হয়। তবে আনন্দের বিষয় হছে যে আমার পারিবারিক টীম খুব ভালভাবে আমার চুল কেটেছে, এবং আমাকে চুল কাটার কারনে নতুন করে মাঙ্কী ক্যাপ পরতে হচ্ছে না।
-রাশিদুল ইসলাম রুবেল
মে ২০, ২০২০
ক্যারি, নর্থ ক্যারোলিনা।
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








