কোথায় যাবে বাংলাদেশের মানুষ : আ স ম রব
এনা, নিউইর্য়ক : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের অন্যতম আ স ম আব্দুর রব। বাংলাদেশের সকল আঞ্চলের মানুষের কাছেই এ নামটি পরিচিত। একাত্তরের ৭ মার্চ রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আগে ২ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। চার খলিফার এক খলিফা হচ্ছেন আ স ম রব। ১১ বছর বয়স থেকে স্কুলের ছাত্র হিসাবে রাজনীতির শুরু। এখনো রাজনীতিতেই আছেন এবং তার ভাষায়, কবরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রাজনীতিতেই থাকবেন। কিছুদিন আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩ ছেলের এক ছেলের গ্র্যাজুয়েশনে এসেছিলেন। এক ফাঁকে নিউইয়র্কে কম্যুনিটির প্রিয়জন এডভোকেট মুজিবুর রহমান তাকে ঠিকানা অফিসে নিয়ে এলে তার রাজনৈতিক জীবন, বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত নিয়ে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। এটি প্রকাশিত হয়েছে শুক্রবার বাজারে আসা সাপ্তাহিক ঠিকানায়। এখানে প্রশ্নোত্তর আকারে সেটি উপস্থাপন করা হলো।
ঠিকানা: আপনি কীভাবে এবং কবে রাজনীতিতে এসেছেন? আ স ম রব: আমার জীবনটা একটু ব্যতিক্রমধর্মী। অন্য রাজনীতিবিদদের মত নয়। আমি মনে করি আমার জন্মগত জীবনের চেয়ে রাজনৈতিক জীবন বড়। ১১ বছর বয়সে রাজনীতিতে আসা লোকের সংখ্যা দেশে- বিদেশে ক’জন আছেন আমি জানিনা। আমি যুক্তফ্রন্টের মিছিলে অংশগ্রহণ করি মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে। তখনতো ঠিক মত রাজনীতিও বুঝি না। আমার চাচার সাথে মিছিলে অংশগ্রহণ করি। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আমি প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করি। তখন আমি নোয়াখালির কল্যাণ হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। সামরিক শাসন হচ্ছে ব্লাক ল’। কোন সভ্য দেশে সামরিক শাসন চলতে পারে না। আমরা আন্দোলন শুরু করলাম, সামরিক শাসন আমরা মানি না। নোয়াখালি কল্যাণ হাই স্কুল ছিলো স্বদেশীদের। সেখানে কোন মুসলিম ছাত্র ভর্তি হতো না। আমাদের প্রধান শিক্ষক ছিলেন পি কে ভট্ট। প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষকের সহযোগিতায় কল্যাণ স্কুলে কিছু মুসলিম গরীব ছাত্রছাত্রীকে ভর্তি করানো হয়। আমিও সেই সময় ভর্তি হই। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৫৮ সালে প্রথম ধর্মঘট পালিত হয়। এরআগে আর কোন দিন ঐ স্কুলে ধর্মঘট পালিত হয়নি। ধর্মঘটে পরের দিন ভয়ে ভয়ে স্কুলে গেলাম। আমাদের প্রধান শিক্ষক যখন ধুতি পরে স্কুলে ঢুকতেন তখন কোন টু শব্দ হতো না। তিনি স্কুলে এসেই দপ্তরি হরিকে ডাক দিলেন। হরিকে ডেকেই বললেন, রব, নাজু এবং খেলু স্কুলে এসেছে কি? ওদেরকে ডাক। হরি এসে আমাদের বললো, স্যার আজকে খুব খারাপ অবস্থা। প্রধান শিক্ষক দুটো বেত হাতে নিয়ে পায়চারি করছেন দ্বিতীয় তলায়। আমরা ভয়ে ভয়ে সালাম দিয়ে স্যারের রুমে ঢুকলাম। ঢুকার সাথে সাথেই জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা কি কালকে আমার স্কুলে ধর্মঘট করেছিলে? আমরা বললাম, স্যার করেছি। স্যার আবার বললেন, কেন? তোমরা জাননা এটা হিন্দুদের স্কুল। কালকেই তো আমার স্কুল বন্ধ করে দেবে। তোমাদের বাবা- মা এখানে পাঠিয়েছে লেখাপড়া করার জন্য। তোমাদের রাজনীতি করার দরকার কী? রাজনীতি করে তোমরা কী করবা? দেশটা জাহান্নামে যাচ্ছে- এটা ঠিক কিন্তু তোমরা একা কী করবা? তোমরা সবাই টেবিলের নিচে ঢুক। আমরা তিনজন টেবিলের নিচে মাথা ঢুকালাম। ১০ মিনিট পরে বললেন, বের হও। অমরা মাথা তুলে দাঁড়ালাম। বললেন, বস। আমরা বসলাম। আবার প্রশ্ন করলেন, জেলা স্কুলে ধর্মঘট হয়েছে? আমরা বললাম হয়েছে। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমার কিছুটা হলেও রক্ষা হলো। আমার স্কুলে আর কোন দিন ধর্মঘট করবে না। তোমরা যদি আবার ধর্মঘট কর তাহলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে, গরীব মানুষের সন্তানগুলো লেখাপড়া করতে পারবে না। এরপর স্যার হরিকে ডাকলেন এবং বললেন, হরি যাওতো হরির দোকান থেকে মিষ্টি নিয়ে আস। আমরাতো আশ্চর্য হলাম। কারণ স্যার মারার জন্য যেখানে ঘুরছেন সেখানে বললেন মিষ্টি আনার জন্য। সব শিক্ষককে ডেকে বললেন, এ ছেলেগুলোর সাহস কী? এদেরকে তাদের বাবা স্কুলে পাঠিয়েছে লেখাপড়া করার জন্য। সেটা বাদ দিয়ে তারা আন্দোলন করছে। বলেন, এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়। সব শিক্ষক বললেন, স্যার এবার ক্ষমা করে দেন। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি এবং বলে দিয়েছি আগামীতে যেন এ ধরনের কাজ না করে। আমি তাদের এখন মিষ্টি খাওয়াবো। তিনিও আসলে মনে মনে চাচ্ছেন আমরা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি। কিন্তু বাস্তবতা তাকে এলাও করছে না। তখন আমাদের শিক্ষক এবং ছাত্রদের মধ্যে অন্য রকম সম্পর্ক ছিলো, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও সুসম্পর্ক ছিলো। আমরা হিন্দুদের পূজায় যেতাম এবং তারাও দল বেঁধে আমাদের ঈদে আসতো। আমাদের সময় হিন্দু ছেলেরা মিলাদের টাকা দিতো, আমরাও পূজায় টাকা দিতাম। বাসায় মিষ্টি বা পায়েস বানালে প্রধান শিক্ষক আমাদের বাড়িতে আসতে বলতেন। একজন ছাত্র বা ছাত্রীর প্রাইমারি পাঠশালা হচ্ছে তার বাড়ি। সেখান থেকে আদব, কায়দা শিখানো হতো এবং শিক্ষকদেরও ছাত্রছাত্রীরা শ্রদ্ধা, সম্মান এবং ভয় পেত। রাজনীতিতে আমি দেখেছি, মাওলানা ভাসানী খামোশ বলতেন। আমি তার খামোশ উচ্চারণে অনেককে তটস্থ দেখেছি পল্টন ময়দানে। এটা কমান্ড, লীডারশীপ, কৃতিত্ব ও তার প্রতি সম্মান। এখন সেই লীডারশীপ কই। সমাজের কোথায়ও এখন দেখা যায় না।
ঠিকানা: স্কুলের পর কোথায় গেলেন? আ স ম রব: কল্যাণ হাই স্কুল থেকে মেট্রিক দিলাম। ভর্তি হলাম চৌমুহনী কলেজে। আমি চৌমুহনী কলেজের ছাত্রসংসদ পদে নির্বাচন করে হেরে যাই। আমাদের দেশে অনেকেই নির্বাচনে হেরে যাবার পর বলতে চান না। আমি এটাকে রাজনীতি এবং জীবনের অংশ মনে করি। স্কুল জীবনে ছয়মাস পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতাম। আমি কলেজে এসে জায়গির থাকতাম। কারণ হোস্টেলে থাকার মত টাকা পয়সা ছিলো না। আমি ভূমিহীন পরিবারের সন্তান। আমার বাবা আর্মিতে ছিলেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এসে টান্সপোর্টেশনে চাকরি নিলেন। বাড়ি থেকে মুড়ি এবং ঝোলা গুড় আসতো, সেটা দিয়ে নাস্তা খেতাম। আমি আমার কলেজ লাইফে ২৫টি বাড়ি লজিং ছিলাম। চৌমুহনী কলেজকেই আমার রাজনৈতিক জীবনের পাঠশালা বলা চলে। সামরিক শাসন, স্কুল- কলেজ বন্ধ। রাজনীতি করতে গিয়েই ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ এবং কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুরু হলো আন্ডারগ্রাউন্ড লাইফ। গোপনে রাতে সংগঠন করতাম। সামরিক শাসন ভাঙ্গতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ১৯৬২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারিতে কীভাবে ছাত্রদের একত্রিত করা যায়। আমরা একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার বানালাম চৌমুহনীর গোলাবাড়িয়াতে। আমি, আমাদের ডিস্ট্রিক্টের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, কাজী সোলায়মান কাজ করি। আমার হাতে ১৮ ঘন্টা মাইক ছিলো। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই। মরহুম নুরুল হক সাহেব এমপি ছিলেন। উনি আমাকে বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। রাতে ৩টার দিকে জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমার পাশে এক মহিলা এবং এক ভদ্রলোক বসা। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম কোথায় আছি। নূরল হক সাহেব বললেন, তুমি আমার বাসায় আছ। আমি নূরল হক মিয়া। পাল্টা প্রশ্ন করলাম- আমি এখানে কীভাবে? সে পরে শুন। তোমার খালাম্মা এক গ্লাস দুধ এনেছে সেটা খেয়ে নাও। একজন রাজনৈতিক নেতার সাথে ছাত্রদের কী সম্পকর্, সেটা এ ঘটনায় বুঝা যায়। ২১ ফেব্র“য়ারি শত শত ছাত্র রাস্তায় নেমে এলো প্রভাত ফেরিতে। এর আগে চৌমুহনীতে এত বড় মিছিল কেউ দেখেনি আজ পর্যন্ত। প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার ছাত্র জড়ো হয়েছিলো। ১৯৬৪ সাল মাদার মিল্লাতের নির্বাচন। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা করে মুসলিম লীগ। মনে হয় এখনো সেই সব মামলা রয়েছে।
ঠিকানা: ঐ সময় কী আপনি প্রথম জেলে যান? আ স ম রব: আমাকে তখন জেলে নিতে পারেনি। সেই নির্বাচনে আমাদের মাথা ফেটে গিয়েছিলো চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে, আমাদের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। সেই স্টেডিয়ামে আইয়ুব খান এসেছিলো, আমরা জুতা মেরেছিলাম। ১৯৬৫ পাক- ভারত যুদ্ধ, ছাত্রলীগের কনফারেন্স। ওবায়দুর রহমান প্রেসিডেন্ট, সিরাজুল আলম খান সেক্রেটারি। সন্ধ্যা হওয়ার কিছুক্ষণ পূর্বে বঙ্গবন্ধু খবর পাঠালেন তোমরা তাড়াতাড়ি কনফারেন্স শেষ করে দাও, তোমাদের গ্রেফতার করতে পারে। আমরা শেষ করে দিয়েছিলাম।
ঠিকানা: আপনি কবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন? আ স ম রব: আমি পাস কোর্স থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করা হলো। পাস কোর্স থেকে কোন ছাত্রকে ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট / সেক্রেটারি বা ডাকসুর ভিপি/ জিএস করতে দেয়া হয়নি। আমিই প্রথম ছাত্র যে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করলাম। হলাম ছাত্রলীগের সেক্রেটারি এবং ডাকসুর ভিপি। পুরাতন নেতাদের মধ্যে শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাকরা হল ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। আমি তাদের বললাম, আপনারা হল ছাড়েন। আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন। আপনাদের কোন উপদেশ থাকলে আমাদের ডেকে বলে দিবেন। আপনারা এখন ছাত্র নন, সুতরাং এখন আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থাকা উচিত নয়। আমি বলার পরে উনারা কিছুটা সরে গেলেন। সিরাজুল আলম খান তারপরেও মাঝে মধ্যে আসতেন। হলে থাকতেন না বা ক্যান্টিনে খেতেন না। আমার কাছে টাকা না থাকলে আমিও খেতাম না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমি মধুর ক্যান্টিনের ৭৬ হাজার টাকা আবু সায়ীদ চৌধুরীর কাছ থেকে বিল নিয়ে মধুর ছেলেমেয়েদের দিয়েছিলাম। ১৯৬৬ সাল। আমি তখন মাইজদি থেকে যাইনি। ট্রেনে চলাচল করতাম। সকালে গান্ধির হোটেল থেকে নাস্তা খেয়ে ট্রেনে উঠতাম এবং পৌঁছে দুপুরে মালেকের ক্যান্টিনে সিঙ্গারা, এককাপ চা খেলাম এবং রাতে আবার ফিরে আসতাম। ১৯৬৬ সালে ছাত্রলীগের কনফারেন্স করে মোস্তাফিজকে ( সাবেক এমপি) প্রেসিডেন্ট করা হয়। এর পর আমি ঢাকায় চলে আসি। আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান তোফায়েল আহমেদ। এটা আমাকে বলতে হবে। উনি আমার সিনিয়র। লেখাপড়াতো ভালভাবে করতে পারিনি, আবার খুব ভাল ছাত্রও ছিলাম না। ঢাকায় আসার পরে একদিন মিছিল এবং পথ সভা হচ্ছে নবাবপুরের দিকে। মিছিলের মধ্যেই হঠাৎ আব্দুর রাজ্জাক ভাই আমাকে বললেন যে ওঠ এবং বক্তব্য রাখ। আমি বললাম, আমি ঢাকায়তো কোন দিন বক্তব্য রাখিনি। তিনি বললেন, তুমি পারবা। আমি বক্তব্য দিলাম। ঢাকায় আমার রাজনীতি শুরু। ১৯৬৭, ৬৮ ও ৬৯ এর গণ আন্দোলন। ছাত্রলীগের অফিস সেক্রেটারি থেকে একেবারে জেনারেল সেক্রেটারি, ডাকসুর ভিপি প্রার্থী। বঙ্গবন্ধু আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন রামগতি থেকে নির্বাচন করার জন্য। আমার নমিনেশন পেপারে তোফায়েল ভাই জাল স্বাক্ষর দিয়ে আমার জন্য বানিয়েছিলেন। আমি ঢাকায় আসার পর সেটা ছিঁড়ে ফেলে দিই। আমি বললাম, এখনো যুবক, এলাকায় কোন কাজ করিনি, আমি নির্বাচন করবো কীভাবে? আসল উদ্দেশ্য ছিলো আমাকে সরিয়ে দিয়ে শেখ শহীদকে ( পরিবারের একজন সদস্যকে) ডাকসুর ভিপি করা। ফ্যামিলি পলিটিক্স। যেটা আজকে বাংলাদেশের উপর মারাত্মকভাবে চেপে বসেছে।
ঠিকানা: আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তখন থেকে ফ্যামেলি পলিটিক্সের সূচনা? আ স ম রব: তারও আগে থেকে। অবস্থাটা এমন ছিলো প্রেসিডেন্ট বাইরে থেকে হলে সেক্রেটারি হতে হবে ফ্যামিলির, অথবা সেক্রটারি যদি হয় বাইরে থেকে তাহলে প্রেসিডেন্ট হতে হবে ফ্যামিলির। তার মাধ্যমেই সব ম্যাসেসটা থ্রো করা হতো। সেটা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান। ঠিকানা: ঐ সময়ে তোফায়েল আহমেদ, আপনি, নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান সিরাজ, আব্দুল কুদ্দুস মাখন- আপনাদের অবস্থান কী ছিলো? আ স ম রব: তখন ডাকসুটা হয়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশের জনগণের কাছে পরিচিত জায়গা। অথচ গ্রামের কৃষক- শ্রমিকরা ডাকসু কী সেটা জানতেন না। কিন্তু তারা অপেক্ষা করে থাকতো ডাকসুর সিদ্ধান্ত কী হয়। সব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যখন কারাগারে চলে গেলেন, তখন আন্দোলনের ডাক আসতো ডাকসু থেকে। তারা সবাই ডাকসু নাম জানতো। আর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক হিসাবে যতনা মাস মুভমেন্টের নেতা ও ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে তোফায়েল ভাই এর নাম চলে আসতো। তারপরে আমি ডাকসুর দায়িত্বে আসি। এর মধ্যে আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, তোফায়েল ভাই সভাপতি ছিলেন। আমার পরে নূরে আলম সিদ্দিকী আসেন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে। তোফায়েল ভাইকে বঙ্গবন্ধু বললেন, তুমি কী এবার ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হতে চাও? তোফায়েল ভাই বলেছিলেন, যদি ছাত্ররা চায় এবং ছাত্র লীগের কর্মীরা চায়। তবে আমার একটি শর্ত আছে রব যদি সেক্রেটারিতে আসে তাহলে আমি সভাপতি হবো। বঙ্গবন্ধু বললেন, তাহলে তোমরা সেইভাবে কাজ কর। সেই অনুযায়ী তোফায়েল ভাই সভাপতি হলেন আমি হলাম সাধারণ সম্পাদক। এরপরই ১৯৭০ সালে আমি ডাকসুরসহ সভাপতি হলাম। তবে এর জন্য তোফায়েল ভাই- এর সমর্থন ছিলো। আমি যেহেতু পরিবারের নই, সেহেতু আমাকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হলো। আমাদের সময় একটি জিনিস ছিলো রাজনৈতিক দলের নির্দেশে ছাত্র সংগঠন চলবে এটা আমরা হতে দিইনি। আমরা শুনতাম কিন্তু আমাদের মত কাজ করতাম।
ঠিকানা: বঙ্গবন্ধুর একটা প্রভাবতো ছিলো? আ স ম রব: প্রভাব এক জিনিস আর নির্দেশ আরেক জিনিস। তিনি হয়ত ডেকে বলতেন তোমরা কী আগামী কাল হরতাল বা ঘেরাও করবে? যদি কর তাহলে পরিণতি কী হবে তা চিন্তা করে দেখ। আমরা আমাদের মত আন্দোলন করেছি। তিনি যা চিন্তা করেছেন সেই ধরনের কিছু ঘটেনি। ভাল আন্দোলন হয়েছে। তিনি কখনো বাধা দেননি। স্বাধীন- স্বকীয়তা বৈশিষ্ট্যের রাজনীতি আমরা শুরু করেছিলাম। এটা ছাত্র ইউনিয়নের মধ্যে ছিলো, বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মধ্যে ছিলো। এখনতো ছাত্র রাজনীতির অর্থ হচ্ছে লেজুড়বৃত্তি করা। ছাত্র সংগঠনকে তো গিলে ফেলেছে রাজনৈতিক দল। ঠিকানা: বিশেষ করে ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদল? আ স ম রব: আমি প্রবাসে এসে কোন দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। আমি দেশে গিয়ে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করবো, বিদেশের মাটিতে নয়। প্রবাসে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গীর বাইরেও অনেক কিছু বলার আছে। প্রবাসে আমরা দেখি এক সামাজিক বা আঞ্চলিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে দলীয় নেতানেত্রীর বন্দনা করতে হবে- আমি এটা বিশ্বাস করি না।
ঠিকানা: বাংলাদেশেতো তাই চলছে? আ স ম রব: অকেটা সত্য। এটার জন্য দায়ীতো ছাত্র, যুব সমাজ নয়, সমাজের মানুষের নয়, কৃষক- শ্রমিক নয়, বিভিন্ন সংগঠন নয়। ঠিকানা: শেখ শহীদ কবে প্রেসিডেন্ট হলেন? আ সম রব: আমার পরে। আমি করে আসলাম নূরে আলম সিদ্দিকী এবং শাহজাহান সিরাজকে সভাপতি এবং সেক্রেটারি। তারপরে হলেন শেখ শহীদ। আমার সময় শেখ শহীদ ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যখন আগরতলা মামলায় কারাগারে, তখন জেলের তালা ভাঙ্গবো শেখ মুজিবকে আনবো, বাঙালি রুখিয়া দাঁড়াও, ইকবাল হলের ছাদের উপরে পানির ট্যাংকের উপরে উঠে শ্লোগান দিয়েছি। আমাদেরকে যাতে ধরতে না পারে সেই জন্য এক লাইন আমি বলেছি, আরেক লাইন শেখ শহীদ বলেছেন। যেটার জন্য মানিক মিয়ার ইত্তেফাক বন্ধ করে দেয়া হলো। আমার সাথে এখনো সবার সম্পর্ক আছে। আমাদের সাথে মতের পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু সামাজিকভাবে সম্পর্ক না রাখার তো কোন কারণ নেই।
ঠিকানা: বাঙালি রুখিয়া দাঁড়াও এটাই কী প্রথম ম্যাসেজ ছিলো? আ স ম রব: আরো অনেক আগে। ঠিকানা: নিউক্লিয়াসে কি আপনি ছিলেন? আ স ম রব: ছিলাম। ঠিকানা: আপনার নামতো দেখা যায় না? আ স ম রব: আমার নাম আছে। সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরিফ আহমেদ- এই তিনজনই নিউক্লিয়াস ওপেন করেন। এরপরে আমি, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, আমিনুল হক বাদশাহ, শাহজাহান সিরাজ, স্বপন কুমার চৌধুরী যুক্ত হই। এখানে কার নাম আসলো কী আসলো না তা নিয়ে চিন্তা করি না। ’প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশ’- এই শব্দটা কোথায় আলোচিত হয়েছে? কে বা কার মুখ দিয়ে বেরিয়েছে- সেই কথাটি আমরা বা জাতি জানে কি না? কারো কাছে আমার কোন দায়বদ্ধতা নেই, আমি কেয়ারও করি না। আমি প্রথম প্রবাসে এই কথাটি প্রকাশ করছি। এর আগে কোথাও বলিনি। মনে করেছিলাম লেখার মধ্যদিয়ে কোন এক সময় লিখবো। এই কথাটি বলেছিলেন বিচারপতি ইব্রাহিম। মোনায়েম খানের মন্ত্রী সভায় আইনমন্ত্রী ছিলেন, প্রধান বিচারপতি ছিলেন। উনাকে ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির জন্য দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম আমি, সৈয়দ মাজহারুল হক বাকি, আব্দুর রাজ্জাক, খালেদ মোহাম্মদ আলী, সিরাজুল আলম খান। তোফায়েল আহমেদ তখন তেমন সক্রিয় ছিলেন না। আব্দুর রাজ্জাক ভাই জাস্টিস ইব্রাহিমের খুব ক্লোজ ছিলেন। তিনি বললেন, স্যার বাংলাদেশে গ্যাস পাওয়া গিয়েছে। তিনি এ কথা শুনে বললেন, খবরদার, আর বলবে না, শুনলে ওরা নিয়ে যাবে। তিনি করেন মুসলিম লীগ, মোনায়েম খানের মন্ত্রী সভার সদস্য, তারপরও বললেন, শুনলে পশ্চিমারা নিয়ে যাবে। উনিই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশ কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, রাজ্জাক, বাকি, রব, সিরাজ- যাই বল বা কর স্বাধীন হয়ে আলাদা না হয়ে গেলে আমাদের সব কিছু আমরা পাবো না। এটা বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ জন জানে কি না আমার সন্দেহ আছে। আর সংগঠিতভাবে স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ করতে যিনি উদ্যোক্তা, আজকে ৪০/৪১ বছরে কোন একটি বই পুস্তকে কোথাও তার নামটি নেই, এখনো জীবিত- তিনি হলেন সিরাজুল আলম খান। আমরা বঙ্গবন্ধু উপাধী দিয়েছি আমাদের নেতাকে, জাতির পিতা করেছি- আইন করে কিন্তু যিনি প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশ করার জন্য সংগঠন করলেন (বিএলএফ) বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স, নিউক্লিয়াস করলেন, তিনি হলেন সিরাজুল আলম খান। যিনি ভ্রুনের জন্ম দিলেন, ছাত্রছাত্রীদের সংগঠিত করলেন, গোপনে গোপনে কাজ করেছেন, সেই সিরাজুল আলম খান আজকের ইতিহাসে কোথায় আছেন? আব্দুর রাজ্জাকের চিকিৎসার জন্য পরিবারের লোকজনকে ভিক্ষা করতে হয়েছে- কিন্তু কেন? এই জন্যই কী তারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন? যারা জেল জলুম ফাঁসি এবং জীবনকে উৎসর্গ করে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন তাদের চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা করতে হবে কেন? আজকে শাহজাহান সিরাজ মৃত্যু শয্যায়, বাঁচবে কি না জানি না, মাউন্ট এলিজাবেথে তার চিকিৎসা চলছে, তার ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী ইতিহাসে অনেক কিছুই নেই।
ঠিকানা: সিরাজুল আলম খানের মাথায় স্বাধীন বাংলার চিন্তাটা আসলো কীভাবে? আ স ম রব: ওটা উনি বলতে পারবেন। তিনি হয়ত মনে করতেন কোন রাজনৈতিক দল দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হবে না। তখনকার রাজনৈতিক দল হিসাবে মুসলিম লীগ, ন্যাপ, কম্যুনিস্ট পার্টি, জামায়াতে ইসলাম- বাংলাদেশ স্বাধীন একটি দেশ হবে ওটা উনারা চিন্তা করতেন না। ঠিকানা: আপনি আওয়ামী লীগের নাম বললেন না কেন? আ স ম রব: আওয়ামী লীগ কবে কোথায় স্বাধীনতা শব্দ উচ্চারণ করেছে? কোথাও লেখা আছে নাকি? তাদের ঘোষণা পত্র, গঠতন্ত্র বা বুক লেট- আওয়ামী লীগ স্বাধীন- সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বা স্বাধীন বাংলাদেশ শব্দ কোথাও উচ্চারণ করেছে? ইন ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট? বরং সিরাজুল আলম খানের সাথে আওয়ামী লীগের- বঙ্গবন্ধু তখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জেলে যাননি, লাস্ট কাউন্সিলে সমাজতন্ত্র শব্দ ঢুকাতে গিয়ে আব্দুস সামাদ খানের সাথে রীতিমত সিরাজুল আলম খানের প্রায় হাতাহাতি হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নাম নিইনি মানে- আওয়ামী লীগই কি বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে? আমি জানি না।
ঠিকানা: তাহলে ৭ মার্চের ভাষণ? আ স ম রব: ডিম আগে না মুরগী আগে এটা যদি আলোচনা করতে হয় তাহলে সেটা হলো ১৯৬২ সনে নিউক্লিয়াস বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য গঠন করা হয়- সেটা আগে না ৭ মার্চ আগে? ২ মার্চ যেখানে পতাকা উত্তোলন করা হয় সেটা আগে না ৭ মার্চ আগে? ৩ মার্চ যেখানে স্বাধীন বাংলা সরকারের প্রক্লেমেশন শাহাজান সিরাজ পড়লেন বঙ্গবন্ধুর সামনে উনাকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে, জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে সেনা প্রধান ঘোষণা করে। বঙ্গবন্ধুতো কোন প্রতিবাদ করেননি, উনি বলেছেন, উনার কর্মসূচি তিনি ৭ মার্চ ঘোষণা করবেন। তাহলে ১৯৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯,৭০ ৭১- নয় বছর আগে যে শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, নয় বছর পরে এসে কেউ যদি বলেন যে আমরাই একমাত্র হর্তাকর্তা- বিধাতা এ রাষ্ট্র সৃষ্টির, তাহলে আমার কোন মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই।
ঠিকানা: ছাত্রদের মাথায় এ চিন্তাটা আসলো কেন- যেখানে রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন? আ স ম রব: আমি যখন দেবো এ লোক দিয়ে আমার কাজটা হবে না তখন আমি বাধ্য হয়ে অন্য লোক খুঁজবো। নিশ্চয় সিরাজুল আলম খান চিন্তা করেছিলেন বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্ভব নয়। তবে আমি যতটুকু জানি সেটা বলতে পারবো। বঙ্গবন্ধু আগরতলা মামলা থেকে আসার পরে সিরাজুল আলম খানকে ডেকে বলেছিলেন- সিরাজ, শেখ ফজলুল হক মনি এবং তোফায়েলকে তোমাদের সাথে নিতে পার না। সিরাজুল আলম খান বলেছিলেন, আপনি যখন বলছেন তখন নিয়ে নিলাম। এ দুজন এর আগে নিউক্লিয়াসে ছিলেন না। আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের কারণে তাকে এক্সপেল্ড করা হয়েছিলো। মোয়াজ্জেম ভাই মগবাজারের পার্কের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার পরে সামরিক শাসনের আওতায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে ধরা পড়লে ১৪ বছর সাজা হয়ে যাবে এ কারণে তিনি পিছু হটলেন। তবুও শ্রদ্ধার সাথে বলবো মোয়াজ্জেম ভাই এর অবদান কোন অংশে কম নয়। বঙ্গবন্ধু আগরতলা মামলা থেকে আসার পর যখন কিউক্লিয়াস নিয়ে কথা হচ্ছিলো তখনই তিনি আসলে নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ফরমালি জানতে পারেন। ৬ দফা দেয়া পর্যন্ত তিনি নিউক্লিয়াস সম্পর্কে জানতেন না। সিরাজুল আলম খান আমার চেয়ে ভাল বলতে পারবেন। বঙ্গতবন্ধু সিরাজুল আলম খানকে বলেছিলেন- সিরাজ তোমরা পারবা? উত্তরে সিরাজুল আলম বলেছিলেন আপনার দোয়া থাকলে আমরা পারবো। বঙ্গবন্ধুর একটি গুণ ছিলো, তিনি ছিলেন পজেটিভ বাঙালিদের জন্য। স্বাধীনতা চান বা না চান বাঙালির স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি ১৪ বছর জেল খেটেছিলেন। গণতন্ত্রের কথা বলে জেল খেটেছিলেন। মাওলানা ভাসানীর আওয়ামী লীগ, শেখ মুজিবুরের আওয়ামী লীগ এবং আজকের আওয়ামী লীগ- এক আওয়ামী লীগ নয়। কোন সময় তারা জোরজবরদস্তি আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেননি। আজকে ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যবহার করছে। স্বাধীনভাবে কাজ করবে, আন্দোলন করবে রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত ছাড়া, এটা হতেই পারে না।
ঠিকানা: এটার কারণ কী? আ স ম রব: হালাকু খাঁ- তুগলগ সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কারণ, সাধারণ মানুষ যদি শিক্ষিত হয়ে যায় তাহলেতো রাজার চেয়ে বেশি জেনে ফেলবে। অতএব জনগণ যেন মুর্খ থাকে। আমাদেরই তো তাই অবস্থা। আমাদের স্কুল- কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন লেখাপড়া হচ্ছে? যে বাবা মধ্যবিত্ত, গরু, নারিকেল, জমি বিক্রি করে ছেলেকে লেখাপড়া করতে পাঠিয়েছে, তিন বছরের মধ্যে তার সেমিস্টার শেষ করে সে বেরিয়ে যাবে, আজকে যখন ৬ মাস ক্লাস হচ্ছে না, সেমিস্টার পিছিয়ে যাচ্ছে, একজন গরীব বাবার পক্ষে ৩ বছরের পরিবর্তে ৬ বছর চালানো সম্ভব নয়। মূল কথাটা হলো- বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর যাতে সিরাজুল আলম খানরা বের না হয়, আব্দুর রাজ্জাকরা আর বের না হয়। এরা বের হলেতো শাসক গোষ্ঠির বা নেতার কথা শুনবে না। জনগণ মূর্খ থাকে আমরা রাজা রাণীর মত এখন ক্ষমতায় আছি আমাদের কথায় উঠ বস করবে- দিস ইজ দা মেইন এটিচুড, সো ফার আই ক্যান থিঙ্ক।
ঠিকানা: সিরাজুল আলম খান, আ স ম রব, শাহজাহান সিরাজ, আব্দুর রাজ্জাকরা বের হলে কী আরেকটি স্বাধীনতার ডাক দেবে? আ স ম রব: যুক্তফ্রন্ট যখন হয়েছিলো তখন আগের দিনও কেউ জানতো না। তিন নেতার মধ্যে কে ছোট কে বড় হক- ভাসানী- সরোয়ার্দী, জনগণের কাছে বিবেচ্য ছিলো না। এক্সট্রিম বলে একটি শব্দ আছে। মানুষের ধৈর্য- শৌর্যের সীমা যখন পেরিয়ে যায়- প্রত্যেকটি ঘরে আলোচিত হচ্ছে- যারা ক্ষমতায় ছিলেন বা আছেন গত ৪০ বছর ধরে তাদের রক্তের সম্পর্ক বলছে- এই দুইজনকে আল্লাতালা বিদায় করে না কেন? এ জাতিটি অভিশাপের হাত থেকে বেঁচে যাবে, এটাতো জাহান্নামে রূপান্তরিত হচ্ছে। আট বছরের মেয়ে শিশু ধর্ষিতা হয়েছে? কীভাবে সম্ভব? আমরা আজ কোন অবস্থার মধ্যে আছি? এটা কে কী সমাজের সাথে তুলনা করবো? ছাত্ররা লেখাপড়া করতে পারবে না, শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না, রাস্তায় বের হতে পারবে না, বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, সত্য প্রকাশ করার কারণে সাংবাদিকদের ধরে নিয়ে যাওয়া হবে, তাদের জবাই করা হবে- এগুলোতো আমাদের সমাজে ছিলো না। পাকিস্তান আমলেওতো এগুলো ছিলো না। সাংবাদিকরা সমালোচনা করে একটি লেখা লিখতে পারবে না, তার জন্য তাকে মেরে ফেলতে হবে? এটাতো কল্পনাও করতে পারিনি। জহুর ভাই আমাদের খুবই স্নেহ করতেন, মানিক মিয়া আমাদের খুবই আদর করতেন।
ঠিকানা: আপনি একটু আগে বললেন এ দুই নেত্রীর হাত থেকে দেশের মানুষ বাঁচতে চায়- আপনরা কী মরে গিয়েছিন? আ স ম রব: আপনি ছাত্র বয়সে যা করতে পারতেন এখন তা করতে পারবেন না। চাওয়া ঠিক হবে না। আমি বা আমরা যখন যা করেছি, এখন আমার কাছ থেকে তা প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। এখন আমাদের চলে যাবার পালা। এখন আমার যুদ্ধে যাবার বয়স না। যাদের যুদ্ধে যাবার কথা তাদেরকে তো পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেয়া হচ্ছে। ফেনসিডিল, পিস্তল, গ্রেনেড, টাকা দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রাকটরের অফিস আছে এটা জীবনেও শুনিনি, দেখাতো দূরের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন টেন্ডারবাজি হয়, টেন্ডার কোথায় হয় সেটাই আগে খবর নেয়া দরকার। তারপরেও যে কিছু করবো না তা ঠিক নয়, এখনো বেঁচে আছি। আমার ফাঁসি হওয়ার কথা ছিলো। যে ১৬ জনের নাম উল্লেখিত ছিলো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হত্যা করার ২৫ মার্চের রাতে, তাদের মধ্যে আমি একজন। আবার আমিতো সতের বার মারা গিয়েছি। ১৯৭৩ সালে গুলি খেয়েছি নড়াইলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমলে আমি যখন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তখন রাত ১০টার সময় বঙ্গবন্ধু আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেন রব তুমি কেমন আছ। আজকে হলেতো বলতো আমাকে লাশটা এনে দিলে না কেন? পার্থক্যটা বুঝতে হবে। রাজনীতি মারাত্মকভাবে চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। তবে আমি একটি জিনিস বলি- সেটা হলে- ইতিহাস যদি আমরা বিশ্বাস করি, নেচার যদি আমরা বিশ্বাস করি, বাস্তবতা যদি আমরা বিশ্বাস করি, ৪১ বছর ধরে যারা সমাজ এবং রাষ্ট্রকে লুটপাট করে ব্যক্তি- গোষ্ঠি- পারিবারিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে- আমরা মনে হয় এটার সমাপ্তির পথে এসে গিয়েছি। কথায় বলে না পিটিয়ে কাঠাল পাকালে তা খাওয়া যায় না, আমার মনে হয় পিটানো লাগবে না, কাঠাল মনে হয় পেকে গিয়েছে।
ঠিকানা: গত ৪১ বছরের অবক্ষয়ের পেছনে কী আপনাদের কোন কন্ট্রিবিউশন নেই? আ স ম রব: কন্ট্রিবিউশন শব্দটি মূলত ব্যবহার হয় পজেটিভ সেন্সে। এক সময় জহিরুল ইসলামসহ কয়জন কোটিপতি ছিলেন? এখন বাংলাদেশে ৩০ হাজার কোটিপতি, আমি একটি পত্রিকায় দেখেছি। এরা শুধু ১ কোটি টাকার মালিক নয়। বাংলাদেশে পুঁজির বিকাশ সেইভাবে ঘটেনি। কালো টাকা আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রকে উঁইপোকার মত ঝরঝরা করে ফেলেছে। জনগণের অর্থ শোষণ করে তারা কোটি কোটি কালো টাকার মালিক। এই কালো টাকার প্রভাব সর্বত্র। আপনারা দেখেন এখন জাতীয় সংসদে পলিটিশিয়ান নেই, আর পলিটিশিয়ান থাকলেও সে কথা বলতে পারে না। বললে তার মেম্বারশীপ চলে যাবে। এমন এক সংবিধান আমরা স্বাধীনতার পর তৈরি করেছি যে, এক ব্যক্তিই হলো রাষ্ট্রের মালিক। কিন্তু মুখ বন্ধে বলে এমন এক মিথ্যা কথা লিখে দেয়া হয়েছে জনগণই নাকি রাষ্ট্রের মালিক। এর চেয়ে বড় মিথ্যা পৃথিবীতে বোধ হয় আর নেই। কালো টাকা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে আজকে সে প্রধানমন্ত্রীকে কিনতে পারে, রাষ্ট্রপতিকে কিনতে পারে, বানাতে পারে, কিং মেকার। টাকা দিলে হয় না এমন কোন কাজ নেই- এটা যখন সমাজে রীতি হয়ে যায়, নীতি নৈতিকতা থাকে না, তখন সেই সমাজ মানুষের বাসযোগ্য থাকে না। বাংলাদেশটা কালো টাকার, অনাকাঙ্খিত অর্থের মালিক যারা, রাতারাতি যারা কোটিপতিতে রূপান্তরিত হয়েছেন- সংসদ, সরকার, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি – সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। এর হাত থেকে বাঁচতে হলে তৃতীয় শক্তি, অভিয়াসলি। সোসাল ডিনামিজম যদি আমি বিশ্বাস করি সায়েন্স হিসাবে, দেয়ার ইজ মাস্ট বি চেঞ্জ এন্ড দ্যাট ইজ অভিয়াস। যেগুলো অতীতে হয়েছে সেভাবে হবে না, এটা হবে অন্যভাবে, নিউ ফরমেট।
ঠিকানা: এটা কী আরো রূঢ হবে? আ স ম রব: চৈত্য মাসের শেষে দিকে বৃষ্টি হলে কৃষক তার ছেলেকে বলে- বাজান লাঙ্গল এবং গরু নিয়ে চল, জমিতে হাল চাষ দিতে হবে। মাঘ মাসে বৃষ্টি হলে তা কিন্তু বলবে না। টাইম এন্ড মুভমেন্ট এবং বাস্তবতা- একটির সাথে অন্যটির যোগসূত্র রয়েছে। আমার ধারণা এটা মনে হয় ম্যাচুরড হয়ে গিয়েছে। তবে নিশ্চিত করে সময় বলা যাচ্ছে না। আমি নিশ্চিত তৃতীয় শক্তি আসছে। ঠিকানা: এটা কি আগের মত বিশেষ পোষাকধারীর লোকজন? আ স ম রব: উনারা এসেওতো মানুষকে তার কাঙ্খিত জিনিস না দিয়ে বিদায় হয়ে চলে গিয়েছেন। আমরা তা নিকট অতীতে দেখেছি। বরং কোন একাউন্টটিবিলিটি দিয়ে যাননি। বহু অপকর্ম করে গিয়েছেন। দেশের মানুষকে আরো পিছনে ঠেলে দিয়েছেন। মানুষ কিন্তু এ ধরনের তৃতীয় শক্তি চাচ্ছে না, মানুষ রাজনৈতিক তৃতীয় শক্তি চাচ্ছে।
ঠিকানা: তার কী নিউক্লিয়াস তৈরি হয়েছে? আ স ম রব: নিউক্লিয়াস হয়ে গিয়েছে। ঠিকানা: এটা বলেতো আপনাকে আসিফ নজরুলের মত কোর্টে দৌড়াতে হবে না? আ স ম রব: আমার মাথা নেয়ার জন্য আইয়ুব খান ১ লাখ ডলার ঘোষণা করেছিলেন। শেখ মুজিবকে আগরতলা মামলায় মেরে ফেলার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো- চাইলেই সব কিছু হয় না। ডক্টর আফতাবকে মেরে ফেলা হয়েছে, আসিফ নজরুলকে কোর্টে নিয়ে অপমান করা হয়েছে, ব্যারিস্টার রফিকুল হককে অভদ্র ভাষায় অপমান করেছে, আরো অনেককে অপমান, অপদস্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে বিকৃতি। মানুষ যখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়, তখন পাগল এবং উন্মাদের মত ব্যবহার করে। এগুলো দিয়ে আমি আরো বুঝি যে তৃতীয় শক্তি খুব কাছে, খুব একটা দূরে নয়।
ঠিকানা: এই সরকার এ সব করছে কেন? এত বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসে তারা কেন এটা করছে? আ স ম রব: আমি উদহারণ দিয়ে বলি। আমার এবং মেজর জলিলের বিরুদ্ধে হুলিয়া। শীতের সময় কুয়াসার মধ্যে মাওলানা ভাসানীর ঐখানে যাই। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কী খাবি? আমাদের খাওয়ালেন। উনি আমাদের বললেন- ওরে দেখরে গোষ্ঠিশুদ্ধ মারা যাবে। শত বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি বুঝতে পারতেন। এই ভাসানীই বলেছিলেন- আইয়ুব মুজিবকে ছেড়ে দাও কারাগার থেকে, না হলে আমি তোমার কারাগার ভেঙ্গ ফেলবো। ভাসানী মুজিবকে সন্তানের মত ভালবাসতেন। মুজিবও চুপি চুপি বিভিন্ন জিনিস পাঠাতেন। রাজনীতির মধ্যে সৌহার্দ্য- সম্প্রতি এবং শ্রদ্ধা থাকা উচিত, প্রতিহিংসা নয়। বাংলাদেশে দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় আছেন। বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষকে মেরে ফেলা- এটা কোন রাজনৈতিক আন্দোলনের কালচারে পড়ে? কোর্টে হাজিরা দিতে যাবে- সেখানে পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করা হবে বা গ্রেফতার করা হবে- এটা কোন ধরনের রাজনৈতিক কালচার? ১০ হাজার পুলিশের পাশাপাশি কেন দলের গুন্ডাদের রাখেতে হবে বিরোধী দলের আন্দোলনকে প্রতিহত করতে? সরকারতো জেনেশুনেই সহিংস রাজনীতি শুরু করেছে। এটার শেষ পরিণতি আছে। এগুলো তখনই করে যখন সরকার চারিদিকে অন্ধকার দেখে।
ঠিকানা: যে তৃতীয় শক্তির কথা বলছেন সেখানে আপনার কোন ভূমিকা আছে? আ স ম রব: আমি তৃতীয়র জন্য কাজ করছি। বেশ কিছু দিন থেকেই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনের সাথে কথা বলছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমি কথা বলেছি জিল্লুর রহমান খান, ওয়াহিদুর রহমান মাহবুব, ড. রফিক, ড. তোফায়েল আহমেদ, ড. মুহম্মদ ইউনুস, ড. বদিউল আলম মজুমদার, কাদের সিদ্দিকী, ড. কামাল হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাইফুল, বাসদের খালিকুজ্জামান ভুইয়াসহ আরো অনেকের সাথে। ঠিকানা: আপনি যাদের নাম বলেছেন তারাতো ফেল মেরেছে? আ স ম রব: আপনি দেখেন আগের ম্যারাডোনা বা বর্তমানের মেসি এরাওতো ফুটবল খেলায় গোল মিস করেছে। মানুষ যখন রেজাল্ট দেখতে শুরু করবে তখন অতীতের ভুল নিয়ে চিন্তা করবে না। ভুল স্থায়ী হয়ে গেলেই সমস্যা। ঠিকানা: পিলখানায় নৃশংস হত্যাকান্ড সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? আ স ম রব: আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে ফেল করেছি এতগুলো সেনা অফিসারকে রক্ষা করতে। এর মধ্যে বাইরের ইন্ধন রয়েছে। এটা শুধু বিডিআরের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে ডিফেন্স মিনিস্টার। ধরুন আমি যদি বর্ডারে এ্যাটাক্টড হয়ে যাই, তখন শুধু ডিফেন্স মিনিস্টারের আর্ডারের জন্য অপেক্ষায় থাকে না, কমান্ডার ইন চীফের এমন কিছু ক্ষমতা থাকে যা তিনি প্রয়োগ করতে পারেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারেন। প্রথমে ঠেকাতে হবে, তারপরে কথা বলতে হবে। আপনি ক্যান্টনমেন্ট থেকে কেন ট্যাঙ্ক বের করলেন? মেশিনগান কেন বের করলেন? অস্ত্র সজ্জিত হেলিকপ্টার কেন বের করলেন? অপারেশনে যাননি কেন? এর মধ্যেই উত্তর পেয়ে যাবেন।
ঠিকানা: পিলখানার ঘটনায় ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হলো, বিচারের নামে আরো ৭৪ জন হত্যা করা হলো- এর দায় দায়িত্ব কে নেবে? আ স ম রব: হত্যার ঘটনা এখনো ঘটছে। এরমধ্যেই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। ১৪০ জনের নাম এসেছে। সেই মামলা কই? আহত কতজন হয়েছে, কতজন নিহত হয়েছে- সরকার নীরব কেন? অনেককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। এরাই তো দেশের অতন্দ্র প্রহরী। ঠিকানা: সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশীদের হত্যা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? আ স ম রব: একটি পিঁপাড়াও যখন পায়ের নিচে চাপা পড়ে সে বাঁচার চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের কথা বার্তা ’এটা অতীতেও হয়েছে, বর্তমানেও ঘটছে, আগামীতেও ঘটবে’- এগুলো ন্যাক্কারজনক এবং অমার্জনীয়। এ ধরনের কথা যে মন্ত্রী বলেন তার মন্ত্রী থাকার কোন যোগ্যতা নেই। অন্যদেশের সীমান্ত বাহিনী আমাদের দেশের মানুষকে মারবে- সে জন্য আপনাদের আমরা ভোট দিইনি।
ঠিকানা: স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আমাদের সম্ভাবনা কী? আ স ম রব: বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা আছে। ইস্ট বেঙ্গল যখন ছিলো তখন লোকসংখ্যা ছিলো সাড়ে ৩ কোটি। সেই সময় দুর্ভিক্ষ হয়। আতাউর রহমান খান যখন মুখ্যমন্ত্রী তখন চট্টগ্রামের হাইওয়ের উপরে নঙ্গরখানা হয়েছিলো। গত ২০ বছরে বাংলাদেশে কেউ না খেয়ে মারা গেছে এমন ঘটনা নেই। মালয়েশিয়ার একজন মন্ত্রী এসে বলেন, আমি আশ্চর্য এতটুকু জায়গার মধ্যে এত ফসল ফলে কীভাবে? এখানে সরকারের কোন বাহাদুরি নেই, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এটা করেছে। এটা প্রাইভেট সেক্টর করেছে। চীন থেকে একটি মেশিন এনে হালচাষ করা হচ্ছে, বিদ্যুত উৎপাদন করা হচ্ছে, নৌকা চালায়, পানি উঠিয়ে সেচ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের পক্ষেই এটা সম্ভব, অন্য কোন দেশের লোকের পক্ষে নয়। বাংলাদেশের মানুষ সৃষ্টিশীল এবং বুদ্ধিমান। আমাদের দেশের মানুষ নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। আমরা এখন এটা হজম করতে পারছি না। কারো কারো ক্ষেত্রে এমন অবস্থা যে- বাঙালি ছেলে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে- এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা যারা লুটপাট করে, চুরিদারি করে, কোটিপতি হয়ে ক্ষমতায় আছি নোবেল প্রাইজ দিলেতো আমাদের দেবে, ফকিন্নির পোলাকে দেবে কেন? এটা কীসের কালচার। আর্সেনিক মুক্ত পানি কীভাবে পাওয়া যায় বাঙালি অবিষ্কার করেছে, নাসাতে বাঙালি সন্তান কাজ করছে। দেশ চায় না এরা বাংলাদেশে গিয়ে দেশের জন্য কিছু করুক। আমাদের দুর্ভাগ্য হলো আমরা যাদের ক্ষমতায় বসাই তাদের মধ্যে দেশ এবং জনগণ নেই, তাদের মাথায় আছে, পরিবার, গোষ্ঠি, আত্মীয়- স্বজন ও দল।
ঠিকানা: আমরা তাহলে বার বার রং লোকদের ভোট দিচ্ছি? আ ম স রব: জনগণকে দোষ দিয়ে লাভ কী। এ দুটো দল ছাড়া অন্য কেউ নেই। তৃতীয় কোন ফোর্স তো নেই। মানুষতো যাচাই- বাছাই করতে পারছে না। দেশ বা সোসাইটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এখন বাংলাদেশে কালো টাকার কোন কোন মালিকও মিডিয়া বের করেছে। সেই সব মিডিয়ায় দেশ শেষ, মারামারি, হানাহানি দেখানো হচ্ছে, বাংলাদেশ যে সম্ভাবনাময় একটি দেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গঠিত তাতো দেখানো হচ্ছে না। ঠিকানা: সত্য লিখতে গেলেই তো গুম, মামলা এবং হামলা করা হচ্ছে? আ স ম রব: এটাতো সব দেশেই হয়েছে। অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম- রাজতন্ত্র থেকে শুরু করে সামন্ততন্ত্র থেকে শুরু করে সব সময় হয়েছে। শৃঙ্খল পায়ে পড়া কৃতদাসরা বিদ্রোহ করেনি? আমরা কী সেই কৃতদাসের যুগে আছি? যারা এ সব চিন্তা করে তারা অন্ধযুগে বাস করছে। ঠিকানা: বর্তমান সরকারকে কী আপনি ১/১১ এর ষড়যন্ত্রের ফসল মনে করেন? আ স ম রব: ঐ সময় ১/১১ এর বিকল্প কী ছিলো? সবাই ১/১১কে সমর্থন করেছিলো। সেই মুহূর্তে আমাদের সামনে কোন বিকল্প ছিলো না। সেই ১/১১ এর সরকার জনগণের সাথে যদি প্রতারণা করে থাকে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ না করে যদি ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য কাজ করে থাকে, নিজেদের ব্যর্থতা বা একাউন্টিবিলিটি না দিয়ে চলে যাওয়া- এটা থেকে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তারা এখন ঐ ধরনের ১/১১ চায় না। মানুষ যন্ত্রণায়, ক্ষোভে- বিক্ষোভে জ্বলে যাচ্ছে তারপরেও ঐ ধরনের কিছু যাচ্ছে না। তারা নতুন কিছু দেখতে চায়।
ঠিকানা: ইয়াহিয়া খানের সাথে বঙ্গবন্ধুর আলোচনাটা কী ছিলো? আ স ম রব: বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন ন্যাশনাল লিডার। সেই সময় তার চেয়ে বড় নেতা আর কেউ ছিলেন না। অনেকেই বলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, আসলে আগরতলা মামলা একটি মামলা, ষড়যন্ত্র মামলা না। আমি যখন আগরতলায় গেলাম তখন আমাকে শচীন ভৌমিক বলেছিলেন, তোমার নেতাতো এসেছিলো। আমি জায়গা মত পৌঁছে দিলাম। তার মধ্যে দুটো সত্তা কাজ করেছে। একটি হলো তার পার্টি। এটা ছেড়ে দিলে একদম জনগণের কাতারে চলে আসতে হয়। উত্তেজিত জনতা, ন্যাশনাল ইন্টারন্যাশাল প্রস্তুতি ছাড়া এত বড় লড়াই।ন্যাশনাল লিডারের মধ্যে দোদুল্যমানতা থাকে, ডিপ্লোমেসি থাকে। এটা সময় ক্ষেপণের কৌশল হতে পারে। আরেকটি হলো উনাকে মেরে ফেলা। তাকে মেরে ফেললে কী হবে? ৯০ হাজার ফোর্সের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমরা কতটুকু প্রস্তুত- সব কিছু মিলিয়ে হয়ত দ্বিধা- দ্বন্দ্ব- সংশয় থাকতে পারে। উনিতো সব কথা আমাকে বলেননি। আমি যখন উনাকে ২৫ তারিখ রাতে আনতে গেলাম, তখন আমার কাছে দুটো ইনফরমেশন ছিলো। উনাকে রেডিও ভাষণ দেয়া, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি থেকে রেডিওর যন্ত্রপাতি নৌকায় উঠিয়ে রাখা, আনিস সাহেবের কোল্ডস্টোরেজ থেকে ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে ঘোষণা দেয়ানো- উনাকে নৌকা দিয়ে বা বাই রোড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে চট্টগ্রাম বা বার্মা নিয়ে যাবার প্রস্তুতি নিলাম ডাকসু অফিসে বসে। সেই বৈঠকে আমি সিরাজুল আলম খান, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন। উনার কাছে যাবার পরে জেনারেল ওসমানী, ড. কামাল হোসেনসহ আমেরিকান এ্যাম্বাসেডর বসা ছিলেন। আমরা যাবার পর লুঙ্গি পরে উঠে আসলেন। উনাকে বললাম আমিতো চলে যাবো নদীর ওপাড়ে, কেরানীগঞ্জে। আমাকে সাড়ে আটটার মধ্যে বের হতে হবে। কোথা থেকে ম্যাসেজ আসলো আমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে। উনি আমার হাতে ১৪ হাজার টাকা দিয়ে আদর করে বললেন, বেঁচে থাকলে দেখা হবে। আমি উনাকে বললাম আপনি যাবেন না আমাদের সঙ্গে। উনি বললেন, আমারটা আমাকে চিন্তা করতে দাও। আমার ব্যবস্থা করা আছে। উনার ব্যবস্থা কী ছিলো সেটা নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
ঠিকানা: ৭ মার্চের ভাষণ এবং পরবর্তীকালে জাতির পিতা- এটা কতাটা জাষ্টিফাইড মনে করেন? আ স ম রব: ৭ মার্চের ভাষণে আমি মনে করি একটা সেন্স অব ডাইরেকশন দেয়া আছে। যেটা বাঙালিরা বুঝতে পেরেছে। জাতিরপিতা বাধ্যতামূলক নয়, পৃথিবীর অনেক দেশেই ফাদার অব দা ন্যাশন আছে। বঙ্গবন্ধু এবং জাতির পিতা উপাধিতো আমরাই দিয়েছি। এটার জন্য আইন করতে হবে কেন? অন্যদের জন্যতো আইন করতে হয়নি। ঠিকানা: অনেকেই বলেন দেশ স্বাধীন হবার পর পরই আপনারা জাসদ করলেন, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে নামে অনেক আন্দোলন করলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করলেন, কেউ কেউ মারাও গেলেন। এ সবের কারণেই দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হলো এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু মারা গেলেন- মন্তব্য করবেন কী? আ স ম রব: রিলিফ কি আমরা চুরি করেছিলাম? কম্বল কি আমরা চুরি করেছিলাম? রিলিপের টিন কি আমরা চুরি করেছিলাম? লুক্তনের প্রতিবাদ হবে না? জনগণের সম্পদ লুন্ঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে না জনগণ? প্রতিবাদের জন্য একটি ইনিসিয়েটিভ লাগে, আমরা ইনিসিয়েটিভ নিয়েছিলাম, অল্টারনেটিভ ছিলো না। আমরা কী বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম না মেরে ফেলার জন্য এটা করেছিলাম- সেই মোটিভটি জানতে হবে। অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করার অর্থ হচ্ছে অন্যায় থেকে বিরত রাখা। আপনি আরো অন্যায় করেন বা ধ্বংস হয়ে যান সেটার জন্য তো প্রতিবাদ করি না। আমরা দেখলাম এত বড় নেতাকে তার সাঙ্গপাঙ্গরা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, আমরা তাকে দিয়ে জাতির অনেক আকাঙ্খা বা স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম। সাঙ্গপাঙ্গরা তাকে ব্যবহার করে মেরে ফেলার দিকে নিয়ে গেলেন, নিজেদের ব্যক্তিগত লোভলালসা পূরণ করতে। আমরা চেয়েছিলাম জীবন দিয়ে হলেও এই মানুষটাকে দেশ এবং মানুষের জন্য রক্ষা করতে। দুটোতো সেইম না।
ঠিকানা: আপনি কি মনে করেন বর্তমান সরকারের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরাজমান? আ স ম রব: এই সরকারের মধ্যেতো রাজাকারও আছে। মন্ত্রিসভার মধ্যেই রাজাকার আছে। আর নব্য যারা বড় গলায় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছেন তারা কে কোন ফিল্ডে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন? কে কামান বিমান চালিয়েছেন? তারা কোন ক্যাম্পে ছিলেন? ঠিকানা: আজকেতো বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আর বিপক্ষের শক্তি বলে দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে? আ স ম রব: মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি কে? যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিলো তাদের সংখ্যা কত? গুটিকতক লোক ছাড়াতো বাকি সমস্ত লোকতো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। বিপক্ষের সংখ্যা যদি ১% হয় ৯৯% তো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। যারা ক্ষমতায় আছে তারাই কী মুক্তিযোদ্ধা? কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন?
ঠিকানা: বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান দুটো দল সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? আ স ম রব: আমি মনে করি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একই ধারার। তাদের মধ্যে পার্থক্য দেখি না। ওয়ানম্যান রোল। দেশে এখন তৃতীয় শক্তি এবং দ্বিতীয় ধারার প্রয়োজন। আপনি কথা বলতে দেবেন না, প্রতিবাদ করতে দেবেন না, ফ্লোর ক্রস করা যাবে না, মিছিল করতে দেবেন না, মিটিং করতে দেবেন না, হরতাল করতে দেবেন না, হরতাল করলে গাড়ি পোড়াবেন, মানুষ হত্যা করবেন। দুটো দলই ক্ষমতায় গিয়ে এ সব করছে- গণতন্ত্র হবে কীভাবে? ঠিকানা: আপনি, ইনু এবং অন্যান্যের মধ্যে বিরোধের কারণ কী? আ স ম রব: আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। পার্থক্যটা হচ্ছে আইডোলজিক্যাল। আপনি আপনার দলের আদর্শ, দর্শন, গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য, কর্মসূচি- এগুলোকে সারেন্ডার করে দিয়ে অন্যের লেজুড়বৃত্তি করবেন- তাহলেতো পার্থক্য তৈরি হবেই। ইনু সাহেবরা তাদের মশাল পর্যন্ত সারেন্ডার করে দিয়েছেন। উনারা সরকারের খারাপ কাজ নিয়ে কথা বলছেন না। অনেকেই বলেছিলেন আমি না নাকি এরশাদের দালালি করেছি, এটা সত্যি না, এরশাদ আমার দালালি করেছেন।
ঠিকানা: আপনিও তো শেখ হাসিনার দালালি করেছেন এবং মন্ত্রী সভায় ছিলেন- এই অভিযোগ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? আ স ম রব: আমি শেখ হাসিনার মন্ত্রী সভার সদস্য ছিলাম না। সত্যি ঘটনা হলো আমি যদি শেখ হাসিনাকে ১ ভোট না দিতাম, তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। তাহলে প্রশ্ন উনি আমাকে মন্ত্রী বানালেন, না আমি উনাকে প্রধানমন্ত্রী বানালাম? ঐ পরিস্থিতিতে আমি যদি বলতাম আমাকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে, উনি ডিপুটি প্রধানমন্ত্রী হবেন- তাহলে তিনি তা করতে বাধ্য হতেন, যদি সরকার গঠন করতেন। আমি সার্পোট না দিলে সংসদও হতো না, সরকারও গঠিত হতো না, উনি প্রধানমন্ত্রী হতেন না। এটা আমি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য সমর্থন করিনি। আমি আমার নিজস্ব প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছি। ইনু সাহেবদের মত আদর্শ এবং প্রতিক বিকিয়ে দেইনি। ইনু সাহেবরা যাক না নিজস্ব প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করতে, তাহলে বুঝা যাবে কত ধানে কত চাল এবং কত ভোট পান। দেশবাসী জানে ইনু সাহেবরা এর আগে কত ভোট পেয়েছিলেন। আমি জাতির স্বার্থে এই কাজটি করেছি। পরিস্থিতি ছিলো পুরো অনিশ্চিত। আরেকটি নির্বাচন হবে, না মার্শাল ল’ হবে, না গৃহযুদ্ধ হবে, হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট হবে, সে জন্যই আমি সমর্থন দিয়েছিলাম। সেই সরকারের নাম দেয়া হয়েছিলো জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার।
ঠিকানা: এখনোতো বলা হয় মহাজোট সরকার কিন্তু দেশ চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার? আ স ম রব: ঠাকুর, ব্রাহ্মণ, পীর সাহেব, মাওলানারা হলেন ’আনিস’। উনারা ’দেনিস’ না। দেখবেন ঠাকুর কোন সময় ভিক্ষা দেয় না, ইমাম সাহেব কোন সময় ভিক্ষা দেয় না- আমাদের যারা দল বা দেশ চালাচ্ছেন তারা হচ্ছেন আনিস। উনারা অন্যদের সব কিছু নিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেন এবং অন্যদের ব্যবহার করেন টুলস হিসাবে, জাস্ট লাইক এ টয়লেট পেপার। আ স ম আব্দুর রব, আমি কারো টয়লেট পেপার হতে চাই না। আমি ছোট হতে পারি। কিন্তু মূল্য আছে। ডায়মন্ড ছোট হয় কিন্তু মূল্য অনেক বেশি। আমি আমার মত চলতে চাই। লেজুড় বৃত্তি করতে চাই না। ঠিকানা: আপনিও তো স্বৈরচার এরশাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন? আ স ম রব: আমিতো এরশাদের সাথে যাইনি, তিনি আমার কাছে এসেছিলেন। আমি ১৯৮০ সালে আমার কাউন্সিলে বলেছিলাম উপজেলা ব্যবস্থার কথা। উনি ক্ষমতায় এসে তা ঘোষণা করলেন? প্রশ্ন হলো বাপ আগে না ছেলে আগে? উপজেলা পদ্ধতি চালুর কারণেই ক্ষমতার কিছুটা বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। মানুষের কষ্ট লাগব হয়েছে। আজকে আপনারা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ফজলে হাসান আবেদকে গালি দিচ্ছেন- তারাই বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটিয়েছেন, দেশের গ্রামাঞ্চলের তিন কোটি মেয়ে যারা খেতে পারতো না, পায়ে সেন্ডেল ছিলো না, চুলে তেল ছিলো না- এখন তারা ভাত খায়, ঠোঁটে লিপিস্টিক দেয়, চুলে তেল দেয়, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠায়, মাটি ও ছনের ঘরের পরিবর্তে আজকে টিনের ঘরে বসবাস করে। এটা কি উন্নয়ন নয়?
ঠিকানা: জাতির পিতা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে বিরোধ তা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? আ স ম রব: এই বিতর্ক অপ্রয়োজনীয়। তার কারণ ২ মার্চে পতাকা উত্তোলনের পরে একটি দেশের পতাকার মধ্যে আরেকটি পতাকা- এটা তো রাষ্ট্রদ্রোহিতা। ফিল্ড গান, কামান, ট্যাঙ্ক, হেলিকপ্টার, গোলাবারুদ, এসএলআর, স্টেনগান, এসএমজি, কয়েক হাজার আর্মফোর্স ঘেরাও করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ জনতার জনসমুদ্রের মধ্যে পতাকা উত্তোলন, ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে মঞ্চে রেখে পল্টন ময়দানে শাহজাহান সিরাজ ঘোষণা করেছেন আপনি রাষ্ট্রপতি, কমান্ডার এই চীফ। জেনারেল এম এ জি ওসমানী সেনা বাহিনীর প্রধান। মুজিবনগর আগে হয়েছে না ৩ মার্চ আগে হয়েছে? ৩ মার্চই তো সরকার গঠিত হয়েছে। এটা নিয়ে বিতর্কের কী আছে? ৭ মার্চের ভাষণে তিনি বলে দিয়েছিলেন আমি যদি তোমাদের কোন নির্দেশ নাই দিতে পারি, তোমাদের যার যা আছে তা নিয়ে শত্র“র মোকাবিলা কর। ২৭ মার্চ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ( আমরা সিভিলিয়ান ছিলাম, সেনা বাহিনীর সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করতে সিভিলিয়ানের ডাকের চেয়ে সেনাবাহিনীর ডাক গুরুত্বপূর্ণ) ঘোষণা দিয়েছেন তা স্বীকার করতে অসুবিধা কোথায়? তাতে কী বঙ্গবন্ধু ছোট হন? হীনমন্মনতা কেন? মুক্তিযুদ্ধে যার যা অবদান তা দিতে অসুবিধা কোথায়? সমস্ত কিছু আমরা করেছি, আমি করেছি- তাহলে দেশের মানুষ কিছুই করেনি- ব্যাপারটা কী এই রকম? ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরে দেশের মানুষ যদি বিভক্ত থাকতো তাহলে কী আমরা জীবনেও স্বাধীন হতে পারতাম? কিছু রাজাকার ছাড়া সবাই মুক্তিযুদ্ধ করেছে। পক্ষের শক্তি বলা হচ্ছে ভোট নেয়ার জন্য, ব্লাফ ( প্রতারণা)। ক্ষমতায় যাবার জন্য এবং ভোট পাওয়ার জন্য এটা একটা সস্তা শ্লোগান।
ঠিকানা: সেই শ্লোগান দিয়েই তো তারা বছরের পর বছর চালিয়ে যাচ্ছে? সেই সাথে আমাদের ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে- আপনার মন্তব্য কী? আ স ম রব: আসল এবং সঠিক ইতিহাস অবশ্যই বের হবে। তবে এর জন্য ১০০ বছর সময় লাগবে। যাদের কাছে ডমুমেন্ট আছে ছবি আছে তারা এগুলো লিখবে। এখন লিখতে গেলেতো তাকে বাসায় গিয়ে বেড রুমে হত্যা করা হবে। ঠিকানা: তৃতীয় শক্তির উত্থান সম্পর্কে খোলাসা করে বলুন? আ স ম রব: তৃতীয় শক্তির উত্থান বাংলাদেশে ঘটবেই। এর কোন বিকল্প নেই। তৃতীয় শক্তির উত্থান না হলে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে, জাহান্নামে রূপান্তরিত হবে। এভাবে চলতে পারে না। আমাদের দেশে কোন কোন নেতা নেত্রী বলেন, আমার চেয়ে বড় দেশ প্রেমিক কে? একজন ফকিন্নীও আমার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক হতে পারে। স্টিভ জব বলেছিলেন বোবা থাকার জন্য। কি কারণে বলেছেন সেটা উনিই বলতে পারেন। বাংলাদেশে অনেকেই এখন তৃতীয় শক্তির উত্থান নিয়ে চিন্তা করছেন।
ঠিকানা: আজকে সব কিছুতে বলা হয় যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য করা হচ্ছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আপনার মন্তব কী? আ স ম রব: মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যে অস্ত্রটি ব্যবহার করা সহজ, সেটিই করে মানুষ। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা ঐ অস্ত্রটিই ব্যবহার করে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। ঠিকানা: বার বার একই অস্ত্র ব্যবহার করলে তা ভোঁতা হয়ে যায় না? আ স ম রব: অবশ্যই ভোঁতা হয়ে যায়। জবাই করা যায় না। সে জন্যই মারা যায়, সে জন্য সরে যায়, ক্ষমতায় থাকতে পারে না। অনেক সময়ই বুমেরাং হয়ে যায়। বাংলাদেশে কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব? আসলে কী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তারা করবেন বা পারবেন? ঠিকানা: কেন পারবেন না? আ স ম রব: কারণ সরকারই তো একেক সময় একেক কথা বলেন। একবার বলা হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, আবার বলছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আবার বলছেন সিম্বলিক বিচার। ঠিকানা: বিচারতো অল রেডি শুরু করে দিয়েছে? আ স ম রব: ট্রায়াল আর জাজমেন্ট- দুটো সেইম নয়। বর্তমান সরকারের আমলে তা সম্পন্ন হবে কি না, বা তারা যা করার চেষ্টা করছেন তা বিশ্বাস করেন কি না। গত ৪০ বছরে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা কী তাদের ( জামাতের) সাহায্য ছাড়া ক্ষমতায় এসেছেন? আমি তো দেখেছি আব্দুস সামাদ আজাদের ( মরহুম) বাসায় যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন তাদের সাথে নিয়ে এক সাথে ইফতারি এবং সেহেরি করতে। আমিতো দেখেছি যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা আগের দিন পাকিস্তান এ্যাম্বাসীতে গিয়ে দেখা করে পরের দিন নির্বাচনে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন।
ঠিকানা: এখন শুনা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নামে নাকি ৬ শ’র অধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে? আ স ম রব: অবস্থা এমন দাঁড়িয়ে যে দেখা গেল মরা মুরগী বিক্রি করছে, সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করা হচ্ছে। আর মন্তব্য করতে চাই না। আরেকটি কথা বলতে চাই- একজন মহান নেতাকে অকর্ম জায়েজ করার জন্য ব্যবহার করছে। ঠিকানা: বাংলাদেশে দেখা যায় কেউ একজন মন্ত্রী হলে বা এমপি হলে- ৫ বছর ক্ষমতায় থাকেন। এরই মধ্যে দেখা যায় তিনি এবং তার আত্মীয়- স্বজন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ- এটা কী করে সম্ভব? আ স ম রব: যত দিন পর্যন্ত বাংলাদেশে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন পর্যন্ত এভাবেই চলবে। বাংলাদেশে এখন দুদক সরকারের ইচ্ছায় চলে, বিচার বিভাগ সরকারের ইচ্ছায় চলে, বিচারক নিয়োগও সরকারের ইচ্ছায় হয়, এমন কি রাষ্ট্রপতি কি করবেন সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিতে হয়, নির্বাচন কমিশনেও সেইভাবে নিয়োগ- সুতরাং সব কিছু এক ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন। সব কিছুতেই ওয়ান ম্যান রোল। এটা হলো নির্বাচিত স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা। আমি বলি নির্বাচিত স্বৈরাচার। গত কয়েক বছরে পাল্টাপাল্টি করে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ঠিকানা: তাজউদ্দিন সাহেবকে কেন বহিষ্কার এবং নিগৃহিত করা হলো? আ স ম রব: তাজউদ্দিন সাহেবের নিজস্ব একটি বক্তিত্ব ছিলো। উনার যে স্বাধীন স্বকীয় বৈশিষ্ট ছিলো যারা পরবর্তীতে এসেছেন তারা গ্রহণ করতে পারেননি। তারা ইর্ষান্বিত ছিলেন। আমি উনাকে দেখেছি ৯ মাস তিনি ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে পাগলের মত ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি ইতিহাসে নেই, তার নামে কিছু নেই, তার দিবস পর্যন্ত উদযাপিত হয় না।
ঠিকানা: কারণ কী? আ স ম রব: আমরা যদি ছোট হয়ে যাই- এ ভয়ে। তাজউদ্দিন করে গিয়েছেন আমরা খেয়ে যাচ্ছি। ঠিকানা: দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন? আ স ম রব: দেশের অর্থনীতি বলতে কিছু নেই, জাতীয় সংসদ নেই, টিভির সামনে বসে স্বামী- স্ত্রী- সন্তান এক সাথে বসে দেখতে পারে না। পতিতালয়েও এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয় না। ছেলে বাবা মাকে মেরে ফেলছে। এটা কি কোন সুস্থ সমাজে চলতে পারে? ব্যাংক থেকে টাকা হাওলাত করে সরকার চালাতে হচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছে না, সরকারি কর্মচারিদের বেতন দিতে পারছে না, বিদেশী এইড বন্ধ, দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ, পরীক্ষিত দুর্নীতি, কে কমিশন আনতে গিয়েছে তার ছবিসহ প্রমাণ রয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে আবার মন্ত্রী বানালেন- এগুলো অনভিপ্রেত। আবার কেউ কেউ বলছেন যে শেয়ার দিয়েছে তারটা ঠিক আছে, যে শেয়ার দেয়নি তারটা ঠিক নেই,ধার পড়েছে। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যাবে? জীবনে তাকে বাদ দেয়া যাবে?
ঠিকানা: কেন যাবে না? আ স ম রব: থলির বিড়াল বেরিয়ে যেতে পারে । কারো কাছে আমার কোন দায়বদ্ধতা নেই। কারণ আমি ১০ বছর জেল খেটে এসেছি, ১৭ বার মারা গিয়েছি, আমার ২ বার ফাঁসি হবার কথা- অতএব আমার ভয় কিসের? ঠিকানা: এই রাজনীতি থেকে উত্তরণের উপায় কী? আ স ম রব: আমাদের দেশের মানুষতো টাকার বিনিময়ে ভোট দেয়। আমি যে যাদের জন্য পাকা ঘর, পাকা পায়খানা এবং পাকা গোসলখানা করেদিয়েছি- ৫ টাকার লোভে তারা আমাকে ভোট দেয়নি। অন্য দিকে বাংলাদেশেন মানুষতো প্রতীক দেখে ভোট দেয়, মানুষ দেখে নয়, যত দিন পর্যন্ত প্রতীক দেখে ভোট দেয়া বন্ধ করতে না পারবেন ততদিন সম্ভব নয়। ঠিকানা: সেটা আর কতদিন? আ স ম রব: আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, এটা চিরস্থায়ী নয়। সময় পুরিয়ে এসেছে। মানুষই বলছে পুরানোগুলো বাদ দাও, নতুন একটা কিছু কর। জাতি ৫২ এবং ৭১ সালে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো, আবারো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ঠিকানা: শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সাথে যারা জড়িত ছিলো তাদের নাম সবাই জানে, তদন্ত রিপোর্ট বেরিয়েছে। তারপরেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? আ স ম রব: এই ঘটনায় সরকারের উচ্চস্তরের নেতা বা হোতারা জড়িত। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এগুলোতো আমরা দেখছি, সংবাদ প্রকাশিত হবার কারণে। আশ্চার্যজনক বিষয় হলো বাংলাদেশে এখন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতা, দু:স্থদের ভাতা পর্যন্ত চুরি হয়ে যায়। আমি মনে করি ১৯৭৩-৭৪ সালে যারা পারেনি এখন তারা সরকারের কাছে আসতে পেরে এ অন্যায় কাজগুলো করছে। ঠিকানা: প্রতিটি সরকার আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন নতুন সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয় এর রহস্য কী? আ স ম রব: এখন যেসব নতুন নতুন সাফিফির্কেট দেয়া হয় সেগুলো ভুয়া। জন্ম তারিখ ১৯৭২ সালের পর সেও মুক্তিযোদ্ধা! যেই ক্ষমতায় আসছে সেই তার দলের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা বানাচ্ছে। ঠিকানা: দুই নেত্রী সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? আ স ম রব: উনারা অনেক বড় মাপের নেত্রী, ক্ষমতায় ছিলেন, আছেন। উনাদের সম্পর্কে মন্তব্য করা তো কঠিন। যোগ্যতার মাপকাঠিতে উনারা অনেক বড়। যে কারণে উনারাই দেশ চালাচ্ছেন। তবে উনাদের যোগ্যতার অন্যতম মাপকাঠি হচ্ছে টাকা। উনারা নমিনেশন নিতেও টাকা নেন, দিতেও টাকা পান। আবার বিদেশ থেকেও তারা টাকা পান। আমারতো সেই যোগ্যতা নেই।
ঠিকানা: কে কার কাছ থেকে টাকা পান? আ স ম রব: এটা এখন সবাই জানেন, কে কোথা থেকে টাকা পান। ঠিকানা: গাড়ি পোড়ানো মামলায় বিরোধী দলের অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে- এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন? আ স ম রব: আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। প্রথমত বিরোধী দলের নেতারা যদি কোন অন্যায় করে থাকেন, জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে। না হলেও তাকে আপনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগই দেবেন না- এটতো নৈতিকভাবে সমর্থন করা যায় না। কোর্ট- কাচারি থেকে শুরু করে সব কিছুই তো এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এখন স্বাধীন কোন রায় পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা ব্রিটিশ আমল থেকেই দেখে আসছি মানুষ যখন কোথায়ও আশ্রয় না পায়, সে তখন কোর্টের আশ্রয় নেয়। বিচার বিভাগতো এখন স্বাধীন না। কোথায় যাবে বাংলাদেশের মানুষ। ঝগড়া হলো দুই নেত্রীর মধ্যে। কিন্তু হরতাল- অবরোধ করে দেশের ১৫ কোটি মানুষকে কষ্ট দেয়া হয়। তাদের বিরোধের কারণ হলো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা নিয়ে এবং ক্ষমতায় যাবার জন্যে। এখানে জনগণ কোন বিষয় নয়। জনগণের স্বার্থ নিয়েতো কেউ লড়াই করছে না।
ঠিকানা: ভারত, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকার মধ্যে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন? আ স ম রব: ভারত আমাদের বড় প্রতিবেশি। মাওলানা ভাসানি এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল এবং আজকের রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। মিসেস গান্ধি সারা দুনিয়া ঘুরে বেরিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সমর্থন দেয়ার জন্য। অনেক সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। আজকে সীমান্তে যে আচরণ হচ্ছে- কথা দিয়ে কথা রাখছে না। আন্তর্জাতিকভাবে যারা বড় শক্তি তারা কথা রাখছে না। তারা কথায় বলছেন, বাংলাদেশ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উনাদের প্রয়োজনে। আমার মনে হয় অর্থনৈতিক এবং ভৌগলিকভাবে আমাদের যে অবস্থান, সেই অবস্থান থেকে কূটনীতিকভাবে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। একজন মন্ত্রী কীভাবে বলেন, আজকেও মেরেছে, আগামীতেও মারবে। প্রতিবাদের পরিবর্তে আপনি বলছেন মারবে। ভৌগলিক দিক থেকে ছোট হতে পারি কিন্তু আমাদের আত্মসম্মান আছে। আমরা যুদ্ধ করে জয়লাভ করেছি।
ঠিকানা: বাংলাদেশে এখন দল না করলে চাকরি হয় না, চাকরি চলে যায়- এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী? আ স ম রব:বাংলাদেশে এখন সব কিছুতেই দলীয়করণ। প্রথমে আমি খাবো, প্রধানমন্ত্রী খাবে, রাষ্ট্রপতি খাবে, মন্ত্রিসভা খাবে, সংসদ সদস্যরা খাবে, দলীয় লোকজন খাবে, আত্মীয়- স্বজন গোষ্ঠি গেয়াতি খাবে- এরপর বাঁচলে দেশের জনগণ খাবে- ৯০% তারাই খেয়ে ফেলছে, ১০% খাচ্ছে জনগণ। আপনার মধ্যে যখন দেশ ও মানুষের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি এবং দলের স্বার্থ কাজ করবে। তখনতো এভাবেই চলবে। অনেকেই লেখেন রাজনীতিবিদরা খারাপ হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন হলো রাজনীতিবিদরা কী রাজনীতিতে আছেন? দলেও নেই, সংসদেও নেই এবং সরকারেও নেই। তাদের অপাত্র করা হয়েছে। কালো টাকার দাপটে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে। রাজনীতি থেকেতো রাজনীতিবিদদের তাড়ানো হয়েছে। আবার রাজনীতিবিদরা যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনীতির আসল জায়গায় ফিরে আসবেন, ততদিন পর্যন্ত দেশ এবং মানুষের উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাজনীতি হলো ব্রত, জনকল্যাণ। আমিতো জনকল্যাণের জন্য আসছি না, আমি আসছি চুরি করার জন্য, লুট করার জন্য। লুট করতে গিয়ে মানুষ হত্যা হচ্ছে। সিরাজুল আলম খান, তোফায়েল আহমেদরা আজকে রাজনীতির কোথায়?
ঠিকানা: আপনাদের চার খলিফার মধ্যে বিভক্তি কেন? আ স ম রব: মানুষে মানুষে মত পার্থক্য থাকতে পারে। চার জনের মধ্যে দুই জন বেঁচে আছি, একজন মারা গিয়েছেন অন্যজন মৃত্যু শয্যায়। আমরা যে দুই জন বেঁচে আছি তার মধ্যে আমি রাজনীতি ছাড়া অন্যকিছু চিন্তা করি না। ঠিকানা: রাজনীতিবিদ হিসাবে আপনি ব্যর্থ না সফল? আ স ম রব: এটাকে দুইভাবে দেখতে হবে। রাজনীতি যদি ক্ষমতার জন্য হয় তাহলে আমি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। আর রাজনীতি যদি মানব কল্যাণে হয়, জনগণের জন্য হয়- তাহলে আমি বলবো আমি সফল এবং সুখী একজন রাজনীতিবিদ। ভোট এবং ক্ষমতা রাজনীতিবিদদের সফলতা এবং ব্যর্থতা নির্ণয় করার মাপকাঠি নয় বলে আমি মনে করি। আমাকে গালি দেয় কি না সেটা দেখতে হবে। দলতন্ত্র আর রাজনীতি এক নয়। রাজনীতি আদর্শের জন্য করে আর দল করে ক্ষমতায় যাবার জন্য, মন্ত্রী হবার জন্য। রাজনীতি চুরির কাজ নয়, রাজনীতিবিদরাও সব চোর নয়। দলবাজি হলো চুরির কাজ।
ঠিকানা: কোন সরকারই প্রবাসীদের কাজে লাগাচ্ছে না, অথচ প্রবাসীরাই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মহিলাদের সংরক্ষিত আসন দেয়া হচ্ছে প্রবাসীদের কেন দেয়া হচ্ছে না? আ স ম রব: আমি ২০১০ সাল থেকে ১০ দফা নিয়ে কাজ করছি। আমার সেই ১০ দফায় সেইগুলো রয়েছে। আমাদের সবার পেটে আপনাদের টাকা আছে। আমেরিকানরা বলে সারা পৃথিবী লুট করে নিয়ে আসবো আর আমাদের লোকজন জমা জমি বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে অর্থ উপর্জন করে দেশে যাবার পথে সোনার গয়না এয়ারপোর্টে লুট হয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীদের যদি সরকার ব্যবহার করতে জানতো তাহলে বাংলাদেশের এই অবস্থা হতো না। প্রতিটি মানুষ ভালভাবে বেঁচে থাকতো, তাদের একটি হুন্ডা থাকতো, কোন অভাব থাকতো না। বাংলাদেশের চেহরাই পাল্টে যেত। আমি যখন এরশাদের আমলে মন্ত্রী ছিলাম তখন আমি বলেছি- সরকার কীভাবে গুন্ডামি করে? সরকার কীভাবে চুরি করে, ডাকাতি করে?
ঠিকানা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? আ স ম রব: পৃথিবীতে এমন কোন সমস্যা নেই যার সমাধান নেই। সব কিছুর সমাধান আছে। প্রধান বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে রায় দিয়েছেন তা এখনো প্রকাশ করেনি। প্রধানবিচারপতি দলীয় লোক, দুদকে দলীয় লোক, নির্বাচন কমিশনে দলীয় লোক। নির্বাচনে ইলেকক্ট্রনিক ভোটিং সিস্টেম সম্পর্কে খোদ আমেরিবাতেই অভিযোগ রয়েছে। এক জায়গা টিপ দিলে আরেক জায়গায় চলে যায়। আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হোক বা অন্তবর্তীকালীন সরকারের সরকার প্রধান হোক তাতে কী লাভ? যারা দায়িত্বে থাকবেন তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১/১১ এর সময় যা ছিলো না। তারা নিজেদের জবাবদিহিতার উর্ধে রেখে চলে গিয়েছেন। আমি আপার হাউজ করার প্রস্তাব দিয়েছি। ফেডারেল সিস্টেম সরকার করেন। আপার হাউজকে ক্ষমতা দেন। তারা কোন দলের লোক হতে পারবে না। ১৩ কেটাগরির লোকদের সমন্বয়ে এটা করা হোক। যারা নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন তাদেরকে দিয়েতো অন্তবর্তীকালী সরকার করছে না। আপনিতো ড. ইউনূস, ফজলে হাসান আবেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল হকের মত লোকদেরকে নেবেন না, নিবেন দলীয় লোক। তাহলে হবে কীকরে? অন্যদিকে তারা ( দুই নেত্রী) কাউকে বিশ্বাসও করতে চান না। তারা একত্রে কোথাও যান না। এমন কি মসজিদ, মন্দির এবং গীর্জায়ও যান না। কেউ কারো মুখ পর্যন্ত দেখতে চান না। সংসদকে একবার শুয়রের খোয়াড় বলার কারণে আমাকে জেলের হুমকি দেয়া হয়। পৃথিবীর কোন সংসদে নারীর লাশ পাওয়া গিয়েছে, দুর্গন্ধ বেড়িয়েছে- এটা আমাকে বলতে পারেন?
ঠিকানা: কার লাশ? এটা নিয়েতো তদন্তও হলো না- কেন? আ স ম রব: হবে কেন, আমার দলের লোকেরা করলে কেন তদন্ত হবে? ঠিকানা: সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ ছিলো তা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? আ স ম রব: এটা মনে হয় আমাদের দেশেই সম্ভব। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ছিলেন ক্ষমতায়, ক্ষমতায় রেখে তদন্ত করা হয়েছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এত দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট বেরিয়ছে তা আমার জানা নেই। ঠিকানা: সিরাজ শিকদার এবং কর্নেল তাহেরের হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছু বলুন? আ স ম রব: সিরাজ শিকদারের হত্যাকান্ড আনফরচুনেট। তিনি ফ্রিডম ফাইটার ছিলেন। এটা হাওয়া উচিত ছিলো না। সিরাজ শিকদারের পিঠে গুলি লাগে নি গুলি লেগেছে বুকে। সে যদি কাপুরুষ হতেন তাহলে পালিয়ে যাবার সময় তার পিঠে গুলি লাগতো। কর্নেল তাহের হত্যাকান্ড সম্পর্কে বলবো সংবিধান পরিপন্থী কাজ করা হয়েছে। তাকে ফাঁসি দেয়ার দুই মাস পরে আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণটা হলো একজন পঙ্গু লোককে ফাঁসি দেয়া যায় না। সিরাজ শিকদারকে যারা হত্যা করেছেন তারা কী বেঁচে আছেন? কর্নেল তাহেরকে যারা হত্যা করেছেন তারা কি বেঁচে আছেন? ইতিহাস নিজেই তাদের শান্তি দিয়েছে। আমি আর কোন মন্তব্য করতে চাই না।
ঠিকানা: বঙ্গবন্ধুর সরকার ও শেখ হাসিনার সরকারের মধ্যে পার্থক্য কী? আ স ম রব: বঙ্গবন্ধুর পায়ে যদি পশম থেকে থাকে, সে পশমের সমতুল্য কেউ ক্ষমতায় নেই। আমি উনার খুব কাছাকাছি ছিলাম। কেউ যদি বলে আমি গর্বজাত সন্তান, আমি রব সাহেবের চেয়ে বেশি জানি, আমি বলবো তা ঠিক নয়। কারণ গর্বজাত সন্তানের কাছে পায়জামার লেয়ার খুলে প্রশ্রাব করার সময় পাশে দাঁড় করিয়ে ব্রিফকেইস হাতে দিতেন না। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে নিজের সরকারের আমলে খবর নিয়েছেন। কিন্তু উনার মৃত্যুর পরে আর কেউ আমার খবর নেননি। আজকে হলে বলতো ডেডবডিটা কোথায়? অতএব এটা তুলনা চলে না। রাজনৈতিক নেতার বুক হতে হবে বিশাল। সব কিছু সহ্য করার, ধারণ করার ক্ষমতা রাখতে হবে। সমান্য কিছু সমালোচনা করার পর গলায় ছুরি চালিয়ে দেবেন তা তো রাজনীতি হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু সরকার এবং শেখ হাসিনার সরকারের মধ্যে কোন মিল নেই। বঙ্গবন্ধু রাট মনের মানুষ ছিলেন। যারা বড় মনের মানুষ তাদের মধ্যে ছোটখাট ভুল ভ্রান্তি থাকতে পারে। আমিতো দোষেগুণে মানুষ।
ঠিকানা: প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন? আ স ম রব: প্রবাসে যারা রাজনীতি করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- এখানে দল করে বা আন্দোলন করে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশের লোকজনতো এখানে সংগঠন বা দল করেন না, বাংলাদেশীরা কেন করেন? করা উচিত নয়। আমরা শাখাভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন করে যাচ্ছি। আর আরেকটি কথা বলবো অপার সম্ভবনার দেশ বাংলাদেশ। অঘটন ঘটনের দেশ বাংলাদেশ, কখন কী ঘটবে তা বলা যাবে না। এটা অসম্ভবকে সম্ভব করার দেশ। এখানে যে কোন ঘটনা ঘটতে পারে, যে কোন কিছু হতে পারে। আমি বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী। যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। বাঙালি জাতি যখনই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তখনই সফল হয়েছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ’৫২, ৬২, ৬৪, ৬৬ ’৬৯, ৭০ এবং ’৭১ এর আমরা দেখেছি। যখনই আমরা দ্বিধা বিভক্ত হয়েছি তখনই পরাজিত হয়েছি। আমার বিশ্বাস এই জাতিকে আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে অরেকটি যুদ্ধ করতে হবে এবং এই ঐক্যবদ্ধ তারা হবেই। আমি আশাবাদী এই যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। নতুন প্রজন্ম অনেক টেলেন্ট। তারা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
ঠিকানা: আপনি কি কোন বই লিখেছেন? আ ম স রব: আমি আমার জীবনী নিয়ে লেখা শুরু করেছি। শেষ করতে পারবো কিনা জানি না। কিছু কিছু বিষয় আমার মৃত্যুর পরেই প্রকাশ পাওয়া ভাল। ঠিকানা: রাজনীতির বাইরে আর কি করেন? আ স ম রব: আমি রাজনীতি ছাড়া আর কিছু করি না। কবরে যাওয়া পর্যন্ত রাজনীতি করবো। ঠিকানা: আপনার ছেলেমেয়ে কয়জন? আ স ম রব: আমার তিনটা ছেলে। দুটো ছেলে আমেরিকায় লেখাপড়া করছে। একজন হচ্ছে এ এইচ এম সাফওয়ান বিন রব, আরেকজন এ এইচ এম সামওয়ান বিন রব এবং তৃতীয় জন বাংলাদেশে রয়েছে আমার সাথে। সে লেখাপড়া এবং ডেইলি স্টারে সাংবাদিকতা করছে। তার নাম হচ্ছে এ এইচ এম সালমান বিন রব। ঠিকানা: খাবার কী পছন্দ করেন? আ স ম রব: আমি এখন সেমি ভেজিটেরিয়ান। ঠিকানা: শখ? আ স ম রব: চাষাবাদ, পশুপাখি লালন পালন। আমি এবং আমার স্ত্রী দুটো ফাউন্ডেশন করেছি। একটি হলো হিউম্যান ডেস্টিনি, মানুষের ঠিকানা। আরেকটি হলো বিশ্ব বাঙালি। আমি মনে করি বাঙালিদের সেন্টার হলো বাংলাদেশ। সেরা বাঙালিদের জন্মই বাংলাদেশে। আমি তিনহাজার বছরে বাঙালিরা যে সব জিনিস ব্যবহার করেছেন তা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। মানুষের ঠিকানার জন্য আমি জমি নিয়ে রেখেছি। শেষ করে যেতে পারবো কি না জানি না। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ আছে, সমুদ্র সৈকত আছে। মানুষের ঠিকানায় যারা বাংলাদেশে যাবেন তাদের স্বাক্ষর এবং অন্যান্য জিনিস রাখার চেষ্টা করবো। ঠিকানা: পতাকা উত্তোলনের স্পিরিট কোথায় পেলেন? আ স ম রব: স্পিরিট কোথায় পেয়েছি বলতে পারবো না। তবে রবীন্দ্র নাথের ঐ গানটি আমার ভাললাগতো- এমন দেশটি কোথায় খুঁজে পাবে না কো তুমি।’
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








