খাওয়া যখন নেশার বস্তু

হঠাত্ ক্ষুধার আক্রমণ পেয়ে বসলে স্যান্ডউইচ, কেক, ভাজাভুজি এসব মজার খাবার টপাটপ মুখে পুরতে থাকেন সান্ড্রা। কয়েক মিনিটে কয়েক হাজার ক্যালোরি হজম, ক্ষুধা থাকুক বা নাই থাকুক। আসলে সান্ড্রা ‘বিঞ্জ ইটিং ডিসওর্ডার’ রোগে ভুগছেন। এক ধরনের মানসিক অসুখ এটি। খেতে খেতে যখন পেটে আর জায়গা থাকে না, তখনই ক্ষান্ত দেন এই নারী। তবে সৌভাগ্যবশত ক্ষুধার এই আক্রমণটা পেয়ে বসে অল্পসময়ের জন্য। সপ্তাহে মাত্র কয়েকদিন। অন্য দুই ধরনের ইটিং ডিসওর্ডার ‘বুলিমিয়া’ ও ‘অ্যানোরেক্সিয়া’-র মতো ওজন নিয়ে মাথা ঘামায় না বিঞ্জ ইটাররা। বমি করে কিংবা খেলাধুলা ও ছোটাছুটি করে ক্যালোরি কমানোর দিকে নজর নেই তাদের। ইটিং ডিসওর্ডারের এই ধরনটি সম্পর্কে মানুষের তেমন কোনো ধারণা নেই। অথচ ইটিং ডিসওর্ডারের প্রায় ১৫ শতাংশ রোগী এই সমস্যায় ভোগেন। খাবারের মাধ্যমে তারা মানসিক চাপ ও ভেতরের শূন্যতা দূর করতে চান। বিঞ্জ ইটারদের কাছে খাওয়া একটি নেশা। সত্যিকারের ক্ষুধা বা খাওয়ার ইচ্ছার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। সান্ড্রা জানান, অনেকে যেমন বিয়ার পান করতে পাবে ছোটেন। আমি ছুটি ফ্রিজের দিকে। হঠাত্ করেই এই চাপটা এসে যায়। তখন অশান্তি লাগে। ঠিক মাদকাসক্তদের মতো। কিন্তু গপাগপ খাওয়ার পর হঠাত্ চেতনা ফিরে আসে। তখন লজ্জা, অনুশোচনা ও হতাশা দেখা দেয়। নেতিবাচক চিন্তা ঘিরে থাকে মাথায়। আবার সেই চিন্তাটা ঢাকতে খাবারের দিকেই হাত বাড়ান তারা। এ যেন ভয়ঙ্কর এক চক্র, যা থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন না ভুক্তভোগীরা। বাড হনেফ শহরের পুনর্বাসন ক্লিনিকের ইটিং ডিসওর্ডার বিভাগের প্রধান আন্ড্রেয়া হেলেসিক এই প্রসঙ্গে বলেন, অন্যান্য নেশার মতোই একটা কিছু পুষিয়ে নেয়ার প্রবণতা থাকে বিঞ্জ ইটারদের। ভুক্তভোগীরা নিজেরাই জানে না, এটা আসলে কী? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আত্মমর্যদাবোধের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সমস্যাটির। অথবা এর পেছনে থাকে অতীতের কোনো মানসিক আঘাত, যার ঠিকমত চিকিত্সা হয়নি। সান্ড্রা বছর দুয়েক ধরে ড. হেলেসিকের কাছে চিকিত্সা নিচ্ছেন। এরই মধ্যে সমস্যা কিছুটা আয়ত্বে এসেছে। তার ভাষায়, আমি আসলে ঠিকমত খাওয়াই শিখিনি। এখন আমি বুঝতে পেরেছি, খাওয়া-দাওয়ার এই সমস্যার পেছনে রয়েছে শৈশবে ঘটা কোনো মানসিক আঘাত। এটি আমি এখন চিকিত্সা করে দূর করার চেষ্টা করছি। ভুক্তভোগীদের ৪০ শতাংশই স্থূলাকায়। তবে সব মোটা মানুষই যে বিঞ্জ ইটার তা নয়। রোগটির মূল লক্ষণ হলো, হঠাত্ করে প্রচণ্ড খাওয়ার ইচ্ছা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নিজের শরীর সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা, সমাজে চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা ও নানা মানসিক সমস্যা। ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়বেটিস ও উচ্চরক্তচাপের মতো অসুখ-বিসুখও দেখা দেয়। সান্ড্রার ওজন ১৩৪ কিলোগ্রাম। তাই ঘরকন্যার কাজ করতে গেলে হাঁপিয়ে ওঠেন তিনি। ধোয়ামোছা করার পর দেহ আর এগুতে চায় না। সারা শরীর ব্যথা করে। চলাফেরাও কষ্টকর হয়। সাইকো সোমাটিক চিকিত্সার দুই বছর পর এখন ওজনের বিরুদ্ধে লড়তে চান সান্ড্রা। নানা রকম ডায়েটের চেষ্টা করে সফল না হওয়ায় পাকস্থলী অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এতে পাকস্থলীর অনেকটা কেটে ফেলা হয়। এর ফলে অল্প খেলেই দ্রুত পেট ভরে যায়। বনের ইওহানিটা হাসপাতালের ডা. মিন-সিওপ সোন এই প্রসঙ্গে বলেন, অপারেশন শুধু ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ইটিং ডিসওর্ডারের মূল সমস্যাটির সমাধান করতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন সাইকো থেরাপি। অপারেশন করার পরও থেরাপি চালিয়ে যাওয়া দরকার। অপারেশনের পর সান্ড্রার কাছে এক নতুন জীবনের পথ খুলে যায়। কিন্তু তাকে সাইকো থেরাপি চালিয়ে যেতে হবে, সে সঙ্গে পুষ্টি পরামর্শকেন্দ্রে শেখানো নিয়ম-কানুনগুলো মেনে চলতে হবে। সমস্যাগুলো মনের ভেতরে পুষে না রেখে মুখ খুলতে হবে। তবেই হাতের মুঠোয় আসবে সাফল্য। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests